ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দোষ আগে নিজেদের দিয়ে তারপর অন্যকে দোষারোপ করাই শ্রেয়।একটি স্থান দিয়ে হাঁটলে একদিন সেখান দিয়ে পথ সৃষ্টি হয়।রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার কথা বলে হরতাল এর পক্ষে হাজার হাজার যুক্তি দিতে পারে। আমরা সাধারণ জনগণ আমাদের বিজয়ের মাসে কোন হরতাল মেনে নেব এমন কথা নেই,যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যারও দরকার নেই।কারণ স্বাধীনতা আমাদের অস্তিত্বের সাথে জড়িত।আপনি ব্যক্তিগতভাবে কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য ভেদে যে কাউকে আক্রমণ বা প্রতিহত করার অধিকার রাখেন কিন্তু একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে দেশদ্রোহীদের সাথে নিয়ে বা তাদের হয়ে কথা বললে কখনই ফলাফল শুভ হবে না।কারণ স্বাধীনতার চেতনা এখনো মুছে যায় নি। যে যে দলকেই সাপোর্ট করিনা কেন দেশদ্রোহী-যুদ্ধাপরাধীদের কোন সাপোর্ট নয়।

প্রথম লাইন দিয়ে শুরু করি।আজ জনাব ফখরুল সাহেব হরতালের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেন দেখে খুব অবাক লাগল।তার যুক্তি অত্যন্ত বলিষ্ঠ তাতে সন্দেহ নেই।কিন্তু কাদের পক্ষে তিনি এই যুক্তি উত্থাপন করলেন একটু ভেবে দেখেছেন কি?যারা হরতালের মাধ্যমে এ দেশের চিহ্নিত রাজাকারদের মুক্তির শ্লোগান দেবে,ত্রিশ লক্ষ শহীদদের গালাগাল করবে তাদের পক্ষে?? নাকি বিএনপি দলগত ভাবে জামায়াতে একিভুত বা বিলিন হয়ে যাচ্ছে? অথবা তারা জামাত ছাড়া নিজেদের অস্তিত্ব সংকট অনুভব করছে? বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিবিদের অভাব নেই কিন্তু তারাও আজ কোনঠাসা হয়ে আছে কোন অদৃশ্য জুজুর ভয়ে অথবা কাফনের কাপড়ের ভয়ে।ভেবে বলুন আর নাই বলুন,ফখরুল সাহেব কিংবা তার দল দেশে অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটে গেলে তার দায়ভার কি মাথায় তুলে নেবেন?

জামাত আর নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি যে এক সুতোয় গাঁথা তা কারো অজানা নয়।স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি তারা প্রকাশ্যে এবং গোপনে দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে এবং বিজয়ের মাসে সারাদেশে নাশকতা সৃষ্টির ছক এঁকেছে তা রোববার রাতে আটককৃত জেএমবি নেতাদের স্বীকারোক্তিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।এ বিষয়ে র‌্যাবের কমান্ডার সোহায়েল বলেন, “জেএমবি জামায়াতের সঙ্গে মিশে তিনটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এগুলো হলো- বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের প্রতিষ্ঠা ও সহযোগিতা, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা।” আরো পড়ুন-
জামায়াত-জেএমবি একাট্টা, রাজধানীজুড়ে নাশকতার পরিকল্পনা

বিজিয়ের এই মাসে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা আজ পদলেহিত হচ্ছে গুটিকয়েক দেশদ্রোহীর হাতে যারা সাধারণ মানুষের মগজ ধোলাই করে যাচ্ছে ধর্মের নামে।যাদের হাতের পুতুল আজ বাংলাদেশের অন্যতম এক প্রধান রাজনৈতিক দল।স্বাধীনতার ৪২ বছর পর দারুন প্রাপ্তি আমাদের। লজ্জা-ঘৃণা-বোধ শক্তিহীন এক স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হয়ে গেল বাংলাদেশ।

আসলে রাজনীতির নামে আমরাই বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছি আমাদের অস্তিত্বকে।ওই মানুষগুলো হয়তো জানেনা শেষ হয়ে যাওয়া অস্থিমজ্জাতেও ক্যালসিয়াম কিছুটা থাকে। আমরা এখনো বিলীন হয়ে যাইনি।

আজ সময় এসেছে লাখো মা-বোনের ইজ্জতের মুল্য পরিশোধের,ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের ঋণ শোধের, বিজয়ের মাসে আরেকটা বিজয় ছিনিয়ে আনবার,বাঙ্গালী জাতি পঙ্গু নয় প্রমাণ করার।