ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 
IMG_20141119_131452

আজকাল ভোরের কুয়াশা বাতাসে শীতের জানান দিচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের শীতকাবু মানুষদের জন্য তরুণ সমাজ ইতোমধ্যেই হাত বাড়িয়ে দেবার বিশেষ কাজে নেমেছে। “পথশিশু ডটকম” নামের একটি সঙ্ঘে অামিও অাছি, বিভিন্ন ঋতু ভিত্তিক আয়োজনের ইভেন্টগুলো সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের হাসিমুখটি তুলে ধরার কাজ করছে। এরকম অনেক সঙ্গঠন প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়াচ্ছে বলেই অল্পবিস্তর উপকৃত অভাবী লোকজন। সরকারও হাত বাড়ায় বটে, যতটা প্রয়োজন ততটা নয়। সে বুঝি এইদেশে যেন বা অসম্ভবের পাহাড়সম কাজ।

শীতের আগমনের শুরুতে সেই অসম্ভবের বার্তা ঝরানো চিত্রকলা কুয়াশামাখা ধূসর বেলায় দেখি শুকনো পাতা ঝরার ছাতময় ওড়াউড়ির শব্দে / নৈঃশব্দে। হৃদয়ে বিষণ্ণতার কড়ানাড়া শুনতে পাই। কবিরা শীতকাল অাসন্ন দেখে হয়তো রাজ্যের কবিতাময় শব্দে মজেন। অর্বাচীন কবিতা নয়, ঝরাপাতার সনে গভীর নৈরাজ্যের ক্যামন অদ্ভূতুড়ে অাদিম ঘোলাটে কুয়াশাচ্ছন্ন শীতবার্তা ঝরার শব্দ শুনতে পাই। লিখতে চাই। অসার আঙুলে না লেখা যায় – না হাড় ভঙুরতা এড়ানো যায় !

অগত্যা আমার হাতের কাছে দারুণ প্রিয় সহচরের মতো যে হ্যান্ডসাম হ্যান্ডসেটটি ক্যামেরা ক্লিক করতে উসখুস যখন-তখন, তারেই কাজে লাগাই। জানলায় বাড়ির পাশে পড়শিদের ছাতে শুকনো ঝরাপাতা এবঙ কুয়াশাকাতর ছায়াঘন সবুজ গন্ধবাহি ছবিটি ঝট করেই করি ক্যামেরাবন্দী। ভাবি – ভাগ্যিস, ডিজিটাল দুনিয়া অাজ অনেক সহজে হাতের নাগালে পাওয়া যায়! নইলে প্রায় প্রবীন সিটিজেন মধ্যবয়স পেরুনো মানবী কি করে সময় কাটাতাম ! আদতে অনেক ইচ্ছে হলেও না পারি ছুটতে – না পারি ঘুরতে -সেই তরুণ বেলার মতোন – শুধু তরুণদের সনে একটু-অাধটু শেয়ার চিন্তা / চেতনা / ভাবনাজাত লেখাই আজ আমার সম্বল-কম্বল।

মনে পড়ছে ছেলেবেলায় হাড়কাঁপানো শীতকালে মায়ের শেখানো ছড়াটি –
“শীত আমার মিত আগুন অামার ভাই –
শীতের কাছে কইওরে ভাই –
আমার কাঁথাকাপড় নাই।। ”

হাজার শীতার্ত মানুষদের জন্য সবার হাত বাড়িয়ে দেবার জানাই আবাহন – আজি এ শীত রাতের লেখায়।