ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

বাড়ির মালিকরা আজকাল কোন কিছুর ধার ধারছে না, মানছে না কোন নিয়ম নীতি, হারিয়ে ফেলছে সব ধরণের বিবেচনা বোধ, মানবিকতা! কিছু বলতে গেলেই ক্ষেপে যাচ্ছেন! ভাড়াটিয়াদের সুখ-দুঃখ, ভাল-মন্দ দেখার কোন ইচ্ছাই আর তাদের নেই!

আমরা যারা কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকি, যাদের বসবাসের জন্য নিজস্ব কোন বাসস্থান নেই, তারা আছি মহাবিপদে! একদিকে আমাদের বেতনের সাথে যে হিসেবে “হাউস রেন্ট” দেওয়া হয় বাস্তবে সেই হিসেবের মধ্যে বাসা ভাড়া পাওয়া একটা অলীক স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে! ফলে বেসিক বেতনের একটা অংশ বাড়িভাড়া খাতে ব্যয় হচ্ছে। আবার সেটা করতে যেয়ে খরচের অন্য খাতে টান পড়ছে। এই কথাটা আবার কর্মক্ষেত্রে বলেও কোন লাভ হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান একটু ভাল হলে বড়জোর একটা সান্ত্বনা বানী শোনা যায় “নতুন পে-স্কেলে” এটা বিবেচনা করা হবে! আর যদি প্রতিষ্ঠানটি একটু ঠোঁটকাটা টাইপের হয়, তাহলে তো কথায় নেই, উত্তর আসে, “পোষালে থাকেন, না পোষালে চলে যান!”

আমি যাদের সাথে মিশি তাদের প্রায় সবাই ভাড়া বাসায় থাকেন। যখন কোন আড্ডা বা অবসর সময়ে এই বিষয়ে কথা ওঠে, তখন বোঝা যায় বাড়ী মালিকদের চরিত্র কত কিসিমের!

কোন বাড়ির মালিক হয়ত বাড়িভাড়া দেওয়ার সময় আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, “আগামী এক বছরের মধ্যে ভাড়া বাড়ানো হবে না” কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তিন-চার মাস পরেরই আপনার কাছে ভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ আসছে, “সামনের মাস থেকে ভাড়া বাড়বে ২,০০০/- টাকা”। আপনি যদি বাড়ির মালিককে তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণ জিজ্ঞাসা করেন, ধরে রাখুন উত্তর আসবে, “পোষালে থাকেন, না পোষালে চলে যান!”

আবার কোন বাড়ীওয়ালা হয়ত বাড়ী ভাড়া নেওয়ার সময় আপনার কাছে ১,০০,০০০/- টাকা অগ্রিম নিলেন এবং কথা দিলেন আগামী দুইবছর বাড়ী ভাড়া বাড়াবেন না! আপনি লিখিত চুক্তি করতে চাইলেন কিন্তু উনি এড়িয়ে যেয়ে আপনাকে “তার” মানে মুরুব্বীর কথায় বিশ্বাস রাখতে বললেন। বছর না ঘুরতেই আপনার কাছে যথারীতি নোটিশ আসলো, “ভাড়া আগামী মাস থেকে ৩,০০০/- টাকা বাড়বে!” আপনি ক্ষেপে যেয়ে প্রতিবাদ করলেন এবং এর প্রতিকার চাইলেন, নিশ্চিত থাকুন, সামনের মাসে উচ্ছেদের নোটিশ পাবেন!

এবার আপনার ক্ষমা চাওয়ার পালা কারণ ইতিমধ্যে আপনি আপনার ছেলে-মেয়েকে পাশের স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছে এবং অফিসে বেশ ব্যস্ত সময় কাটিয়ে রাতবিরেতে বাসায় ফিরছেন! আর এগুলোই আপনার জন্য “কাল” হয়েছে! কারণ বাড়ি মালিকটি এটা খেয়াল করেছেন এবং আপনাকে মুরগী বানিয়েছে! আপনি উচ্ছেদ ঠেকানোর জন্য নাকে খত দিয়ে, বেশী ভাড়া দিতে রাজী তো হলেনই উপরন্তু ফাও হিসেবে মাপও চাইলেন!

কোন কোন বাড়ি মালিকের আছে; ব্যাংক লোণের কিস্তি “প্রতিমাসের ৭ তারিখের মধ্যে পরিশোধ” করার বাধ্যবাধকতাকে ভাড়াটিয়াদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার এক অদ্ভুত মানসিকতা। আমি এমন এক বাড়ি মালিককে জানি, যে কিনা উপরে বর্ণিত অজুহাতটিকে কাজে লাগিয়ে, ভাড়াটিয়াদের নিকট থেকে কোনরূপ পূর্ব চুক্তি বা নোটিশ ব্যতিরেকে একমাসের ভাড়া অগ্রিম নিয়ে সেটা বেমালুম ভুলে যেয়ে, কিছুদিন পর সব ভাড়াটিয়ার কাছে লিখিত নোটিশ পাঠিয়েছেন এই বলে যে, প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বাসা-ভাড়া পরিশোধ করা না হলে বাসায় “অটো টু-লেট” টাঙ্গানো হবে!

তেনার যুক্তি “প্রতিমাসে আপনারা ভাড়া দিতে দেরী করেন, এক একজন একেক সময় ভাড়া দেন, এতে করে আমার কিস্তি পরিশোধে সমস্যা হয়, প্রতিমাসে টাকা ধার করতে হয়, যা আমার জন্য লজ্জাজনক!” ভাড়াটিয়ারা একযোগে মিন মিন করে বলার চেষ্টা করেছিল, “এটা কিভাবে সম্ভব, আমাদের বেতন তো হয় মাসের ৮-১০ তারিখে, কারো কারো আরও পরে, আর এর জন্যই তো কিছুদিন আগে একমাসের ভাড়া অগ্রিম দিলাম! ব্যাপারটা কেমন হল না আঙ্কেল?” আঙ্কেলের ঠোঁটের আগায় আটকিয়ে থাকা উত্তরটা ঝট করে বের হল, “তাহলে বাসা দেখেন!”

এবার আমার সাক্ষাত অভিজ্ঞতার কথা বলি, সেই ব্যাচেলর লাইফ থেকে একই এলাকায় অনেকদিন থাকার কারণে বর্তমান বাড়ীর মালিক আমার পূর্ব পরিচিত। প্রায় সমবয়সী বাড়ী মালিকটির ব্যবহারও চমৎকার, সেইসূত্রে বর্তমান ভাড়া বাসায় আমার ওঠা! প্রথম প্রথম সে ভালই ছিল, প্রতিবছর ভাড়া বাড়াত, তবে সেটা সে আমাদের সাথে অলোচনা করেই করত, আমরাও মানে ভাড়াটিয়ারা কখনো তাতে বাঁধা দিতাম না এবং স্ব স্ব অবস্থান থেকে তা মেনে নিতাম। কিন্তু গত দুই-তিন বছর থেকে তার মধ্যে পরিবর্তন দেখছি, গায়ে আশপাশের বয়সী (ঝুনা-বাঁশ) বাড়ী মালিকদের বাতাস লাগতে শুরু করেছে, ওনার ব্যবহার পাল্টাচ্ছে এবং চক্ষুলজ্জা কমে যাচ্ছে! শুনতে পাই, শুক্রবারের “প্রার্থনা” শেষে এলাকার বাড়ী মালিকরা একজোট হয়ে গলাকাটা রেটে ভাড়া বাড়ানোর ফন্দী আঁটছে! অলরেডি সেই গরম বাতাস এলাকায় বইতে শুরু করেছে এবং তা আমাদের গায়েও লাগছে।

ব্যাচেলরদের একটু ভাল বাসা ভাড়া পাওয়া সবচেয়ে চেয়ে কঠিন কাজ। যদিও সব বাড়ীর মালিকই “মেয়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাচেলর ছেলে খোঁজেন” কিন্তু বাসা ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে “ব্যাচেলর নট এলাউড!” কোন বাড়ীর মালিক যদিওবা দয়া পরবশতঃ ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া দিতে রাজী হয় কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সেটা হয় অন্ধকার-দুর্গন্ধময় গ্রাউন্ড ফ্লোর আর না হয় টিন-শেড টপ ফ্লোর! যা কিনা সচরাচর ফ্যামিলি ভাড়াটিয়ারা নিতে চায় না আর নিলেও তা থেকে ভাড়া কম পাওয়া যায়। অপরদিকে সেই বাসাগুলোকেই ডবল টাকায় ভাড়া দিয়ে বাড়ির মালিক ব্যাচেলরদের প্রতি “দয়া” দেখানোর পাশাপাশি আগাম সতর্কতা হিসেবে হুমকি দিয়ে রাখে, “একটু এদিক-ওদিক হলেই উচ্ছেদ”!

অনেকদিন ধরে ঢাকায় ব্যাচেলর/বিবাহিত দুই ভাবেই বাসা খুঁজে, থেকে বুঝেছি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষ বাড়ি মালিকরা ভাড়াটিয়াদের উপর জুলুম করার উৎসাহটা পায় তাদের সুযোগ্যা গৃহিণীদের কাছ থেকে, এই গৃহিণীরাই হল নাটের গুরু-মা, আর এদের অত্যাচারটা শুরু হয় “জল” ছাড়া নিয়ে। সময়মত জলের মেশিন তো এরা চালু করবেনই না, উল্টো জল ছাড়ার কথা বললেই ওনাদের মনকষ্ট শুরু হয়। যদিও এর বিলটা ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকেই নেওয়া হয়ে থাকে। আবার কোন কোন বাড়ীর ছাদে পেটের মাঝ বরাবর পাইপ দিয়ে সংযুক্ত করা দুটো করে জলের ট্যাঙ্ক লাগানো থাকে। ভাড়াটিয়াদের বাসায় যে ট্যাঙ্ক থেকে জল আসে সেটা উপরে আর ওনাদের বাসায় যেটা থেকে জল যায় সেটা একটু নীচে বসানো থাকে, আর কে না জানে; জল সবসময় তার টার্গেট মতই চলে মানে নীচের দিকে গড়ায়। ফলে মালিকের বাসায় জলের কখনো অভাব হয় না এবং ওনারা বোঝেও এটা না থাকার করুন পরিণতি অথবা বুঝলেও না বোঝার ভান করে থাকে! আমি এমনও দেখেছি, “এলাকায় জলের সংকট দেখা দেওয়ায়, মালিকের বাসার কাজের মেয়ে ভোর বেলায় ছাদে উঠে ভাড়াটিয়াদের জলের লাইনের মেইন “কি” বন্ধ করে দিয়ে শুধুমাত্র নিজেদের লাইনে জলের প্রবাহটা ঠিক রাখছে!”

আর বিদ্যুৎ বিলের অরিজিনাল কাগজ চাইলেই উত্তর আসে, আমাদের মিটার একটা তাই ওটা দেওয়া সম্ভব না। যদিও ভাড়া মিটানোর সময় অধিকাংশ বাড়ির মালিকই তেলের মত স্বীকার করে থাকে প্রতি মাসে “বিদ্যুৎ বিলের অরিজিনাল কাগজ” দেওয়া হবে!

আর এই সব নিয়ে কথা বলতেই গেলেই উত্তর আসে, “বাসা ছাড়ুন!”

আমরা যেন মানুষ না! গরু-ছাগল! কথায় কথায় বাসা ছাড়ার হুমকি দেওয়াটা আজকাল ঢাকার বাড়ি মালিকদের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, তবে কি আমরা আজ নিজ দেশেই উদ্বাস্তু? যেসব “রোহিঙ্গা” উদ্বাস্তু হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদেরও তো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরাতে গেলে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিবাদ আসে এমনকি বিশ্বের মোড়লরা এসে হাজির হয় কিন্তু আমরা যারা বৈধ নাগরিক, সৎ কর্মে নিয়োজিত থেকে প্রতিবছর সরকারকে ইনকাম ট্যাক্স দিচ্ছি তাদের এই সমস্যাটা দেখার কেউ নেই! সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান এইসব দেখার কথা, তারা যেন সব নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে! আর ঘুমাবেই না কেন? ওদের সবাই তো আজ বাড়ির মালিক হয়ে গেছে, আর না হয় মালিক হওয়ার ধান্ধায় আছে! ওদের ভাবখানা এমন, “শুধু শুধু স্ব-গোত্রীয়দের হয়রানি করবো কেন?”

সরকারের আইন প্রয়োগের এই অক্ষমতাই বাড়ি মালিকদের সাহস ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলছে, যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব হবে ব্যাপক ও ভয়াবহ এবং ইতিমধ্যেই তা দেখা যাচ্ছে। গার্মেন্টস সেক্টরের স্বল্প বেতন-ভুক্ত কর্মীরা আর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আছে ভয়াবহ বিপদে! একদিকে যেমন তারা তাদের ইনকাম বাড়াতে পারছে না, অপরদিকে পারছে না অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পরে প্রয়োজনীয় ব্যয়ের সাথে তাল মিলাতে। যা তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি কাজ করার পাশাপাশি দুর্নীতি করতে প্রলুব্ধ করছে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের অসন্তোষের মূল কারণই হল আর্থিক সংকট বা প্রতিদিনের খরচের জন্য নগদ টাকা হাতে না থাকা আর বাড়ি মালিকদের ক্রমাগত উচ্ছেদের হুমকি। এর সাথে যোগ হয়েছে তাদের “বাড়ি ভাড়া” ক্রমাগত ও অযৌক্তিক হারে বৃদ্ধি পাওয়া, যার কারণে তারা আয়ের সাথে ব্যয় মিলাতে পারছে না। একজন গার্মেন্টস শ্রমিক তার বাসস্থানের জন্য যে ভাড়া দেয় তা যদি পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধাকে বিবেচনায় নিয়ে প্রতি স্কয়ার ফিট হিসেবে তুলনা করা হয়, তাহলে দেখা যাবে তা গুলশান–বনানী এলাকার বাসা ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশী!

চাকুরী বা কর্ম ঠিক রেখে; বাসা পাল্টানো এবং তার খরচ, অল্প সময়ে নতুন বাসা খুঁজে বের করা, ছেলে-মেয়েকে সুবিধাজনক স্কুলে ভর্তি করা, অফিসে/কাজে যাতায়াতের ব্যবস্থা -এই সব করার যে ঝক্কি–ঝামেলা একজন কর্মজীবী মানুষকে পোহাতে হয়, তা এককথায় স্বল্প নোটিশে অসম্ভব! আর এই সুযোগটাকেই বাড়ির মালিকরা গ্রহণ করে ভাড়াটিয়াদের ব্ল্যাক-মেইল করছে এবং ইচ্ছামত ভাড়া বাড়াচ্ছে! ফলে তাদের এইসব যুক্তিহীন ও অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করতে গেলেই যখন তখন বাসা থেকে নেমে যেতে বলছে যা “ঘাড় ধরা”রই নামান্তর!

ব্যাপারটা এই দাঁড়িয়েছে যে, আজকাল বাড়ি ভাড়া নিয়ে বাড়ি মালিকদের সাথে কথা বলাই পাপ!

ভাড়া রসিদের সুত্রঃ নিজস্ব সংগ্রহ

৩৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. শাহ আবদালী বলেছেনঃ

    খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লিখেছেন , ধন্যবাদ । বাড়ীওয়ালারা নিজদেরকে জমিদার মনে করে। আইনের মাধ্যমে যেমন করে জমিদারী প্রথার উচ্ছেদ হয়েছিল, ঠিক সেভাবে বাড়ী ভাড়া প্রথার উচ্ছেদ হওয়া দরকার । অন্তত প্রধান প্রধান শহর গুলোতে যাতে কেউ বাড়ীওয়ালা না হতে পারে, সে ব্যবস্থা করা উচিত ।

  2. প্রথম আলো বলেছেনঃ

    নাগরিক সুবিধা দিতে সরকারের অনেক ব্যার্থতার মধ্যে এটাও একটা।
    সরকার যন্ত্রে যারা থাকেন প্রত্যেকে বাড়িওয়ালা, নিজেদের বিরুদ্ধ্যে তো (আমিও যাব না) কোন পাগলও আইন করবে না।
    হা পিত্তেষ করতে করতে যত দিন বাঁচবেন ততদিনই বোনাস।

  3. টাচ মাই ড্রিম বলেছেনঃ

    =======================================
    ব্যাচেলরদের একটু ভাল বাসা ভাড়া পাওয়া সবচেয়ে চেয়ে কঠিন কাজ। যদিও সব বাড়ীর মালিকই “মেয়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাচেলর ছেলে খোঁজেন” কিন্তু বাসা ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে “ব্যাচেলর নট এলাউড!”
    ======================================
    আমরা যেন মানুষ না! গরু-ছাগল! কথায় কথায় বাসা ছাড়ার হুমকি দেওয়াটা আজকাল ঢাকার বাড়ি মালিকদের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, তবে কি আমরা আজ নিজ দেশেই উদ্বাস্তু?
    নাগরিক সমস্যা সুন্দর ভাবে তুলে ধরার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

  4. জিনিয়া বলেছেনঃ

    আরে দাদা, সবাই দেখি বাড়িওয়ালার উপর চড়াও হইছেন..আমার লেক সিটি বাড়ির ভাড়া তো ৫ বছরেও বাড়াতে পারছি না..তার কী হবে?

  5. কাজি বলেছেনঃ

    ভাই আপনার কথার সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলে চাই ভাড়া প্রবলেম এর মূল কারণ হলো বাড়ির দাম।

    আপনি যে বাড়ির ভাড়া 7200 টাকা দেন তার বাজার মূল্য কম করে হলেও 45 লাখ টাকা। মালিকে বাড়ির জন্যে খরচ যদি 500 টাকাও ধরি তবে তার নেট ইনকাম হবে 6700 টাকা। যেটা তার মূলধনের বিপরীতে আয় হলো মাত্রও 1.786666667%

    তাই বাড়ি ভাড়ার আগে বাড়ির অহেতুক বাড়ির উচ্চ মূল্য নিয়ন্ত্র্রন করতে হবে।

    এর জন্যে আমার 2 প্রস্তাব আছে।

    * কোনও বেক্তি একের অধিক বাড়ির মালিক হতে পারবে না।

    * সরকার যেমন প্রতিটি জয়গার একটি নিমন্য মূল্য নির্ধরন করছেন তেমনি তাকে সর্বোচ্চ মূল্যও নির্ধরন করে দিতে হবে।

    • সুকান্ত কুমার সাহা বলেছেনঃ

      কাজী আপনাকে ধন্যবাদ!
      ভাড়া বৃদ্ধির স্বপক্ষে বাড়ির মুল্য বৃদ্ধির যে যুক্তি আপনি দেখালেন, তা সবক্ষেত্রে সঠিক না। আর সব জায়গায় বাড়ির মূল্যও একই নয়।

      আমি বাড়ি ভাড়ার স্লিপের যে এটাচমেন্টটি দিয়েছি, তা ভাল করে খেয়াল করলে দেখবেন, এক বছরে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে প্রায় ২১%। এটাকে কোন যুক্তিতে সঠিক বলবেন?

      আপনার প্রস্তাব দুটি বাস্তবায়িত হলে দেশটা তো সোনার বাংলাদেশ হয়ে যেত! কিন্তু বাস্তবতা হল এর কোনটাই হওয়ার সম্ভবনা নেই!

      ৫.১
  6. মাহি জামান বলেছেনঃ

    বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থে সরকারের উচিৎ এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া। সরকারের বিবেচনা করা উচিৎ, দেশে বাড়ী ওয়ালাদের চেয়ে ভাড়াটিয়াদের ভোটের সংখ্যা অনেক বেশী।

    • সুকান্ত কুমার সাহা বলেছেনঃ

      মাহি জামান আপনাকে ধন্যবাদ!

      “সরকার নিবে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা!” আপনার বিশ্বাস হয়? নাকি ওতে যারা আছে; তারা আর বাড়ি মালিকরা সবগুলো এক খোঁয়াড়ের শূকর?

      নিচের কোড করাটুকু পড়ুনঃ

      সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান এইসব দেখার কথা, তারা যেন সব নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে! আর ঘুমাবেই না কেন? ওদের সবাই তো আজ বাড়ির মালিক হয়ে গেছে, আর না হয় মালিক হওয়ার ধান্ধায় আছে! ওদের ভাবখানা এমন, “শুধু শুধু স্ব-গোত্রীয়দের হয়রানি করবো কেন?”

      আর ভোটের কথা বলছেন? বলুন তো “আখের” বড় না “ভোট” বড়?

      শুভকামনা! আপনার জন্য!

      ৬.১
  7. নীল নির্বাসন বলেছেনঃ

    “পোষালে থাকেন, না পোষালে চলে যান!” ভাইরে দুঃখের কথা আর কি বলবো, কতবার যে নির্দয় বাক্যটি শুনেছি তাঁর কোন হিসাব নাই। আজকাল তো মনে হয়, আগের জন্মের পাপের শাস্তি বুঝি এই জনমে পাচ্ছি।

  8. touhid বলেছেনঃ

    বাংলাদেশ a aমণ অনেক সমস্সা আসে যার কোনও সমাধান জানা নাই। প্রিয় লেখক, আপনি সমসসার কথা লিখসেন। সমাধান কী আমরা কাউ জানি? বাংলাদেশ এ এসব অনেক সম্স্সার সমাধান ফিউচার ইমপসিবল কাল!!´

  9. রহিম বলেছেনঃ

    লেখক ভাই আপনি ভাগ্যবান, তাই মাসে মাসে মনে করেন। কিন্তু আমার যে বাজার করতে গেলেই মনে পড়ে আর মাসের প্রথমে মনে হয় ঐ বুঝি আজ্রাইল(বাড়িওয়ালা} এলো। জনম দূখী ভাড়াটিয়া আমি কি করব বলেন। তাই একটু ভুলে থাকার চেষ্টা।

    ১৪
  10. Farrukh Ahamed বলেছেনঃ

    আমাদের ভাড়াটিয়াদের উচিৎ এখন বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রন কল্পে কমিটি গঠন করা । কারণ বাংলাদেশে কোন কিছুই এখন আন্দোলন ছাড়া বাস্তবায়িত হয় না।

    ১৫
  11. রহিম বলেছেনঃ

    ও লেখক ভাই আপনি কি ভাল আছেন? আমার লেখারতো কোন উত্তর দিলেন না। আপরাধ মাপ করে দেন।
    লেখক ভাই আপনি ভাগ্যবান, তাই মাসে মাসে মনে করেন। কিন্তু আমার যে বাজার করতে গেলেই মনে পড়ে আর মাসের প্রথমে মনে হয় ঐ বুঝি আজ্রাইল(বাড়িওয়ালা} এলো। জনম দূখী ভাড়াটিয়া আমি কি করব বলেন। তাই একটু ভুলে থাকার চেষ্টা।

    ১৬

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...