ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে প্রতিনিয়তই নানারকম চুক্তি, গবেষণা ও আলোচনা-বিতর্ক চলে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে আবারো দেশের কয়লা সম্পদ উত্তোলন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কয়লা নিয়ে বিতর্কের একটা প্রধান বিষয় এর উত্তোলন পদ্ধতি নিয়ে। এবারের বিতর্কের সূত্রপাত সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি ফুলবাড়ি ও তার আশপাশের এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রস্তাব দিয়েছে।

সংবাদ সংস্থা বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর এর গত ২০ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী,
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ফুলবাড়ি কয়লা খনি ‘উপযুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন, আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ ইস্যুর বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি’ গঠন করে সরকার।
বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের মনে হয়েছে ফুলবাড়ি কয়লাখনি ও বড়পুকুরিয়ার উত্তর অংশে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব।”

কমিটি প্রধান মনে করছেন, ফুলবাড়ি এবং বড়পুকুরিয়ার উত্তর অংশে উন্মুক্ত পদ্ধতি করা গেলেও অন্য তিনটি খনি খালাশপীর, দীঘিপাড়া ও জামালগঞ্জে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতেই কয়লা তুলতে হবে।

তিনি জানান, ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতি করতে হলে খনি এলাকায় ২৮ বর্গকিলোমিটারের মতো জায়গা ৩০ বছরের জন্য অকেজো হয়ে যাবে।

বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে উন্মুক্ত পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও।

অথচ ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট ফুলবাড়িতে এশিয়া এনার্জি কোম্পানীর সাথে সরকারের উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের চুক্তির বিরুদ্ধে লাখ জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধ সংগ্রামে শহীদ হয় তরিকুল, সালেকিন ও আমিনুল। ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন সমগ্র ফুলবাড়ি উপজেলায়। টানা প্রতিরোধের মুখে সরকার বাধ্য হয় আন্দোলনকারীদের সংগঠন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করতে। সে চুক্তি অনুসারে ফুলবাড়িসহ সারাদেশে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন না করা হবে না বলে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার চুক্তি স্বাক্ষর করে। সে সময় বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা উন্মুক্ত সমাবেশে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি ফুলবাড়ির জনগণের পক্ষে এবং ফুলবাড়ি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন চান।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতায় থাকলে এক কথা আর ক্ষমতার বাইরে থাকলে আরেক কথা বলা রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। জনগণের সহানুভূতি ও রায় আদায়ের জন্য এরা যখন যা ইচ্ছে বলে দেন। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে দেখা যায় না। যেমন দেখা যাচ্ছে ফুলবাড়িতে স্বাক্ষরিত চুক্তির ক্ষেত্রেও।

ফুলবাড়ির জনগণ এখনও চুক্তি বাস্তবায়নের দাবীতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। সর্বশেষ গত ২৬ আগষ্টও ফুলবাড়ি দিবসের ৬ষ্ঠ বার্ষিকীতে হাজারো লোকের সমাবেশে ২০০৬ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকার গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি ফুলবাড়ির জনগণ ও পরিবেশের কথা বিবেচনায় না নিয়ে শুধুমাত্র আর্থিক লাভের যুক্তি দেখিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও আর্থিক লাভের ব্যাপারটাও যে খুব সত্য তা নয়। উন্মুক্ত পদ্ধতির বিরোধীতা করে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য হচ্ছে, বিশেষজ্ঞ কমিটি দেশ ও জনগণের জন্য নয় বিদেশী কোম্পানীর স্বার্থেই এ প্রস্তাব দিয়েছে।

তাছাড়া বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের বাইরেও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও কনসালটেন্সী ফার্ম উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের সভা-সেমিনার আয়োজন করছে। এরকম একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় গত ১৩ অক্টোবর সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের মিলনায়তনে আইইবি এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন কর্তৃক আয়োজিত তৃতীয় বার্ষিক সম্মেলনে ‘Coal procurement and power generation from coal’ শীর্ষক সেমিনার। সেখানে উপস্থিত শাবিপ্রবি’র পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো: রফিকুল ইসলাম সেমিনার ও সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্য সম্পর্কে তার মতামতে বলেন, ইন্টারনেট প্রযুক্তির সুবাদে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে কপি পেস্ট করা সীমাহীন ভুল ও অসংলগ্ন তথ্য স্লাইডে সংযোজন করে যেভাবে এটি উপস্থাপন করা হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক। উপস্থাপিত অসংখ্য ভুল ও জাল তথ্যের সমন্বয়ে তৈরি করা প্রবন্ধ উপস্থাপনা থেকে দেশের সাধারন মানুষ ও মিডিয়াগুলো মনে করবে যে তারা তো বুয়েটের শিক্ষক, তারা তো ভুল তথ্য দিতে পারেন না। অথচ নিরেট সত্য হলো উপস্থাপকের বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক ও মাইনিং বিষয়ে জ্ঞান হিমাংকের নিচে এবং যা উপস্থাপন করা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা। (২৩ অক্টোবর, দৈনিক নয়া দিগন্ত)।

বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান নিজেই বলছেন যে পরীক্ষামূলকভাবেও করা হলে ফুলবাড়ির প্রায় ২৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ৩০ বছরের জন্য অকেজো হয়ে যাবে।

এই অকেজো হয়ে যাওয়াতে যে পরিমাণ আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশের ক্ষতি হবে তা কি বিবেচনায় নিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞ কমিটি?

ফুলবাড়ি কয়লা খনি ১৯৯৭ সালে বিএইচপি নামের একটি বৃটিশ কোম্পানী আবিষ্কার করে। অধিক ঘনবসতি ও উৎপাদনশীল আবাদী জমি থাকার কারণে সেখানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন বলে তারা প্রাথমিক রিপোর্টে সুপারিশ করে। ১৯৯৮ সালে বিএইচপি এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়। একই বছরে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের সম্মতিক্রমে ‘এশিয়া এনার্জি কর্পোরেশন’ নামের কোম্পানীর কাছে চুক্তি ও ২টি লাইসেন্সের স্বত্ত্ব হস্তান্তর করে। এরপর ২০০০ সালে এশিয়া এনার্জি পুনরায় সম্ভাব্যতা যাচাই করে। এবার এতে উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন লাভজনক দেখানো হয়।

উন্মুক্ত পদ্ধতির ফলে কয়লা উত্তোলনের শুরুতেই ভূ-পৃষ্ঠের সকল গাছপালা, ঘরবাড়িসহ যাবতীয় স্থাপনা সরাতে হবে। এশিয়া এনার্জির জরীপে দেখা যায়, ফুলবাড়ীতে জীব বৈচিত্রের ৬টি ধরণ (বাস্তুসংস্থান) রয়েছে, গাছপালা রয়েছে ৫১২ প্রজাতির, স্থলচর মেরুদন্ডি প্রজাতি ১৫৮টি, মাছ রয়েছে ৮৯ প্রজাতির। খনি অঞ্চলে রয়েছে মসজিদ ২১৩টি, মন্দির ১৭৪টি, ৭৮৫টি কবরস্থান ও শ্মশান, ১৯টি গির্জা, কলেজ ৮টা, হাইস্কুল ৪৩টা, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪০টা, বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬২টা, মাদ্রাসা ১৮টা, হাস-মুরগীর খামার ৮০টা, গরু-ছাগলের খামার ১২৫টা, বাজার ৪৮টা। এর বাইরে রয়েছে সরকারী অফিস, আদালত, স্টেশন ইত্যাদি। (সূত্র ১৮ নভেম্বর ২০০৫, সাপ্তাহিক ২০০০) এগুলোর সঙ্গে সরাতে হবে খনি এলাকার বসবাসরত প্রায় ২ লক্ষ মানুষ। সব মিলিয়ে ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি হলে বার্ষিক ক্ষতি হবে ১০ হাজার ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা। (এ হিসাবটি আন্দোলনকারী একটি সংগঠন সংস্কৃতির নয়া সেতু প্রকাশিত পুস্তিকা থেকে নেওয়া এবং হিসাবটি ২০০৫ সালে তৈরি করা। বর্তমানে এক্ষতির পরিমাণ নিশ্চই আরো বৃদ্ধি পাবে)।

বলা হচ্ছে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বেশি পরিমাণে কয়লা উত্তোলন করা যাবে। আর এটাই হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের প্রধান যুক্তি। বাস্তবে আসলে কতটুকু বেশি কয়লা উত্তোলন হবে?

ভুগর্ভস্থ পদ্ধতিতে প্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহারের মধ্য দিয়ে এখন ৬০-৭০ শতাংশ কয়লা উত্তোলন করা যায়। তাহলে অল্প কিছু কয়লার জন্য একটি এলাকাকে ৩০ বছরের জন্য অকেজো করে রাখার ফলে যে ক্ষতি হবে তা থেকে কি বেশি কয়লা উত্তোলিত হবে?

এশিয়া এনার্জির সাথে চুক্তি বাতিল হলেও তারা দেশে তাদের কর্মকান্ড বন্ধ করে নি। নাম পাল্টে ঠিকই তারা উন্মুক্ত পদ্ধতির পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিদেশী কোম্পানীগুলো কিভাবে বিশেষজ্ঞদের টাকা খাইয়ে নিজেদের পক্ষে কথা বলায় তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত হয়েছে বহুবার। এশিয়া এনার্জি নাম পাল্টে এখনও নাকি ইংল্যান্ডের শেয়ার বাজারে ফুলবাড়ি কয়লা খনির শেয়ার বিক্রি করছে। অথচ সরকার এক্ষেত্রে নিরব।

তাই, এটা মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক যে, বিশেষজ্ঞ কমিটি আসলে কাদের পক্ষ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন? তারা কি দেশের মানুষ ও জনগণের কথা বিবেচনায় নিয়েছেন নাকি গুটিকয়েক লোকের কিংবা কোম্পানির পক্ষে তারা প্রতিবেদন তৈরি করেছেন?

ফুলবাড়ির জনগণ বুকের রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা উন্মুক্ত পদ্ধতি চায় না। এখন উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত হবে শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি করা। শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি ফুলবাড়িসহ দেশের জনগণ কখনই মানবে না।

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।

৬ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. আব্দুল মালিক বলেছেনঃ

    ভাই এত কিছু বুঝিনা। আমি সোজা বাংলায় একটা কথা বুঝি তা হইল গিয়া ফুলবাড়ির মানুষ উন্মুক্ত পদ্ধতির বিরুদ্ধে তাদের মতামত রক্ত দিয়ে জানিয়েছে। এখন কেন আবার এত বিশেষজ্ঞ কমিটি? নাকি সরকার ও বিদেশের দালাল বুদ্ধিজীবীরা চায় আরও রক্ত?
    জনগণের রায়ের পরও কেন জনগণের পয়সা খরচ এই বিশেষজ্ঞ কমিটি। সরকার কি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় নাই?
    আমার মতে উন্মুক্ত পদ্ধতি বাতিল করা হউক।

  2. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    প্রিয় লেখক, ধন্যবাদ যে গনবিরোধী, প্রতিশ্রুতিভঙ্গকারী ও অর্থলিপ্সু (যত অর্থ, ততো কমিশন) এক সরকারের চরিত্র সাহসের সাথে তুলে এনেছেন। এশিয়া এনার্জি এখন জিসিএম নামধারন করে লন্ডন শেয়ার মার্কেটে তাদের শেয়ার লেনদেন করছে, সেখানে যে ফুলবাড়ি কয়লাখনি তাদের প্রধান প্রকল্প তা গর্বের সাথে প্রকাশ করেছে। তারা কতটুকু নিশ্চিত তা অনুমেয়।
    নগ্ন সত্যটি হলো, কমিশনের লেনদেন হয়ে গেছে, কারো রক্ত এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেনা। হোকনা রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। এরশাদকে মহাজোটের সঙ্গী দেখে, নুর হোসেন, সেলিম, দেলোয়ার, বসুনিয়া, দিপালী সাহাদের অট্টহাসি শোনেন না? কমিশনেই শান্তি, কমিশনই মোক্ষ।
    এদিন দিন না, আরো দিন আছে……..। তবে সেদিনটি হবে ভয়ংকর, সবাই ক’বে কথা, তুমি রবে নিরুত্তর।

    • রাশেদুজ্জামান বলেছেনঃ

      এত সহজ হবে না ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব বামপন্থীদের ব্যর্থতায় আ.লীগ-বিএনপি নিতে পারলেও ফুলবাড়িতে এখন পর্যন্ত আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। তাছাড়া সেখানে অন্যান্য বাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অবস্থাও খারাপ না। আর ফুলবাড়ির জনগণের যে সচেতনতা দেখেছি তাতে এত সহজে সাম্রাজ্যবাদী কোম্পানীর পক্ষে যাবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া সরকারের জন্য সহজ হবে না।

      এদিন দিন না, আরো দিন আছে……..। তবে সেদিনটি হবে ভয়ংকর, সবাই ক’বে কথা, তুমি রবে নিরুত্তর।

      ২.১

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...