ক্যাটেগরিঃ শ্রদ্ধাঞ্জলি: আজম খান, সেলুলয়েড

 

আজম খানকে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে সিএমএইচে নেওয়া হচ্ছে

তারিখ: ০১-০৬-২০১১

সংগীতশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা আজম খানকে উন্নত চিকিত্সার জন্য আজ বুধবার রাতের মধ্যে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) নিয়ে যাওয়ার কথা।

আজ রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান আজম খানকে দেখতে স্কয়ার হাসপাতালে গেলে আজম খানের পরিবার থেকে আবেদন জানানো হয় যে তাঁকে যেন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। আজম খানের মেয়ে ইমা খান জানান, রাষ্ট্রপতি এতে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতেই আজম খানকে সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এর আগে আজম খানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। সেখানে তিনি আজম খানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত হন। আজম খানের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে জানতে তিনি চিকিত্সকদের সঙ্গেও কথা বলেন।

এ সময় আজম খানের পরিবার থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে এই আবেদন জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান আজম খানের খোঁজখবর নিয়ে ১১টা ৫৫ মিনিটে স্কয়ার হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

ইমা খান আরও জানান, ‘চিকিত্সকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, বাবার ফুসফুসের অবস্থা গতকালের চেয়ে আজ আরও খারাপ হয়েছে। তাঁরা ফুসফুসের কোনো চিকিত্সা করতে পারছেন না। ক্যানসার এখন আরও বেশি ছড়িয়ে গেছে।’ তবে তাঁর বাবার রক্ত চলাচল ওষুধ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চলছে।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কামরুজ্জামান চৌধুরী (রেডিওলজিস্ট) আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আজম খানের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল তাঁর রক্ত চলাচল স্বাভাবিকভাবে হচ্ছিল। কিন্তু আজ থেকে আবার ওষুধের সহায়তায় রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি আস্তে আস্তে অবনতির দিকেই যাচ্ছে। এ ছাড়া এখনো কৃত্রিম উপায়ে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

গত শনিবার বিকেলে আজম খানকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। এর আগে তিনি হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আজম খানের হার্ট অ্যাটাক হয়। এরপর তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে রাখা হয়। শুক্রবার সকালের দিকে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়। স্কয়ার হাসপাতাল তাঁর চিকিত্সার জন্য সাত সদস্যের চিকিত্সক বোর্ড গঠন করে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ মে আজম খান তাঁর বাঁ-হাতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। ওই দিনই তাঁকে দ্রুত রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এর আগে গত বছর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আজম খানের মুখগহ্বর-জিহ্বার নিচে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর ১৪ জুলাই উন্নত চিকিত্সার জন্য শিল্পীদের সম্মিলিত উদ্যোগে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। তারপর ২০ জুলাই মাউন্ট এলিজাবেথ মেডিকেল সেন্টারের ইএনটি হেড-নেক সার্জন বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু লয় হেং চেংয়ের তত্ত্বাবধানে আজম খানের মুখে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর ২০১০-এ ২১টি টমোথেরাপি (রেডিওথেরাপি) ও একটি কেমোথেরাপি নেওয়ার পর কয়েকটি থেরাপি বাকি রেখেই তিনি দেশে ফিরে আসেন।

***

পাঠক: আমি উক্ত সংবাদটি “দৈনিক প্রথম আলো” হতে সংগ্রহ করে এখানে ব্লগার ভাই-বোনদের নিয়ে শেয়ার করার জন্য পোষ্ট করেছি। ধন্যবাদ। -সৌজন্যে প্রথম আলো।

মূল সংবাদটি দেখুন

আরও খবর দেখুন বিডিনিউজ২৪.কম-এ