ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

রাজধানীতে অনেক সরকারি স্কুল প্রায় সারা বছর বন্ধ থাকে। এগুলোতে ক্লাস খুব একটা হয় না। ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে শিক্ষার আয়োজনের চেয়েও এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি নিয়োগের পরীক্ষা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। এই যেমন, এএসসি, এইচএসসি, প্রাথমিক সমাপনী, জুনিয়র সার্টিফিকেট ইত্যাকার হাজারো ধরণের পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা ও তাদের জন্য পরীক্ষার হলের সংস্থান করতে করতেই তারা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ক্লাসরুম বরাদ্ধ করতে পারেন না।

বিভিন্ন পূজা-পার্বণসহ উপরিউল্লিখিত পরীক্ষাগুলোর পর স্কুল যখন খোলে তখন ছাত্র-ছাত্রীদের শুরু হয় পরীক্ষা। শিক্ষকরা পড়াতে না পারলেও পরীক্ষা নিতে ভুল করেন না। আমি দেখি, আমার ছেলেটি স্কুল বন্ধের কারণে হয় বাসায় বসে আছে, নয়তো স্কুলের পরীক্ষা দিচ্ছে। ওরে বাপ সে কি পরীক্ষা! প্রশ্নপত্রের ধরণ দেখলে টাস্কি লাগে। তার সমাজ বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রখানা চার পৃষ্ঠা লম্বা। শূন্যস্থান থেকে সত্য-মিথ্যা হয়ে বিস্তারিত লেখার বিষয়টিও অন্তর্ভূক্ত। আবার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, খাতায় প্রশ্ন তুলে সত্য-মিথ্যা নির্ণয় কর। দেখুন মজা! বড়-ছোট মিলে দশটি বাক্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো সত্যা না মিথ্যা তা নির্ধারণ করতে হবে। প্রশ্নের নম্বর খাতায় উঠিয়ে তা সত্যা না মিথ্যা লিখলে দোষ কি। কিন্তু না, ছাত্রকে প্রশ্নপত্র দেখে দেখে সমূদয় বাক্য আগে পরীক্ষার খাতায় তুলতে হবে। তারপর বলতে হবে এটা সত্য না মিথ্যা। দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির একজন বাচ্চা পরীক্ষার খাতায় প্রশ্ন তুলতে তুলতেই নির্ধারিত সময় শেষ করে দেয়। একে তো লম্বা প্রশ্ন তার উপর আবার সব খাতায় তুলতে হবে। একজন কোমলমতি শিশুর মগজে এই যে বাড়তি চাপ তার কোন কি মানে হয়?

চতুর্থ শ্রেণিতে আমার ছেলেকে ইংরেজিতে পত্র লিখন শিখতে হচ্ছে। প্রতি প্রান্তিকে তার দুটো করে পত্র-আবেদন লিখা শিখতে হয়। কিন্তু মাজার ব্যাপার হল, তার সিলেবাসে কিন্তু বাংলায় পত্র লিখন শেখার কোন ব্যবস্থা নেই। তাহলে আমাদের সন্তানরা কি আগে ইংরেজিতে পত্র লিখা শিখবে তার পরে শিখবে বাংলায়? তাহলে রবীন্দ্রনাথের সেই, প্রথমে চাই বাংলার গাঁথুনি, তারপর ইংরেজি শেখার পত্তন — উক্তিটি গেল কই? আমরা হাল আমলে কি আগে ইংরেজির গাঁথুনি দিয়ে পরে বাংলা শিখছি। ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে মাতৃভাষার অগ্রগণ্যতার যুগ কি তাহলে শেষ? শিশু মনোবিজ্ঞান আমাদের অজান্তেই কি অন্যরূপ তত্ত্বের জন্ম দিয়েছে?

আমার ছেলের সিলেবাসে বোর্ডের বইয়ের বাইরেও কিছু ব্যাকরণ টেক্সট রয়েছে। এই সহযোগী বইগুলো নিয়ে প্রতি বছরই শুরু হয় একটি অসুস্থ ব্যবসা। প্রথমে সিলেবাসে একজন লেখকের বাংলা বা ইংরেজি ব্যাকরণ দেওয়া হয়। বইয়ের লিস্ট হাতে পেয়ে অভিভাবকগণ দ্রুত সেই বই কিনে ফেলেন। মাস খানেক পরে সেই বই পরিবর্তন করে অন্য একটি বই কিনতে বলা হল। সামলাও ঠেলা! এক মাস পরে আবার অন্য একটি বই কিনুন। শুনেছি, এক শ্রেণির শিক্ষক প্রকাশকদের কাছ থেকে পার্সেনটেজ নিয়ে এই কাজটি করে থাকেন। দুই/তিনজন প্রকাশকের কাছ থেকে পারসেন্টেজ খেয়ে এই ভাবে ছাত্রদের ক্ষতি করে উভয় প্রকাশককে কিছু কিছু বই বিক্রি করার সুযোগ করে দেন।

নিম্ন শ্রেণিতে যেসব ব্যাবকরণ বই লিস্টে দেওয়া হয়, সেগুলো নিতান্তই বড়দের উপযোগী করে তৈরি করা। একটি বই দিয়েই লেখকরা গোটা প্রাথমিক বিদ্যালয় সামাল দিতে চান। তাই যে বই তৃতীয় শ্রেণির জন্য মনোনীত করা হয়েছে, তা মূলত পরিকল্পণা করা হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির জন্য। স্কুলের সাথে সমঝোতা হলে বইয়ের প্রথম কয়েকটি পাতা পরিবর্তন করে তাতে ‘তৃতীয় শ্রেণির জন্য’ এই জাতীয় কথা লিখে দিলেই হল। বইয়ের ভিতরের দিকে তাকালে বোঝা যাবে, এই বইটি মূলত পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার জন্যই পরিবল্পনা করা হয়েছে।

২০১২ সালের জন্য আমার ছেলের স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে যে ব্যকরণ পাঠ্য বই দেওয়া হয়েছিল তার নাম ছিল, প্রাথমিক বৃত্তি ব্যাকরণ ও রচনা। শিরোনামই বলে দেয় বইটি আসলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এই বইটি পাঠ্য করা হল চতুর্থ শ্রেণির জন্য।

বইটিতে যে রচনাগুলো দেওয়া হয়েছে তা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রী কেন, আমার মতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যও কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন, গত পরীক্ষার সিলেবাসে ছিল মাতা-পিতার প্রতি কর্তব্য রচনাটি। এই রচনায় ত্রিশটি লাইনে প্রায় পাঁচশত শব্দ ছিল। রচনার ভূমিকাটি ছিল নিম্নরূপ:

পাশ্চাত্য মনীষী ও সুপ্রসিদ্ধ লেখক রাস্কিন বলেছেন, এ পৃথিবীতে মানুষের তিনটি কর্তব্য Duty towards God, duty towards parent and duty towards mankind’.মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) বলেছেন, ‘মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেস্ত। পবিত্র কুরআন শরীফে ঘোষিত হয়েছে, ‘ মানুষকে সর্বপ্রথম কর্তব্য সাধন করতে হবে আল্লাহর প্রতি, তারপরই করতে হবে মাতাপিতার প্রতি। হিন্দু শাস্ত্রে আছে, পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাই পরম তপস্য; জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপী গরিয়সী।

আমার জানতে ইচ্ছা করে, যিনি এই রচনাটির জন্ম দিয়েছেন, তিনি কি চতুর্থ শ্রেণির একজন শিশু শিক্ষার্থীকে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ভেবেছেন, না তাদের প্রত্যেকে বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের এক একজন বাঙালি সংস্করণ মনে করেছেন।

একই কথা খাটে ইংরেজি ব্যকরণ বইগুলো সম্পর্কে। ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক যোগ্যতাকে আমলে না নিয়ে কতিপয় অখ্যাত লেখকের ব্যকরণ বই দিয়ে তাদের মগজর কোষগুলোকে ছিঁড়ে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই বইগুলোর আয়তন আর ভিতরের দাঁতভাঙ্গা রচনাগুলো পড়ে নয়, দেখেই ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার প্রতি বিতৃঞ্চার সৃষ্টি হচ্ছে।

এই তুলনায় বলব, আমাদের বোর্ডের পাঠ্য বইগুলো অনেক বেশি সম্মৃদ্ধ। এখানে সাহিত্যের পাশাপাশি ব্যকরণ শেখার যথেষ্ঠ উপাদান রয়েছে। আমাদের শিক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। প্রত্যেক শ্রেণির পাঠ্য বইগুলোর পরিকল্পনা দেখলেই তা বোঝা যাবে। কিন্তু স্কুল প্রশাসনের ক্ষেত্রে তা হয় নাই। বোর্ডের বাইরে এই ব্যাকরণ বইগুলো নির্বাচনই তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর তথাকথিত উন্নত শিক্ষার নামে আয়ত্তের অযোগ্য অতিপাণ্ডিত্যপূর্ণ একাধিক বই চাপিয়ে দেওয়াটা কোন ক্রমেই সুস্থতার লক্ষ্ণণ হতে পারে না। এর ফলে আমাদের সন্তানগণ নকলনবীশ ও মুখস্থ-বীশ হয়ে উঠবে। তারা হয়তো পাইকারী হারে জিপিএ ফাইভ পাবে, কিন্তু উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি পরীক্ষা গণহারে অকৃতকার্য হবে। তথাকথিত মেধাবী সন্তানরা তখন জাতীর জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এই সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি দেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।

১৬ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. এলডোরাডো বলেছেনঃ

    সহমত। এই সাথে আমার অভিজ্ঞতার কথা বলি। আতকে উঠবেন না যেন।
    ২০১১ সালের ঘটনা। ঢাকায় সদ্য বদলী হয়ে এসেছি। বাচ্চাদের ভর্তি করতে করতে মার্চ মাস হয়ে গেল। নতুন ক্লাস হলেও স্কুল নতুন নয়। একই স্কুলে এর আগেও বাচ্চারা পড়েছে। এবার আরো উচ্চ শ্রেনীতে অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি। যাই হোক বাসায় আগে থেকেই পড়ানো শুরু করেছিলাম। মাত্র ২০-২৫ দিন ক্লাস করার পরই প্রথম সাময়িক পরীক্ষা। একটি একটি করে বিষয় শেষ হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী মিলে বিষয় ভাগ করে নেয়া আছে । আমার ভাগে বাংলা, অংক, বিজ্ঞান আর কম্পিউটার। স্ত্রী অন্যান্য বিষয় দেখেন। সেখানেও মাঝে মাঝে আমরা একে অপরকে সহায়তা করে থাকি। যাই হোক, কম্পিউটার পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যায় ছেলে -মেয়ে এসে কয়েকটি চ্যাপ্টার এর পড়া বুঝিয়ে দিতে বললো । বই হাতে নিয়ে আমি ইতস্ততঃ লজ্জিত। ষষ্ঠ শ্রেনীর একটা সামান্য কম্পিউটার বই এর কিছুই আমি বুঝতে পারছি না, পড়াতে পারছি না। বাংলাদেশে কর্পোরেট সেক্টরে যখন থেকে কম্পিউটার এর প্রচলন, আমি সেই ‘৯২-’৯৩ সাল থেকে কম্পিউটার শিখেছি। কিছু পড়াশোনা ও করেছি। সেই আমি সামান্য ষষ্ঠ শ্রেনীর কম্পিউটার বই এর কিছুই মনে হয় বুঝতে পারছি না।
    ছেলে-মেয়ে একই শ্রেনীতে পড়ে। তাদেরকে ছুটি দিয়ে বই এর মুখবন্ধ খুলে পড়তে শুরু করলাম। এবার মাথায় চক্কর। পরিস্কার ইংরেজীতে লেখা ” This book is intended as a text for a course on Fundamentals of computers to be taught concurrently with courses on programming. It would be therefore useful for the first course in computer taught in undergraduate and post graduate courses in computer application. ”
    রাগে দুঃখে ছেলে মেয়েকে বললাম – পরদিন তাদেরকে পরীক্ষা দিতে হবে না। আমি পরদিন স্কুল প্রধান এর সাথে দেখা করে ষষ্ঠ শ্রেনীতে পোষ্ট গ্রাজুয়েট লেভেলের বই পড়ানোর কারন জানতে চাইলাম। তিনি কোন উত্তর না দিয়ে কমপ্লেইন লিখে দিতে বললেন। আমিও তাই করলাম। কিন্তু এরপর ও বই পরিবর্তন হল না। আমি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান এর সাথে বইটি সহ দেখা করে আমার অভিযোগ জানালাম। এরপর আরো ৩ মাস কেটে গেল। প্রতিকার না পাওয়াতে আমি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে কোর্টে যাওয়ার হুমকি দিলাম। অবশেষে ফাইনাল পরীক্ষার এক মাস আগে বলা হল এই বইয়ের উপর পরীক্ষা নেয়া হবে না। বিষয় শিক্ষক ক্লাস নোট দিবেন, সেগুলির উপর পরীক্ষা হবে, তাই ই হল।
    শেষ পর্যন্ত যা জেনেছি সেটা হল – ওই বইটি পাঠ্য করার বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির প্রভাবশালী সদস্য, স্কুল প্রধান এবং বিষয় শিক্ষক সবারই আগ্রহ ছিল (কারন পার্সেন্টেজ)।
    এবার বইটির নাম বলি – ‘Fundamentals of Computer, by V. Rajara man. ভারতীয় বই।
    এরকম হাজারো বিরম্বনার মাঝে বড় হচ্ছে আমাদের সন্তানেরা। বোর্ডের দেয়া পাঠ্য বইয়ে হাজার হাজার ভুল। অতি নিম্ন মানের বিষয় সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা আছে। যারা পড়ে, তারা আনন্দ পায় না, আমরা যারা পড়াই তারা আগ্রহ পাই না। সেই সাথে বিশেষ ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি। ফলাফল কি হতে পারে সেটা পত্রিকায় এসেছে। আপনি আমি জানি না আমাদের সন্তানের ভবিষ্যত কি?
    ঢাকায় আসার আগে একটা ইন্টারভিউ বোর্ডে চট্টগ্রামের নামীদামী কলেজ থেকে সদ্য এইচ এস সি পাস করা এক ছাত্রকে একটা বাংলা বাক্য ইংরেজীতে অনুবাদ করতে বলেছিলাম ” আমার বাবার একটি গরু আছে।” সে কিছুটা ভেবে উত্তর দিয়েছিল ” My father is a cow”।
    ৫৬৩ জন এসেছিল ইন্টার ভিউ দিতে। সবাইকেই আমি আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের প্রথম ৪ লাইন গাইতে বলেছিলাম। মোট ৯ জন পেরেছিল। একেবারেই পারেনি, এমনকি এক লাইনও পারেনি এমন ছিল শতাধিক।
    কাকে দোষ দেব আমরা?

  2. আ ন ম ইসা বলেছেনঃ

    আমি ইউকে তে থাকি। এখানে স্কুল থেকে কোন বই দেওয়া হয় না বা কিনতে হয় না। শিক্ষকরা ক্লাসে পড়াবেন আর ছাত্র ছাত্রীরা নোট করবে। আর এই নোট থেকেই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এখন তো পরীক্ষাও তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। দেশে আসলে একবার সকলের সাথে আলোচনা করতে আগ্রহী। তবে কার সাথে বা কিভাবে করবো তা বুঝে উঠতে পারছি না। বই যদি তুলে দেওয়া হয় তবে কত টাকাই না বাচবে? যোগাযোগ করুন প্লিজ। anmessa@hotmail.co.uk

  3. মোত্তালিব দরবারী বলেছেনঃ

    এই তুলনায় বলব, আমাদের বোর্ডের পাঠ্য বইগুলো অনেক বেশি সম্মৃদ্ধ। এখানে সাহিত্যের পাশাপাশি ব্যকরণ শেখার যথেষ্ঠ উপাদান রয়েছে। আমাদের শিক্ষা গবেষণার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। প্রত্যেক শ্রেণির পাঠ্য বইগুলোর পরিকল্পনা দেখলেই তা বোঝা যাবে। কিন্তু স্কুল প্রশাসনের ক্ষেত্রে তা হয় নাই। বোর্ডের বাইরে এই ব্যাকরণ বইগুলো নির্বাচনই তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
    আসুন সবাই মিলে বোর্ডের বাইরের বই বর্জন করি। অসাধু ব্যাবসায়ীদের প্রতিরোধ করি।

  4. mizan বলেছেনঃ

    সাউথ পয়েন্ট স্কুল অণ্ড কলেজ ক্লাস থ্রী অণ্ড কেজি জন্য রী অ্যাডমিশন ফী 15000.00 টাকা, প্লাস এডু স্মার্ট ফী। টোটাল 2100 টাকা ওনলি ফর অ্যাডমিশন। দেয়ার ইস ন গুড স্টাডি ইভেন এগেইন অণ্ড এগেইন টাকা চাই।

  5. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক

    মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেছেনঃ

    আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যে নিছকই ব্যক্তিগত নয়, তা পাঠকদের প্রতিক্রিয়া থেকে জানলাম। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও পরিচালকগণ যে আমাদের শিশুদের নিয়ে রীতিমত ব্যবসা করে নিচেছন তা অনেকের প্রতিক্রিয়া থেকে বুঝলাম। এলডোরাডো সাহেবের অভিজ্ঞতা ব্যতিক্রমী। লিগাল নোটিশের ভয় তাহলে আছে। মোতালেব দরবারী, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ইসা আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
    প্রতিকার বড় কিছুই নয়। আইন-বিধি ও রীতি রয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারংবার বাচ্চাদের উপর থেকে বইয়ের বোঝা কমাতে বলছেন। আমরা দরকার হলে তার কাছে খোলা চিছি লিখব।

  6. নাজমুল বলেছেনঃ

    আপনার লেখার সাথে সম্পূর্ণ একমত, আজকালকার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেখলে বুঝতে পারি না, তারা শিক্ষক, না কি ব্যবসায়ী।

    ১০
  7. আজাদ হুমায়ুন বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ! এরকম একটি সময়োপযোগী লেখার জন্য। সমস্যা হলো আমরা নামকরা সবাই নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্টানে নিজেদের সন্তানদের ভর্তি করাতে আগ্রহী হই। উচ্চ বিদ্যালয় গুলোর প্রাথমিকের জন্য যে শাখা আছে, তার জন্য প্রাথমিক লেভেলে পড়ানোর জন্য যে পেডাগজি(শিশু শিখন বিদ্যা) অনুসরণ করার কথা, সেগুলো এখানে অনুসরণ করা হয়না, অধিকন্তু, শিক্ষার্থীর উপর পড়া চাপিয়ে দেওয়ার নানা রকম কসরত করা হয়।
    @জনাব মোতালেব দরবারীকে ধন্যবাদ, NCTB কর্তৃক প্রকাশিত বইগুলো সম্বন্ধে মূল্যায়ন করার জন্য। আমরা ঢাকার নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্টানের বাইরে, যদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলেতে আমাদের সন্তানদের পড়াতাম, তাহলে মনে হয়, নামকরা এসব প্রতিষ্ঠানের এই বিড়ম্বনা থেকে অনেকে রেহাই পেতেন। স্কুলগুলোরাও সচেতন অভিভাবকদের নজরদরিতে উন্নয়ন ঘটতো, মুশকিল হলো, এসব বিদ্যালয়ে নিম্ম আয়ের মানুষদের সন্তানরা লেখাপড়া করে, শুধুমাত্র এই একটি কারনে, শিক্ষিত, সচ্ছল মানুষেরা তাদের সন্তানদের এসব স্কুলে পড়াতে চায়না, এমনকি গ্রামেও এই প্রবণতা প্রকট, যার জন্য কিন্ডারগার্টেন এর এত ব্যাপকতা। এবার একটি ব্যক্তি অভিজ্ঞতা দিয়ে এই প্রতিক্রিয়ার সমাপ্তি টানছি- আমার ছেলের দ্বিতীয় শ্রেণির বার্ষিক পরিক্ষায় বাংলা বিষয়ে সংক্ষেপে উত্তর চেয়ে প্রশ্ন এসেছিল, বাংলাদেশের কয়টি ঋতু?
    সে উত্তর দিয়েছিল, বাংলাদেশের ছয় ঋতু। প্রশ্নের মান ছিল ০৬ কিন্তু তাকে মার্ক দেওয়া হয় ০৪, কী কারণে কম নম্বর দেওয়া হলো, সেটা জিজ্ঞাসা করা হলে, শিক্ষক থেকে উত্তর আসে সে ছয় ঋতু গুলোর নাম লেখেনি, কিন্তু প্রশ্নের মাঝ তো নাম বা উদাহরণ কোনটাই চাওয়া হয়নি, তাহলে সে বেশি লিখবে কেন?যদিও সে ছয় ঋতুর নাম লিখতে পারে। আর যে ০৪ নম্বর দেওয়া হলো সেটারও বা ভিত্তি কী? বুঝা যায়, প্রশ্নের গূণগত মানের যেমন সমস্যা আছে, তেমনি মূল্যায়ন পদ্ধতির ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা আছে। কিন্তু এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী অনেক সময় হতাশ হয়ে যায়, তাদের প্রেষণা কমে যায়। এবং সঠিক উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্তে সব সময় ইস্তততঃবোধ করে।

    ১১
  8. sorfaraj বলেছেনঃ

    পার্ছেন্টেজ এমন এক জিনিষ যা খুব কৌশলে মানুষের ভিতরে ঢুকে মানুষকে মিস্টার ‘১০ কিংবা ১৩ পার্ছেন্ট’ বানিয়ে দেয়। বিশ্লেষণ মূলক লেখনি লিখলেন আপনারা রাজ্জাক ভাই এবং এলডোরাডো নামে যিনি লিখেছেন দুজনেই মর্মস্পরশী তথ্য আলোড়িত করল ।একতা কথা মাথায় রাখা দরকার যারা শিশুদের জন্য বই বাছাই করছে তারা যেমন মুনাফাভুগি আর যারা অভিভাবক তারাও কি খুব সচেতন ?ঠিক যেমন আপনারা দুইজন

    ১৪
  9. আবু সৌম্য বলেছেনঃ

    রবীন্দ্রনাথ বলেছেন: ” বাঙালি শিশুর স্কন্ধে কীরূপ বিপরীত বোঝা চাপানো হইয়াছে। অথচ তাহাদের স্বাস্থ্যের প্রতি শিক্ষাবিভাগের কর্তৃপক্ষের এমনি সস্নেহ দৃষ্টিপাত যে, তিনজনের রচিত তিনখানা স্বাস্থ্য-বিষয়ক গ্রন্থ ছাত্রদিগকে মুখস্থ করাইয়া তবে তাঁহারা তৃপ্তিলাভ করিয়াছেন। ওই তিনখানি পুস্তকই যদি উঠাইয়া দেওয়া হয়, তবে সেই পরিমাণে ছাত্রদের স্বাস্থ্যের উন্নতি হইবার সম্ভাবনা।”

    ১৫

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...