ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

মীরজাফর, ঘষেটি বেগম, ইয়াহিয়াদের উত্তরসূরিরা সেই ১৯৭১ থেকেই সক্রিয় বাংলার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নস্যাত করার ষড়যন্ত্র। এই বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার পথে এমন কোন ন্যাক্ক্যারজনক কাজ নেই যা ঐ ঘাতকের দল করে নাই। অবশেষে ওদের পরাজিত করে ৭১ এর ডিসেম্বরে যখন বাংলার স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিলো, পাক হানাদাররা আত্মসমর্পন করেছিলো সেই ডিসেম্বরকে আজও ভুলতে পারে নাই ঐ দেশদ্রোহীর দল। একটি বিশেষ বাংলা মাসে কুকুর যেমন পাগলা হয়ে উঠে ঠিক তেমনই ডিসেম্বর এলে ওরাও পাগলা হয়ে উঠে। শুধু ব্যাতিক্রম হয়েছিলো ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত। এই সময়কালে লাল সবুজের পতাকাতলে আশ্রয় নিয়ে পাগলামিটা ওরা করেছে একটু অন্যভাবে। ৭৫ এর ধারাবাহিকতায় তৎকালীন সরকারের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রির সহযোগিতায় কম চেষ্টা করে নাই জাতির জনকের পরিবারের অবশিষ্ট যারা আছেন তাঁদের হত্যা করতে, স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করতে। ওরা মনে প্রানে বিশ্বাস করতো যদি মুজিব পরিবারের কেউ বেঁচে না থাকে তবেই কেল্লা ফতে মানে বাংলা কে করবে মিনি আফগান আর ইসলামের লেবাসে দেদারছে মানুষ হত্যা, নির্যাতন, চাঁদাবাজি চালিয়ে যাবে কোরআন হাদিস কে ঢাল সরুপ ব্যাবহার করে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার কি বিচার! তিনি সফল হতে দেননি ঐ ধর্মান্ধদের যারা শান্তির ধর্ম ইসলামকে পুঁজি করে ক্ষমতা হাসিলের লক্ষ্যে অনবরত সন্ত্রাস নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

২০০৮এর জাতীয় নির্বাচনে এ এসে জোটবদ্ধ ভরাডুবির পর ওদের চেয়ে বেশী বেসামাল হয়ে পড়ে ওদের আশ্রয় প্রশ্রয় দাতারা। তাঁরা আবারো জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিবাস্বপ্ন যখনই সবে দেখা শুরু করেছিলো তখনই ওদের উপর নেমে আসে আরেক আসমানি গজব মানে ৭১ এ কৃত কুকর্মের জন্য ওদের উপর মহলের নেতাদের শুরু হয় বিচার মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে। নিমিষেই ভেঙ্গে যায় দিবাস্বপ্ন আর এবার আরো হিংস্র হয়ে ওঠে ওদের জল্লাদি আচরণ; সাথে পরোক্ষভাবে ওদের সাফাই গাওয়া শুরু করলেন নব্য সুশীল সম্প্রদায়ের কিছু স্বার্থান্বেষী কীট। মধ্য রাতের নির্ঘুম টক শো, বিদেশি তদ্বির, দেশের অভ্যন্তরীণ আইন শৃঙ্খলা ভংগ ও এর সাথে এমন কোন অপচেষ্টা নেই যা ওরা করে নাই এই বিচার বানচাল করতে। শেষ মুহূর্তে এসে ওরা বাদ দেয়নি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও, তাঁদের উপর হামলা করেছে সাথে সরকারি হাতিয়ারও ছিনিয়ে নিয়েছে।

এতো দীর্ঘ অতীত পেরিয়ে আজ বাঙ্গালী জাতি আজ আরেকটি বিজয় উৎসবের দ্বারপ্রান্তে। ওদের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারও প্রায় শেষের পথে। তাই এই বিজয়ের মাসকেই বেছে নিলো ওরা মরণ কামড় দেয়ার লক্ষ্যে আর ওদের সাথে যারা হাত মেলালেন তাঁদের দলেও একাধিক মুক্তিযোদ্ধা বিদ্যমান। আর সাথে তো সুযোগ সন্ধানী বহু সুশীলের চাটুকারিতা আছেই যারা রাত জেগে টক শো করেন আর দিনের বেলায় নিদ্রা যাপন করে দিন কাটান। এই অপশক্তির দলের ইন্ধনে ওরা ইতিমধ্যে বিজয়ের মাসে রাজাকারদের বাঁচাতে কর্মসূচী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে অবরোধ, হরতাল আর অন্যদিকে রাতজাগা সুশীলরা ঘুমে মাতাল।

সবাই ঘুমিয়ে গেলেও জেগে থাকবো লাখো শহীদের রক্তের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত মোরা বঙ্গ মায়ের সন্তানেরা। শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও চেষ্টা করে যাবো ইনশাআল্লাহ্‌। ৭১এ নির্যাতিত-ধর্ষিত মা-বোনের কাপড়ের টুকরো হবে আমাদের দাফনের কাফন কিন্তু কসম বিচার ওদের হবেই, শাস্তি ওদের হবেই এই স্বাধীন বাংলার মাটিতে।

২২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. rafiq বলেছেনঃ

    প্রিয় লেখক, কার বিচার কে করবে? আসলে আঃ লীগ বাজাকারদের বিচার করতে পারবে না। কারন যারা বাজাকারী কাজ করেছে, তাদেরকে কথিক গণতন্ত্রের মানসকণ্যা আচলের নীচে ঠাই দিয়েছেন। যাদের নাম অলামালীগ। আর জামাতের পিছনে তো রাজনৈতিক কারেন।

  2. মাহাদী বলেছেনঃ

    ভাই আপনার লেখাটি পড়লাম। সবই ঠিক আছে। কিন্তু যুদ্ধপরাধী কি খালি জামাতের ভিতরই আছে অন্য কোন দলের মধে্ কি নেই? যুদ্ধাপরাধ কি খালি এই শীষ কয়েকজন নেতাই করেছে? আমরা চাই যুদ্ধাপরাধিদের বিচার হোক। কিন্তু কোন ইসলামী দলকে রাজনৈতিক উদ্দেশে্ নিশ্চিন্ন করার জন্য বিচার করা হবে এটা কেমন? বিচার যদি করতে হয় তা হলে দল মত নিবিশেষে সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হোক।

  3. বিন্দুবিসর্গ বলেছেনঃ

    হরতাল ডিসেম্বরই হোক আর বছরের অন্য যে কোন মাসেই হোক, তা জামায়াতই করুক বা বিএনপিই করুক বা আঃলীগই করুক বা অন্য যে কোন রাজনৈতিক দলই করুক তা কাম্য নয় এবং আমার কাছে ঘৃর্ণিত। জীবন ও জীবিকার ব্যাখ্যায় অর্থনীতির ক্ষতি করার অধিকার জনগন কাউকেই দেয় না।
    মির্জা ফখরূল সাহেব কিন্তু বলেছে আঃলীগও 1996 সালে ডিসেম্বর মাসেই হরতাল দিয়েছিল। ইতিহাস ঘেটে দেখা যেতে পারে। যদি তা সত্যিই হয়, তবে আমাদের জন্য তা কলঙ্কই নয় একই অপরাধও বটে যা জামায়াত করছে।
    সুশীল বলে কিছু আছে নাকি? সবই হালুয়া রুটি ভাগাভাগির ব্যাপার রে ভাই। যাদের পাতে পড়ে তারাই কচ কচ গজ গজ করে যায়।

  4. জিয়াউর রহমান বলেছেনঃ

    আসলে আমাদের সব চেয়ে বড় সমসসা হচ্ছে নিজের দোষ কেউ দেখিনা শুধু দেখি অন্যের দোষ। অন্য কেউ সামান্য কিছু করলেই আমরা “সুশীল” হয়ে যাই। আর আমার দোষের কথা কেউ বললেই তাকে বিএনপি, জামাত শিবির ইত্তাদি বলে তার চরিত্র হনন করার চেষ্টা করি। কে না জানে এই দেশে হরতাল-এর রাজা হচ্ছে আওয়ামি লীগ। তাদের মত এত হরতাল আর কোনও দল দেয় নাই। সেটা জানুয়ারী হোক আর ডিসেম্বর হোক। অথচ দেখেন তাদের চাপাবাজির চোটে সব কাহিল। আমাদের আসলে চরিত্র বদলাতে হবে। আমরা জাতিগত ভাবেই হিপক্রেট।

  5. umor বলেছেনঃ

    মুক্তিযুদ্ধ, বিজয়, স্বাধীনতা আ্ওয়ামীলীগের একক সম্পত্তি নয়, এ সম্পত্তি দেশের সবার। ১৯৭১ সালের পর জন্ম নেয়া একটি শিশু্ও যদি স্বাধীনতার দাবী থেকে বাদ পড়ে তাহলে দেশের স্বাধীনতা অর্থহীন মুক্তিযুদ্ধ অস্তিত্বহীন।

  6. truth বলেছেনঃ

    ৩০ লাখ শহীদ অবান্তর, অলি আহমদের দাবি
    মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ হওয়ার স্বীকৃত এই তথ্যটিকে অবান্তর বলে দাবি করলেন এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ। তার দাবি, সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে যারা মারা গেছেন, শুধু তারাই শহীদ। আর অস্ত্র হাতে নেওয়ার মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যাটিও বড়জোর ৩০ হাজার। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় অলি আহমদ মুক্তিযুদ্ধে তথ্যগুলো নিয়ে এই ধরনের কথা বললে শ্রোতাদের মধ্যে গুঞ্জন ওঠে। তখন আয়োজক ন্যাপ (ভাসানী) নেতারা পরিস্থিতি সামাল দেন। অলি আহমদ বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা মারা গেছেন, তারাই প্রকৃত শহীদ। আর সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে খুব বেশি হলে ৩০ হাজার।” মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা অলি বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মোট সৈন্য সংখ্যা ছিল ৮ হাজার। এর বাইরে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি হবে না।” মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধে ১১টি সেক্টরের অধীনে সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ হাজার, সেই সঙ্গে গেরিলা যোদ্ধা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার। এর বাইরে মুজিব বাহিনী, ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়ন-কমিউনিস্ট পার্টির গেরিলা বাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনীসহ কয়েকটি দলও যুদ্ধে সক্রিয় ছিল।

  7. রনি আহমেদ বলেছেনঃ

    ভাই আ.লীগের মুখে মানবতার কথা মানায় না। বাঙ্গালী ভুলেনি ভুলবেনা ৭৩, ৭৪, আর ২৮ অক্টোবর। বেশীনা ভাই ৫ টা মাস অপেক্ষা করেন; ডায়রির প্রতিটি পাতার িহসাব দিতে হবে।

    ১১
  8. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    ভালো নাপিত, আই মীন, সুশীল কারা? যারা উপরওয়ালার নির্দেশে নিজেদের পাতে ঝোল টানার জন্য বিবৃতি আর কলাম লেখেন? কোন কিছু পক্ষে গেলে, তা যতই গনবিরোধী হোক, তেনারা মুখে গরম আলু নিয়ে স্পিকটি নট হয়ে থাকেন? এখন তো তাদের চুপ থাকারই কথা। কারন উপরওয়ালার জন্য যা ঘটছে তাতে কলাম লেখা চলেনা। তাই এতো এতো ঘটনার পরেও আমাদের উত্তম নাপিতেরা চুপ। এতে আশ্চর্যান্বিত হইনি।

    ১৩
  9. মিথিলা বলেছেনঃ

    আমার চাচা একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।আমরা কি চাইতেও পারবনা ওই নরপশুদের বিচার?যাদের দেশের প্রতি,দেশের মা-বোনদের ইজ্জতের প্রতি,লাখো শহীদদের রক্তের প্রতি নুন্যতম শ্রদ্ধাবোধ নেই শুধুমাত্র তারাই এই বিচারের প্রতি ক্ষোভ দেখায়।তারা যে বিকারগ্রস্থ তাতে কোন সন্দেহ নেই।
    দেশপ্রেমকে সকল ধর্ম সবকিছুর উর্ধে রেখেছে।অথচ যারা দেশদ্রোহী তাদের নিয়ে আজ কিছু মানুষের বিষদাত আরো বিষাক্ত হয়ে উঠছে।আজব তাদের দেশপ্রেম।
    বড় দুই দলের রাজনীতির রেষারেষিই এদের সুযোগ করে দিয়েছে।আওয়ামিলীগ এবং বিএনপির উচিত সব ভুলে এই পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে একত্রে সোচ্চার হওয়া।নইলে দেশের অবস্থাসোমালিয়া / পাকিস্তানের মত হতে দেরি নেই।বহির্বিশ্ব এই সুযোগ কাজে লাগাবেই।আমরা হারাবো আমাদের সার্ভভৌমত্ব।
    যে সকল মানুষ আজ ধর্মকে বর্ম করে ভালো মানুষি করছে তারা ১৯৭১ এও একি কাজটি করেছিল।তারা সেই মুখশের আড়ালে কি করেছিল তা কারো অজানা নয়।তবে কেউ যদি এই সত্যকেও অস্বীকার করে তবে সে নিজের অস্তিত্বকেও অস্বীকার করে।
    লেখকের লেখায় পক্ষপাতিত্ব খোজে অনেকে।আসলে স্বাধীনতার পক্ষে লিখলে বিরোধীরা তা খুঁজবেই।শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একজন হিসেবে নয় একজন বাঙ্গালী হিসেবে আমি দাবি করবই ওই কুলাঙ্গারদের বিচারের।
    লেখককে ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।

    ১৬
  10. জনতার মতামত বলেছেনঃ

    সুশীল কি জিনিস?
    সব সরকারের বিরোধীতাকারী?
    সব সময় কেতাবী কথাবার্তা ?
    বিদেশী প্রভূদের ইশারা বুঝে পক্ষ নেয়া?
    মাঝে মাঝে হুটহাট দু’চারটি বিবৃতি দিয়ে নিজেকে পরিচিত রাখা?
    নাকি এটা একটা বিনা কাজে রোজগারের পথ্?

    হৃদয়ে বাংলাদেশের মতামতের সাথে আমি একমত।

    ১৭
  11. সত্য যোদ্ধা বলেছেনঃ

    একটি বিশেষ বাংলা মাসে কুকুর যেমন পাগলা হয়ে উঠে ঠিক তেমনই ডিসেম্বর এলে ওরাও পাগলা হয়ে উঠে
    …এই লিনেটা চরম লিখছেন।
    আর আমি আপনার সাথে একমত ..।
    সবাই ঘুমিয়ে গেলেও জেগে থাকবো লাখো শহীদের রক্তের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত মোরা বঙ্গ মায়ের সন্তানেরা। শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও চেষ্টা করে যাবো ইনশাআল্লাহ্‌। ৭১এ নির্যাতিত-ধর্ষিত মা-বোনের কাপড়ের টুকরো হবে আমাদের দাফনের কাফন কিন্তু কসম বিচার ওদের হবেই, শাস্তি ওদের হবেই এই স্বাধীন বাংলার মাটিতে।

    ১৮

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...