ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

জনগনের প্রতিবাদ গনতন্ত্রের মূল শক্তি

রাজধানী দিল্লিতে বাসে গনধর্ষনের পর ভারত জুড়ে তোলপাড় চলছে। ধর্ষকদের প্রতি গনঘৃনায় দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভারত যে বৃহত্তম গনতন্ত্রের দেশ; তা এই ঘৃনা ও প্রতিবাদের বিস্ফোরক পরিস্থিতিতে অনুধাবন করা যাচ্ছে। মানুষের তীব্রতম প্রতিবাদের মুখে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষন দিয়েছেন। তিনি আবেগাপ্লুত ভাষায় বলেছেন -তিনিও তিন কন্যার পিতা। জনগনকে সংযত থাকার আবেদন জানান তিনি। ওদিকে দুর্ধর্ষ অপরাধীদের আখড়া তিহার জেলে ধর্ষক রামসিংকে নেয়া হলে সেখানে কয়েদিরাও তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেন। তারা গন রামধোলই দিয়ে তাদের ঘৃণার প্রকাশ করেন।

কথা হচ্ছে_এই গনধোলাই গনধর্ষনের প্রতিষেধক কিনা। প্রধান মন্ত্রীর ভাষনে গনধর্ষিত ডেন্টাল ছাত্রীটি তা অপমান অবমান প্রশমন করতে পারবেন কিনা। ধষিত কোন অপরাধ করে নি। স্বাধীন চলাচল মানুষ মাত্রের মৌলিক অধিকার। তা তিনি নারী বা পুরুষ যাই হোন না কেন। রাজধানী দিল্লিতে সেই অধিকারের স্বীকৃতি আছে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সেই অধিকার বাস্তবায়নে ব্যাত্যয় ঘটেছে। রাষ্ট্রকে তাই এই মৌলিক সমস্যার দিকে তাকাতে হবে।
এবার আসুন আমরা প্রথমে মিডিয়ার খবর গুলো পড়ি।

কষ্ট ও ক্ষোভের প্রকাশ

‘দিল্লি ঘটনায় মনমোহন
‘জনগণের ক্রোধ জায়েজ, আমিও ৩ কন্যার পিতা’

আমি নিজে ৩ কন্যার পিতা। তাই এ ঘটনার মর্ম অনুধাবন করতে পারি। তাই জনগণ যে ক্রোধ প্রদর্শন করছে, আমি মনে করি তা জায়েজ (বৈধ)। কিন্তু এর প্রতিবাদ-বিক্ষোভে সহিংসতা না করার অনুরোধ করছি।

চলন্ত বাসে ডেন্টাল কলেজ ছাত্রী গণধর্ষিত হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ সারা ভারত এখন উত্তাল। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা ‍বাহিনী কোনোমতেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না ধর্ষকদের চরম শাস্তির দাবিতে ফুঁসে ওঠা আপামর জনতাকে। এ অবস্থায় শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সোমবার সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ওপরের কথাগুলো বলেন।

নিজের বক্তব্যে মনমোহন আরো বলেন, মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য সম্ভব সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের শাস্তি সুনিশ্চিত করা হবে।

হিন্দি অনলাইন পত্রিকা নবভারত ও ডেইলি ভাস্কর জানায়, একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি নিজে ৩ কন্যার পিতা। তাই এ ঘটনার মর্ম অনুধাবন করতে পারি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে জনগণের বিক্ষোভ প্রতিবাদকে সমর্থন করে তিনি আরো বলেন, কিন্তু বিক্ষোভের সূত্রে হিংসাত্মক ঘটনা এর কোনো সমাধান দেবে না। এ ঘটনায় আমরা সবাই মর্মাহত। তবে সরকার আপনাদের এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো আপনাদেরকে নিয়মিত জানানো হবে।

শান্ত থাকুন: ভিকটিমের বাবা
এদিকে, ঘটনার শিকার ২৩ বছর বয়সী ওই ছাত্রীর পিতা সমগ্র জাতিকে শান্ত থাকার আবেদন করেছেন। তিনি তার আবেদনে বলেন, জ্বালাও-পোড়াও-ভাংচুর বন্ধ করে অপরাধীদের দ্রুত বিচার সম্পন্নকরণে পুলিশকে সহায়তা করুন।

একই সঙ্গে সন্তানের চরম দুর্যোগে যন্ত্রণাদগ্ধ এ পিতা দিল্লির একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা তার কন্যার জন্য প্রার্থণা করার অনুরোধ জানিয়েছেন সবাইকে। তিনি জানান, তার মেয়ে চেতনা ফিরে পাওয়ার পর থেকে অবস্থা অপরিবর্তিত আছে। তবে তার মাঝে লড়াই করার ক্ষমতা এখনো ‍আগের মতই আছে।

তিনি বলেন, “বেঁচে থাকার এবং বেঁচে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আমার মেয়ের মাঝে এখনও আগের মতই আছে। ঈশ্বরের ‍কাছে প্রার্থনা করুন সে যাতে সেরে ওঠে। আমার কন্যা যে কতটা সাহসী তা প্রকাশ করার কোনো ভাষা নেই…”

এই ধর্ষকদের চাই কঠিন শাস্তি

তিহার জেল
গণধর্ষক প্রধান রামসিংকে ধূমসে পেটালো কয়েদিরা

দক্ষিণ দিল্লিতে ডেন্টাল ছাত্রীর ওপর চালানো ভয়াবহ গণধর্ষণ ঘটনায় জড়িতদের পালের গোদা রামসিংকে তিহার জেলের কয়েদীরা ধূমসে পিটিয়েছে।

সোমবার হিন্দি অনলাইন পত্রিকা নবভারত জানায়, গণধর্ষক চক্রের ৬ সদস্যের মধ্যে ৩ জনকে গত রোববার ভারতের বিশেষ ও বিপজ্জনক অপরাধীদের জন্য নির্মিত তিহার জেলে নেওয়া হয়। কিন্তু যখনি সাজা ভোগরত অপরাপর কয়েদীরা জানতে পারেন দিল্লির ভয়াবহ গণধর্ষণকারী দলের নেতা রামসিং তাদের মাঝে উপস্থিত, সঙ্গে সঙ্গে তারা তাকে পাকড়াও করে বাছবিচারহীন মারপিট শুরু করেন।

কারারক্ষীরা জানান, রামসিংয়ের প্রতি কয়েদিদের ঘৃণার মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে উদ্ধারে আরেকটু দেরি হলে সম্ভবত তাকে বাঁচানো যেত না। ক্রুদ্ধ কয়েদিরা তাকে হত্যাই করতো।

জেলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, তিহার জেল কম্পাউন্ডের জেল-৩ এর একটি হাই সিকিউরিটি সেলে রাখা হয়েছে রামসিংকে যেখানে শীর্ষ সন্ত্রাসী আফজাল গুরু বন্দি রয়েছে। প্রসঙ্গত, মুম্বাই হামলা মামলার রায়ে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণকারী আজমল কাসাবকে আফজাল গুরুর শিষ্য বলে ধারণা করা হয়।

ওই কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে আরো জানান, ওয়ার্ডে অন্যান্য কয়েদিদের সঙ্গে একত্রে না রেখে রামসিংকে একা আলাদা হাই সিকিউরিটি সেলে রাখা হয়েছে। ৩ নং জেলে তাকে রোববার সন্ধ্যার সময় আনা হয়। জেলখানায় তাকে আনার সঙ্গে সঙ্গে দাবানলে মত কয়েদিদের মাঝে খবর ছড়িয়ে পড়ে। ব্যস আর যায় কোথায়। যেখান যেখান দিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেসব স্থানে থাকা কয়েদিরা রামসিংকে অকথ্য-অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এরই একপর্যায়ে একদল কয়েদি তাকে ঘিরে ফেলে মারপিট শুরু করে। পরে কয়েদিদের ক্রোধ থেকে কারারক্ষীরা কোনোক্রমে রামসিংকে উদ্ধার করে।

তিনি জানান, তাকে আলাদা সেলে রাখা হয়েছে। তার সঙ্গে অন্য কয়েদিদের দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, জেলে পৌঁছানোর পরও রামসিংয়ের চেহারায় অনুশোচনার কোনো চিহ্ন ছিল না। সে মুখ বন্ধ করে আছে। জেল কর্মর্কতাদের কাছে সে একবারের জন্যও বলেনি যে, সে ভুল করেছে।

রাম সিং ছাড়া ওই ন্যাক্কারজনক জঘন্য ঘটনায় জড়িত বাকি দুর্বৃত্তদেরও তিহার জেল কম্পাউন্ডের অন্যান্য ব্লকে বন্দি রাখা হয়েছে।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিহার জেল কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মচারী না হলে আমরাও রামসিংকে কঠিন ধোলাই দিতাম। সে মানবতাকে লজ্জায় ডোবানোর মত এমন কাজ করেছে যা সম্ভবত কোনো পিশাচও করবে না।

চাই দ্রুতবিচার সবার নিরাপত্তার স্বার্থে;নারী অনিরাপদ থাকলে কেউই নিরাপদ নয়

গনধোলই প্রতিশেধক নয়:চাই কঠিন আইনি ধোলাই-মৃত্যুদন্ড
সারা ভারত জুড়ে আজ যে প্রতিবাদ প্রবাহ তা খুবই স্বাভাবিক। এই প্রতিবাদই ভারতের গনতন্ত্রকে মজবুত করছে। তবে গনধোলই যেন শেষ কথা না হয়। ধর্ষককে তিহার জেলের মধ্যে মেরে ফেলাও কোন কোন বিচার নয়। আসল বিচার হল আইনি বিচার। কঠিনতম আইনি বিচার। ধর্ষকদের দ্রুততম সময়ে উপযুক্ত বিচার করে কঠিনতম শাস্তি দিতে হবে।দিতে হবে মৃত্যুদন্ড। কেবল ভারতে নয় বাংলাদেশে যেসব খুনি জঙ্গিিবিশ্বজিৎকে খুন করেছে তা নিয়ে সারাদেশে ঘৃনার প্রবাহ সৃিাষ্ট হয়েছে। এই প্রবাহর প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত এদের কঠিনতম শাসি্ত মৃত্যুদন্ড দেয়া দরকার। ভারত সরকারকে ভাবতে হবে দুর্বল আইন নিয়ে। আগের মান্ধাতার আইন বদলে চাই আধুনিক আইন। ওই আইন বদলে ফেলুন। আজ সাধারন জনতা জেগেছে। তারা কেবল ডেন্টাল ছাত্রীধর্ষকের বিচার চায় না। তারা সকলধর্ষকের বিচার চায়। চায় দ্রুত বিচার। মনমোহন সিং যে আবেগ দেখিয়েছেন তা ঠিক হ্যায়। যে আবেদন জানিয়েছেন তাও ঠিক হ্যায়। কিন্তু ধর্ষনসহ নারীর প্রতি , মানুষের প্রতি সব সহিংসতার বিচার দ্রুত না করা গেলে যে উন্নত ভারতের স্বপ্ন উপমহাদেশ বাসী দেখছেন তা সফল হবে না। উন্নত দেশের সবচেয়ে বড় শর্ত উন্নত আইন। আইনের কঠোর প্রয়োগ। কেবল অর্থনীতি দিয়ে উন্নত দেশ হয় না। উন্নত মর্যাদাশীল দেশের পরিচয় হল সেখানে সকল মানুষের স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত হবে। নারীর স্বধীন নিরুদ্বিগ্ন চলাচল কায়েম করতে পারলে বোঝা যাবে সেই দেশে সবার অধিকার কায়েম হয়েছে। নারীর চলাচল এখানে প্রতীক। নারীকে তালেবান, সৌখিন ধর্ষক ধর্মজঙ্গির হাত থেকে যখন রাষ্ট্র বাচাতে পারবে তখন বোঝা যাবে দেশ এগিয়েছে। আরও এগুবে।