ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 
পদ্মাব্রীজের পাশে ধলেশ্বরীর পারের খাবার।।

আমার সচরাচর বেড়ানো তেমন হয় না। কারণ কাতর / টায়ার্ড নিজের রোগেশোকে। তবুও মন কি আর চায় না? চায়। খুবই সাধ মনের সুখে চষে বেড়াই জগতের সকল অজানা-অদেখা নদীতীরে একেলা। অথবা দুজনে। কিংবা সবাই মিলে। মনের সাধ যেন বা কবিতার লাইন হয়ে বাতাসে হৃদয় বাজায় ! অই যে কবিতাখানি –

“… মনে সাধ উড়ে যাই … ”

তেমন আর কি ! তবুও আচমকা ঠিকই শুভক্ষণ এসেও যায় ! সে যেন – মেঘ না চাইতেই জল !

তাইতো এই অগ্রহায়ণে সেদিন বোনেরা হঠাৎ বেড়াতে পদ্মাব্রীজে ধলেশ্বরীর পারে … বোনেরা – রুমা, মিঠু ও সাথীভাবী একা না, বোনজামাই, বন্ধুখালা, বেয়াই সুদ্ধো সেথায় মহানন্দে যেন বা হঠাৎ পিকনিকের মতো মজাসে আড্ডা। সেদিন তাই দারুণ একটি দুপুর … সঙ্গে গরম ভাত, টাটকা ইলিশভাজা এবঙ ইলিশ মাছের ডিমভর্তা !
আর কি লাগে ! এদিকে তখন দুপুর শেষে শীতের হিমেল হাওয়া … বিকেলের সোনালি রোদ্দুর ভাতের পাতে … আমাদেরও মুখে ফেলেছে আভাময় মায়াবী ছায়া … আমরা উদর পুরিয়ে ভোজনপর্ব সেরেও বসে রয়েছি শীত বিকেলে ধলেশ্বরীর তীরে। দারুণ হুহু বাতাসে চুল উড়িয়ে অাঁচল উড়িয়ে অবশেষে ফেরার পালা। ফিরেছি বোনেরা যে যার ঘরে আবার। মনে গুনগুনিয়ে ফিরছিলো সেই সে প্রিয় গানের কলি –

“পদ্মার ঢেউরে …
মোর শূণ্য হৃদয় পদ্মা নিয়ে যা … যা রে …. ”

এবঙ সেইসঙ্গে হৃদয় জুড়ে সোনালি সেই দুপুর আর বিকেল বেলার স্মৃতির ছবি বাঁধাই করে রেখেই ঘরে ফেরার পরেও দারুণ তার অনুরণন। এমনতর ছবিরা হয় স্মৃতির এ্যালবামের সবচে’ প্রিয় মধুরতম ছবির ভিতর অন্যতম একটি। মাঝেমাঝে যে স্মৃতি, যে ছবি নাড়িয়ে দেবে মনের জানালা। বলবে কড়া নাড়িয়ে –
“কিগো, রেখেছো মনে?”
বলবো মনেমনে ফিসফিসিয়ে –
“হুমম রেখেছিগো স্মৃতির রৌদ্রে হৃদয়বনে।”

অগ্রহায়ণ। ১৪২২ বঙ্গাব্দ।
ঢাকা। বাংলাদেশ।