ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

মোবাইল ফোনেই সময় দেখা যায়; হাত ঘড়ির দরকার কী! কথায় যুক্তি আছে বটে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের অভ্যেস। তাই বন্ধ হয়ে যাওয়া হাত ঘড়িটা বন্ধ হওয়ার দিনই দেখালাম একটা ঘড়ি ঠিক করার দোকানে। সম্ভবত ব্যাটারী চেঞ্জ করতে হবে যদিও এই ব্যাটারীটা চেঞ্জ করেছি বেশিদিন হয়নি। কিন্তু আজকাল দোকানদাররাও ১ নম্বর জেনুইন বলে কত নম্বর -এর ভেজাল দিচ্ছে কে জানে! দোকানদার ঘড়ি খুলে ব্যাটারী টেস্ট করে বললেন; ব্যাটারী ঠিক আছে, ঘড়ি ওয়াশ করতে হবে। “তা কতক্ষণ সময় লাগবে”? – জিজ্ঞেস করলাম আমি। জবাব দিলেন রেখে যেতে হবে, ১ সপ্তাহ পর পাওয়া যাবে। দিলাম না ওই দোকানে।
ক’দিন পর হাতে সময় পেলাম এবং অন্য এলাকার একটি দোকানে ঘড়িটি দেখালাম। ঘড়িটি খুলেই বলল ব্যাটারি চেঞ্জ করতে হবে। অরজিনাল ব্যাটারী দেবে। মনে স্বস্তি পেলাম – ঘড়িতে কোন মেজর প্রবলেম নাই। দরদাম করে মাঝারি মানের একটা ব্যাটারী লাগাতে বললাম। তড়িৎ ব্যাটারী চেঞ্জ শেষ। বেশ করিৎকর্মা ম্যাকানিক্! কিন্তু একি! ঘড়ি যে চলছে না! দোকানদার বিষন্ন বদনে বললেন একটু ওয়াশ করা লাগবে। অনেকক্ষণ ধরে কি কি সব করলেন, ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে লাগা শুরু করতেই ঘড়িটা আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। আমিও ব্যাটারীর দাম ও সাথে অন্যান্য কাজের মূল্য বাবদ দরদাম করে ১২০ টাকা দিয়ে দোকান থেকে বিদায় নিয়ে একটা রিক্সায় উঠলাম গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিছুক্ষণ পর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ঘড়ি বন্ধ। কাজ শেষ করে ঘন্টাখানেক পর আবার সেই দোকানে গেলাম। দোকানদার খুব ব্যস্ততা দেখালেন, কথা বলারই যেন সময় নেই। তাকাচ্ছেনেই না, কথা বলবেন কী! যাই হোক, বিরক্তি নিয়ে দোকানদার আবার ঘড়িটা খুলে কি কি সব গুতাগুতি (!) করে আবার পরে পাশের দোকান থেকে কি যেন একটা মেশিন এনে নানা পরীক্ষা-টরীক্ষা করে ঘড়িটি চালিয়ে দিলেন। আমিও বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। সম্ভবত আধঘন্টাও হয়নি, বাসায় পৌঁছার আগেই ঘড়ি বন্ধ।
ঘড়িটির মায়া ছাড়তে পারছি না। এক বন্ধুকে দিয়ে আনিয়েছিলাম। ক’দিন পর অন্য এলাকায় অন্য এক ম্যাকানিককে ঘড়িটি দেখালাম। দেখে বললেন, সার্কিট নষ্ট হয়েছে। ঠিক করা যাবে। যে দাম চাইলেন, শুনে বললাম এত টাকা দিয়ে ঠিক করার চাইতে নতুন কিনে নেওয়াটাইতো ভালো। বললেন, এটা খুবই ভাল ঘড়ি, জেনুইন ঘড়ি। নতুন না কিনে একটা কিনে এটা ঠিক করে নেন, অনেক দিন নিশ্চিন্তে চলতে পারবেন। মন সায় দিল না বলে ঠিক করতে দিলাম না।
দিন যেতে থাকে। মোবাইল ফোনে সময় দেখি। কিন্তু সেটা কমফোর্টেবল নয়। নতুন ঘড়ি কিনতে ইচ্ছে করছে না আবার এ ঘড়ির মায়াও ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। ক’দিন বাদে অন্য আর একটি দোকান। মেকানিক ঘড়ি খুলে, পরিস্কার করে লাইটের নীচে দিয়ে রাখলেন – আমি দাঁড়িয়ে থাকলাম ১, ২ … ১০/১৫ মিনিট। তিনি ভাল করে দেখে বলতে চান ঘড়ির কি সমস্যা। ঘড়ি চলল না। আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বললেন সার্কিট নষ্ট, কয়েলও নাকি নষ্ট। সিদ্ধান্ত নিলাম করাব না – বেশি দিন নিশ্চয় টিকবে না। কিন্তু আমাকে মটিভেট করে ফেললেন এই বলে যে এই সব জেনুইন বিদেশী ঘড়ি এখন পাওয়া যায় না। ঠিক করলে আরও ক’বছর নিশ্চিন্তে পার করা যাবে। তিনি নাকি ২৬ বছরের অভিজ্ঞ এই লাইনে। দিয়ে দিলাম ঠিক করতে। বাসায়ও ফিরলাম স্বস্তি নিয়ে। ঘড়ি চলছে … আধ ঘন্টা, এক ঘন্টা, দেড় ঘন্টাও পার হলো। যাক …কিন্তু ঘড়ি স্লো হতে লাগল। এডজাস্ট করে নিলাম সঠিক সময়। ঘড়ি বন্ধ হয়ে গেল। ফোন দিলাম দোকানদারকে। বললেন বন্ধ হওয়ার তো কথা না। কালতো আমাদের মার্কেট বন্ধ থাকবে। পরশু নিয়ে আসবেন। দেখে দেব …..।
পরে গিয়েছিলাম সেই দোকানটায়। দোকানদার খুব ব্যস্ত। ঘড়ি কাম চশমার দোকান, নিজেই মালিক, নিজেই মেকানিক। গোমড়া মুখে, ব্যস্ততার মধ্যে বললেন রেখে যান। ….
সেই ঘড়ি আর ঠিক হয়নি। কিছু টাকা অযথা নষ্ট হলো, নতুন ঘড়িই কিনতে হলো।