ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

সম্প্রতি ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানা এলাকার বিমল মণ্ডলের নাবালক পুত্র পরাগ অপহরণ ও উদ্ধার নিয়ে সারা দেশে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অক্ষত অবস্থায় পরাগ উদ্ধার এবং পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ(ডিবি) কর্তৃক আহত অবস্থায় অপহরণকারী আমীরের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সে পরিস্থিতির অবসান ঘটেছে। কিন্তু যে বিষয়টিতে এসে এই ঘটনাটির উপর থেকে আগুনের শিখার প্রজ্জ্বলন থামছে না, বরং বাড়ছে, তা হল, পরাগকে ৫০ লাখ টাকা মুক্তি পণের বিনিময়ে ছাড়িয়ে আনা হয়েছিল, না হোস্টেস নিগোশিয়েষণ কৌশলের মাধ্যমে তাকে বিনা মুক্তিপণেই ছাড়িয়ে আনা হয়েছিল।

মুক্তিপণের টাকা দেওয়া-নেওয়া বিতর্কে প্রবেশ করা নয়, বরং আমার বর্তমান লেখনির মূল হচ্ছে কোন ব্যক্তির টেলিফোনিক কথাবর্তা জরুরী প্রয়োজনে রেকর্ড করে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করার যৌক্তিতা নিয়ে।

সম্প্রতি পরাগের বাবার সাথে অপহরণকারীদের টেলিফোনিক কথাবার্তার একটি লিখিত রূপ প্রকাশ করা হয়েছে দৈনিক পত্রিকায়( দেখুন আমাদের সময় ২৬ নভেম্বর,২০১২

http://www.amadershomoy2.com/content/2012/11/26/news0840.htm

দৈনিক প্রথম আলো, ২৬ নভেম্বর, ২০১২ http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-11-25/news/308426)। হয়তো শিঘ্রই এই কথোপকথনের এমপি-৩ ভার্সনও বিভিন্ন ওযেব সাইটে পাওয়া যাবে। এই টেলিফোনিক কথোপকথন জনসম্মুখে তুলে দেওয়ার বিষয়টিকে অন্তত দুইটি কারণে আমি তীব্র বিরোধীতা করি।

১। কোন ব্যক্তির টেলিফোনে আঁড়ি পাতা অনৈতিক। একমাত্র জরুরী প্রয়োজন ভিন্ন এই ধরণের আঁড়ি পাতা কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না।দেশ ও জাতির স্বার্থে আইনের মধ্য থেকে গোয়েন্দারা ফোনে আঁড়ি পাততে পারেন। পরাগকে অপহরণকারীদের হাত থেকে উদ্ধারের জন্য আলোচ্য ঘটনায় ফোনে আঁড়ি পাতা বৈধ ও প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু টেলিফোনের সংলাপ বাইরে প্রকাশ করা ছিল অন্যায়, অনৈতিক ও রীতিমত বেআইনী।

বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য আমরা কোন শল্যচিকিৎসক কর্তৃক কোন ব্যক্তির গোপন অংগে অস্ত্রপচারের উদাহরণটি টেনে আনতে পারি। কোন ডাক্তার যদি কোন ব্যক্তির গোপন অংগে অস্ত্রপচার করেন, তবে গোপন অংগের যাবতীয় বিষয় অবলোকন করা তার জন্য বৈধ। কিন্তু সেই ডাক্তার যদি বাইরে এসে সেই গোপন অংগের বর্ণনা দিতে শুরু করেন, কিংবা অস্ত্রপচারকালীন সকল কর্মকাণ্ড ভিডিও করে তা জনসম্মুখে ছেড়ে দেন, তবে তা হবে চরম অন্যায়, অবৈধ। এটা শুধু রোগীর জন্যই নয়, ডাক্তারের জন্যও অমর্যাদাকর হবে।

২। গোয়েন্দাদের কর্মকাণ্ড সব সময় গোপন থাকবে। গোপনে কোন বিষয়ে খবর সংগ্রহ করা হলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দলিল হয়ে যায়। এই দলিল যত তুচ্ছই হোক তা বাইরে প্রকাশ করার আইনগত অধিকার কোন গোয়েন্দা কর্মকর্তার নেই। পরাগের বাবার সাথে অপহরণকারীদের টেলিফোনিক কথোপকথন অতি সাধারণ বিষয় হতে পারে। কিন্তু এই সাধারণ কথোপকথন সরকার ও জাতির জন্য যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, তা অন্তত সরকারি কর্মচারিদের বুঝতে হবে। সরকারকে যদি একজন অতিমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি মনে করি( বিভিন্ন সমাজ ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের মতে রাষ্ট্র এক সমষ্টিগত ব্যক্তিই বটে), রাষ্ট্রের গোপন দলিল জনসম্মুখে প্রকাশ করা ব্যক্তিরূপী রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক বৈকি।

অভিজ্ঞ মহল নিশ্চয় স্বীকার করবেন, মুক্তিপণ দিয়ে পরাগকে মুক্ত করা হয়েছিল কিনা, সেই প্রশ্নের চেয়েও বর্তমানে যে প্রশ্নটি জাতির সামনে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাহল, এই বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার একাধীক কর্মকর্তা পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি। এই সম্পর্কে অর্বাচীন বক্তব্যগুলো সরকারের জন্য ভীষণ নাজুক। সরকার যা বলছে বা বিশ্বাস করছে, তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছেন সরকারেরই কতিপয় কর্মচারি!

আমি মনে করি, সরকারী দলিলপত্রাদির গোপনীয়তা রক্ষার পদ্ধতিটি সরকারের নতুন করে ভেবে দেখা উচিত। কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের পূর্বে সরকারী গোপন আইন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঠিকমাত্রার জ্ঞানদান করা কিংবা ইতোপূর্বে অর্জিত জ্ঞানের পুনঃপরীক্ষার প্রয়োজন।

***
ফিচার ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে সংগৃহিত

১৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    অফিসার, ধন্যবাদ। আমাদেরও একই প্রশ্ন। আমি সরাসরিই নামোল্লেখ করে বলছি, র‍্যাব প্রমান করতে চাইছে তাদের দাবী অনুযায়ী পুলিশ ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপন দিয়ে পরাগকে উদ্ধার করেছে। এখন খানিকটা পিছু হটলেও, র‍্যাব কিন্তু তাদের দাবী থেকে সরে আসেনি। এই ঘটনা থেকে দুটি জিনিষ স্পষ্ট হয়ে আসে, প্রথম, র‍্যাব ইগো ট্রিপের মাধ্যমে বোঝাতে চাইছে বাংলাদেশের পুলিশের চাইতে তারা উত্তম, দ্বিতীয়, বোঝা যাচ্ছে, সরকারের দুই নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নেই। বাংলাদেশের জনগনের জন্য দুটি বিষয়ই উদ্বেগ এবং আতঙ্কের কারন।
    ধন্যবাদ।

  2. আসাদুজজেমান বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ@মোঃ আব্দুর রাজ্জাক,
    পত্রিকায় ফোনালাপের বিবরন,কথোপকথন পড়ে খুব বিষ্মিত হয়েছিলাম..।
    আপনার লেখাকেই কোট করছি

    সরকারী দলিলপত্রাদির গোপনীয়তা রক্ষার পদ্ধতিটি সরকারের নতুন করে ভেবে দেখা উচিত। কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের পূর্বে সরকারী গোপন আইন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঠিকমাত্রার জ্ঞানদান করা কিংবা ইতোপূর্বে অর্জিত জ্ঞানের পুনঃপরী্ক্ষার প্রয়োজন।

    আশা করছি উধ্বতন কতৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেবেন——-

  3. কালবৈশাখী

    কালবৈশাখী বলেছেনঃ

    একমাত্র জরুরী প্রয়োজন ভিন্ন এই ধরণের আঁড়ি পাতা কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না
    তা বাইরে প্রকাশ করার আইনগত অধিকার কোন গোয়েন্দা কর্মকর্তার নেই।
    সহমত।

  4. জিনিয়া বলেছেনঃ

    রাজ্জাক ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ। বিষয়টি ভেবে দেখিনি এভাবে..লেখাটি পড়ার পর মনে হল, তাইতো, এটা তো ঠিক নয় এবং বেআইনি।

    শুভকামনা।

  5. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    গোপনীয়তা জনসম্মুখে প্রকাশ না করা যৌক্তিক। কিন্তু কি করবেন! সব বিষয়েরই শত্রু তো লেগেই আছে মিত্রর গোপনীয়তা জানতে ।

    আইন দিয়ে হয়ত কমানো যাবে । কিন্তু অন্যপাশে পপুলারিটি কাজ করছে। আর টাকা দিয়ে গোপন তথ্য গুলো বের করে নিয়ে আসা হয়, সেটা আপনি ভালো করেই জানেন । ওয়ার্ল্ডে দেখেন কোন মিডিয়া কতখানি মালদার , কত কতখানি শক্তিশালী, কতখানি পপুলার তা বোঝা যাওয়ার অনেক গুলো কারণের মধ্যে একটি ”কে কত গোপন তথ্য ফাস করতে পারছে”। গোপন তথ্য ফাস না করার ব্যপারে, মিডিয়ার উপর কঠোর আইন ও তার সুষ্ঠ প্রয়োগে কাজ হতে পারে ।

  6. মিজান বলেছেনঃ

    একটা জিনিস কিন্তু প্রমান হয়েই গেল পুলিশ, মন্ত্রী মহোদয় একটি মিথ্যাকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েও পারেনি। এখানে মিথ্যা বলার কি খুব বেশী প্রয়োজন ছিল। এখানে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপন দিয়ে পরাগকে অক্ষত উদ্ধার করাটাই যৌক্তিক। কারন টাকা না দিলে পরাগের ক্ষতির আশংকাই বেশী। এটা কোন রাজনৈতিক ব্যাপারও ছিলনা, এরপরও আপনারা পাব্লিকের সাথে মিথ্যা বললেন। সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চাইল আর আপনারা তাবেদারী করলেন। আমাদের দেশে যতদিন পুলিশ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে ততদিন পুলিশ জনগনের বন্ধু হতে পারবেনা। আমরা চাই পুলিশ আমাদের বন্ধু হোক। এরপর আমীরকে গ্রেপ্তার করা নিয়েও আর একটা বানোয়াট গল্পের অবতারনা করলেন, সত্য কিন্তু কখনও চাপা থাকেনা।

  7. নাসের বলেছেনঃ

    কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের পূর্বে সরকারী গোপন আইন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঠিকমাত্রার জ্ঞানদান করা

  8. মজিবর বলেছেনঃ

    বর্তমানে কঠোর আইন হচ্ছে খুনীকে সরাসরি খুন করা,
    ওয়াদা ভংগকারীকে সরাসরি শাস্তি দেওয়া,
    রাষ্ট্রের দায়ীত্বশীল পদে থেকে গোপনতথ্য প্রকাশকারীকে সরাসরি শাস্তি দেওয়া
    যাতে কোনও রকম অন্যায়, খুন, পতরণা করতে না পারে।
    ধন্যবাদ রাজ্জাক ভাই।

  9. বিন্দুবিসর্গ বলেছেনঃ

    আমি হৃদয়ে বাংলাদেশ এর সাথে একমত। র‌্যাব পুলিশেরই একটি ইউনিট হওয়া সত্বেও নিজেদেরকে আলাদা ভাবছে । আর কে কার থেকে বেশি পারদর্শী তা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। উদ্ধারটি যদি র‌্যাব করত তবে কোনভাবেই মুক্তিপণের বিষয়টি সামনে আসত না। পুলিশ যদি তার দায়িত্বটা ভালভাবে পালন করে তবে র‌্যাব এর কাজের সুযোগ কমে যাবে। এই ভয়েই র‌্যাব ভিত হয়ে পড়েছে। দুইটি বাহিনীর একই প্রাণসত্বা হওয়া সত্বেও তাদের মধ্যে এমন সম্বনয়হীনতা জাতি আশা করে না।

  10. Hossain বলেছেনঃ

    অাসলে সত্যকে তার স্বরুপে প্রকাশ করা উচিৎ। এটাকে ঢাকতে গেলে হাজারো বিপত্তি দেখা দেয়। পরাগকে মুক্তিপণের টাকা দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে এসত্যকে অাড়াল করতে যেয়েই এ অনাকাঙ্খিত বিষয়টির অবতারনা। মন্ত্রী সাহেব ক্রেডিট নিতে অপ্রাসাঙ্গিক ভাবে অাগের স্বরস্ট্রমন্ত্রীর “অাল্লাহর মাল অাল্লাহ নিয়ে গেছে” জাতীয় মন্তব্য করে নিজেকে খুব দক্ষ, যোগ্য জাহির করতে চেয়েছেন এবং মুক্তিপন ছাড়া উদ্ধার করার মিথ্যা বুলি অাৌড়াচ্ছিলেন। কথোপকথোনের লিখিত রুপটি মন্ত্রীর ক্রেডিট এর ৌপর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মত কাজ করেছে। তারপর ো বলতে হবে সরকারের লোকদের এ কাজটি করা ঠিক হয়নি। তবে মন্ত্রীর জন্য এখনো সুযোগ থাকল মুক্তিপণের টাকা অাদায় এবং অপহরনের সাথে জড়িত নাটোর গুরু থেকে শুরু করে সবাইকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি দাড় করিয়ে ক্রেডিট নেয়ার এবং নিজেকে দক্ষ প্রমাণ করার।

    ১০
  11. রহমান আতা বলেছেনঃ

    মুক্তিপন দিয়ে অপহৃতকে উদ্ধার করা হয়েছে-এমন কথা সরকারী কোন দায়িত্বশীল সংস্থা বা সরকারী কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলতে পারেন কি? অথচ পত্রিকাগুলোতে তাই দেখলাম। যেভাবেই হউক অক্ষত পরাগ উদ্ধার হয়েছে-এতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য

    ১১
  12. কালবৈশাখী

    কালবৈশাখী বলেছেনঃ

    এই প্রথম পুলিশ নাটের গুরু সহ সকল অপহরনকারি দুর্বৃত্বদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
    রাজনৈতিক নেতা সহ। ভিকটিমও অক্ষতভাবে রক্ষা পেয়েছে

    ১২
  13. বাসন্ত বিষুব

    বাসন্ত বিষুব বলেছেনঃ

    আপনার সাথে আমিও একমত প্রিয় রাজ্জাক ভাই, পরাগের বাবার ফোনালাপ শুধু গোয়েন্দাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত ছিল, প্রতিকায় প্রকাশ করা মোটেই উচিত হয়নি। এক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন আইন ও নৈতিকতা উয়ই ভঙ্গ করেছে বলে মনে করি।

    ১৩
  14. শাহ আবদালী বলেছেনঃ

    “আমি মনে করি, সরকারী দলিলপত্রাদির গোপনীয়তা রক্ষার পদ্ধতিটি সরকারের নতুন করে ভেবে দেখা উচিত। কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের পূর্বে সরকারী গোপন আইন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঠিকমাত্রার জ্ঞানদান করা কিংবা ইতোপূর্বে অর্জিত জ্ঞানের পুনঃপরীক্ষার প্রয়োজন।”
    …..যথার্থ । কিন্তু কম্মগুলো সম্পাদন করিবে কাঁহারা ?

    ১৬
  15. আশার আলোয় বলেছেনঃ

    ভাই আপনারা পুলিশ কে দায়ি করছেন কেন? মিডিয়া র কি দায় নাই কোনো?? ওরা কেনো ছাপলো ঐ ফোনালাপ?? ওদের নিয়া কেউ ত কিছু বলেন না!! আমার মত হোলো সবাই সবার কাজটা দায়িতঃ নিয়ে করলেই হয়। সাংবাদিক রাও তাদের দায় হতে মুকত নয়। ওদের উচিত হয়নি ঐ ফোনালাপ ছাপানো! আশা করি সবাই বুজবেন বেপারটি।

    ১৭

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...