ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

এবার মার্কিন দূতাবাসের গাড়িতে ঢিল ছুড়েছে হরতাল সমর্থনকারীরা। কি জঘণ্য সব কান্ড-কারখানা ঘটে চলেছে। গতকাল শংকিত পদযাত্রা একটা লেখা পোষ্ট করেছিল। জামাত-শিবিরের হরতাল ” জামাতের হরতাল! চলেন আমরা ঘরের কোনায় ভয়ে-লজ্জায় লুকাই!!

কিন্তু আজ যখন সেই হরতাল প্রধান বিরোধী দল সমর্থন করে, তখন সেটা আমাদের জন্য আরো বেশি লজ্জাজনক হয়ে দাঁড়ায়। আর যখন শুনি হরতালকারীরা বিদেশী দূতাবাসের গাড়িতে ঢিল ছুঁড়েছে, ভাংচুরের চেষ্টা চালিয়েছে তখন জাতি হিসেবে আমরা আরো কতটা লজ্জায় ডুবে যাই ভাবতেই কষ্ট হয়। আর আজকের এই হরতাল প্রধান বিরোধী দল সমর্থন করে আরো ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ নামক দেশটার জন্মই যে মানুষগুলো চায়নি, তাদের তো সেই দেশটার প্রতি কোন অধিকার থাকা উচিত নয়, উচিত নয় কোন কিছু আশা করাও। তারপরও তারা সেটা করছে, এবং দারুনভাবে সেটাকে অপব্যবহার করছে।

এটা ভেবে কষ্ট হয় যে, জামাত ইসলামী দলটা আমাদের এই প্রিয় দেশটাকে কখনো ভালো কিছু দিতে পারেনি। বরং একের পার এক কর্মকাণ্ড দিয়ে সারা বিশ্বর কাছে আমাদের প্রিয় দেশটার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আজ তারা মার্কিনি দূতাবাসের গাড়িতে যখন হামলা করে তখন তারা সেটা দ্বারা তারা কি প্রমাণ করতে চাচ্ছে? তারা অনেক বেশি ক্ষমতাশালী তাই যা খুশি করতে পারে, নাকি বাঙালী অনেক অসভ্য জাতি কোন কিছু তোয়াক্কা করিনা আমরা এটা? যদি প্রথমটা হয় তাহলে আমার মনে হয় তারা ভুল করবে। উঁই পোকার পাখা গজানোর মতই তাদের পাখাটা গজিয়েছে। আর উঁই পোকার মতই অবস্থাই হবে তাদের। আশা রাখছি সেই শুভদিন খুব তাড়াতাড়ি আসবে। আর মোটেও বাঙালী জাতি অসভ্য নয়। একটা বড় উঁচু কিছুর পাশে একটা বড় নিচু যেমন অনিবার্য, এখানে ও ঠিক তেমনি। কিছু সংখ্যক জামাত ইসলামীদের তান্ডব নৃত্যে ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন আর আশা শেষ হয়ে যেতে পারে না। তবে একটা বিষয়, যেটা এর আগে হাজারো লক্ষ জন বলেছে, আজ আমি ও বলছি, সরকারের আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। আর সেই সাথে কৌশলগত ভাবে অনেক বেশি সচেতনতা দরকার। হত্যা, অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, আর বিশেষ করে বিদেশীদের অথবা বৈদেশিক দূতাবাসের উপর হামলাকে শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধটা এই সব নরপিশাচদের পছন্দ ছিল না। তারপরও তো আমরা আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। আর আজও জামাত সহ তাদের সমর্থনকারীদের কে শক্ত হাতে প্রতিহত করতে গেলে অনেক বাঁধা-বিপত্তি আসবে। আসবে অনেক চাপ। তারপরও সব বাধা প্রতিহত করে এখনই এদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার সুষ্ঠু সময়। সরকার যদি এখন সেটা না পারে তাহলে সেটা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এক অশনি বার্তা বয়ে নিয়ে আসবে। আমরা সেটা কিছুতেই চাইতে পারিনা।

তথ্যসূ্ত্র: বিডিনিউজ২৪.কম

১৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মাহবুব বলেছেনঃ

    জামায়াতের রাজনীতি বন্ধ করে দেয়া উচিত! আর নির্বাচনে অংশ গ্রহনের অন্যতম অযোগ্যতা হওয়া উচিত, ” যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অপরাধের অভিযোগ আছে, সেটা প্রমানিত হোক বা নাহোক তারা জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণে অযোগ্য”! ভাবতে অবাক লাগে বর্তমান শিক্ষিত তরুণ সমাজের একটা বড় অংশ শিবিরের ধর্মের দীক্ষার মগজ ধলাই কৌশলে ভুলে পরকালের সুখের আশায়, চালিয়ে যাচ্ছে তান্ডব! কিন্তু আল্লাহর বান্দাদের কষ্ট দিয়ে তারা যে ইহকাল পরকাল দুই কালই হারাচ্ছে সেটা তারা ভেবেও দেখছেনা! আর বর্তমান বিরোধী দলের জামায়াত শিবিরকে সমর্থন করার একটাই যুক্তি ৯৬ এ আওয়ামিলিগ যেহেতু তাদের সহচর ছিল এখন আমরা থাকলে সমস্যা কি! কিন্তু তারা ভুলে গেছে সমস্যাটা সাধারণ মানুষের, যারা রাজাকারদের মনে প্রাণে ঘৃনা করে! যারা আওয়ামিলিগ বা বিএনপি বুঝেনা! যারা সুধু চায় বিশৃঙ্খলা মুক্ত, সুন্দর একটি দেশ!

  2. হাবিব রহমান বলেছেনঃ

    বিদেশীদের গাড়িতে হামলা হওয়াতে স্টেপ নিতে চাইছেন, খুব ভাল কথা। কিন্তু বিদেশীদের গায়ে যখন হাত পড়েছিল? এই যে বেশ কিছুদিন আগে সৌদি দূতাবাসের এক জনকে মেরে ফেললো, সে সময় মনে হইনি অশুভ শক্তি নিশ্চিহ্ন করার কথা? কেন? প্রথমজন সৌদি দূতাবাসের লোক বলে? আর আজকের ভিকটিম আমেরিকান দূতাবাসের লোক সরি গাড়ি বলে? প্লীজ জানাবেন।

  3. মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেনঃ

    বিদেশীদের গাড়িতে হামলা? এটি তারা না করলে কারা করবে বলুন তো?
    -যে দেশের সৃষ্টিতে তাদের অবদান নেই অংশগ্রহণ নেই, সেদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা থাকবে কেন? এ দেশ রসাতলে যাক, যতদিন না তারা ক্ষমতায় না এসেছে।

    তাছাড়া, বিদেশীদের প্রতি বা ভিনদেশী অতিথিদের প্রতি আমাদের কর্তাব্যক্তিরদেরেই রয়েছে চরম উদাসীনতা।

  4. ইশারায় কয় বলেছেনঃ

    “অভূতপূর্ব এই দুঃখজনক ঘটনার ব্যাপারে প্রাথমিক তদন্ত শেষে এর দায় দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করছি এবং নিন্দা জানাচ্ছি। এই ঘটনার জন্য দূতাবাস এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিকট আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং এর ক্ষতিপূরণ দিতে আমরা প্রস্তুত।” – জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মো. শাফিকুর রাহমান।

  5. umor বলেছেনঃ

    “জামাত ইসলামী দলটা আমাদের এই প্রিয় দেশটাকে কখনো ভালো কিছু দিতে পারেনি”
    - প্রিয় লেখিকা চলুন তো একটা তালিকা তৈরি করি-
    ১৯৭১ সালের পর থেকে এদেশের অর্থনীতিতে
    জামায়াতের অবদান কতটুকু আর আ্ওয়ামীলীগের অবদান কতটুকু?
    (ক্ষমতায় না থেকেও)
    দেশের স্বাস্থ্যখাতে জামায়াতের অবদান আর আ্ওয়ামীলীগের অবদান কতটুকু?(ক্ষমতায় না থেকেও)
    দেশের শিক্ষাখাতে জামায়াতের অবদান আর আ্ওয়ামীলীগের অবদান কতটুকু?
    (ক্ষমতায় না থেকেও)
    জামায়াতের হাতে কতটি খুন হয়েছে আর আ্ওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগের হাতে কতটি খুন হয়েছে?
    ছাত্রলীগের হাতে কতগুলো ধর্ষন হয়েছে আর ছাত্র শিবিরের হাতে হয়েছে কতটি?
    ছাত্রলীগের কারনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কতদিন বন্ধ ছিল আর ছা্ত্রশিবিরের কারনে কতদিন বন্ধ ছিল? ছাত্র শিবিরের ইনকামিং সোর্স হল টিউশনি, কোচিং, পার্টটাইম জব
    আর ছাত্রলীগের ইনকামিং সোর্স টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই।…………….
    ………………………………
    এবার বলুন দেশ কাদের হাতে বেশি নিরাপদ।

  6. hossain বলেছেনঃ

    সম্মানিত মন্তব্যকারীগন,
    এখানে পক্ষপাত ছাড়া কিছুই দেখলামনা।তা আমার মনে হল…হয়ত এটা আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারনও হতে পারে…

    একটা প্রশ্ন?
    জামাত/শিবির কি একটি রাজনৈতিক নিবন্ধিত দল নয়?
    অন্যান্য দলও তো হরতালে গাড়ী ভাংচুর করে তাদের কথাও তো বলা উচিত।

    আসলে আমাদের দেশের মানুষগুলো সহজ সরল বলেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ব্যবহার করে তাদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করে হত্যার মত অন্যায় ও আবিচারে লেলিয়ে দিয়ে নিজেরা সম্পদের পাহার গড়ায় মত্ত হয়।
    প্রিয় পাঠক বন্ধু,
    আসুননা আমরা এই বাংলাদেশ থেকে গণতান্ত্রীক রাজনীতির নামে দৈতনীতির রাজনীতিকে ভুলে গিয়ে আর একবার গর্জে উঠে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চর্চা করি। দলবল নির্বিশেষে দেশটাকে নিয়ে একটু ভাবুন, আমরা কি বিষয় নিয়ে চিন্তা করে সময় পার করছি? অন্যান্যরা অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে এবং চলে গেছে…!!!সে কথা ভাবুন…
    একাত্তরের মূলধারা রাজনীতিবিদরাই বদলে ফেলেছে তাই আমাদের এদেশের মানুষের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা সামনে রেখে একসংগে এবং সহযোগি মনোভাব নিয়ে কাজ করা দরকার।

    আমার লেখায় কেউ কষ্ট পেলে ক্ষমা করবেন কারন, আমি ক্ষুদ্র এবং একজন সাধারণ।
    উৎসাহ পেলে আরো লিখব।
    এদেশের হত দরিদ্র মানুষগুলো শুভ কামনায়
    ধন্যবাদ!

    ১০
  7. ম, সাহিদ বলেছেনঃ

    মাধুরী শিকদার,আপনাকে নগর নাব্য-২০১৩ বইটির লেখা বাছাই কর্যক্রমের প্রাথমিক কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দয়া করে আপনার অভিব্যাক্তিটি এই লিংকে এসে জানিয়ে যাবেন।
    ভাল থাকুন,সুস্থ থাকুন।।

    ১১
  8. rafiq বলেছেনঃ

    প্রিয় পাঠক বন্ধু,
    আসুননা আমরা এই বাংলাদেশ থেকে গণতান্ত্রীক রাজনীতির নামে দৈতনীতির রাজনীতিকে ভুলে গিয়ে আর একবার গর্জে উঠে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চর্চা করি। দলবল নির্বিশেষে দেশটাকে নিয়ে একটু ভাবুন, আমরা কি বিষয় নিয়ে চিন্তা করে সময় পার করছি? অন্যান্যরা অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে এবং চলে গেছে…!!!সে কথা ভাবুন…
    একাত্তরের মূলধারা রাজনীতিবিদরাই বদলে ফেলেছে তাই আমাদের এদেশের মানুষের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা সামনে রেখে একসংগে এবং সহযোগি মনোভাব নিয়ে কাজ করা দরকার। ধন্যবাদ সকলকে।

    ১৩
  9. Hossain বলেছেনঃ

    লেখাটির শিরোনাম: “এবার বিদেশিদের গাড়িতে হামলা: এখনই সময় সব অশুভ শক্তি নিশ্চিহ্ন করার”
    বিষয়টি কি এরকম যে, দেশিদের গাড়িতে যত খুশি হামলা হোক তাতে সমস্যা নেই কিন্তু বিদেশীদের গাড়িতে হামলা হল কেন? অবশ্য অামরা দেখেছি অা:লীগের হরতালে যত গাড়ি ভাংচুর, অগ্নি-সংযোগ হয়েছে তা সবই দেশী। সেজন্য অা:লীগকে ধন্যবাদ, কারন তারা বিদেশীদের সম্মান করতে জানে! সাবাস অা:লীগ! বাংলাদেশীরা যে অতিথিপরায়ন সেটা অা: লীগ দেখিয়েছে হরতালে দেশীয় গাড়ি অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর করে অার বিদেশীদের গাড়ি অক্ষত রেখে।

    অামরা দেশীয় এবং বিদেশী সব গাড়ি ভাংচুরের বিপক্ষে এবং ধিক্কার জানাই এধরনের সকল কর্মকান্ডকে।

    ১৪
  10. অন্ধ দলবাজীকে না বলুন!! বলেছেনঃ

    যারা রাস্তায় গাড়ী বাহির করছেন সরকার পটেকশান দিবে এই উদ্দেশ্য এখন যদি তাদের গাড়ি ভাংচুর হয় তাহলে আপনাদের জননেত্রী শেখ হাসিনাই আপনাদের গাড়ীর ক্ষতিপূরণ দিবে। একটি বৈধ রাজনৈতি দলের সভা- সমাভেশ, মিছিল মিটিং করা গণতান্ত্রিক অধিকার, সরকার প্রায় ৪ বছর যাবত জামাতের সেই অধিকার হরণ করেছে, তারা সমাবেশ করতে চেয়ে পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছে ২৯ নভেম্বর কন্তিু পুলিশ তাহা জানাবে এরই মধ্যে মাফিয়া চক্রের ডন মখা বলে জামাত অনুমতি নেয়নি , সাংবাদিকরা যখন প্রশ্ন করল যদি অনুমতি চায় তখন দিবেন? মখা কোন উত্তর দেয় নাই বরং তাদেরকে পতিহত করার জন্য সরকারের ছাত্রলীগকে মাঠে থাকার জন্য বলে এ পর্যায়ে হরতাল দেয়া ছাড়া জামাতের আর কোন উপায় নেই।

    ১৬

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...