ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

বিজিএমই–এর অবৈধ বিল্ডিং

ঢাকার কারওয়ান বাজারের উল্টোদিকে হোটেল সোনারগাঁও-এর পাশে অবৈধ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিংটি যা বাংলাদেশ পোশাক রফতানি কারক সমিতির হেড অফিস বা “বিজিএমই বিল্ডিং” নামে পরিচিত তা আঁচিরেই ভেঙ্গে ফেলা হোক!

যদি বলেন কেন এত মূল্যবান ও সুন্দর বিল্ডিঙটা ভেঙ্গে ফেলতে হবে? তাহলে পড়ুন নিচের কাহিনী:

১। এই বিল্ডিংটি সম্পূর্ণ রূপে অবৈধ ভাবে বানানো হয়েছে। এর প্ল্যান রাজউক থেকে পাসকৃত নয়।

২। এটা বেগুণবাড়ি-হাতিরঝিল প্রকল্পের মধ্যখানে অবৈধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে যা প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও ধীর করে দিয়েছে।

৩। এই জায়গাটা সরকার অবৈধভাবে এক্সপোর্ট প্রোমোশন ব্যুরো (ইপিবি) কে বরাদ্দ দিয়েছিল কিন্তু বিজিএমইএ’র কর্তৃপক্ষ সব পক্ষকে ম্যানেজ করে নিজেদের নামে করে নিয়েছে।

৪। মহামান্য হাইকোর্ট এই বিল্ডিংটিকে অবৈধ ঘোষণা করে তা তিন মাসের মধ্য ভেঙ্গে ফেলতে বলেছিল কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয়নি বা নানা অজুহাতে করা হয়নি!

৫। এই বিল্ডিংটিতে বসে এমন একটা প্রেশার গ্রুপ যারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। আপনাদের কি মনে আছে কয়েক বছর আগে বিশ্ব মন্দার অজুহাতে সরকার থেকে “ক্যাশ ইনসেন্টিভ” আদায় করার জন্য ঈদের আগে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন–বোনাস বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এরা সরকারকে ব্ল্যাক-মেইল করতে চেয়েছিল।

৬। ২০০৮ সালের দিকে যখন শ্রমিক আন্দোলন চরম আকার ধারণ করেছিল এবং শ্রমিকরা একটার পর একটা কারখানায় আগুন দিচ্ছিল, ভাংচুর করছিল তখন এই মালিক সংগঠনটি কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারার পাশের রাস্তায় দলবেঁধে শুয়ে পড়ে এর প্রতিবাদ করেছিল। তারা তৎকালীন সরকারকে তার সর্বচ্চো বাহিনী নামিয়ে আন্দোলন দমন করার জন্য প্রেশার দিচ্ছিল। তারা সেদিন এও রব তুলেছিল, “ আমাদের কারখানা না বাঁচলে সরকার ও তার বাহিনীগুলো আছে কিসের জন্য!”

এখন এরাই কিন্তু একটার পর একটা গার্মেন্টস কারখানায় আগুন লেগে শত শত শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা গেলেও নিশ্চুপ থাকছে বা ঘটনাকে অন্যদিকে ঘুড়িয়ে দেওয়ার জন্য সাবটাজের বোল তুলছে!

এই মৃত্যুর দায় ফ্যাক্টরি মালিক তথা বিজিএমইএ/বিকেএমইএ কিছুতেই এড়াতে পারেন না, কারণ এই দুর্ঘটনার জন্য তাদেরই পরিচালন দুর্বলতা, একটু খরচ বাঁচাতে যেয়ে সঠিক নিয়মে ফ্যাক্টরি না বানিয়ে বা মিথ্যা লে-আউট পাস করিয়ে নিয়ে কারখানা তৈরী করা আর অতিরিক্ত লোভ দায়ী।

৭। তাজরীন গার্মেন্টস যেহেতু নিয়মিত রফতানি করত, তাই তাকে তার তৈরি পোশাকের জন্য Certificate of Origin (CO) সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক ছিল আর এটা ইস্যু করে বিজিএমইএ/বিকেএমইএ। তাই আমি ধরে নিচ্ছি তারা বিজিএমইএ’র সদস্য। আর এর সদস্য হতে হলে তাকে অবশ্যই এই সংগঠনে তার ফ্যাক্টরি লে-আউট জমা দিতে হয়েছে এবং লে-অউটটি উক্ত সংগঠনের মনোনীত ইন্সপেক্টর দ্বারা সরেজমিনে তদন্ত-পূর্বকই পাশ করা হয়েছে। আমার প্রশ্ন হল বিকল্প সিঁড়ি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধা ব্যতীত ফ্যাক্টরিটি বিজিএমইএ’র অনুমোদন পেল কিভাবে? কারণ এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিকল্প সিঁড়ি থাকা বাধ্যতামূলক!

আমার জানা মতে বিজিএমইএ, এখানে বিদেশিদের দেওয়া কমপ্লায়েন্স যে শর্ত ছিল, তাও ভঙ্গ করেছে, কারণ তার দেওয়া “CO” এর উপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের এক্সপোর্ট প্রোমোশন ব্যুরো (EPB); GSP, SAFTA ও অন্যান্য বিশেষ সুবিধার Certificate ইস্যু করেছে তাজরীনের রফতানির বিপরীতে। এই CO ছাড়া EPB এই Certificate গুলো ইস্যু করতে পারত না ফলে এই ফ্যাক্টরি বিদেশ থেকে অর্ডারও পেত না।

৮। “হলমার্ক” ঘটনা কে ঘটিয়েছে? খোঁজ নিলেই জানা যাবে জনাব তানভীর বিজিএমইএ’র সদস্য। আর ৪,০০০ কোটি টাকা লুটের ঘটনা একদিনে ঘটেনি, খোঁজ নিলেই দেখা যাবে এর আগেও ৫০, ১০০, ৫০০, ১,০০০ কোটি টাকার অসংখ্য ঘটনা চাপা পড়ে আছে এবং সেইসব তানভীররা আছে বহাল তবীয়তে। আর যখনই হলমার্কের ঘটনাটা নিয়ে তোলপাড় শুরু হল এবং সরকার আই-ওয়াশ হলেও কিছু ব্যবস্থা নিতে শুরু করলো, তখনি আমাদের “প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠনের” “প্রধান” যিনি আবার বিজিএমই-এরও একজন সদস্য, তিনি বানী দিলেন “হলমার্ক কারণে আমাদের ব্যবসায় সমস্যা হচ্ছে” অর্থাৎ এর সাথে জড়িতদের হয়রানী(!) করতে সরকারকে পরোক্ষভাবে বারণ করলেন!

এ থেকে আমরা কি বুঝছি? বুঝছি এই যে, ওদের আচরণ দিনে দিনে “দেশের” সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে! আমি স্বীকার করছি তারা দেশের কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা পালন করেছে, প্রতিবছর দেশকে সবচেয়ে বেশি ফরেন কারেন্সি আয় করে দিচ্ছে। এজন্য দেশও তাদের নিয়ে গর্ব করছে এবং পুরস্কারও দিচ্ছে। কিন্তু সেই গর্বের প্রতিদান যদি হয় “শত শত পোড়া লাশ” তাহলে আর কি অবশিষ্ট থাকে!

এই সব অপরাধীদের/খুনি মালিকদের প্রধান কেন্দ্রই হচ্ছে এই অবৈধ বিল্ডিংটা। আসুন দেখা যাক, এটা যদি ভেঙ্গে ফেলা যায় তাহলে দেশের কি কি লাভ হবে:

ক। বিজিএমইএ’র নেতা ও সদস্যদের “মুই কি হনু রে” ভাবটা কমবে!
খ। যে সকল মালিকরা বিজিএমইএ’র গরমে ফ্যাক্টরিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না রেখেই ফ্যাক্টরি চালাচ্ছেন, তারা ভয় পাবেন বা একটা মেসেজ পাবেন, “এই ভাবে আর চলবে না” বা ”আমাদের আর কেউ বাঁচাবে না!”
গ। বিজিএমইএ আর শতভাগ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিহীন কোন ফ্যাক্টরিকে সদস্য বানাবে না।
ঘ। বেগুনবাড়ি-হাতিরঝিল প্রকল্পটা সুন্দর হবে।
ঙ। দেশে দখলবাজরা কিছুটা ভয় পাবে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়বে।

তাই আসুন আমরা সবাই মিলে জনস্বার্থে “বিজিএমইএ’র এই অবৈধ বিল্ডিংটি” ভেঙ্গে ফেলি।

ছবি সুত্রঃ ইন্টারনেট
পড়ুন: তাজরিন হত্যাকাণ্ড: গণহত্যার মামলা দায়ের হওয়া উচিত!

৩৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. শাহ আবদালী বলেছেনঃ

    অসাধারন একটি লেখা। ধন্যবাদ । এদেশের লাখো জনতা একমত। এই দালানটির প্রতিটি ইট টাকা দিয়ে কেনা নয়, শ্রমিকের রক্তের বিনিময়ে কেনা। কিন্ত কিছুই হবে না । লিখেছেন ” মহামান্য হাইকোর্ট এই বিল্ডিংটিকে অবৈধ ঘোষণা করে তা ৩ মাসের মধ্য ভেঙ্গে ফেলতে বলেছিল কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয়নি বা নানা অজুহাতে করা হয়নি! “ওখানে যারা বসে তারা তো আর মাহমুদুর রহমানের মত গরীব মানুষ না যে আদালত ওদের পেছনে লাগবে।

  2. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @প্রিয় সুকান্ত। আসলে ব্লগে আমরা যতই ফ্যাঁচফ্যাঁচ করি, ওই বিল্ডিং ভাঙ্গার ক্ষমতা আমাদের নেই। (এই বিল্ডিং রক্ষার জন্য হাতিরঝিল প্রকল্প পুনর্ডিজাইন করা হয়েছে, মাত্র ১১০ কোটি টাকা বেশী লাগবে)। সরকার কথায় কথায় আমাদের হাইকোর্ট দেখায়, কিন্তু নিজের এতটুকু গুর্দা নেই যে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিতে!!
    আমিতো একেকবার ভাবি, মওলানা ভাসানীকে কবর থেকে ডেকে উঠিয়ে আনি।
    ভালো থাকবেন।

  3. আসাদ ইনভেস্টমেন্ট Banker বলেছেনঃ

    বিল্ডিং বাইঙ্গা কী লাভ ভাই । দেশের ইকোনোমি আর একটু খারাপ ঈ হইবো অল্টারনেটিভ চিন্তা করা যাই কিভাবে ——সেটা দেখেন

    • সুকান্ত কুমার সাহা বলেছেনঃ

      এই দোহাই দিয়েই তো ওরা কারখানাটিতে বিকল্প সিড়িতে রাখেনি, ওদের যুক্তি তাতে খরচ বেড়ে যাবে, জায়গা নস্ট হবে!
      তাতে লাভ হয়েছে কিছু?
      আপনি কয়টা লাশ গুনেছেন?

      ৭.১
      • সুকান্ত কুমার সাহা বলেছেনঃ

        আপনি এই বিল্ডিঙের সাথে টাকার অংক, দেশের ক্ষতি এই সব বিষয় যোগ করে অবৈধ কে বৈধতা দিতে চেয়ে বা এড়িয়ে যেতে চাচ্ছেন কেন? এটা কি ঠিক করছেন?

        এই করে কি সবকুল রক্ষা হবে? আপনি বা যারা এটা ভাবছেন তারও কি রক্ষা পাবেন? আপনি ভাবছেন আমি অনেক উপরে আছি, আমার অনেক টাকা-পয়সা, গাড়ী-বাড়ি আছে। আমি ভাল আছি, এই সব ছোটখাট ব্যাপার নিয়ে ভেবে কি হবে?

        আপনিও এই কর্মের ফল পাবেন! হয়ত সেটা হবে অন্য ভাবে…

        হয়ত দেখবেন, একদিন আপনার ঝাঁ চকচকে BMW গাড়ীটি, রং পথে একটা ট্রাক এসে ডলে দিয়ে গেল। পরে দেখা গেল তাতে আপনার প্রিয় সন্তান দুটো ছিল!

        অথবা, প্রিয় সন্তানদের আপেল আঙ্গুর খাওয়াতে খাওয়াতে নিজের অজান্তেই আপনি তাদের ফরমালিন খাইয়েছেন! ফলে কিডনি ফেলউর, ক্যান্সার আক্রান্ত সন্তান টানতে টানতেই আপনি ফতুর!

        হয়ত ঘটবে আরও ধারণাতীত অনেক কিছু … কিন্তু ঘটবে সিওর!

        তাই, আসুন আমরা সবাই অন্যায়কে অন্যায় আরা ভাল কে ভাল বলি।

        শুভ কামনা!

        ৭.১.১
  4. Powerful Magnet বলেছেনঃ

    আপনি শুরু করুন। অন্যরাও আপনাকে অনুসরণ করবে। আপনি আগে প্রথম পদক্ষেপ নিন। যেমন আপনি গিয়ে ওখানে গ্লাস ভাংতে পারেন। কথা হচ্ছে আগে শুরু করুন।

    • সুকান্ত কুমার সাহা বলেছেনঃ

      Powerful magnet / শক্তিশালী চুম্বক ভাই!

      কাউকে না কাউকে ঢিল তো ছুঁড়তেই বা গ্লাসটা ভাঙতেই হবে! – এটা ঠিক কথা। আমি চাই এটা আইন মাফিকই হোক! আপনি নিশ্চয় আমাকে, আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বলছেন না! যদি বলে থাকেন তাহলে আপনার নামের সাথে মিল রেখেই আপনি নিজের ক্ষমতা দেখাতে চাচ্ছেন বা আমাকে ভয় দেখাতে চাচ্ছেন!

      আপনার কি মনে হয়, এটা হবে না? আমি কিন্তু আশাবাদী মানুষ! RANGS ভবনের কথা মনে আছে কি? ওই বিল্ডিঙের মালিকেরও ক্ষমতা প্রভাব প্রতিপত্তি কম ছিল না কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম বলে একটা কথা আছে না?

      এখন সেখানে ঝকঝকে রাস্তা!

      আর একটা অনুরোধ, লেখাটা ভাল ভাবে পড়ুন এবং সঠিক নামে লিখুন!

      ৯.১
  5. নীল নির্বাসন বলেছেনঃ

    হুদাই প্যাচাল প্যাইরা আর কি লাভ বলেন? আপনি অনেক তথ্যের সমাবেশ করেছেন, পারলে আরও একটা তথ্য যুক্ত করুন “সরকার এদের বিরুদ্ধে কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না, কারন নির্বাচনের সময় প্রতিটি দল এদের কাছ থেকে একটা বিরাট অঙ্কের আর্থিক সুবিধা আদায় করে থাকে “। শুভকামনা রইল…

    ১১
  6. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    ‘প্রকৃতির নিয়ম ‘ হা হা হা .. ভালো বলছেন …
    ভাঙ্গার দরকার কি ! ভূমিকম্প [১,২] আছে না !
    __
    সূত্র:
    [১] বিডি নিউস ২৪ মতামত বিশ্লেষণ-০২ .০৫ .২০১২ (৩০ .১১ .২০১২)
    [২] ঢাকা ভূমিকম্প পদচিহ্ন (৩০ .১১ .২০১২)

    ১২
  7. পাওয়ারফুল magnet বলেছেনঃ

    সুকান্ত দা আপনাকে আমি আইন তুলে নিতে বলি নাই। আপনার শিরোনামেই সব লেখা আছে। “আসুন সবাই মিলে জনস্বার্থে ’বিজিএমই–এর অবৈধ বিল্ডিংটি’ ভেঙ্গে ফেলি”। তাই বলেছিলাম আপনিই যখন আহ্বায়ক তখন প্রথম পদক্ষেপ আপনাকেই নিতে হবে। এটা যে কোন ভাবে হতে পারে। আপনার শিরোনামের সাথে মিল রেখেই আমি বলেছি আপনি গ্লাস ভাংতে পারেন। গ্লাস ভাংতে না চাইলে অন্য কোন উদ্যেগ নিন যেটা কার্যকরী হতে পারে। আর আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করি না বরং আপনিই মানুষের আবেগকে ভিন্ন খাতে নিতে চাইছেন। আর অন্যের ক্ষতি না হয় এমন যে কোন নাম আমি ব্যবহার করতে পারি এই স্বাধীনতাটুকু আমার আছে যেহেতু আমি নিবন্ধিত ব্লগার নই বিডিনিউজে। আশা করি আমি বোঝাতে পেরেছি তারপরও আপনি যদি আমার লেখায় সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন তাহলে আমি আপনার কাছে দুঃখিত। সাথে এটাও বলি একজন লেখক বা ব্লগার অনেক মুক্ত মনের হওয়া উচিত। কিন্তু আপনার মধ্যে তা অনুপস্থিত বরং চরমপন্থা উপস্থিত।

    ১৩
  8. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    প্রিয় সুকান্ত, নীল নির্বাসনএর মন্তব্যের সাথে আরেকটি পয়েন্টও যোগ করতে পারেন যে ওরা এখন সরকারের অংশ। তাই সরকারী কোন নীতিই তাদের বিপক্ষে যাবেনা। তবে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, জনতার ক্রোধ তারা দেয়ালের লিখনে পড়ে ফেলেছে। তাই একটু মাফ চাওয়ার ভঙ্গী করছে!
    ভালো থাকবেন।

    ১৫
  9. জিনিয়া বলেছেনঃ

    কার সাথে হাত মিলাতে হবে দাদা? বেগানা নারী হয়ে হাত মিলালে আবার মৌলবাদীদের খপ্পরে পড়ার সম্ভাবনা নাই তো? :( :( ..।

    দেখা যাক কী হয়!!!

    ১৭
  10. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    প্রিয় সুকান্ত, হ্যা, প্রতিবাদের খবরটি পড়লাম। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, কিছুই হবেনা। কারন সরকারের ল্যাজ পুরো সরকার নাড়ায়। সরকারের এতো গর্ব আদালতের আদেশ মান্য করার রেকর্ডের, চক্ষের পলকে ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস হয়ে যায়, আর বিজেএমই বিল্ডিং সিনা টান করে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রচন্ড জনরোষ টের পেয়ে সরকারের সক্রিয় সহযোগিতায় বিজেএমই’র দানবেরা ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে। তারা জানে, কদিন ইতিউতি ভাব দেখালেই মানুষ সব ভুলে যাবে, ফলাফল যে লাউ সেই কদু।
    আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ শক্তিশালী ব্লগার গ্রুপের কাছে আমার প্রশ্ন, এতো আপনাদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, আদালতের আদেশ মেনে বিজেএমই বিল্ডিংটি আপনাদের প্রানপ্রিয় সরকার আজো ভাঙ্গেনি কেন? তাদের অনেকে মিউঁমিউঁ করে বলছেন, ইয়ে, এতো টাকার একটি বিল্ডিং ভাঙ্গলে জাতির ক্ষতি হবে। এটি স্রেফ ইয়ার্কি। বিজেএমই বিল্ডিংকে রক্ষা করতে গিয়ে হাতীরঝিল প্রকল্পের পরিবর্তন আনতে যে একশ’ কোটি টাকারও অতিরিক্ত ব্যয় হলো, এটি জাতির টাকা না কি কারো বাপের টাকা? শেখ হাসিনা হাতীরঝিল প্রকল্প উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন, কিন্তু তিনি দেখবেন, বিজেএমই ভবন বলতে কিছু ওখানে নেই, তাইনা? কারন তাঁর মতো আদালতের আদেশ মান্যকারী প্রধানমন্ত্রীতো আর তাঁর শাসনামলে আদালতের আদেশ মান্য করা হয়নি, তা মানতে পারেন না!! তাই বন্ধুগন, বিজেএমই ভবন বলে কিন্তু কিছু নেই। আচানকভাবে ফুস্‌স্‌স হয়ে গেছে!! :mrgreen:

    ১৮
  11. মাহি জামান বলেছেনঃ

    এই ভবনটি রক্ষার জন্য যদি সরকার বাড়তি ১১০ কোটি টাকা খরচ করে থাকে তাহলে অন্ততঃ সেই টাকা বিজিএমইএ থেকে আদায় করা উচিৎ ছিল। সেটি কি করা হয়েছে?

    ১৯
  12. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @প্রিয় মাহি জামান। আপনি ভাবলেন কি করে যে সরকারের এত্ত বড়া গুর্দা হবে যে হাতীরঝিলের অতিরিক্ত ব্যয়ের টাকা বিজেএমই’র কাছ থেকে আদায় করার কথা দুরে থাক, এটাকার আদায়ের কথা তোলারই সাহস হবে?
    ফ্লাড এ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে কি হলো দেখেন নি? শাহ আলম আর নাসরুল হামিদ বিপু এই মাত্র দুজনে মিলে জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রস্তুত সেই প্ল্যানকে শুধু ঠেকিয়েই দেয়নি, ভুমি প্রতিমন্ত্রীর হুঙ্কার গিলিয়ে তার নাকের পানি চোখের পানি এক করে ছেড়ে দিয়েছে! এরা এমনই শক্তিমান। কারন এদের টাকা আমাদের সব নেতা-নেত্রীর পেটের মধ্য বসে কাওয়ালী গায়।

    ২০

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...