ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

পাকিস্তানে বসবাসরত বাঙালিদের একটি পল্লী থেকে আজ আমি কিছু ছবি তুলেছি, ছবি গুলি ব্লগার ও পাঠকদের জন্য এই পোস্টে উৎসর্গ করলাম ।

এই বাঙালি পল্লীটি করাচির বাফার জোন এলাকার গোদরা নামক জায়গায় অবস্থিত । এই পল্লীর বাঙালিদের সম্মন্দে জানা জায় এদের কিছু স্বাধীনতার পূর্ব থেকে করাচিতে বসবাস করছে । আর কিছু রাজাকার আছে যারা স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চল থেকে পালিয়ে এসে এখানে বসবাস শুরু করে । তাছাড়া এই পল্লীর প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা চাকরির জন্য ৮০ ও ৯০-এর দশকে নোয়াখালী ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছে । যাদের অধিকাশই দেশ প্রেমী বাংলাদেশি । ঐ সময় টাকার তুলনায় পাকিস্তানি মুদ্রার দাম দ্বিগুন ছিল ।

এই পল্লীর ৯৬% বাসিন্দাই স্বপরিবারে আছে, যাদের অধিকাংশই খুলনা ও কুমিল্লা অঞ্চলের বাসিন্দা । এখানকার রাজাকাররা বাংলাদেশের সন্তান হয়েও সব সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলে থাকে । বাঙালি রাজাকার ও তাদের সন্তানরা নিজেদেরকে পাকিস্তানি মনে করে যদিও পাকিস্তান সরকার এবং পাকিস্তানের জনগন তাদেরকে মোটেও পাকিস্তানি মনে করে না । কাগজে-পত্রেও বাঙালিরা পাকিস্তানের ঘোষিত নাগরিক নয় ।

রাজাকার হোক বা ১৯৭১ পূর্ব বাসিন্দা হোক, পাকিস্তানে বাঙালিরা মারাত্বক ভাবে বৈষম্যের শিকার । পুলিশের অত্যাচারও তুঙ্গে, দোষ একটাই- তাঁরা বাঙালি । এই পল্লীর ১০০% বাঙালিই মুসলমান । বাঙালিদের নির্মিত দুটি মসজিদও এখানে আছে । কিন্তু সমস্যা হলো পাকিস্তানিরা ধর্মের চেয়ে জাতকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে । যা আমরা ১৯৭১-এও দেখেছি ।

এক তো পাকিস্তানের অর্থনৈতিক মন্দা অন্য দিকে পুলিশের নির্যাতন ও বৈষম্যে অতিষ্ঠ হয়ে বাঙালি পরিবার গুলো বাংলাদেশে ফিরে যেতে শুরু করেছে । প্রতি দিনই করাচিস্থ বাংলাদেশি কনসুলেটে গিয়ে নিজের দেশের ভিসার জন্য বাঙালিরা ভীড় করছে । এখানেও কনসুলেট কর্মীদের নানান হয়রানির শিকার হচ্ছে এই হতভাগা বাঙালিরা । তবে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার পরিবার গুলো তেমন একটা বাংলাদেশ মুখী নয় ।

যাই হোক, আসুন ছবি গুলি দেখা যাক-

বাঙালি পল্লীতে দুধ সরবরাহ করতে আসা একটি গাধার গাড়ী ।


দুটি দোকান ।


বাঙালি পল্লীর কয়েকটি দোকান ।


বাঙালিদের মাছের দোকান, এখানে পাকিস্তানিরাও মাছ কিনতে আসে ।