ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

করির সুবাদে গত ২০০৪ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি চট্টগ্রামে ছিলাম। ২০১১ সালের শেষ দিকে আবার চট্টগ্রামে আসি সেই একই চাকরির সুবাদে। আসলে চট্টগ্রামের সাথে আমার একটা নাড়ির টান রয়েছে। কারণ এখানেই আমার দুই চাচা গত হয়েছেন এবং এক চাচার কবর রয়েছে এই চট্টগ্রামের মাটিতেই। চট্টগ্রামের মানুষের আচার-আচরণ, কৃষ্টি-কালচার, ভৌগোলিক অবস্থান আমাকে মুগ্ধ করে। এখানে আমার সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব, ক্লাইন্ট সবার সাথে রয়েছে মধুর সম্পর্ক। এতো ভালো কিছুর মাঝেও চট্টগ্রামের একটি প্রথা আমাকে একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে খুব পীড়া দেয়। তা হলো যৌতুক প্রথা। আর এই প্রথার বাহিরে চট্টগ্রামের ধনী, মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র কেউ নেই। আর আমার মনে হয় এ বিষয়টি বাংলাদেশের সব মানুষই জানে। কারণ গত কিছু দিন পূর্বে আমি একবার ছুটি নিয়ে ঢাকাতে যাই।

সেখানে আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক বন্ধুর সাথে দেখা। অনেক দিন পর দেখা, তাই কুশলাদি বিনিময় করার পর বন্ধুটি জানতে চাইলো এখন কোথায় তোর পোস্টিং। বললাম, চট্টগ্রাম। ও বলল, দোস্ত খুব ভালো জায়গায় আছিস, এবার চট্টগ্রামে একটি বিয়ে করে ফেল। জানতে চাইলাম কেন? ও জানালো, ওখানে বিয়ে করলে শ্বশুর বাড়ি থেকে সব (যৌতুক) দিয়ে দিবে। আমি ওর কাছে জানতে চাইলাম তুই কিভাবে জানলি। জানালো ওর এক বন্ধু নাকি চট্টগ্রামে বিয়ে করেছে, তাকে শ্বশুর বাড়ি থেকে ঘরের ফার্নিচার থেকে শুরু করে যা যা দরকার সব দিয়ে দিয়েছে। আমি ওকে শুধু বললাম, তার মানে তোর বন্ধু যৌতুক নিয়েছে। ও বলে, এটা যৌতুক হতে যাবে কেন? শ্বশুর ওকে স্বেচ্ছায় সব কিছু দিয়েছে। বন্ধুটিকে শুধু বললাম, স্বেচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক সবই যৌতুক। যাই হোক বন্ধুর সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে চলে এলাম এবং মনে মনে বললাম, চট্টগ্রামের এ যৌতুক ট্রেডিশন এখন সারা বাংলার মানুষ জানে!! নিজে একজন ভইঙ্গা হয়েও চট্টগ্রামে বাস করার সুবাদে কিছুটা হলেও লজ্জা পেয়েছি, কিন্তু চট্টগ্রামের মানুষ কি পেয়েছে? মনে হয় না।

গত জানুয়ারিতে নগরীর নয়াবাজারস্থ একটি বাসায় ছিলাম। পাশের বাসায় ছিলো বৃদ্ধ এক মহিলা। যাকে আমি খালা হিসেবে ডাকতাম এবং যথেষ্ট শ্রদ্ধাবোধ ছিলো এবং আছে তার প্রতি। তার দুই মেয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করে। বড় মেয়ে ডিভোর্সী এবং ছোট মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। প্রতি মাসে খালাকে দেখতাম নতুন নতুন হাড়ি, পাতিল, থালা/বাসন কিনতে। একমাসে আমার কাছে এসে বললো, তুমি কিছু টাকা আমাকে ধার দিবা, বললাম কতো, বললো তিন হাজার টাকা। ঠিক আছে দিবো, বলে জানতে চাইলাম টাকা দিয়ে কি করবেন। বললো, ছোট মেয়ের বিয়েতে একটি টেলিভিশন দিতে হবে ওটা কিনবো। আমি খালাকে জিজ্ঞাস করলাম, খালা আপনি মেয়ের বিয়েতে যৌতুক দিবেন? খালা উত্তরে বললেন, বাবা, আমি আর ভুল করতে চাই না। আমার প্রথম মেয়ের বিয়েতে ছেলেকে কিছু দিতে পারিনি বলে বিয়ের পাঁচ বছর পরে সংসার ভেঙে গেছে। এবার আমি ছোট মেয়ের জামাইকে বিয়ের সময়ই সব কিছু দিয়ে দিবো। খালাকে বললাম আমি আপনার হবু মেয়ের জামাইর সাথে এ বিষয়ে একটু কথা বলি। খালা বললো, না বাবা তোমার কিছু বলার দরকার নেই, এতে বিয়েটা ভেঙে যেতে পারে। আমি যা পারি তাই জামাইকে দিবো। আমার কোন কষ্ট নেই, কারণ এটা চট্টগ্রামের একটা নিয়ম। আমি খালাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, যৌতুক দেয়া নেয়া উভয়ই অপরাধ।

এবার খালা আমার উপর রাগ করলো এবং আমাকে হাতে ধরে আবারও অনুরোধ করলো, আমি তার হবু মেয়ের জামাইকে যেন কিছু না বলি। হয়তো খালার কোন কষ্ট নেই, কারণ খালা চট্টগ্রামের মানুষ। কিন্তু আমিত খুব কষ্ট পেলাম এবং একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে নিজের অবস্থানে থেকে খালার কোন উপকার করতে পারলাম না তার অনুরোধে, শুধু পারলাম খালাকে যৌতুকের টেলিভিশনটি কিনতে কিছু টাকা ধার দিতে। আমি লজ্জিত!! কিন্তু আপনারা?? গত কিছু দিন আগে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার অফিসটি কোর্ট বিল্ডিং-এ ছিলো। একদিন হঠাৎ ষাটোর্ধ্ব এক ভিক্ষুক ভিক্ষা চাইতে অফিসে আসলো। আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম, মুরব্বী ভিক্ষা করেন কেন? আপনার কোন ছেলে মেয়ে নেই, যারা আপনাকে দেখবে? উনি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জানালেন, তার তিন মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, এক মেয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করে এবং একজন এখনও ছোট। মেজো মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। জামাইকে একটি টেলিভিশন ও খাট দিতে হবে। তাই ভিক্ষা করে টাকা জমিয়ে এসব কিনবো। মুরব্বীকে জিজ্ঞাস করলাম জামাইকে এসব না দিলে কি মেয়ের বিয়ে হবে না। উনি জানালেন, কি বলেন বাবা এগুলোতো আমাদের চট্টগ্রামের নিয়ম। এসব না দিলে কি মেয়ের বিয়ে হয়? যাই হোক মুরব্বীকে ১০ টি টাকা দিয়ে কিছু বলতে চাইলাম কিন্তু তিনি আমার আর কোন কথা না শুনে অফিস থেকে বের হয়ে গেলেন। হয়তো তার তাড়া আছে, আরও দশ জায়গায় যেতে হবে, তাড়াতাড়ি টাকা জোগাড় করতে হবে, কারণ সামনে যে তার মেয়ের বিয়ে। উনি যাওয়ার পর মনে মনে ভাবলাম সারা বাংলাদেশ যেখানে যৌতুককে ঘৃণা করতে শুরু করেছে, যৌতুকের বিরুদ্ধে সরকার আইন তৈরি করেছে সেখানে চট্টগ্রামের মানুষ এটাকে জিইয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। সত্যিই আমি খুব লজ্জিত!!

গত জুন মাসে আমার এক বন্ধুর ভাইয়ের বিয়ের দাওয়াতে যাই নগরীর একটি দামী কমিউনিটি সেন্টারে। সেখানে বন্ধুর সাথে কথা বলতে বলতে এক সময় বলে ফেললো তার ভাইয়ের শ্বশুররা খুবই বড় লোক। তার ভাইকে টিভি, ফ্রিজ, সকল প্রকার আসবাবপত্রসহ যাবতীয় সব কিছু দিয়েছে। বন্ধুকে বললাম, তোমার ভাই এত কিছু কি যৌতুক হিসেবে নিয়েছে? উত্তরে সে বলল, যৌতুক নিতে যাবে কেন, এসব এমনিতেই দিয়েছে। তাকে আর কিছু বলতে পারলাম না। লজ্জায় মাথা নিচু করে খাওয়া দাওয়া শেষ করে চলে আসলাম। আমার অভিজ্ঞতা বলে এই ঘৃণিত প্রথা থেকে চট্টগ্রামের ধনী, মধ্যবিত্ত, দরিদ্র কেহ বাদ নেই। সকলেই এটাকে তাদের সংস্কৃতি মনে করে। তাহলে কি এর থেকে বের হবার কোন উপায় নেই? অবশ্যই আছে। এজন্য প্রথমেই দরকার চট্টগ্রামের মানুষের মনের সংস্কার। যদি তারা মনে করে যে যৌতুক দেয়া এবং নেয়া উভয়ই অপরাধ, তাহলেই তারা এই কু-প্রথা/সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারবে। এজন্য মিডিয়া, সরকার, সুশীল সমাজ, এনজিও প্রতিনিধি সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। মিডিয়াগুলো চট্টগ্রামের এ কু-প্রথা নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করতে পারে।

সরকারিভাবেও চট্টগ্রামে যৌতুক প্রথা রোধে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে এবং আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও একটু সজাগ দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। আমাদের সুশীল সমাজের ভূমিকাও কম নয়। তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার করে তুলতে পারে। এ কু-প্রথা রোধে এনজিওগুলো বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা যৌতুকের বিরুদ্ধে পোস্টার, লিফলেট বিতরণ, জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে জনগণকে সচেতন করে তুলতে পারে। আসলে এজন্য দরকার আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। মিডিয়া, সরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজ, এনজিও প্রতিনিধি সবাই মিলে এর বিরূদ্ধে কাজ করলে খুব বেশি দিন এই ঘৃণিত ও লজ্জাকর প্রথা চলতে পারবে না। পরিশেষে বলবো, চট্টগ্রাম আমার প্রিয় জায়গা। এখানকার মানুষগুলো আমার খুব প্রিয়। আর আমার এ প্রিয় মানুষগুলো কোন কু-প্রথাকে বুকে লালন করে রাখুক তা চাই না, আমার প্রিয় মানুষগুলোকে নিয়ে কেহ উপহাস করুক কিংবা লজ্জা দিক তা আমি চাই না। আমি চাই চট্টগ্রামের মানুষ সকল কু-প্রথা/সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হবেন।

- মো. ফয়সাল আহম্মদ, জেলা সমন্বয়কারী, এসএএইচআর প্রকল্প, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, চট্টগ্রাম ইউনিট।


২৬ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মো: আশরাফ বলেছেনঃ

    জনাব ফয়সাল, আপনি আমাদের একটি সামাজিক ব্যাধিকে অনেক সুন্দর উপস্থাপন করেছেন। যৌতুক প্রথা শুধু চট্টগ্রাম নয় সারাদেশে এই ব্যাধি প্রকট আকার ধারণ করেছে। একদিন আমাদের কারখানার এক কর্মচারী এলো ছুটির জন্য, আমি ছুটির কারণ জানতে চাইলে সে বলে, তার ছোট বোনের বিয়ে। আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম তোমার ছোট বোনের বয়স কত? সে বলে, স্যার ১৫ বছর। আমি তাকে আবারও প্রশ্ন করি তোমার বাড়ী কোথায়? সে বলে, চট্টগ্রাম। আমার পাশের সিটে বসা এক চায়নিজ কলিগ বলে, আশরাফ তোমাদের এখানে মাত্র ১৫ বছরে বিয়ে হয়? আমি তাকে কোন উত্তর করতে পারিনি, কারণ আমি লজ্জিত। চট্রগ্রামে শুধু যৌতুক নয় বাল্য বিবাহের প্রকোপও অনেক বেশি।

  2. সগীর হোসাইন খান বলেছেনঃ

    যৌতুককে আমরা অনেক ভাবেই সঠিক বানানোর চেষ্টা করি। অনেকটা ঘোষ না বলে ডোনেশন, উপঢৌকন ইত্যাদি বলার মত।

    আমাদের এর থেকে বের হয়ে আসতে হবে। নাহলে অনেক পিতাকেই মেয়ে বিয়ে দোওয়ার জন্য ভিক্ষা করতে হবে কিংবা মেয়ের বিয়েতে সব খরচ করে ভিক্ষায় বসতে হবে।

  3. এস দেওয়ান বলেছেনঃ

    যেই পাত্র পক্ষ যৌতুক চায় সেই পাত্রের কাছে মেয়ে বিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিৎ । বাঁচতে হলে মেয়েদের পুরুষের স্ত্রী হতেই হবে এমন মন মানসিকতা বদলাদে পারলে যৌতুক সমস্যা বন্ধ হতে বাধ্য ।

  4. সেলিম বলেছেনঃ

    আপনার সুন্দর এবং যুগোপযোগী একটি পোস্টের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ । “যৌতুক একটা সামাজিক ব্যাধি , আসুন আমরা সবাই এই ব্যাধির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলি এবং দেশ থেকে যৌতুক নামের এই ব্যাধি টাকে চিরতরে নির্মূল করি ”
    একটু কষ্ট পেলাম এ জন্য যে আপনি পোস্টটিতে শুধু চট্টগ্রামকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের সব জায়গায় কিন্তু এমন না । পত্রিকার পাতা খুললে আমরা যৌতুকের জন্য নির্যাতন এর যেসব খবর দেখি তার ৫% ও কিন্তু চট্টগ্রামের না । আসুন আমরা সারা

  5. সত্য সন্ধানী বলেছেনঃ

    আপনি বোধহয় বাংলাদেশে থাকেন না। যৌতুক প্রথা কেবল চট্টগ্রামেরই ঐতিহ্য না এটা পুরো বাংলাদেশের ঐতিহ্য। ঢাকার কথা চিন্তা করেন, এখানে যৌতুক হয়না, কেউ নেয়না, কেউ দেয়না। কিন্তু এখানে “উপহার” দেয়া হয়। ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র/ টিভি/ এসি/ ফ্রিজ এখানে “উপহার” হিসাবে সবাই নিয়ে থাকে। আপনি উত্তর বঙ্গে যান, ওখানে ছেলেপক্ষ বিয়ের শর্ত হিসাবে “নগদ টাকা” আর একটি মোটর সাইকেল “উপহার” হিসাবে নিয়ে নেয়। ওদের সাথে চট্টগ্রামের মানুষের পার্থক্য হলো এরা যৌতুককে যৌতুকই বলে, “উপহার” বলে না।

    আমি যৌতুকের পক্ষপাতি নই। তবে, আপনি একটা ব্যাপার খেয়াল করে দেখবেন, পাত্র যত টাকা যৌতুক হিসাবে নিক না কেন বিয়েতে যেধরনের আয়োজন তারা করে তার দ্বিগুন খরচ হয়ে যায়। তাই চট্টগ্রামের মানুষ কেবল টাকার লোভে যৌতুক নেয় সেই ধারনা ভুল।

    এটা এমন না যে ব্যতিক্রম নাই। শিক্ষিত মানুষ সে যে এলাকার মানুষই হোক না কেন যৌতুক নেন না। আলাদাভাবে চট্টগ্রামের মানুষের উপর আপনার যৌতুকের ঐতিহ্য চাপিয়ে দেয়া ঠিক না।

  6. মাহফুজ বলেছেনঃ

    আমি আসলে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকি, এখানে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাথে বেশ ভালোভাবে মিশে আছি। যৌতুক শুধু চট্টগ্রামের একার সমস্যা না বাংলাদেশে আরো বেশ কিছু জেলাতে আমার মনে হয় আরো প্রকট ভাবে বেড়ে চলেছে।

  7. মোঃ হাসান মুরাদ বলেছেনঃ

    আমি চট্টগ্রামের ছেলে। শুধু বিয়ের সময় নয়, বিয়ের পরে ও এটা চলতে থাকে… যেমন কোরবানীর সময় আস্ত গরু পাঠানো সাথে পুরা গরু রান্না করার মসল্লা । ঈদের সময় কাপড় , রমযানের সময় পুরা মাসের ইফতার সামগ্রি সারা বছর এভাবে চলতে থাকে — এবং প্রতি বছর… যত বছর কনের মা বাবার সামর্থ থাকে… এগুলো ও যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত কেননা বেশির ভাগই সামাজিক চাপে করে… আমার চাচা নিজে ছাগল দিয়ে কোরবানি করে সদ্য বিয়ে দেয়া কন্যার কাছে গরু পাঠাইছে…

  8. স্বপ্নময় বলেছেনঃ

    জনাব মুরাদ,
    আপনি চট্টগ্রামের কোথায় থাকেন জানিনা। আমিও চট্টগ্রামেই থাকি। এখানেই আমার সবকিছু। আপনার বর্ণনার সাথে আমার এলাকার কোন মিল নেই। হয়তো দুয়েকটা পরিবার ঘটা করে এরকম করেছে। দুয়েকজন মানুষের জন্য পুরা মহল্লার কথা আপনি বলতে পারেন না। আপনার আত্মীয় যখন যৌতুক দিচ্ছিলেন তখন আপনি বাঁধা দেন নাই কেনো? আপনার হয়তো বোনও থেকে থাকবে আপনি নিজেই কি এরকম গরু ছাগল যৌতুক দিবেন? সারা বছর যৌতুক দিতে থাকলেতো রাজাদেরও ফতুর হয়ে যাবার কথা।

    আর লেখকের প্রতি বলছি। কয়েকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য পুরো একটা জেলার প্রতি আপনার যা বিরোপ মনোভাব দেখলাম তা থেকে আপনাকে মানবাধিকার কর্মী বলতে পারছি না। যেধরনের তথ্যমূলক লেখা আপনার কাছ পাবার প্রত্যাশা ছিলো তার ধারেকাছেও আপনি নাই।

  9. Arshadul বলেছেনঃ

    এটা চট্টগ্রামের মানুষের নিজস্ব ব্যাপার আপনার চাইলেও এটা বন্দ করতে পারবেন না। বিয়েতে এত কিছু দেওয়া ও নেওয়া আপনাদের কলিজাই সইবেনা। দেকলেননা বৃদ্ধ মহিলা বললেন “আমার কোন কষ্ট নেই” এটা আসলে আত্নর বেপার.

  10. আজাদ হুমায়ুন বলেছেনঃ

    আপনি লেখাটা যেভাবে লিখেছেন, মনে হয়, সারা বাংলাদেশ নয়, যৌতুক প্রথাটা চট্রগ্রামেই চালু আছে, এটা অত্যন্ত অপপ্রচার মূলক এবং অপমান মুলক লেখা, পেশাগত কারণে আমি বাংলাদেশের অনেক জেলাতে বসবাস করেছি, এখনো আমি আমার নিজ জেলার বাইরে থাকি, সেসব জায়গায় যৌতুকের প্রথার যে কুৎসিত রুপটি দেখেছি, সেটার তুলনায় চট্টগ্রামের এই যৌতুক সংস্কৃতি তো নস্যি! চট্টগ্রামের ভাষা, সংস্কৃতি, প্রথাকে নিয়ে বিদ্রুপ, হাসাহাসি করা অনেকের কাছে ইদানীং ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে! তবে হ্যাঁ, যৌতুক দেয়া বা নেয়া সেটা স্থানে বা কালে হোক সেটা অবশ্যই, বর্জনীয় এবং নিন্দনীয়।

    ১০
  11. এম। গোলাম নেওবাজ বাবুল বলেছেনঃ

    ধন্য বাদ দিতেই হয় ফয়সল সাহেব কে এই ধরনের একটি লেখার অবতারণা করার জন্যে।
    মন্তব্য কারীদের অধিকাংশই চট্টগ্রামের বলে মনে হয় । আপনের সমালোচনা করতে গিয়ে নিজেদের থলের বিড়াল বের করে দিয়েছেন।
    আসলে চিটাগাং এর মানুষ যৌতুক দেওয়া বা পয়বা কে বাহাদুরী মনে করে আবার যিনি নেন তিনি বিসসো জয়ের মত করে ঢেকুর তোলেন। কিন্তু যারা মডারেট তারা আবার যৌতুক নিতে আগ্রহী না। যৌতুক আসলে হিন্দু সম্প্রদায়ে থেকে আসেছে বলে আমার মনে হয় । কারণ হিন্দু মেয়েদের বিয়ের সময় সব কিছু দিয়ে দিতে হয় .কারণ তারা পিতার সম্পদের অংশ পায় না। বিগত এক দের শত বত্সর যাবত বাংলাদেশের অধিকাংশ সমাজ হিন্দু দের দখলে ছিল আর সে সময় হিন্দুদের আচার আচরণ ও সমাজ বেবস্থা ই প্রধান । সেটা হিন্দু মুসলিম সকলে ই মান্য করত । হিন্দুরা সংখআ গরিষ্ঠ ছিল। তার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে এই যৌতুক সংস্কৃতির প্রচলন।
    আমার সসুর বাড়ি টাঙ্গাইল। আমার সসুর বাড়ির অনেকে এখনো কাঁসার থালা,বাট্টি বেবহার করে, গরুর মাংস খায় না।
    এই সংস্কৃতি হতে বের হবার জন্য অনেক বেশি সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। মুসলিম পরিবারের বিয়ে মুসলিম ধর্ম মতে হতে হবে। হিন্দু দের বিয়ে তাদের ধর্ম মতে হতে হবে।
    বিয়েটা একটা ধর্মীয় অনুশাসন। মুসলিম বিয়ের ধর্মীয় নিয়ুম হল কন্যার বাড়িতে আক্ধ ছাড়া অন্য কোনও আনুষ্ঠানিকতা নয়। সব আনুষ্ঠানিকতা বরের বাড়িতে হবে একে বলা হয় ওয়ালিমা ।
    শরীয়ত এ এটাই শীকৃত । তেলাই বা গায়ে হলুদ শরীয়ত শীকৃত অনুষ্ঠান নয়. । ইসলামী মতে বিয়ের দুইটা অনুষ্ঠান , একটি আক্ধ , অন্যটি ওয়ালিমা. । বরের বাড়িতে গরু, ছাগল পাঠান শরীয়ত জায়েজ করে নাই। এটা একটা অদ্ভুত নিয়ম । কে কখন এই নিয়ম তৈরি করেছে আল্লাহ-ই জানেন।
    যেহেতু আমাদের দেশের মানুষ ধার্মিক সেহেতু ধর্মের এই বিধান গুলো নিয়ে এবং মসজিদের ইমাম সাহেব দের মাধ্যমে গণ সচেতনতা সৃষ্টি করা যায়। প্রতি জুমার নামাজে এই বিষয়ে ইমাম সাহেব গণ তাদের ক্ষুত্‍বতে আলোচনা করতে পারেন। পাশা ফাসি এই বিষয়ে আইন কঠোর ভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

    ১১
  12. মো ফয়সাল আহম্মদ বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ সবাইকে, যারা পড়েছেন ও মন্তব্য করেছেন৷ যৌতুক বাংলাদেশের সব যায়গাতে আছে এটা আমিও স্বীকার করি৷ কিন্তু আপনারা যারা চট্টগ্রামে আছেন তাদের অনেকের মন্তব্যই এটা প্রমান করে যে এটা অন্য যায়গার তুলনায় আপনাদের অনেক বেশী৷ আমি আসলে চেয়েছিলাম, চট্টগ্রামের মানুষের ইগোতে এটা লাগুক এবং এটা তারা বন্ধ করুক৷ হয়ত আমি স্বার্থক৷ তবে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি যদি কেহ কষ্ট পfন৷ আসলে আমি চট্টগ্রামকে চট্টগ্রামের মানুষকে খুব ভালোবাসি তাই তাদের ভালো আমিও চাই, চাই চট্টগ্রামের মানুষ থাকুক সবার উর্ব্ধে এবং সকল সমালচনার উর্দ্ধে৷ সবাই ভালো থাকবেন৷

    ১২
  13. ম.গোলাম নেওবাজ babul বলেছেনঃ

    যা হউক যৌতুক আসলে মারততক একটা সামাজিক অপ সংস্কৃতি। বিয়েটা ধর্মীয় বিষয় । এক্ষেত্রে শুধু ধর্মের নিয়মই প্রাধান্য পাবে । তাই আমরা আজ হতে প্রতিজ্ঞা করি এই অপসংস্কৃতি হতে বের হয়ে আগামীর পথ পরিচ্ছন্ন করি।
    ধন্যবাদ লেখক সহ সবাইকে একটা সুন্দর আলোচনার জন্য । আমিও চাটগাইয়া.

    ১৩
  14. নজরুল islam বলেছেনঃ

    চট্টগ্রাম সম্পর্কে অনেকে বিরূপ মন্তব্য করেছেন. তা কিন্তূ মোটে ও ঠিক হয়নি , যৌতুক চট্টগ্রামে মনে হয় ২০% আছে কিনা সন্দেহ আছে, হয়তো মেয়ে সুন্দর না হলে, বিয়ে না হলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যৌতুক চলে. নোয়াখালী , কুমিল্লা, একটি প্রথা চালু হয়ছে এখন , সুন্দর মেয়ে ও বিয়ে দিবে সাথে টাকা ও দিবে, চট্টগ্রামে ছেলেকে যা কিছু মেয়েদের পক্ষ থেকে দেয় তা সবই উপহার হিসেবে দেয়, কারণ– চট্টগ্রামের মানুষ বেশির ভাগ ব্যবসা- বানিজ্য করে তাদের দাওয়াত দিলে ভালো উপহার অথবা টাকা দিয়া থাকে, টাকা গুলি মেয়েদের পক্ষ না খেয়ে জামাইকে উপহার হিসবে যা মন চায় উপহার দেয়, আর চট্টগ্রামে সামাজিক ভাবে কিছু রীতি নীতি আছে যা চট্টগ্রামের মানুষ ছাড়া কেউ মেনে নেয় না, আর অনেক ভইংগা চট্টগ্রামে এসে বস্তি এলাকায় থাকে, কিছুদিন পরে বলে আমি চিটাগাংগা আর তারাই চট্টগ্রামের বদনামি করে, লেখক আপনি নিজেকে মানবধিকার কর্মী ভাবেন…. আপনি হচ্ছেন দালাল টাকার বিনিমিয়ে নিজের অস্তিত্ব বিলিয়ে দিতে দিধাবোধ করেন না… দ্বিতীয়বার যদি কোনো কথা চট্টগ্রাম সম্পর্কে লিখেন ফাইনাল এক্সিট লাগিয়ে বের করে দিব… মনে রাখেন কিন্তূ ……..

    ১৪
  15. rashed বলেছেনঃ

    আসলেই এইটা একটা সামাজিক বেদি আমার ফ্যামিলি ও কিন্তু এই বেদীর শিকার কপাল দশে আমার বড় বোনের বিয়ে হয় বোয়ালখালীর একটি ছেলের সাথে তারপর এগর বত্সরের যন্ত্রনা শেষে ব্রেন কাঞ্চরে বোন আমার মারা যায়।

    ১৫
  16. kazi বলেছেনঃ

    আপনারা যে যাই বলেন আমি কিন্ত বলি এটা আমাদের দেশের একটা
    Social স্ট্যটাস এ পরিনত হয়েছে, যে মেয়ের বাবা মা যত বেশী যৈাতুক দিতে পারবে সে মেয়ে তত বেশী সম্মান পাবে তার শশুর বাড়ীতে।এটা ও আপনাদের জেনে রাখা প্রয়োজন যে আমাদের পিতা মাতারা তাদেরই যৈাতুক দেন যে ছেলের নিজের+তার বাবার অনেক সম্পদ আছে তাদের। সোজা কথায় গিভ & টেক। এক্ষেত্রে আমাদের পিতা মাতারা ছেলে হিসাবে বেছে নেন বিদেশ ফেরত 40 উর্ধ এক ড়া বেটার সাথে তার 18 উর্ধ কন্যা নতুবা পিতার রেখে যাওয়া অঢেল সম্পতি রেখে যাওয়া কোন ছেলে যার বুকিনা তার পিতার রেখে যাওয়া সম্পতি যারা আর কোন যোগ্যতা নাই।আসলেই কথাটা সত্যি মানি ইস ড সেকন্ড গড ইন দি world যার জন্য আমরা সবাই ব্যস্ত।মন্ত্রী ব্যস্ত দেশ বেচতে শিক্ষক ব্যস্ত শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পরাতে নতুবা ফেল করিয়ে দেবার হুমকি ডাক্তার টে‌স্ট দেব‌ার জন্য যাই হোক আর বলব ‍না আমি তো আর তুলসি পাতা নাঅ

    ১৮
  17. সুপ্রসন্ন বলেছেনঃ

    আপনাদের মানবাধিকার কর্মীদের আর কোন কাজ নেই ?যৌতুক সমস্যা সারা বাংলাদেশের শুধু চট্টগ্রামের নয় । আপনি কোন জেলার লোক জানকে ইচ্ছে করছে , আপনার এলাকার সবাই কি ধোঁয়া তুলসি পাতা ? যৌতুকের জন্য আগুন , এসিডের শিকার হয়ে অনেক নারী প্রায় হাসপাতালে যায় , খবর নিয়ে দেখবেন ঐখানে চট্টগ্রামের একজনও পাবেন না , বরং আপনার এলাকার কাউকে পেয়ে যাবেন । এটাতো সারা দেশের সমস্যা আপনি চট্টগ্রামকে কেন শিরোনাম দিলেন ? আপনার বন্ধুর কথায় আপনি ব্লগ লিখে ফেললেন ? যা লিখবেন ভেবে চিন্তে লিখবেন , অযাচিত কিছু লিখে হাসির পাত্র হবেন না । শুভকামনা ।

    ২০
  18. সুপ্রসন্ন বলেছেনঃ

    শুনুন , চট্টগ্রমের মানুষকে আপনার মতো লোকের ভালবাসার দরকার নেই , আপনি পারলে আজই চট্টগ্রাম থেকে বিদায় হোন , দূর হোন চট্টগ্রাম থেকে , আপনি জানেন না আপনি সারা দেশের একটা সমস্যাকে চট্টগ্রামের উপর দিয়ে চালিয়ে দিয়ে চট্টগ্রমের মানুষের মনে কত বড় আঘাত দিলেন ।লেখার নিচে আপনি যে পরিচয় দিয়েছেন তার সাথে আপনার কাজের কোন মিল নেই , প্লিজ আপনি চট্টগ্রাম থেকে দূর হোন ।

    ২১
  19. সুপ্রসন্ন বলেছেনঃ

    আমার দুটো বোন বিয়ে দিয়েছি , কই এক টাকার জিনিস ও দিই নাই , এমনকি বরকে একটা আংটি ও দিই নাই । যৌতুক না নেওয়া ও না দেওয়া টা আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য , আর নেওয়া টা লজ্জার । তাই বলছি সবাইকে এক পাল্লায় মাপবেন না ।

    ২২
  20. nazrul islam বলেছেনঃ

    সম্মানীত, পাঠক আমি হয়তো আপনাদের মনে কষ্ট দিয়া থাকতে পারি ভাষাগত কারণে হোক আর রাগের মাথায় হোক, এজন্য ক্ষমাপার্থী, আসল কথা হলো আমি নিজে বিয়ে করেছি পাচ্লাখ টাকা মোহরানা নগদ দিয়া, দশ লক্ষ টাকা দিয়া করা যেত কিন্তু উসুল দিতে পারার ক্ষমতা নাই, যারা বেশি টাকা মোহরানা দিয়া বিয়া করেন কয়জনে পুরো টাকা উসুল করেন তা জানিনা, কিন্তু বিয়ের প্রথম স্বর্থ হচ্ছে মোহরানা, এটা নিয়ে কোনো মানভিধিকার কর্মীর মাথা বেথা নাই, এবার আসি আসল কথায়, আমার শুশুর একজন ব্যবসায়ী সাধারণত ব্যবসায়ীর সাথে ব্যবসায়ীর সম্পর্ক থাকে. যত ব্যবসায়ীকে দাওয়াত দিয়েছে সবাই উপহার হিসাবে টাকা অথবা উপটোকন দিয়াছে, বেশীর ভাগ টাকা, এখন টাকা গুলি কি করবে, আমি কোনো কিছু তাদের কাছে চাই নাই, তারা ইচ্ছা করে উপহারের টাকা দিয়ে আমাকে ফ্রিজ, এবং পুরো পার্নিচার দিয়াছে, আমি বললাম আমার ঘর নাই এত পার্নিচার রাখার জন্য, তিনি বললেন মেয়েকে একধম খালি দিতে ভালো দেখা যায় না. কেউ যদি ইচ্ছা করে উপহার দেয়.. তাকে আপনি যৌতুক বলবেন কেন….? মনে রাখবেন চট্টগ্রামের মানুষ দিতে ও জানে নিতে ও জানে. মন অনেক বড় কিপ্টা না.. আশা করি চট্টগ্রামের সাথে অন্য অন্য জেলার সাথে মিল করার চেষ্টা করবেন না যে যার জেলায় ভালো থাকেন, চট্টগ্রাম আমার গর্ব.

    ২৩
  21. মোরশেদুল হক বলেছেনঃ

    এ লজ্জা রাখি কোথায়
    আমি জনাব ফয়সাল আহাম্মদ কে ধন্যবাদ জানাই,কারণ তিনি আসল কথা টাই বললেন,আমি ও চট্টগ্রামের ছেলে আমার তিন টি বোন বিয়ে দিত গিয়ে যা যৌতুক দিতে হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা,আমার সামর্থ থাকা সত্বে ও আমি মন থেকে তা দিতে পারিনি / আপনাদের দুই টি বাস্তব ঘটনা বলি , একটি চট্টগ্রামের অন্য টি কুড়িগ্রামের,প্রথমে কুড়িগ্রামের টা বলি,বিগত 2 বছর আগে অমার সাথে কুড়িগ্রামের একটা ছেলে থাকতো,একটি মালটিন্যাশনাল কোম্পানী তে ইন্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করত,লাখ টাকার ওপর বেতন পাইত সে,পারিবারিক ভাবে তার বিয়ে টিক হল,মেয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স শেষ করেছে,মেয়ের বাবা বিদেশ থাকে,ছেলে টি বিয়ের দুই দিন আগে বাড়ি যাবে,আমাকে বলল,বিয়ে করতে যাচ্ছি,আমার কাছে আশি হাজার টাকা আছে, বিশ হাজার টাকা দেন,আসা মাত্র দিয়া দিব,বিয়ের এক সপ্তাহ পর টাকা ফেরত্ দিল ,আমি জিজ্ঞাস করলাম টাকা কী আপনার কাজ অসেনি? সে বল্ল্ , আমার যা ছিল তে দিয়েই বিয়ে শেষ করতে পেরেছি, কৌতুহল বসত জিজ্ঞাস করলাম,শ্বশূর বাড়ি থেকে কী কী দিয়েছে? সে বলল , বউ টা এবং পঞ্চাশ জন বরযাত্রী,আমি বিয়ের বাজার করছি বিশ হাজার টাকা ,ফার্নিচার কিনেছি তিরিশ হাজার টাকা ,অমার বন্ধৃ ও আত্বীয় সজন কে আমাদের বাড়ি তে খাওয়াছি,এটাই আমদের বিয়ের নিয়ম,মেয়ের বাড়ি থেকে ও কিছু দিবেনা আর ছেলে যা খুশি তাই দিবে,স্বর্ণ ইচ্ছে হল দিবে না দিলে নাই…..চট্টগ্রামের টা বলি এবার, আমার এক দূর সম্পর্কিয় ভাই সে ঢাকায় একটি অভিজাত শপিং মল এ চাকরি করে,পড়া-লেখা ও তেমন করে নাই ,সর্বোচ্চ অষ্টম শ্রেণী পাশ হবে,সে বিয়ে করবে, বউ টিক হল ,মেয়ে টি এইচএসসি পড়ছে,দেখতে মোটামুটি সুন্দর,বউ পছন্দ হল,টিক-ফর্দ এর দিন ছেলে পক্ষ দাবি করল ছেলেকে নগদ তিন লক্ষ টাকা দিত হবে,বউ কে তিন ভরী স্বর্ণ্ দিয়ে সাজিয়ে দিতে হবে,চার পদ ফার্নিচার ও তিন শত বরযাত্রী খাওয়াতে হবে.কণে পক্ষের যদি মন চাই তবে জামাই কে পোষাকের জন্য দশ/বারো হাজার টাকা দিতে পারবে, কণে পক্ষ এসব মেনে নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে,ছেলে পক্ষ বিয়ে হবেন বলে মজলিস থেকে উঠে আসতে চাইল ,কণে পক্ষ মান -সম্মান এবং মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সর্বশেষ আড়াই লক্ষ টাকা ,দুই ভরি স্বর্ণ, দুইশত বরযাত্রী ও চার পদ ফার্নিচার দিতে রাজি হয়,বলা বহূল্যা,মেয়েটির আম্মা আমার আম্মার দূর সম্পর্কিয় আত্বীয়,সে সৃবাদে ঘটনাটি জানতে পারলাম,,,এটাই আমার চট্টগ্রাম এর বিয়ের কালচার,নিজেরা আগে সচেতন হয় তার পর অন্যের সমালোচনা করি , তাই তো বলি প্রথম আলোর সাথে “বদলে যাও বদলে দাও ” সমাজটাকে আমরা কী যৌতৃক মুক্ত করতে পারিনা,
    ব্লগার মানবাধিকার কর্মী ফয়সাল আহম্মেদ এর সমালোচনা না করে তাকে সমাজের অবহেলিত বিষয় নিয়ে আরো বেশি বেশি লিখতে উত্সাহিত করুন ,ধন্যবাদ ব্লগার ফয়সাল আহম্মেদ কে //

    আমি জনাব ফয়সাল আহাম্মদ কে ধন্যবাদ জানাই,কারণ তিনি আসল কথা টাই বললেন,আমি ও চট্টগ্রামের ছেলে আমার তিন টি বোন বিয়ে দিত গিয়ে যা যৌতুক দিতে হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা,আমার সামর্থ থাকা সত্বে ও আমি মন থেকে তা দিতে পারিনি / আপনাদের দুই টি বাস্তব ঘটনা বলি , একটি চট্টগ্রামের অন্য টি কুড়িগ্রামের,প্রথমে কুড়িগ্রামের টা বলি,বিগত 2 বছর আগে অমার সাথে কুড়িগ্রামের একটা ছেলে থাকতো,একটি মালটিন্যাশনাল কোম্পানী তে ইন্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করত,লাখ টাকার ওপর বেতন পাইত সে,পারিবারিক ভাবে তার বিয়ে টিক হল,মেয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স শেষ করেছে,মেয়ের বাবা বিদেশ থাকে,ছেলে টি বিয়ের দুই দিন আগে বাড়ি যাবে,আমাকে বলল,বিয়ে করতে যাচ্ছি,আমার কাছে আশি হাজার টাকা আছে, বিশ হাজার টাকা দেন,আসা মাত্র দিয়া দিব,বিয়ের এক সপ্তাহ পর টাকা ফেরত্ দিল ,আমি জিজ্ঞাস করলাম টাকা কী আপনার কাজ অসেনি? সে বল্ল্ , আমার যা ছিল তে দিয়েই বিয়ে শেষ করতে পেরেছি, কৌতুহল বসত জিজ্ঞাস করলাম,শ্বশূর বাড়ি থেকে কী কী দিয়েছে? সে বলল , বউ টা এবং পঞ্চাশ জন বরযাত্রী,আমি বিয়ের বাজার করছি বিশ হাজার টাকা ,ফার্নিচার কিনেছি তিরিশ হাজার টাকা ,অমার বন্ধৃ ও আত্বীয় সজন কে আমাদের বাড়ি তে খাওয়াছি,এটাই আমদের বিয়ের নিয়ম,মেয়ের বাড়ি থেকে ও কিছু দিবেনা আর ছেলে যা খুশি তাই দিবে,স্বর্ণ ইচ্ছে হল দিবে না দিলে নাই…..চট্টগ্রামের টা বলি এবার, আমার এক দূর সম্পর্কিয় ভাই সে ঢাকায় একটি অভিজাত শপিং মল এ চাকরি করে,পড়া-লেখা ও তেমন করে নাই ,সর্বোচ্চ অষ্টম শ্রেণী পাশ হবে,সে বিয়ে করবে, বউ টিক হল ,মেয়ে টি এইচএসসি পড়ছে,দেখতে মোটামুটি সুন্দর,বউ পছন্দ হল,টিক-ফর্দ এর দিন ছেলে পক্ষ দাবি করল ছেলেকে নগদ তিন লক্ষ টাকা দিত হবে,বউ কে তিন ভরী স্বর্ণ্ দিয়ে সাজিয়ে দিতে হবে,চার পদ ফার্নিচার ও তিন শত বরযাত্রী খাওয়াতে হবে.কণে পক্ষের যদি মন চাই তবে জামাই কে পোষাকের জন্য দশ/বারো হাজার টাকা দিতে পারবে, কণে পক্ষ এসব মেনে নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে,ছেলে পক্ষ বিয়ে হবেন বলে মজলিস থেকে উঠে আসতে চাইল ,কণে পক্ষ মান -সম্মান এবং মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সর্বশেষ আড়াই লক্ষ টাকা ,দুই ভরি স্বর্ণ, দুইশত বরযাত্রী ও চার পদ ফার্নিচার দিতে রাজি হয়,বলা বহূল্যা,মেয়েটির আম্মা আমার আম্মার দূর সম্পর্কিয় আত্বীয়,সে সৃবাদে ঘটনাটি জানতে পারলাম,,,এটাই আমার চট্টগ্রাম এর বিয়ের কালচার,নিজেরা আগে সচেতন হয় তার পর অন্যের সমালোচনা করি , তাই তো বলি প্রথম আলোর সাথে “বদলে যাও বদলে দাও ” সমাজটাকে আমরা কী যৌতৃক মুক্ত করতে পারিনা,
    ব্লগার মানবাধিকার কর্মী ফয়সাল আহম্মেদ এর সমালোচনা না করে তাকে সমাজের অবহেলিত বিষয় নিয়ে আরো বেশি বেশি লিখতে উত্সাহিত করুন ,ধন্যবাদ ব্লগার ফয়সাল আহম্মেদ কে //

    ২৪
  22. জানু, প্রবাস থেকে.... বলেছেনঃ

    জনাব মোর্শেদ আপনি যে এটা বুজে গেলাম আপনার কথায়, আপনাকে চট্টগ্রামের ভিসা কে দিয়াছে জানি না, আপনি মনে হয় রোহিংগা নয়তো নোয়াখাল্লা… চট্টগ্রাম এসে ন্যাশনালিটি না পেয়ে চট্টগ্রামের বদনামি করছেন…….. যার কাছে টাকা নাই তার কাছে যৌতুক দিয়ে বোন বিয়ে দিবেন কেন….. মনে হয় কোন কিন্তু আছে…. আর যার টাকা দিয়ে বিয়ে করার ক্ষমতা নাই তাকে বলেন [মডারেটেড]…. যতদিন পর্যন্ত টাকা না হয় বিয়ে না করার জন্য…. [মডারেটেড]……. যার কাছে বিয়ে করার টাকা নাই তার কাছ থেকে আপনি কি আশা করতে পারেন বোন সুখে থাকবে…..? যারা টাকা দিয়া মেয়ে বিয়া দেয় তারা পটকা….. হয়তো নিজে টাকা নিয়ে বিয়ে করেছে আর মেয়ে বিয়ে দিবে কিভাবে টাকা ছাড়া… আর মোর্শেদ আপনি চট্টগ্রামের নামে কলঙ্ক …….

    ২৫

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...