ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

কয়েকদিন আগে জামাতের সাবেক আমীর, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সবচাইতে ঘৃন্য ব্যক্তি গোলাম আজমের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত অভিযোগ ‘যথাযথভাবে বিন্যস্ত’ না হওয়ায় ট্রাইবুনাল সেটা ফেরত দিয়ে নতুন করে আবার যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে বলেছেন। আজ দেখলাম আবার একই সমস্যায় আলি আহসান মুজাহিদ এবং কামারুজ্জামানের অভিযোগও ফেরত দিয়ে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

কয়েকদিন আগে গোলাম আজমের ঘটনাটির পর তাঁর আইনজীবী ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাকের দম্ভোক্তি দেখে রাগে ক্ষোভে জ্বলছিলাম। তার বক্তব্যের সারমর্ম মোটামুটি এরকম “গত দুই বছর ধরে কাজ করেও এই ঘটনা হওয়া প্রমান করে এই বিচার শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্যই করা হচ্ছে”। তিনি আইনজীবী, মক্কেলের (তিনি তো গোলাম আজমের ভাবশিষ্যও) পক্ষে বলার মত এমন দারুন একটা সুযোগ পেয়ে তিনি ছাড়বেন কেন?

অভিযোগপত্রটি বাতিল করে নতুনভাবে দিতে বলার পর গোলাম আজমের আইনজীবীর মুখে এমন কথা কি খুব অযৌক্তিক শুনিয়েছে? আমার কাছে না। তার মন্তব্য কতটা যৌক্তিক হয়েছে সেই আলোচনায় যাচ্ছি না; বরং আমার প্রশ্ন, এতো বাজে একটা ভুল করে কেন রাজ্জাককে এই মন্তব্য করার সুযোগ দেয়া হোল? আজ আবার আরো দুই জনের ক্ষেত্রে একই ব্যাপার ঘটলো। আব্দুর রাজ্জাকদের ওসব মন্তব্য করার আরো চমৎকার সুযোগ কি এসে গেলো না?

এখন প্রশ্ন হল, যে কর্মকর্তারা ঐ অভিযোগপত্রটি তৈরী করেছিলেন, তারা কি যোগ্য ছিলেন? যোগ্য হয়ে থাকলে এত হাস্যকর ভুল তারা করলেন কীভাবে? জামাতের কাছ থেকে কোন সুবিধা নিয়ে? আর যদি তারা যোগ্য না হয়ে এমনিই ভুলটা করে থাকেন তবে ওই সব অযোগ্য লোককে ঐ যায়গায় নিয়োগ দেয়া হল কেন? এটা তো তাহলে সরকারের অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের ভয়ঙ্কর ব্যর্থতা।

শুধু এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে আমার লিখার এই শিরোনামের যোউক্তিকতা নিয়ে কেউ কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলবেন। আমি আসলে শুধু এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এই শিরোনাম দেইনি; মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা বেশ কিছু ঘটনা আমার মনে এই সন্দেহ তৈরি করেছে।

ট্রাইবুনালের স্থান নির্বাচন নিয়ে শুরু; শেষে সবার চাপে পড়ে সরকার পুরনো হাইকোর্ট ভবনকে নির্বাচন করে। প্রশ্ন ওঠে তদন্তকারী এবং আইনজীবী প্যানেলের দক্ষতা-যোগ্যতা নিয়ে। এমনকি একজনের বিরুদ্ধে তো জামাতের সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ উঠেছিল। আওয়ামী লীগের এতো দক্ষ-যোগ্য আইনজীবীরা থাকলেও এই ট্রাইবুনালে নিয়োগ দেয়া হয়নি তাদের। কেন? যতোই আমরা এটাকে আমাদের দেশের অভ্যন্তরীন বিষয় বলি না কেন, এই বিচারের দিকে দৃষ্টি সারা পৃথিবীর (আর আমরাও এটাকে কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলছি)। তাই এখানে সবচাইতে দক্ষ আইনজীবীদেরই কি নিয়োগ দেয়ার দরকার ছিল না? আমি আইনজীবী নই, তবে টিভি ক্যামেরার সামনে অন্তত আমাদের ট্রাইবুনালের আইনজীবীদের অভিযুক্তদের আইনজীবীদের তুলনায় অনেক কম আত্মবিশ্বাসী এবং কম বাগ্মী মনে হয়েছে আমার কাছে।

কিছুদিন আগে দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিশাল তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। রিপোর্ট নিয়ে তার আইনজীবীরা প্রশ্ন তোলেন যে রিপোর্টের বিরাট অংশের ছাপা অস্পষ্ট। প্রথমে ভেবেছিলাম ওটা বাজে অভিযোগ, কিন্তু পরে অবাক হয়ে দেখলাম বিচারকরাও এই অভিযোগ আমলে নিয়ে ভাল ছাপার রিপোর্ট দিতে বলেন। অবাক হয়ে ভাবি একটা রাষ্ট্রের ভাল ছাপার মেশিন নেই? জমা দেবার আগে কেউ খেয়াল করলেন না যে লিখা পড়াই যায় না ঠিকমত? এটা কি ছেলেখেলা?

আমার জন্ম স্বাধীনতার বেশ কয়েক বছর পরে। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই গোলাম আজম আর যুদ্ধাপরাদের কথাকে সমার্থক হিসাবে শুনছি। এই প্রধান লোক আজো বাইরে কেন? যদ্দুর খোঁজ খবর নিয়েছি, তাতে জানি এই অপরাধের অকাট্য তথ্য-প্রমান তার বিরুদ্ধেই সবচাইতে বেশী। কিন্তু তারপরও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে ৩ বছর লেগে গেলো? কিছুদিন আগে টিভিতে তার সাক্ষাৎকারে তার সাহসী আর আত্মবিশ্বাসী চেহারা, কন্ঠস্বর দেখে অবাক হয়েছি। এত আত্মবিশ্বাস এরা পায় কোথায়? তবে তারা কি জেনে গেছে যে তাদের কিছু হবে না?

আরেক দিকে ক্ষমতাসীনরাতো দেশের যাবতীয় সব সমস্যার সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর কথা বলে বলে ব্যাপারটাকে একটা কৌতুকে পরিনত করেছে। কিছুদিন আগে এক আড্ডায় একজন মশার উৎপাত বাড়ার কথা বলার সাথে সাথে আরেকজনের চটপটে জবাব “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর জন্য বিএনপি-জামাত মশার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে” – যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে সরকারের ফালতু কথাগুলোই কি মানুষকে এমন মন্তব্য করার ক্ষেত্র তৈরী করে দিচ্ছে না?

কয়েক বছর আগে ডঃ আবুল বারাকাত একটা গবেষণায় দেখিয়েছেন জামাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বাৎসরিক আয় কমপক্ষে ১৪০০ কোটি টাকা। তাদের এই টাকার শক্তি, সাথে মধ্যপ্রাচ্যের টাকা আর শক্তির চাপ সব মিলিয়ে এই বিচারটা একটা প্রহসনে পরিনত হচ্ছে কিনা সেই আশঙ্কা আমার কিছুদিন থেকেই হচ্ছে। কারন এই দেশে টাকায় প্রায় সবাই বিক্রী হয়; রাজনীতিবিদরা একটু বেশীই। তার ওপর আগামী নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকলে বিএনপি যদি নির্বাচন না করে সে ক্ষেত্রে জামাতকে এককভাবে নির্বাচনে আনার কৌশল হিসাবে এই বিচারকে ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে বলে শুনছি।

এই সব কিছু দেখেই আমার বার বারই মনে হচ্ছে সর্ষের ভেতরই ভুত আছে সম্ভবত। আর সেটা যদি থেকেই থাকে তাহলে আমরা, সাধারন মানুষেরা যত আশায়ই বুক বাঁধি না কেন, এই বিচার হবে না। লক্ষন সেরকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে আমার অনুমান-আশংকা যদি ভুল প্রমানিত হয় তবে ভীষন খুশি হব আমি।

গত নির্বাচনের আগে আমার মত অনেক মানুষ আওয়ামী লীগের এই বিচারের কথায় আস্থা রেখেছিল। কিন্তু ইদানিং আমি প্রতারিত বোধ করছি, এবং সেটা সঙ্গত কারনেই। এই বিচারের উদ্যোগ নিয়ে সেটা সফলভাবে শেষ না করে এটাকে প্রহসনে আর রাজনৈতিক খেলায় পরিনতি করা হলে এই বিচার এই দেশের মাটিতে ভবিষ্যতে আর কোনদিন ভালভাবে হবার পথ অনেকটাই রুদ্ধ করে দেবে। এবং সেই ভয়ঙ্কর ব্যাপারটার দায় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটাকেই বয়ে যেতে হবে চিরকাল।

১৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ম, সাহিদ বলেছেনঃ

    জাহেদ ভাই আপনার লেখাটার মন্তব্য করলে একটা লম্বা আলোচনা করা যেতে পারে পক্ষে/বিপক্ষে। তবে না এক কথায় বলতে চাই বিশ্বাস না হরিয়ে আর একটু সময় দেওয়া উচিৎ দেখিনা কোথাকার জল কোথায় গড়ায়। ধন্যবাদ সুন্দর একটি লেখার জন্য।
    বিঃদ্রঃ ফাও কাঠির আগুন আর প্রধানমন্ত্রীর ধৈর্য! শিরোনামে একটা পোষ্ট দিয়েছেলিমা কিন্তু ঐ পোষ্টে আপনার মন্তব্য না পেয়ে ভাবছি কোন কারনে আপনার মনে অজান্তে কোন কষ্ট দিলাম নাতো?

    • জাহেদ-উর-রহমান

      জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

      আরে ভাই, কষ্ট দেবার কথা কী যে বলেন। আমি কিন্তু ভাই খুব খোলা মনের মানুষ। আমি সবসময় চাই আমার লিখার কোন অংশে আপনার আপত্তি থাকলে আপনি সরাসরি মন্তব্যে সেটা বলবেন। আসলে আপনার গত লিখাটা একটু চোখ বোলাতে পেরেছিলাম, ভেবেছিলাম পরে ভালভাবে পড়ে মন্তব্য করবো। কিন্তু এরপর কিছু ব্যক্তিগত ঝামেলায় লিখাটা আর পড়া হয়ে উঠেনি। গতকাল থেকে একটু সময় পাচ্ছি। পড়বো।

      আর এই সরকারকে এই ব্যাপারে মন্তব্য করার জন্য আর সময় দেয়া উচিত কিনা সেই ব্যাপারে আমি সন্দিহান – আমি কিন্তু হতাশ হয়েই পড়ছি ক্রমশ। অনেক ভাল থাকুন।

      ১.১
  2. এনামজাজুল হক বলেছেনঃ

    ভাই আপনার এই লিখাটা আজকের জন্য প্রয়োজন। আমরা মূখে দেশের কথা বলি আর কাজে অন্যটা প্রমাণ করি। আমি বলতে চাই আজকে কোথায় আমাদের বিজ্ঞ আইনজিবীরা। যেদিন তারা হাতে তোলে নিয়েছিলেন অস্র দেশকে স্বাধীন করার জন্য । আজকে কি তাদের সামান্যতমও দায়িত্ব জ্ঞ্যান নেই এই সব রাজাকারদের সুষ্ঠ বিচার কাজ তদারকিতে ? উনাদেরকে শুধু বললে বা কাজে নিয়োগ দিলেই কি উনারা যেতে চাইবেন। দেশের স্বার্থ ে কি আমাদের স্বনামধন্য আইন বিষারদরা এগিয়ে আসবেননা? আবার কি ত্রিশলক্ষ মা বোনের ইজ্জত এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে
    রাজাকারের দল সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে নিবে? সমগ্র জাতীর চাওয়া আজকের এই বিচারের হাল কি ছেলে খেলার মত নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা সরকারের প্রতি আবেদন জানাই সরকার যেন ভালো বিজ্ঞ আইনজিবী দিয়ে এর সু-ফলের ব্যবস্থা তরান্বিত করেন এবং আমাদের চাওয়াটাকে প্রাধান্য দেন।

    ইনামএজাজুল হক
    স্টকহোম
    ২৮-১২-২০১১ইং

    • জাহেদ-উর-রহমান

      জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

      এজাজুল হক ভাই, আইনজীবীদের নিয়ে আপনি যা বলেছেন, সঠিকই বলেছেন। কোটি কোটি টাকা উপার্জনকারী আইনজীবীরা দেশের স্বার্থে কিছু করবেন এই প্রত্যাশা আমি করি না – টাকা ছাড়া আর কোন ব্যাপারে তাঁদের আগ্রহ আছে বলে আমার মনে হয় না। সব মিলিয়েই ভীষন হতাশ বোধ করছি। আর আপনিও বিষয়টা উল্লেখ করেছেন যে এভাবে বিষয়টাকে ছেলেখেলার মতো করে নষ্ট করে ফেলা হলে ভবিষ্যতে এটা আদৌ আর হবে কিনা সেই সন্দেহ আছে ষোলআনা। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।

      ২.১
  3. -নিঝুম মজুমদার বলেছেনঃ

    প্রসিকিউশন অভিযোগ গঠনে ভুল করেছে, এই ব্যাপারটা নিয়ে এত নাটক জামাত কেন করছে? এটা চিন্তার বাট আরেকটা দিকে এটা তো জামাতের অপঃপ্রচারের একটা ভালো জবাব। কেননা এই ঘটনাতেই প্রমাণ হয় যে ট্রাইবুনাল নিরপেক্ষ। আইনজীবিদের এই ভুলের ব্যাপারটা এমন ভাবে ফোকাস করা হচ্ছে যেন কি না কি হয়ে গেলো। ডিফেন্স লইয়ারদের কি ভুল হয় নি? এইতো কয়দিন আগে সাকার আবেদনেই তো ১০ টা ভুল ছিলো, তারপর জামাতের লঈয়ার তাজুলের আবেদনেও ভুলের কথা আমরা দেখেছিলাম। ভুল করেছে এখন ঠক মত সব এনে আবার জমা দিবে। দ্যাটস ইট। এই ব্যাপারকে এত হাইলাইট না করে এটা হাইলাইট করা উচিৎ যে, এতোদিন ট্রাইবুনালের নিরপেক্ষতা নিয়ে জামাত-বিম্পি যে অপঃপ্রচার চালিয়েছে তা মিথ্যা এবং ভুয়া। যদি ট্রাইবুনাল নিরপেক্ষই না হবেন তা হলে তো ভুল কিংবা শুদ্ধ একটা দিলেই ট্রাইবুনাল তা আমলে নিতেন। ঠিক না?

    • জাহেদ-উর-রহমান

      জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

      জনাব মজুমদার, আপনি অন্য লিখার মন্তব্য এখানে কপি-পেষ্ট করে দিলেন! আমার লিখার বিষয়বস্তু শুধু অভিযোগপত্র ফিরিয়ে দেয়া ছিল না, আরো কয়েকটা পয়েন্টকে আমি একসাথে দেখে একটা আশংকার কথা লিখেছি। দেখুন ‘সব ঠিক আছে ঠিক আছে’ বলা কোনদিন কল্যাঙ্কর ব্যাপার হতে পারে না। আমার জ্ঞান-বুদ্ধি-পর্যবেক্ষনের ক্ষমতা মোটেও কম মনে করি না আমি – আমি স্পষ্টভাবেই এখানে অযত্ন-অবহেলা দেখছি যেটা এই বিচার নিয়ে সরকারের আন্তরিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলেই আমার বিশ্বাস। তাই চেয়েছি যুদ্ধাপরাধের বিচারের ভীষনভাবে চাওয়া একজন মানুষ হিসাবে এর ত্রুটিগুলো তুলে ধরতে। আমি মনে করি কোন রোগের চিকিৎসার প্রথম শর্ত হোল সেই রোগ নির্নয়, এবং স্বীকার করা। আমি সেটাই করতে চেয়েছি মাত্র। আর সরকারের কিছু মন্ত্রীর মতো সব ঠিক আছে বলে সরকারের চাটুকারিতা করাই যায়, কিন্তু ‘চোখ বন্ধ করলেই প্রলয় বন্ধ হয় না’।

      আপনার তথ্যপূর্ন লিখাগুলো আমি দারুন পছন্দ করেছি, অনেক টেকনিক্যাল বিষয় জানতে পেরেছি। মানবতাবিরোধী অপরাধের অপরাধী আর জামাতের বিরুদ্ধে আপনার সংগ্রামকে আমি সন্মান করি। ভাল থাকুন।

      ৩.১
  4. প্রবাসী

    প্রবাসী বলেছেনঃ

    আশায় থাকি আর মনে প্রাণে বিশ্বাসও করি এই কুলাঙ্গারদের বিচার হবেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এই বিচারটাকে আওয়ামী সরকার টেনে ভিশন ২০২১ পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

  5. জাদু বলেছেনঃ

    জাহেদ ভাই, আপনার মত আমিও আশংকা করছি এদের বিচার হবেনা। এবং এটাই সত্য। আওয়ামীলীগ ৯৬ এ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতে পেরেছে ২০০৯ এ। তাহলে এদের বিচার এত দ্রুত আশা করা কি ঠিক? তবে আমার শংকিত সেই সব বাক্তিদের নিয়ে যারা সাক্ষ্য দিচ্ছে। আপনার কি মনে হয় সাকা, মুজাহিদ, নিজামি এদের ছেড়ে দেবে। দেশে গোপন এক হত্যাকাণ্ড হয়ে যাবে, টের ও পাবেন না। পত্রিকাতে আসবে না, কারণ আমরা কয়জন সাক্ষীকে চিনি, তাদের প্রতিপত্তি কতটুকু আর তাদের মৃত্যুর খোঁজ কে রাখবে! এই বছর দেশের অর্থনীতি নিয়ে সরকার বাস্ত থাকবে। আর সামনের বছর নির্বাচন। তবে আক্ষেপ হচ্ছে, আমরা এদের বলার সুযোগ করে দিচ্ছি যে তারা যুদ্ধাপরাধী নয়! এই বিচারের পর তারা না আবার মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট চেয়ে বসে! তারা তো সেদিন কাওকে সুযোগ দেয়নি। সেদিন মানবাধিকার সংস্থা গুলো কোথায় ছিল? তবে আমরা তাদের সুযোগ করে দেয়ার জন্য এত অস্থির কেন? সর্ষের মাঝে পুরাই ভুত। আর সরকারী উকিল? ওদের সার্টিফিকেট চেক করা দরকার। মুখের মধ্যে কি দিয়া রাখে কে জানে; কথা বের হয়না। ওরা নাকি আবার বিশেষ ট্রাইবুনালের উকিল! সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে আমার না সবারই মনে হয় সন্দেহ হচ্ছে। তবে ম.সাহিদ ভাই, জল গড়াবে না। আমরা শুধু জলের নাচন দেখবো। তারপর সব শান্ত। যেমন শান্ত হয় সুনামির পর। তবে সুনামিটা বোধয় এই সরকার দেখাতে পারবে না। তাদের দেখতে হবে যদি তারা এভাবেই চলতে থাকে।

    • জাহেদ-উর-রহমান

      জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

      জাদু, কেমন আছেন? আপনি খুব যৌক্তিক আরেকটা আশঙ্কার কথা বললেন – সাক্ষীদের জীবনের হুমকি। আর বিচার নিয়ে আমআদের ধৈর্য ধরার ক্ষেত্রে তো আপত্তি ছিলোনা, আমরা জাষ্ট এটা দেখতে চেয়েছিলাম যে সরকার এই বিচার নিয়ে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে, অন্তত কোন প্রহসন করছে না। কিন্তু আপনি, আমি, আমরা এখন ভালভাবেই খেয়াল করছি যে এটা আসলে প্রহসনেই পরিনত হচ্ছে। আর এর পরিনতি নিয়ে আপনি যথার্থই বলেছেন – আমরা এদের বলার সুযোগ করে দিচ্ছি যে তারা যুদ্ধাপরাধী নয়! এই বিচারের পর তারা না আবার মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট চেয়ে বসে!

      আর এটাও স্পষ্ট যে, এর পরিনতি দেশের জন্য তো বটেই, আওয়ামী লীগের জন্যও খুব খারাপ হবে। ভীষন আশংকায় ভূগি অনেক সময়ই। একটা প্লাটফর্ম তৈরি হবার অপেক্ষা করি যেটায় এই দেশকে সত্যিকারভাবে ভালবাসা মানুষগুলো একত্র হবে – জান দিয়ে খেটে সেটাকে প্রস্তুত করতে রাজি আছি। অনেক ভাল থাকুন।

      ৫.১
  6. ইনামএজাজুল হক বলেছেনঃ

    এখানে কমেন্ট কারী সকল ভাই সহ সমগ্র জাতীর কাছে আমার প্রশ্ন রাজাকারদের বিচার করার মালিক কি শুধু বাংলাদেশ আয়ামীলীগ ? রাজাকার- আলবদর- আলশামসরা যে অত্যাচার অপরাধ করেছিল সেটাকি শুধু বা,আ- গের সাথেই করেছিল না বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সাথে করেছিল ? যদি সাড়ে সাত কোটি মানুষের সাথেই করে থাকে তা হলে এই সরকার যাচ্ছে তাই ভাবে বিচারের নামে কেন এ ভাবে অনবিজ্ঞ দুর্বল উকিলগন দিয়ে মামলাকে নষ্ট করে দেওয়ার পথে এগুতে দিচ্ছেন। আমরা দেশের স্বার্থে প্রবাসে এসে বুঝা কাদে তোলে টাকা রোজগার করে দেশের উন্নতি সাধনে চেষ্টা করছি। নিজে কম খেয়ে দেশে টাকা পাঠাচ্ছি। মা- বাবা ভাই বোনকে দুরে ফেলে এসে এক কঠিন জীবন যাপন করছি দেশের স্বার্থে । সেখানে দেশের বিজ্ঞ আইন বিষারদরা কি দেশের মানুষের স্বার্থে তথা সমগ্র জাতীর স্বার্থে তাদের বিবেককে রাজাকারদের উপযুক্ত শাস্তি পাওয়ার জন্য সামান্যতম কষ্ট করতে পারেন না। এর পরেও যদি বিষেসজ্ঞরা টাকার জন্য জাতীকে এই সাহায্যটুকু না দিতে পারেন তা হলে আমরা প্রবাসীরা মুক্তিযোদ্ধে টাকা চাঁদা তোলে সাহায্য করেছি আজও সে ভাবে সাহায্য করব তবুও এ বিচার যাচ্ছে তাই ভাবে হতে দিব না । অপেক্ষা গত ৪০ বছর ধরে করে আসছি আর কত কাল অপেক্ষা করব। এবার দবী পুরণের পালা। সরকারের কাছে আমাদের দাবী সরকারের অন্যদিকের বাজেটে কাটচিট করে এদিখে সরকার যেন একটু বেশি খেয়াল দেন ।

  7. রাইয়ান বলেছেনঃ

    ভাবছি আশায় গুড়ে বালি হয় কিনা? ভয় হচ্ছে, বিচার ব্যবস্থা নিয়ে, মনে হয় আমাদের কপালে দু:খ আছে, অবস্থা দেখে কোন কথা বের হচ্ছে না। কোথায় যাব, কার কাছে বিচার চাইব?

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...