ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

আমি আমার ছেলেবেলায় ছিলাম বাবা-মায়ের। মাতৃনাড়ি ছিঁড়ে জন্মের পর থেকে বিবাহ অব্দি তাঁদের অকৃপণ আদর-যত্নে বেড়ে ওঠা আমি নিশ্চয় তাঁদেরই উত্তরাধিকারী এই বিশ্বাসটি প্রথম ভঙ্গ হয় তখন যখন কাবিননামা সই করে আমাকে চলে যেতে হয় বিবাহসূত্রে স্বামীর ঘরে। তো, অই ঘরটি আমার — এই ধারণাও আদতে সঠিক না। সেখানেও প্রতিনিয়তই বিস্তর-দুস্তর ধ্যান-ধারনার ফারাক। সে নিয়েই বিধিবদ্ধ যাপিত সংসার নামের অবস্থান একসময় পরিণত হয় চিরভাসমান বাতসল্যে। মোটামুটি কম-বেশি এদেশের প্রায় সব মেয়েরই এই জীবনচিত্র। এই সামাজিক ব্যাবস্থাপত্র। সেই আদিযুগের পরে যখন থেকে মানবসমাজ তখন থেকে ক্রমান্নয়ে কি ধর্মে কি রাষ্ট্রীয় আইনে মেয়েদের অবস্থানঙ্গত চিত্রটি এমনই। আধুনিকতার ছোঁয়ায় যতটা সে বাণিজ্যিক — পণ্যপ্রায় বলা যায় — ততটাই অপরিবর্তিত তার প্রকৃত অবস্থানের ভিত্তিভূমি। দূর্বল আর নড়বড়ে অই অবস্থানের সংস্কারের যেন কোনও প্রয়োজনই নেই ! আমার মাঝে-মাঝেই আধুনিকতায় সোচচার এবঙ চাকচিক্যের জৌলুসময় বিভিন্ন আনুষ্ঠিকতায় অংশগ্রহণের দায় এড়াতে না পেরে নিজেকে বড়ো হাস্যকর বড়ো অসহায় অবস্থানের শিকার মনে হয়। মনে হয় পৃথিবী জুড়ে এত যে সংস্কারের ধুম — এত যে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক হইহই — অগণিত মিডিয়া ও কলমের জোর পরীক্ষা — তাতে নারীর প্রকৃত ভিত্তির জোর কই ! নারীর অংশীদারীত্বের সমানাধিকার দূরের কথা প্রাপ্য যাতে পায় তারই বা নিশ্চয়তা কই ! আদতে আজ যখন রাষ্ট্র বহুকাল পর নারীনীতি ২০১১ উথথাপন করেছে তাতে যেন আঁতেই ঘা লেগেছে ধর্ম-ব্যাবসায়ী/ধর্মের নামে অধর্মের রাজনীতির নায়কদের। আর একচোখা নীতিহীন রাজনৈতিক দল-উপদল যে এদেরই ইন্ধনদাতা সেই সত্যকে অস্বীকার করে যারা তারাও তাদেরই সমগোত্রীয় বলেই আজ তাদেরও চিহ্নিত করার সময়। আজ আমার নিজের কাছেই প্রশ্নঃ নারী তোমার আপন ঠাঁই কোথায়? যেখানে যে কোনও নারী তার আপন মহিমায় প্রকৃত মানুষের অধিকারেই পরিচিতি পায়, পায় দাঁড়াবার নিজস্ব অবারিত মেদিনীতল। যাতে নিজের অধিকাকের প্রশ্নটি তাকে আর জর্জরিত না করে।

আজ এই আত্মজিজ্ঞাসা এ জন্যই যে আজও মেয়েজন্মের কারণে এদেশের প্রত্যেক মেয়েকেই কি বিবেক কি মননের কাছে প্রতিনিয়ত জিজ্ঞাসিত হতে হয় — কোথায় তার আত্মমর্যাদাময় অধিষ্ঠান এই উত্তর খুঁজে আমরণ জেরবার হতে হয়। প্রশ্নটি যেন চিরকালের লা-জবাব এক জন্মগত প্রতিবন্ধীর ব্ল্যাংক-পেইজে পড়ে থাকা আত্মজিজ্ঞাসা !
———————————————————————————-
nurunnaharshireen@yahoo.com
———————————————————————————-

১০ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ম, সাহিদ বলেছেনঃ

    * নারী তার অধিকার পেতে হবে-এটা সবাই মানি
    * সরকার এ জন্যে একটি নিতি মালা প্রনয়ন করতে হবে-এটাও মানি
    * এ নিতিমালা প্রনয়নে সবাই সহযোগিতা করতে হবে-এটাও ঠিক
    কিন্তু
    *এক শ্রোণীর ধর্ম ব্যাবসায়ীদের আপত্তি/এর বিরুদ্ধে হরতালের ডাক
    * হরতালে একটি দলের নিতিগত সমথর্ন
    * জাতীকে দুই ভাগে বিভক্ত করার অপপ্রয়াস

    =য়োগফল কি শুন্য…?

  2. নাহুয়াল মিথ

    নাহুয়াল মিথ বলেছেনঃ

    কি কঠিন আত্মজিজ্ঞাসা !

    জোরালো ভাষায় ব্লগটি লিখেছেন।

    এদেশের প্রত্যেক মেয়েকেই কি বিবেক কি মননের কাছে প্রতিনিয়ত জিজ্ঞাসিত হতে হয়

  3. আছাদ বলেছেনঃ

    নুরুন্নাহারশিরিন আপুকে বলছি
    নারীরা তো যার যার ঘর থেকেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। ধরুন আপনারা দুই ভাই বোন। আপনার পিতা ইচ্ছে করলেই তো আপনাদের সমান ভাবে সবকিছু ভাগ করে দিতে পারে। এজন্য তো আর কিছু দরকার হয়না। কিন্তু আপনার বাবা তো দিবে না। আপনি আপনার বাবাকে বদলান দেখি পারেন কি না। পারবেন না জানি। আপনি যেহেতু আপনার ঘর থেকে অধিকার থেকে বঞ্চিত সেহেতু আপনি সরকারের কাছ সমান অধিকার আসা করেন কি ভাবে। নারির অধিকার পবিত্র কুরআন শরীফে দেয়া আছে। কোরআন পড়ুন অর্থ বুঝুন কাজে আসবে। কুরআনে নারীর যে টুকু সম্পত্তির অধিকার দেয়া আছে তা হয়তো অনেকেই পাচ্ছে না। পারলে যেটুকু দেয়া আছে বাস্তবায়ন করুন। কিছু ভন্ডামী হুজুরদের কথায় কান দিবেন না।

  4. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    এদেশের সব রীতিনীতি বুঝি কোরাআন এর নির্দেশ/বাণী মেনে তৈরী ! রাষ্ট্রনীতি কেবল সরকার সংবিধান মেনে তৈরী/বদলানোর ক্ষমতা রাখে বলেই তা জনগণের মেনে চলতে হয়। নীতি পাল্টালে তা ঘরে-ঘরেই পালিত হবে। তখন বাবাও মেয়ের জন্য রাষ্ট্রুনির্ধারিত আইনই মানবেন। ধর্ম তাতে বাদ সাধবেনা।

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...