ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

আমি সিটিসেলের জুম আল্ট্রা ব্যাবহার করি। গত ২০ডিসেম্বর আমার মডেমটি হারিয়ে যায়। ঐদিন রাতে খোজাখুজি করে আর পাই নি। পরদিন ভোরে উদীচীর সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকায় চলে যাই। সারাদিন চলে ব্যাস্ততার মধ্যে, রাতে সিটিসেলের কাস্টমার কেয়ারে কল করি। তারা বিভিন্ন তথ্য জানতে চাইলে তা যথারিতি জানিয়ে দেই। ২০-২১ উদীচীর সম্মেলন শেষে ২১ তারিখ রাতে বাসায় ফিরি। পরদিন ২৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় রিম উঠানোর জন্য ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মার্কেটে অবস্থিত কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যাই । ওখানের ম্যানেজার আমাকে জানান নতুন রিম নিলে আপনার পূর্বের সকল সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে, এমকি আপনার বাকী যে মেয়াদ আছে সেটা সহ প্যাকেজ বাতিল হয়ে যাবে এবং এখনই আপনার ৩২০টাকা রিচার্জ করতে হবে। নতুবা ব্যাবহার করতে পারবেন না। আমি বল্লাম কেন? আমার এই রিম যদি আগামীকাল হারিয়ে যায় বা কোন কারণে নষ্ট হয়ে যায় তখন কী হবে? উনি বল্লেন আবার ৩২০ টাকা লাগবে।

আমি কল দিলাম ০১১৯৯১২১১২১ নাম্বারে। নানান কথার পর রিং ধরলেন সানজিদা নামের একজন। তাকে সমস্যার কথা বলার পর উনি বল্লেন আপনি রিম নেন আপনার সব কিছুই আগের মত থাকবে। উনি ম্যানেজারের সাথেও কথা বল্লেন। ততক্ষণে আমার পকেট কেটে নিয়ে গেছে ২০টাকার মত। ম্যনেজার রিম দিলেন আমিও নিয়ে এলাম।

ঘটনা এখানে শেষ নয়। এরপর শুরু হলো আসল খেলা। ২ ঘন্টা পর কানেকশন দিতে গিয়ে দেখি রিম অচল। আবারও কল ০১১৯৯১২১১২১ এ। আবার বকবকানি শুনার পর ধরলেন একজন। বল্লেন কতক্ষণের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে। এবারও হলো না। আবার বিকাল ৫টায় ফোন ০১১৯৯১২১১২১ এ। যথারিতি বলা হলো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে। সেই অল্প সময় কত সেটা জানতে চাইলে বলা হলো ২ঘন্টা চেষ্টা না করে পরে চেষ্টা করবেন। ধরে নিলাম এবার হয়ে যাবে। হলো না।

আমি ততক্ষণে গৌরীসেনের ভূমিকায় অভিনয় শুরু করে দিয়েছি। ২ ঘন্টা পর আবার সেই ০১১৯৯১২১১২১।

সকাল বেলা যেখান থেকে শুরু করেছিলাম তার কাছাকাছি জায়গা থেকে মোলায়েম কণ্ঠে বলা হলো আপনার প্যাকেজ ডি-এ্যাকটিভ। কিন্তু কেন? একটু অপেক্ষা করুন বলে জোর করে গান শুনানো হলো। তিনি বল্লেন জানি না। আমি বল্লাম আমাকে জানাতেই হবে, কেন ডি-এ্যাকটিভ। আবারও গান-হয়তো কাহারো সাথে পরামর্শ। কারণ জানাতে ব্যর্থ হয়ে-জানানো হলো অতি অল্প সময়ের মধ্যে এ্যাকটিভ হয়ে যাবে।
অতি অল্প সময় কতক্ষণ-সেটা জানতে রাত ৯.৪৫ এ আবার ০১১৯৯১২১১২১ এ কল।

এবার জানা গেল আসল খবর। এতক্ষণ যাদের সাথে কথা বলছিলাম তারা সমাধান দেওয়ার কেউ না। এরা ব্রিটিশদের তৈরি ভারতীয় কেরাণীদের নব সংস্করণ। শুধু অভিযোগ লেখা ছাড়া এদের আর কোন কাজ নেই।
পরিশেষে গ্রাহক হয়রানীর জন্য আমি অভিযোগ করতে ইচ্ছুক কোথায়, কিভাবে, এর বিচার চাওয়া যাবে এ বিষয়ে পরামর্শ চাচ্ছি।
একটি বিষয়ে ধন্যবাদ না দিলে নয়। নেট বন্ধ থাকার কারণেই লেখাটি লেখার সুযোগ পেলাম।
২৩ ডিসেম্বর রাত ১১.৩০ পর্যন্ত এ লেখা-লেখার পরও দেখলাম ভাগ্যের শিঁকা ছিঁড়েনি।
আগামীকাল এ লেখাটি অন্যকো স্থান থেকে ব্লগে পোষ্ট করার ইচ্ছে রইলো।
২৪ডিসেম্বর সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেও দেখলাম যত তারাতারি শেষ হয় নি।
সকাল ৯.১০ আবারো কল ০১১৯৯১২১১২১ এ।
আবারো “যত তারাতারি সম্ভব” বাণী বিতরণ।

অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম-“বেহায়া সিটিসেল” পারলে তোর বিচার চাইব, না পারলে এখানেই ইতি।
তবে বাকী রই গালি………………..

এ পর্যন্ত লেখার পর কম্পিউটার বন্ধ করে বাথরুমে যাই। কল আসে ০১১৯৯১২১১২১থেকে। পরপর ৩বার। কল রিসিভ করতে পারি নাই। বের হলাম চাকুরীর কাজে। রাস্তায় থাকা অবস্থায় আবার কল দিল বল্লাম সমস্যার কথা আবারো দ্রুত সমাধানের আস্বাস।

এবার চালু হলো আমার প্যাকেজ, অনেক সংগ্রামের পর ফিরে পেলাম আমার অধিকার। কিন্তু আমার অব্যাহৃত মেগাবাইট হাওয়া।

এখানে আমার বোনাস ১২৫টাকা এবং ব্যালেন্সের ৩.৭৫টাকা দেখানো হচ্ছে। কাল বলেছিল ৩২০টাকা লাগবে, আজ সেখানে ১৯০টাকা হলেই চালু হচ্ছে ১জিবি প্যাকেজ।

কতক্ষণ পর আবার কল এলো জানালাম ঘটনা। এবার জানানো হলো পূর্বের অবস্থায় দেওয়া যাবে না। তবে আমার অব্যাহৃত মেগাবাইটের সমপরিমান টাকা আমার একাউন্টে ফেরত দেওয়া হবে। বিকাল ৫টায় দেখলাম দেওয়া হয়নাই।

তারপরও যেহেতু আংশিক অধিকার ফিরে পেয়েছি(১৯০টাকায় ১জিবি পাচ্ছি)। সংগ্রামের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার ভোগ করার জন্য পাল্টানোর সিদ্ধান্ত আপাদত স্থগিত। ঘটনাটি প্রমাণ করল ন্যায্য অধিকারের জন্যও সংগ্রাম করতে হয়।

তবে বিচার চেয়ে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত এখনও বহাল আছে।