ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ভারত সরকারের আমন্ত্রণে সাত দিনের সফরে গত ২৮ অক্টোবর খালেদা জিয়া নয়া দিল্লি যান। সপ্তাহব্যাপী ভারতে সফর শেষে ৩ নভেম্বর শনিবার বিকালে দেশে ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। এক সপ্তাহের সফরে ভারত সরকার খালেদা জিয়াকে যে আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা তা দেখিয়েছেন, তাতে তিনি অভিভূত হয়ে দেশে ফিরে সানন্দচিত্তে ঘোষণা করেছেন তার সফর সফল হয়েছে। সফলতার কোন কর্মটি করেছেন? যে, তিনি এত দৃঢ়ভাবে বলছেন ভারত সফর সফল হয়েছে।

এক সপ্তাহের সফরে যা কর্মসূচী পালন করেছেন :
১। ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা করেছেন। এই বৈঠকে খালেদা জিয়া বিভিন্ন সমস্যার কথা ভারতের রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন।

২। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন, বিজেপি প্রধান নীতিন গডকারি ও লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

৩। এসব বৈঠকে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা, সন্ত্রাসবাদ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছেন।

৪। সফরে ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তার বৈঠক হয়নি।

খালেদা জিয়া যা প্রতিশ্রতি দিয়ে এসেছেন :
১। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারতের কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

২। বিএনপি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

৩। অতীত দূরে রেখে ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যত সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পক্ষান্তরে ভারতের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন:
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে ভারত।

ভারত অন্য কোন আশ্বাস দিয়েছেন কিনা তা প্রকাশ করেননি বলে দেশের জনগণ জানতে পারেননি। খালেদা জিয়ার সফর শেষে দেশে ফেরার পর বিএনপি নেতারা যেভাবে উল্লসিত হয়ে সফর সফল হয়েছে বলে উল্লাস পালন করেছেন, তাতে মনে হয় এই সফরে বিএনপি শতভাগ সফল হয়েছে! তবে কি বিষয়ে সফল হয়েছে তা দেশের জনগণ জানে না, আধো জানবে কিনা জানি না। হয়তো জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে, তারমধ্যে উন্মত্ত সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্যিক সমস্যা, পানি সমস্যা, সন্ত্রাস সমস্যা, সমুদ্র সীমা নির্ধারণ সমস্যা। এই সমস্যা গুলো দুই দেশের জন্য জাতীয় সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত। বাংলাদেশের জনগণও চাই এই সমস্যা গুলোর সমাধান হোক, সীমান্ত হত্যা বন্ধ হোক। বিএনপি নেত্রী এই বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করছে বলে দাবী করলেও আলোচনার ফলাফল কিন্তু পরিষ্কার নয়। বিএনপি নেত্রী শুধু বিএনপি’র নেত্রী নন। তিনি এই দেশের ষোল কোটি মানুষের নেত্রী হিসাবে দুই বার দায়িত্ব পালন করেছেন। হয়তো আগামীবারও ক্ষমতায় আসতে পারে। তাই ষোল কোটি মানুষের দায়িত্ব কোনভাবে এড়াতে পারে না। ষোল মানুষের নেত্রী হিসাবে দেশের এই সমস্যাগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ ছিল। অন্তত একটি বিষয়ে হলেও যদি আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস পেত তাহলে দেশের ষোল কোটি মানুষ বলত খালেদা জিয়ার ভারত সফর সফল হয়েছে।

খালেদা জিয়ার এই সফরকে বিএনপি নেতারা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করলেও ভারত বলছে, এটা বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে নয়া দিল্লির যোগাযোগের অংশ। প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের উন্নয়নে বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতা এবং আগের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

খালেদা জিয়া ও বিএনপি নেতারা কি নিয়ে এতই উল্লসিত হয়েছে তা না জানলেও ধরে নিতে পারি হয়তো আগামীবার ক্ষমতায় আসার জন্য সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। অথবা ভারত সরকার বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেত্রীকে যথোপযুক্ত সম্মান, আতিথেয়তা ও আন্তরিকতা দেখিয়েছেন বলেও উল্লসিত হতে পারেন। তিনি তো আতিথেয়তা ও আন্তরিকতা পেয়ে খুশি হয়েছেন কিন্তু দেশের জনগণ কি নিয়ে খুশি হবে? দেশের জনগণকে খুশি করার মতো কোন কাজটি করে এসেছেন?

পরিশেষে বিএনপি নেত্রী আজমীরে সুফি সাধক হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) মাজার জিয়ারত করে দেশবাসীর জন্য দোয়া করেছেন। তিনি স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে দোয়া করেছেন, সেই সাথে আমরা সুদুর বাংলাদেশ থেকে দোয়া করছি বিশ্বের সকল পীর, মোর্শেদ, আলেম, ওলামাগণের উছিলায় আল্লাহ যেন, আমাদের দেশে তথা সমগ্র বিশ্বে শান্তি নাজেল করেন। আমাদের দেশে তথা সমগ্র বিশ্বের সকল সমস্যার যেন সমাধান করে দেন। বিশেষ করে আমাদের দেশের রাজনীতি থেকে যেন হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি চিরতরে দুর করে দেন। বাংলাদেশকে যেন একটি শান্তির দেশ হিসাবে পরিণত করে দেন।