ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

চলন্ত বাসে গণধর্ষণ, এ কেমন বর্বরতা


এসব বিষয় নিয়ে লিখব ;সাহস করে উঠতে পারছি না। কিন্তু মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সঙ্কট: কিছু না বলে পারছি না। দিল্লির মত উপমহাদেশের সবচেয়ে অগ্রসর শহরে চলন্ত বাসে গনধর্ষণ-সার্ক অঞ্চলে আমাদের সবার নিরাপত্তার গভীর অভাবকেই নির্দেশ করছে। আবার দেখুন করাচিতে কি হল! সেখানে তালেবান জঙ্গিদের বাড়াবাড়িটা বাড়ছেই। তারা গুলির নিশানায় খুন করেছে ৪জন পোলিও টিকা-চিকিৎসা-কর্মিকে। আর পেশোয়ারে খুন ১জন।
কোন ভয়াবহ অন্ধকারে আমরা বাস করছি। নাকি কোন ভয়ংকর আধারে আমরা ডুবে যাচ্ছি। তলিয়ে যাচ্ছি। পোলিও পাকিস্তানের অনেক এলাকাতেই মহামারী। পোলিও টিকা সেখানে কতটা জরুরি ভাবুন। অথচ পাকিস্তানি তালেবানরা পোলিওকে নাস্তিকদের টিকা বলে আখ্যা দিয়ে টিকা কর্মিদের গুলি করে মেরে ফেলল। এদের মধ্যে ২ জন নারী। নারীরা নাস্তিক টিকা দিচ্ছে _তালেবানদের খুব রাগ। এই বর্বর ধমান্ধদের একটা রোগ কমন দেখতে পাচ্ছি তা হল নারীকে এরা ঘরের বাইরে – অন্তপুরের বাইরে দেখতেই পারে না। এই বর্বরদের সংখ্যা বাড়ছে। এরা ছড়িয়ে পড়ছে উপমহাদেশের দেশে দেশে। খুন খারাবি ধর্ষণ বাদে অন্য কোন কাজে এদের মন নেই। দিল্লির ঘটনাটা দেখুন। পত্রিকায় পড়লাম রাতে কেন ওই মেডিকেল ছাত্রীটি বাসে চড়েছে তা নিয়ে মদ্যপরা তালেবানদের মতই সহিংস হয়ে ওঠে। দিল্লিবাসী বন্ধুদের কাছে শুনেছি দিল্লি রাতেও নারী-পুরুষ সবার জন্য অতি নিরাপদ এমন দাবি করে তারা গর্ব করে। সেই গর্ব এই ঘটনায় চুর মার হয়ে গেল। ঘটনার ভয়ংকর বিবরণ পড়লাম আনন্দবাজার পত্রিকায়। কাগজটি লিখেছে–

বাস ছুটছে। চলছে গণধর্ষণ। তবু থামছে না চালক। অসহায় বন্ধু প্রতিবাদ করতে গিয়ে জখম। টানা ৪৫ মিনিট ধরে এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার পরে তরুণী ও তাঁর বন্ধুকে অর্ধনগ্ন, প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে ওই বাসেই চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। কাল এমনই এক আতঙ্কের রাতের সাক্ষী রইল রাজধানী।

বছর ২৩-এর ওই তরুণী ডাক্তারির ছাত্রী। তিনি এখন সফদরজঙ্গ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষছেন। কাল রাতে ধর্ষণের পাশাপাশি তাঁকে এবং তাঁর বন্ধুকে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে ধর্ষণকারীরা। ওই ছাত্রীর মুখে এবং পেটে নৃশংস ভাবে মারা হয়। অন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে তাঁর। ভেন্টিলেটরে রয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচারও করেছেন চিকিৎকরা। মেয়েটির বন্ধুর মাথায় আঘাত করা হয় লোহার রড দিয়ে। তাঁকে অবশ্য হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। চাকরি করেন একটি সফ্টওয়্যার সংস্থায়। ওই তরুণী পড়েন দেরাদুনের একটি কলেজে। ইন্টার্নশিপের জন্য দিল্লিতে এসেছিলেন।
কী হয়েছিল রবিবার রাতে?

পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লির মুনিরকা থেকে পালাম যাওয়ার জন্য রাত পৌনে দশটা নাগাদ বন্ধুর সঙ্গে একটি রঙিন কাচ দেওয়া চার্টার্ড বাসে ওঠে মেয়েটি। সিনেমা দেখে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। বাসে ছিল চার-পাঁচ জন লোক। কিছু ক্ষণের মধ্যে ওঁদের দু’জনকে ঘিরে ধরে তারা। মেয়েটির বন্ধুর এক আত্মীয় বলেছেন, “বাসে ওঠার দশ মিনিটের মধ্যেই ওরা মেয়েটিকে হেনস্থা করতে শুরু করে। তার পরেই রড বার করে ওঁর বন্ধুকে পেটায়। মেয়েটিকে ওরা টেনে নিয়ে যায় বাসের কেবিনের দিকে। সেখানেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।”

এখানেই শেষ নয়। মেয়েটির উপর অকথ্য নির্যাতনের পরে তাঁকে পিটিয়ে তাঁর এবং তাঁর বন্ধুর পোশাক খুলে দিয়ে চলন্ত বাস থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় মহিপালপুর সেতুর ধারে। পুলিশ মূল অভিযুক্ত, বাসচালক রাম সিংহকে গ্রেফতার করেছে।

নয়ডার একটি স্কুল ক্যাম্পাসে আজ বাসটিকে খুঁজে পাওয়া যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল বাসটি ভাড়া নেয়। রবিবার কিছু বাড়তি রোজগারের আশায় বাস নিয়ে বেরিয়েছিল রাম সিংহ ও তার সহযোগীরা। আরও অন্তত পাঁচ জন ওই ঘটনায় জড়িত। তাদের এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তদন্তের সুবিধার জন্য দুই অভিযুক্তের স্কেচ আঁকিয়েছে পুলিশ। বাসের সিসিটিভি ফুটেজও নানা জায়গায় দেখিয়েছে।
দক্ষিণ দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন, ওই চার-পাঁচ জন মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ। মহিপালপুর সেতুর ধারে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দু’জন পড়ে রয়েছেন পুলিশকে প্রথম এই খবর দেয় একটি টোল প্লাজা পেট্রোল। পুলিশের গাড়িতে প্রথমে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় এইমসে। তার পরে মেয়েটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে সফদরজঙ্গ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রাতের ওই ভয়ানক অভিজ্ঞতার পরে মেয়েটির বন্ধু রাত সওয়া একটা নাগাদ বসন্ত বিহার থানায় অভিযোগ জানান। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত জানিয়েছেন, পরিবহণ দফতর ওই বাসের পারমিট বাতিল করেছে। ঘটনার নিন্দা করে জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন মমতা শর্মা বলেছেন, “দিল্লিতে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। পুলিশ এবং সরকারকে আরও সতর্ক হতে হবে।”

তা ছাড়া, মমতার অভিযোগ, “যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি যথেষ্ট জনবহুল। ওরা ছেলেমেয়ে দু’টিকে নিষ্ঠুর ভাবে মারল। মেয়েটিকে ধর্ষণ করল। দিল্লি পুলিশের সচেতনতা নিয়েই তো প্রশ্ন ওঠে।”

অন্যদিকে পাকিস্তানের ঘটনা শৈশবে পড়া আইয়ামে জাহিলিয়াতকে মনে পড়িয়ে দিল। মানুষ চিকিৎসা নেবে না; টিকা নেবে না; যারা টিকা দেবে তাদেরকে ওরা গুলি করে মারবে। এই জালেমদের হাত রেহাই কোথায়!
ইনটারনেট ঘেটে যে খবরটি পেলাম তা হল__

পাকিস্তানে ৫ পোলিও নিরোধকর্মীকে হত্যা

পাকিস্তানে কি পোলিও নিষিদ্ধ!!

পাকিস্তানে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন স্থানে পোলিও নিরোধকর্মীদের ওপরে হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, এতে দেশটিতে শিশুদের স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য আবশ্যক চিকিত্সা প্রদান হুমকির মধ্যে পড়ল।

হামলাকারীদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের পেছনে তালেবান জঙ্গিদের হাত আছে। তালেবান জঙ্গিরা পোলিও নিরোধ কার্যক্রমকে ‘পশ্চিমা চক্রান্ত’ হিসেবে অভিহিত করে বিভিন্ন সময় এর নিন্দা করেছিল।

ঘটনার প্রতিবাদে দেশটির বৃহত্তম নগর করাচিতে পোলিও প্রতিরোধ কার্যক্রমকে স্থগিত করেছে স্বাস্থ্যকর্মীরা।

দ্য ডন জানায়, করাচির বিভিন্ন স্থানে চারজন এবং পেশোয়ারে একজন পোলিও নিরোধকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পাকিস্তানে পোলিও-র প্রকোপ মহামারি আকারের। দেশজুড়ে তিনদিনের পোলিও প্রতিষেধক অভিযানের আজ দ্বিতীয় দিন চলছিল।

খবরে বলা হয়, নিহতদের সবাই জাতিসংঘের পোলিও প্রতিরোধ কার্যক্রমের একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সিন্ধুর প্রাদেশিক সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগির আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি প্রদেশের সর্বত্র পোলিও নিরোধ কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রথম হামলা হয়েছিল করাচির লানধি এলাকায়। এখানে দুর্বৃত্তরা একদল পোলিও নিরোধকর্মীর ওপরে হামলা চালায়। এ সময় ওই দলের দুজন নারীকর্মী মারা যান। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার কোন প্রত্যক্ষদর্শী নেই।
নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার সময় কর্মীদের আসপাশে বা তাঁদের নিরাপত্তায় কোন পুলিশ নিয়োজিত ছিল না।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে করাচির ওরাঙ্গি এলাকার রাজা তানভির কলোনিতে। এখানেও একদল পোলিও নিরোধকর্মীর ওপরে বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। দলনেতা চিকিত্সক শফিক জানান, একজন নারীকর্মী ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় একজন পুরুষকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

করাচির মোচকো এলাকার মোহাম্মদ খান কলোনিতেও সোমবার একই রকম আরেকটি হামলা হয়। এখানেও এক নারীকর্মী মারা যান। অপর এক পুরুষকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা গুল নাজ বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা পোলিও নিরোধকর্মীদের ফোন করে হুমকি দিয়েছিল। কর্মীরা যাতে নাস্তিকদের পরিচালিত পোলিও অভিযানে সাহায্য না করে, সেজন্যই এ হুমকি।
পেশোয়ারে পোলিও টিকা প্রদান প্রকল্পের দুই কর্মীর ওপরে দুই মোটরসাইকেল আরোহী গুলি চালান। পেশোয়ারের পুলিশ কর্মকর্তা জাভেদ খান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, দুই বোনের একজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। আরেকজন চিকিত্সাধীন আছেন।

গতকাল সোমবার পেশোয়ারের গাদাপ এলাকায় বন্দুকধারীদের হামলায় এক পোলিও নিরোধকর্মী মারা গিয়েছিলেন।

পাকিস্তানে প্রেয়ার এ্যান্ড ক্রাইং ফর পিস

এই বর্বরতা থেকে মুক্কি কোথায়!তালেবানরা বর্বর ধর্ষরা ছড়িয়ে পড়েছে করাচি পেশোয়র থেকে দিল্লিতে। এই বর্বরদের হাতে ঢাকায় খুন হতে দেখলাম বিশ্বজিৎ নামের নিরীহ যুবককে। পাকিস্তান তো অনেক আগেই বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়েছে। করাচি যে খুন খারাবির শহর তা তো শৈশব থেকেই পত্রিকায় পড়ছি। মানুষের জীবনের মূল্য েসখানে একটি গুলির চেয়েও কম। সে প্রবাদ শুনেছি সেই কবে। ওরা মালালাকে মারে। ওরা নারীকে চরম অপমান করে সে আর নতুন কি! কিন্তু তালেবান বর্বরদের আছড় দিল্লি ও ঢাকায় যখন বিচ্ছিন্ন ভাবে দেখি তখন গভীর উৎকন্ঠা বোধ না করে পারি না। আমরা যাচ্ছি কোথায় আলোতে না আইযামে জাহেলে। ##