ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধু ছবিযুক্ত ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সহ বিভিন্ন মানের নতুন নোট বাজারে এনেছে। নোট গুলো নিয়ে অনেকে প্রশংসা করলেও আবার অনেকে সমালোচনাও করছে। আমি এখানে প্রশংসা বা সমালোচনা কোনটা করতে আসিনি। এসেছি এই টাকাগুলো নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ আর ভোগান্তির কথা তুলে ধরতে। নোটগুলো প্রায় একই কালারের হওয়ার কারনে মানুষ হরহামেশা হচ্ছে ভোগান্তির শিকার। এই নোটগুলো নিয়ে কেউ ঠকছে আবার কেউ ঠকাচ্ছে সহজ সরল ও বৃদ্ধ মানুষদের। কেউ ঠকাচ্ছে অনিচ্ছাকৃতভাবে আবার কেউ ঠকাচ্ছে সুযোগ বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে। অন্যান্য নোটগুলো মোটামোটি সারা গেলেও ১০০ ও ৫০০ টাকার নোটগুলো সাইজ এবং কালার প্রায় একই, সামান্য ঊনিশ-বিশ থাকলেও তা নিরীক্ষা করা ছাড়া সহজে ধরা পড়ে না। তাই প্রতিদিন কেউ না কেউ ইচ্ছা ও অনিচ্ছাকৃতভাবে ভোগান্তি ও ঠকবাজির শিকার হয়ে ১০০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা আবার ৫০০ টাকার স্থলে ১০০ টাকা দিয়ে দিচ্ছে বা নিচ্ছে বলে বলতে শুনা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশী ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতি ঘন্টায় প্রায় ১০০ মানুষের সাথে লেনদেন করে থাকে আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ক্যাশে ছড়িয়ে-ছিঠিয়ে থাকে সকল প্রকার টাকার নোট। একজন খুচরা ব্যবসায়ী যদি একসাথে ৫/৬ মানুষের সাথে লেনদেন করতে হয় তখন টাকার উপর লেখা মান-সংখ্যা দেখে লেনদেন করা সম্ভব হয় না। এই সময় লেনদেন করতে হয় টাকার কালার দেখে। টাকার কালার দেখে বুঝে নিতে হবে যে, কোনটা কত টাকা মানের নোট। তাতে ঘটে বিপত্তি তারাহুরার মধ্যে টাকার উপর লিখা মান-সংখ্যাটি নিরীক্ষা করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ঊঠে না আবার ১০০ ও ৫০০ টাকা নোট দুইটি প্রায় একই কালার ও সাইজ হয়ে যাওয়ার কারনে কালার দেখেও বুঝার উপায় থাকে না। তাই অনেক সময় ১০০ টাকা স্থলে দিয়ে দিচ্ছে ৫০০ টাকার নোট কিংবা ৫০০ টাকার স্থলে ১০০ টাকার নোট এতে কেউ ঠকছে আবার কেউ অনিচ্ছাকৃত ভাবে লাভবান হচ্ছে। এই ভোগান্তিতে পড়েছিলাম আমি নিজেও। গত কিছুদিন পূর্বে আমি দোকান থেকে বাড়ী যাওয়ার পথে এইটি গাড়ীতে উঠলাম, যেখান থেকে উঠেছি সেখান থেকে আমার বাড়ী পর্যন্ত ভাড়া ৫/- টাকা আমি গাড়ীতে উঠে গাড়ীর হেলপারকে একটি নতুন ২০/- টাকার নোট দিলাম। হেলপার আসার দিকে বড় বড় চোখ তুলে তাকিয়ে বলল ভাই ৫ টাকার জন্য ১০০ টাকার নোট দিলেন কেন? ভাংতি নেই, ভাংতি দেন। আমি বললাম তোমাকে ১০০ টাকার নোট কোথায় দিলাম, তোমাকে দিয়েছি তো ২০ টাকার নোট, তখন হেলপার নোটটি ভাল করে দেখে বলল আমি মনে করেছিলাম এটা ১০০ টাকার নোট। এক্ষেত্রে যদি হেলপারের নিকট ভাংতি থাকত তাহলে অবশ্যই আমাকে ৯৫/- টাকা দিয়ে দিত, আমি অন্তত ফেরত দিতাম। কিন্তু সুযোগ সন্ধানী মানুষ হলে ফেরত দিত কিনা সন্দেহ থাকত। তখন গাড়িতে থাকা অন্যান্য প্যাসেঞ্জার যে যার মতো টাকাগুলোর ব্যাপারে সমালোচনা ও সরকারকে গালাগাল করতে থাকে। এটি এক ঘটনা তারপরের ঘটনা আরো দুর্ভোগের আমি একজন কম্পিউটার টাইপিস্ট সারাদিন কম্পিউটারের কিবোর্ড চালিয়ে হাজার বারোশত টাকা আয় করি তাতে চলে আমার সংসার ও অন্যান্য খরচ। আমি ভুল করে কাউকে ১০০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকার নোট দিয়ে দিই তাহলে আমার আয়ের ৪০০ টাকা চলে যাবে মানে আমার অর্ধেক দিনের আয় খতম। তা ঘটেছিল গত পরশু একজন মানুষের ১০০ টাকার কাজ করলাম। কাজ শেষে সে আমাকে পুরাতন ৫০০ টাকার একটি নোট দিল। ৫০০ টাকা থেকে আমি ১০০ টাকা রেখে তাকে ৪০০ টাকা ফেরত দিতে গিয়ে একটি নতুন ৫০০ টাকার নোট আর তিনটি ১০০ টাকার নোট দিয়ে দিলাম। সবগুলো বর্তমানে বাজারে আসা নতুন নোট ছিল। সেইও ভাল করে না দেখে চারটি নোট গুনে পকেটে নিয়ে চলে গেল, এভাবে তিনজনকে টাকা দিলাম। আমার জানামতে আমার ক্যাশে একটি নতুন ৫০০ টাকার নোট ছিল দেখি সেই নোটটি নেই। যে তিনজনকে টাকা দিলাম সবাই আমার পরিচিত হিসাবে এক এক করে তিনজনকে ফোন দিলাম আর ঘটনা খুলে বললাম। সবাই আমার দেওয়া টাকা চেক করে দেখল এবং প্রথম যাকে ৪০০ টাকা দিলাম সে স্বীকার করে বলছে আমাকে দেওয়া চারটি নোটের মধ্যে একটি ৫০০ টাকার নোট আছে মানে তাকে ৪০০ টাকা ফেরত দেওয়ার স্থলে ৮০০ টাকা ফেরত দিয়েছি। তিনদিন পর সে দোকানে এসে আজকে আমাকে ৪০০ টাকা ফেরত দিয়ে গেল। তাকে অনেক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানালাম। এই রকম মানুষ না থাকলে মানুষ আরো অনেক বেশী ক্ষতির সম্মুখীন হতো। আল্লাহ যেন সব মানুষকে আমার ঐ মানুষটির মতো সৎ করে দেন।

উপরে যে সমস্ত ভোগান্তি, দুর্ভোগ ও ঠকাঠকির কথা তুলে ধরলাম তা লাঘব করতে হলে সদ্য বাজারে আসা নতুন নোটগুলোর কালার ও ডিজাইন পরিবর্তন করে একটা থেকে আরেকটা অবশ্যই ভিন্ন করতে হবে। যাতে মানুষ কালার দেখে সহজে বুঝে নিতে পারে কোনটা কত টাকার নোট। তা না হলে মানুষ হরহামেশা এভাবে ভোগান্তির শিকার হয়ে বর্তমান সরকারকে তো গালি দিবেই সেই সাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও কটূক্তি করতে ছাড়বে না। আর বঙ্গবন্ধু প্রেমিক মানুষরা তা সহ্য করতে না পেরে লিপ্ত হবে কথা কাটাকাটি ও তর্কাতর্কিতে। আর এই কথা কাটাকাটি ও তর্কাতর্কি হাতাহাতি, মারামারি এমনকি খুনাখুনি পর্যায়েও যেতে পারে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সদ্য বাজারে আসা বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত টাকা গুলো বাজার থেকে তুলে নিয়ে কালার ও ডিজাইন একটা থেকে আরেকটি সম্পূর্ণ ভিন্ন করে বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা নেওয়া খুবই প্রয়োজন। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করছি।