ক্যাটেগরিঃ শ্রদ্ধাঞ্জলি: আজম খান, স্বাধিকার চেতনা

 

ছবি : সর্বজন শ্রদ্ধেয় আযম খান, সঙ্গীতশিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন মাত্র ২১ বছর বয়সে | ‘৭১ এ বিশেষত যুবক বয়সীদের ঢাকায় অবস্থান করাটা ছিল বিভীষিকার মত পাক হানাদার বাহিনীর ও এদেশীয় দোসরদের ভয়ে | তাই সিদ্ধান্ত নিলেন ঢাকায় থাকলে এমনিতেই যখন মরতে হবে তার চেয়ে যুদ্ধ করে মরাই ভালো | প্রথমে কুমিল্লা হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে আগরতলায় যান | তারপর মেঘালয়ে মুক্তিযুদ্ধের ২ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশারফের (বীর উত্তম) অধীনে মেজর এ.টি.এম. হায়দারের (বীর উত্তম) কাছে ২ মাস গেরিলা ট্রেনিং নেন | প্রশিক্ষণ প্রাপ্তির পর তাদের দলকে পরীক্ষামূলকভাবে কুমিল্লার শালদায় পাঠানো হয় হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সন্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে | যুদ্ধে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য তাকে তদানিন্তন মায়া (বীর বিক্রম) ব্ল্যাকপ্লাটুনকে (যারা এর আগে থেকেই ঢাকায় গেরিলা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল) সহায়তা করার জন্য মুক্তিবাহিনীর একটি গেরিলা দলের সেকশন কমান্ডার হিসেবে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয় | তার নেতৃত্বে ঢাকার সেনানিবাস, গুলশান, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ি সহ আরও অনেক এলাকায় বীরত্বপূর্ণ গেরিলা অপারেশন পরিচালিত হয় |

আমাদের সকলেরই জানা পাকিস্তান সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে সিভিল প্রশাসন সহ সব জায়গাতেই পূর্ববঙ্গের বাঙালিদের উপস্থিতি অঘোষিতভাবেই নিষিদ্ধ ছিল | যা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাঙালি সেনা অফিসারদের পদবী দেখলেই অনুধাবন করা যায় | এতেই প্রতিয়মান হয় যে, আমদের সামরিক বাহিনী সেই সময় মতেই সুসংগঠিত ছিল না | তাই বলে মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান অনস্বীকার্য এবং খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই | এমতবস্থায় এরকম একটি অসংগঠিত সামরিক বাহিনীকে দিয়ে কোন অবস্থায়ই পাকিস্তানিদের মত একটি সংগঠিত বাহিনীকে পরাজিত করা সম্ভব ছিল না, যদি না পেশাদারী দায়বদ্ধতা না থাকা সত্বেও শুধুমাত্র মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত করতে ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, সৈনিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষেতমজুর প্রভৃতি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন তাদের সার্বিক সমর্থন, সহযোগিতা, আত্মত্যাগ ছাড়া |

এদের সিংহভাগই বীরত্বসূচক পদক থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়েছেন | একটি রাজনৈতিক যুদ্ধ, যা পরবর্তীতে জন্মযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়েছিল | সেখানে কেবল কিছুসংখ্যক যোদ্ধাকে খেতাব দেয়া কতোটুকু যুক্তিসঙ্গত হয়েছে সেটা পর্যালোচনা এবং সেই সঙ্গে পুনর্বিবেচনার দাবী রাখে | সেক্টর কমান্ডারদের হেড কোয়ার্টারগুলো সীমান্ত পাড়ের বড়ো শহরের চৌহদ্দিতেই সীমাবদ্ধ ছিল | সমগ্র বাংলাদেশের বিস্তৃত রণক্ষেত্রে কোথায় কী ঘটছে, তার কতোটুকু সংবাদ তাদের কাছে পৌছাতো ? মনের ভেতর জমা হয়ে থাকা এসব ক্ষোভের কারণেই তিনি (পাঠকবৃন্দ অবশ্যই বুঝতে পারছেন কার কথা বলছি) নিজেকে দীর্ঘকাল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে দ্বিধাবোধ করতেন | আসুন সকলেই তার রোগমুক্তি প্রার্থনা ও কামনা করি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে |