ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

আজ সংবাদ এবং সংবাদ মাধ্যম নিয়ে লিখতে যাচ্ছি। কারনটা আশা করি বুঝতে পারছেন সবাই। হ্যাঁ, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ড। প্রশ্ন আসতে পারে, ব্লগে তো মোটামুটি নিয়মিতই লিখি, কিন্তু এই ব্যাপারটা নিয়ে ‘গরম’ অবস্থাতেই লিখলাম না কেন? আমি আসলে চেয়েছিলাম ঘটনাটা একটু ‘ঠান্ডা’ হয়ে উঠুক, তারপর লিখি। (‘গরম’/‘ঠান্ডা’ শব্দগুলো আপত্তিকর জানি, তবুও লিখলাম, দুঃখিত; কিন্তু আমি এই শব্দগুলো সাংবাদিকদের কাছেই শুনেছি)।

আমি দেখতে চেয়েছিলাম আমাদের পত্রিকা, টিভি বা ব্লগ এই হত্যাকান্ডের খবর পরিবেশন করতে গিয়ে কেমন আচরন করে। এর মধ্যেই এই মৃত্যুর খবর পরিবেশন করা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোর আচরন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে গেছে। আমি আসলে এই খবর পরিবেশন করার ঘটনায় সাংবাদিক এবং সংবাদ পরিবেশনকারী সংস্থার চরিত্র নিয়ে একটা ভীন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। আর হ্যাঁ, আমি এই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে পুলিশ বা সরকারের আচরন নিয়ে লিখছি না – ওটা নিয়ে অনেক লিখা হয়ে গেছে।

মিডিয়ার আচরন নিয়ে প্রথম বিতর্ক শুরু হয় ওই দম্পতির শিশুসন্তান ‘মেঘ’ এর সাক্ষাৎকার নেয়া নিয়ে। ওই ‘বর্বর’ আচরনের নিন্দা সচেতন অনেক মানুষই করেছে, কিন্তু সেই ‘এক্সক্লুসিভ’ খবর কিন্তু আবার অনেক মানুষ ‘খেয়েছে’ খুব এবং ওই বিশেষ চ্যানেল ওইদিন অন্তত সবার দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। এরপর প্রশ্ন উঠেছে এই হত্যাকান্ডের কারন নিয়ে নানা রকম ‘মনগড়া’ তত্ত্ব পরিবেশন করা নিয়ে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত অনৈতিকতাসহ নানা ‘কাহিনী’ এসেছে কোন রকম তথ্য/সুত্র ছাড়াই। সাংবাদিকরাই, অন্য সাংবাদিকের মৃত্যুতে লিখে গেছেন যা ইচ্ছে তাই। আগে শুনতাম ‘কাক কাকের মাংস খায় না’; কিন্তু এই ঘটনায় দেখা গেল ‘কাক কাকের মাংসও খায়’ (কথ্য প্রবাদে বললাম কথাটা; কোন সাংবাদিক ভাই/বোনকে আহত করে থাকলে দুঃখিত)।

পরিস্থিতি এমন খারাপের দিকে চলে যাচ্ছিল যে সাংবাদিকরা পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েছেন, এসব বন্ধ করতে বলেছেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন (নোয়াব)কেও বিবৃতি দিতে হোল, অনুরোধ করতে হোল। কিন্তু না, থামেনি ওসব; চলছে এখনো এবং কাটতি বাড়িয়ে চলছে ওসব পত্রিকার। আসলে ব্যাপারটার গভীরে না গিয়ে আমরা কেবল বাইরের ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করছি বলে বুঝতে পারছি না যে ওসব আসলে বন্ধ হবার নয়।

আমার ‘সচেতনভাবে’ সংবাদপত্র পাঠের বয়স প্রায় ১৫ বছর। আমি আজ পর্যন্ত যে কোন চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের পর নানা ‘কেচ্ছা’ নিয়ে পত্রিকা সয়লাব হয়ে যেতে দেখেছি। নারী খুন হলে বা খুনের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে সাথে যুক্ত হয় চারিত্রিক অনৈতিকতার কথা। কই তখনতো দেখিনি যে নেতৃস্থানীয় সাংবাদিক বা নোয়াব কোন বিবৃতি দিয়ে ওসব বন্ধ করতে বলছে। কিন্তু এবার তো দেয়া হোল। নিজেদের ‘গোত্র’ বলে? আর নিজের গোত্রের ওপর কেন আজ এসব শুরু হয়েছে সাংবাদিকরা বা নোয়াব কি তলিয়ে দেখতে চেষ্টা করেছেন?

এবার আসি শিরোনামের কথায়। সংবাদের ক্ষেত্রে এই প্রবচনটা বেশ পুরনো। এই একটি প্রবচনই সম্ভবত সবকিছুর ব্যাখ্যা দিয়ে দেয়। প্রবচনটা অনেকেরই জানা আছে নিশ্চয়ই, আর যাদের জানা নেই, তাদের জন্য একটু ব্যাখ্যা – এখানে ‘গুড নিউজ’ কথাটা ব্যাবহার করা হয়েছে সংবাদ পরিবেশনকারী সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে আর ‘ব্যাড নিউজ’ কথাটা ব্যবহার করা হয়েছে বাস্তবের যে কোন খারাপ খবরের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ বাস্তবের খারাপ খবর সংবাদ পরিবেশনকারী সংস্থাগুলোর কাছে ভাল, লোভনীয়। এবং বাস্তবের খবর যত খারাপ, সেটা সংবাদ পরিবেশনকারী সংস্থাগুলোর কাছে ততো ভাল, ততো লোভনীয়।

আমরা মানতে চাই বা না চাই এটা সত্য যে পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে সংবাদ একটা পন্য, যেটা আর সব পন্যের মত বিক্রি হয়, বরং অনেক চমৎকারভাবেই হয়। কারন এর ভাল চাহিদা আছে আমাদের কাছে। অঞ্জন দত্তের একটা গানের ভাষার মত সংবাদ আমাদের ‘সকাল বেলার ক্ষিধে’। আর এই ক্ষিধে আমরা মেটাই খবর ‘খেয়ে’। আর খারাপ সংবাদই (দঃসংবাদ) এই ক্ষিধে মেটায় বেশী ভালভাবে (কিছু ব্যতিক্রম বাদে)। আমার স্পষ্ট মনে আছে তিন বছর আগের বিডিআর বিদ্রোহের সময় কখনো কোন রকম খবর না দেখা মানুষরাও (আমার পরিচিত) খবরের সামনে বসে থেকেছেন টানটান উত্তেজনা নিয়ে।

তাই দারুন লাভজনক ব্যবসা হতে পারে এটাকে ভিত্তি করে। সাথে সাথে কোন গোষ্ঠীর স্বার্থের পক্ষে বা বিপক্ষে সত্য/মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানোর চমৎকার হাতিয়ার পাওয়া যায় তো বটেই। সংবাদের এই চরিত্রের জন্য সেটা বিশাল সব পুঁজি আকর্ষণ করে। উন্নত দেশের কথা কথা বাদই দিলাম, আমাদের দেশেও এটা এখন শত শত কোটি টাকার ইন্ডাস্ট্রি। আমাদের দেশে এই মুহুর্তে সব টিভি চ্যানেল এবং সংবাদপত্র কর্পোরেট পুঁজির (এর মধ্যে ভয়ঙ্কর কুখ্যাত পুঁজিপতিও আছে) দখলে। এতো টাকা (অনেক ক্ষেত্রেই কালো টাকা) লগ্নি করা হয় কি ‘জনসেবা’ করার জন্য? আর প্রতিটি ব্যবসার মত এর ‘প্রফিট ম্যাক্সিমাইজেশন’ এর নীতি থাকবে না কেন? আর সেটা করতে গিয়ে এই মধ্যে নীতি নৈতিকতা থাকবে সেটা আশা করাটা কি ঠিক? সাথে সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে বিখ্যাত হবার, পদোন্নতি পাবার, অসৎ উপার্জনের (অনেকের) ভীষন চেষ্টাতো আছেই। তাই যারা এখানে বেশী নৈতিকতার আশা করেন তারা বাজার এবং পুঁজির এই চরিত্রটি সম্বন্ধে একেবারেই অজ্ঞ।

কেউ কেউ বলতে পারেন আমাদের দেশে এই মুহুর্তে সংবাদমাধ্যমের জন্য সঠিক নীতিমালা নেই বা অনুসরন করা হয় না, বা সাংবাদিকদের যথেষ্ট পেশাগত প্রশিক্ষন নেই এসব কারনে এখন এমন হচ্ছে। না, এগুলো সব ঠিক হয়ে গেলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হবে না। হ্যাঁ এখনকার মত এতো স্থুলভাবে হয়তো হবে না; হবে অনেক সূক্ষ্মভাবে, অনেক ধূর্ততার সাথে। পশ্চিমের দিকে তাকালেই আমরা এটা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবো – শুধু ট্যাবলয়েডই না, সেখানকার মূলধারার অতি বিখ্যাত সব সংবাদপত্র আর নিউজ চ্যানেলের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আছে বেশ জোরালোভাবেই, আছে অনেক তথ্যপ্রমানও।

শেষে এসে মহৎ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিনের কথা মনে পড়ছে। উত্তরের মঙ্গার রিপোর্ট করে বিখ্যাত হয়ে যাওয়া মানুষটির দারুন সব রিপোর্ট ওই অঞ্চলের অনেক সমস্যার সমাধান করেছে, কিন্তু মানুষের দূর্দশাকে ভিত্তি করে তাঁর বিখ্যাত হয়ে যাওয়া তাঁকে মাঝে মাঝেই ভীষন কষ্ট দিত। একবার মঙ্গার এক রিপোর্ট করে একজনের বাসায় ভুরিভজের সময় তাঁর মনে হয়েছিল তিনি মাঙ্গাক্রান্তদের রক্তমাংস খাচ্ছেন। আমি জানি না আজকের কোন সাংবাদিক এভাবে ভাবেন কিনা। তবে আমার মনে হয়, আজকের এই বিশাল পুঁজির সংবাদ সংস্থার যুগে মোনাজাতদ্দিনরা সম্ভবত আর জন্মাবেন না, জন্মালেও টিকে থাকতে পারবেন না; স্বাধীনভাবে, সৎভাবে কাজ করতে পারবেন না। পুঁজি আর নৈতিকতার মধ্যে যুদ্ধে আখেরে পুঁজিই জেতে, নৈতিকতা নয়।

৩৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মোঃ সোলায়মান ইসলাম নিলয় বলেছেনঃ

    জাহেদ ভাই,
    বিষয়টি আলাদা ভাবে তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ, আমাদের সমাজের গুণী সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনরা সংখ্যায় কমে যাচ্ছে। ভালো লেখার প্রত্যাশায়। ভালো থাকবেন।

  2. প্রবাসী

    প্রবাসী বলেছেনঃ

    জাহেদ ভাই, শুভ সকল (বাংলাদেশে এখন যদিও দুপুর, এখানে সবাইকে গুড মর্নিং বলছি তো তাই শুভ সকলই এসে গেল)।
    এমন একটা লেখার অপেক্ষায় ছিলাম আপনার কাছ থেকে আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি খুনের পর থেকেই। কিন্তু আপনি দূরদর্শী তাই অভিযোগটা উত্থাপনের পূর্বেই কারণ ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন।
    অসাধারণ, ভাল লাগলো। আপনার কথাটা “পুঁজি আর নৈতিকতার মধ্যে যুদ্ধে আখেরে পুঁজিই জেতে, নৈতিকতা নয়।” হতাশার হলেও এটাই বাস্তবতা, এটাই সত্যি। কিন্তু আমার কেন যেন শুধুই মনে হচ্ছে কবির সেই প্রশ্নের “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?” কাজে বড় হবে এমন ছেলেদের দেশ পেতে যাচ্ছে খুব শীগ্রই।
    সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।

  3. জাগো বাহে জাগো বলেছেনঃ

    অসাধারণ লেখা ।
    সাংবাদিকতায় নৈতিকতা বিষয়টি যেন ক্রমেই যেন বিলুপ্ত হতে চলছে ।

    আমরা মানতে চাই বা না চাই এটা সত্য যে পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে সংবাদ একটা পন্য, যেটা আর সব পন্যের মত বিক্রি হয়, বরং অনেক চমৎকারভাবেই হয়।

    আপনার এ কথাতেই বর্তমান সাংবাদিকতার পুরো চিত্র ফুটে উঠেছে।
    জাহেদ ভাই, অনেক অনেক ধন্যবাদ লেখাটির জন্য ।

  4. আব্দুল মোনেম বলেছেনঃ

    আমাদের কোথায় যেন একটা সমস্যা থেকে যাচ্ছে। মানুষের মস্তিষ্ক – গঠন ও কাজের দিক থেকে – খুব জটিল। এই ‘জটিলতা’ শব্দের মালা নির্বাচনের মধ্যেও বজায় থাকার কথা ছিল। কোন কথা কেবল ‘সত্য’ হলেই বলে দেয়া যায় না। যে কথা আমার পিতার মুখে মানায়, তা আমার মুখে না-ও মানাতে পারে। যে কথা আমার ছোট ভাই প্রকাশ করলে ভাল হয়, তা আমার নিজের বলে বসা অশোভন হতে পারে। কিছু কথা এমনও আছে যা বলতে পারলে আমি নিরাপদ হই বটে, কিন্তু তারপরও তা বলা যায় না, চুপ থেকে নিজের অসুবিধাটাই মেনে নিতে হয়।

    সংসারে আমি আমার চাচা, চাচী, মামা, মামীদের – যারা পুরোনো দিনের ‘মুখ্যু-সুখ্যু’ মানুষ ছিলেন – মধ্যে যে বিচারশীলতা দেখেছি, এখনকার বিরাট বিরাট সব মানুষের মধ্যেও তা খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ছে।

    রুনি-সাগর দম্পতির নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যবসা ও রাজনীতি বন্ধ হোক।

    এ প্রসঙ্গে এক ডাক্তারের উদাহরণ দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারলাম না, জাহেদ। রোগী ডাক্তারের চিকিৎসা-সামর্থ্যের বাইরে চলে গেল। ডাক্তার হাল ছেড়ে দিয়ে তিন দিনের সময় দিয়ে চলে গেল। তিন দিনের দিন রোগী মারা গেলে ডাক্তারের গর্ব কে দেখে!

    • জাহেদ-উর-রহমান

      জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

      সংসারে আমি আমার চাচা, চাচী, মামা, মামীদের – যারা পুরোনো দিনের ‘মুখ্যু-সুখ্যু’ মানুষ ছিলেন – মধ্যে যে বিচারশীলতা দেখেছি, এখনকার বিরাট বিরাট সব মানুষের মধ্যেও তা খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ছে

      মোনেম ভাই, শুরুর চমৎকার বিশ্লেষনটার পরে আপনার এই উক্তিটা আজকের এই দেশের জন্য যে কতোটা সত্যি! এই এক অদ্ভুত সময়, অদ্ভুত সমাজ! আর শেষে বলা ডাক্তারের ঘটনাটা আরো স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেয় যে, আমাদের ‘পচন’ কতোটা সর্বব্যাপী। অনেক ভাল থাকুন।

      ৪.১
  5. মগজ - ধোলাই বলেছেনঃ

    আগে শুনতাম ‘কাক কাকের মাংস খায় না’; কিন্তু এই ঘটনায় দেখা গেল ‘কাক কাকের মাংসও খায়’ (কথ্য প্রবাদে বললাম কথাটা; কোন সাংবাদিক ভাই/বোনকে আহত করে থাকলে দুঃখিত)।

    কি মিয়া অন্যায়ের প্রতিবাদে এত সৌজন্য কেন !! ওরা সবাইকে এক হাত নিলে ও ওদের কে নিয়ন্ত্রণ করার মত কেহ নাই। অহেতুক নিজেদের মৃত সহকর্মীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওরা নিজেদেরই কলঙ্কিত করল ।

  6. অজানা পথিক বলেছেনঃ

    আপনার কথা গুলো আগের মতই বালা পাইলাম।
    ভালো বলেছেন অনেক।
    সব জায়গায় আমাদের নৈতিকতার বড় খরা দেখা দিয়েছে।
    সব জায়গায় সেটার দরকার খুব।

    ভালো থাকবেন জাহেদ ভাই।
    শুভেচ্ছা- :)

  7. এস এ খান বলেছেনঃ

    খুব ভালো লাগলো আপনার লেখাটি পড়ে । মরহুম সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিনের একমাত্র ছেলের (উনার ছেলে মারা গেছেন বুয়েটে পড়ার সময়) বন্ধু হিসাবে খুব কাছ থেকে উনাকে দেখেছিলাম ।আমি আপনার সংগে সহমত যে, এখনকার দিনের সংবাদিকেরা উনার সমকক্ষ পর্যায়ে মোটেই নেই, আদৌ আসবে কিনা সেই পর্যায়ে তাও প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার । ভালো থাকবেন এবং আরও লিখা আমাদের উপহার দিবেন, এই কামনা করছি ।

  8. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেছেনঃ

    বদলে যাবার স্লোগান নিয়ে ওবামা, হাসিনা, সবাই তো এলো,প্রথম alo ও তো বদলে যাও বদলে দাও স্লোগান দিচ্ছে। কিছু কী বদলাচ্ছে ?সবকিছুই হাস্যকর ভাবে একিই রকম আছে। এটা কী আমরা বুঝছি না ?আসলে এসব দিন বদলের স্লোগান মানুষ খায় আর পত্রিকাওয়ালা বলুন আর পলিটিশিয়ানরা বলুন তারা সবাই এটা বোঝে।

    আপনি কী বাংলাদেশ প্রতিদিন কে বন্ধ করতে পারবেন মাঝখানের পাতা গুলোর অশ্লীলতা থেকে। বা প্রথম আলোর নক্সা বা হাবিজাবি কিছু ছোট ভার্সন থেকে। যেখানে কেবলই ভোগবাদের ছড়াছড়ি আর এমন সব খাদ্য গুণ নিয়ে লিখা থাকে যেগুলো প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। যে গুলো খেতে হলে আপনাকে গুলশন বা বনানী যেতে হবে অথবা যেই টাকা ব্যায় করবেন তাদিয়ে সারা মাসের পুষ্টি কেনা সম্বব। মানুষের মধ্যে না পাওয়ার যে অকঙ্খা গুলো থাকে সেগুলোকে উসস্কে দেয় পেপার গুলো আর মানুষ টা হুরমুর করে kene।

    প্রভার স্ক্যানডাল বলুন আর সামরিনের hottai বলুন বা mimir text mesej guloi বলুন kothe কী কেউ কোনও কিছু meneche। হঠাত্‍ এখন কেন এ কথা আসছে। কই আমরা কজনই বা “সংবাদ” পড়ি বা বজলুর রহমানকে মনে রাখী। ভাল মানুষ রা এভাবেই হারিয়ে যায়।
    জাহিদের সাথে sohomot .ভাল থাকুন।

    • জাহেদ-উর-রহমান

      জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

      মঞ্জুর ভাই, চমৎকার একটা মন্তব্য – যেটা আমার পোষ্টটিকে অনেক পূর্ণতা দিয়েছে। দারুন কিছু তথ্য এবং বিশ্লেষন যুক্ত করেছেন। আমাদেরকে এসব সংবাদ সংস্থার চরিত্র বুঝতে হবে। তবে বিপদের ব্যাপার হোল মিডিয়াগুলো মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে তাদের মত করে তৈরি করে নেয়। তাদের কথাকেই মানুষ বেদবাক্য বলে ধরে নেয়। আমাদের উচিত চারপাশের মানুষদের সাথে এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কথা বলা, তাদেরকে বোঝানো। অনেক ভাল থাকুন।

      ৮.১
  9. ইঁচড়েপাকা বলেছেনঃ

    জাহেদ সাহেব বরাবরই ভালো লিখেন। নতুন করে আর কি বলবো? বরাবরের মতই হৃদয় কাঁপানো একটা লেখা উপহার দিলেন। শুভকামনা রইল।

  10. অজানা পথিক বলেছেনঃ

    হ্যাঁ ভাই, কিছুদিন হল এখানে এলাম।
    মাঝে মাঝে ঘুরতে আসি আর আপনাদের দেখতে আসি।
    এখানে সবাই ভালো লেখক! আমি কি লিখবো!?
    দেখি কি দেয়া যায়। চেষ্টা করবো :)
    দোয়া করবেন।
    শুভেচ্ছা-

    ১০
  11. বিবেক বলেছেনঃ

    জাহেদ-উর-রহমান ভাই
    আপনার বেশ কয়েকটি লেখাই পরেছি আমি, শক্ত লেখনি, কিন্তু এই লেখাই আপনি শুরুতে (‘গরম’/‘ঠান্ডা’ শব্দগুলো আপত্তিকর জানি, তবুও লিখলাম, দুঃখিত; কিন্তু আমি এই শব্দগুলো সাংবাদিকদের কাছেই শুনেছি: কথ্য প্রবাদে বললাম কথাটা; কোন সাংবাদিক ভাই/বোনকে আহত করে থাকলে দুঃখিত) যেভাবে সাংবাদিকদের জন্যে সৌজন্যতা আর বদান্যতার ডালি খুলে দিলেন তা দেখে মনে হলো যেন পরম পূজনীয় আর শ্রদ্ধেয় কারো বিপক্ষে লিখছেন, কিন্তু আপনার লেখাই অষ্টম পেরায় আপনি যে চিত্র তুলে ধরেছেন (যথার্থই)

    “”দারুন লাভজনক ব্যবসা হতে পারে এটাকে ভিত্তি করে। সাথে সাথে কোন গোষ্ঠীর স্বার্থের পক্ষে বা বিপক্ষে সত্য/মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানোর চমৎকার হাতিয়ার পাওয়া যায় তো বটেই। সংবাদের এই চরিত্রের জন্য সেটা বিশাল সব পুঁজি আকর্ষণ করে। উন্নত দেশের কথা কথা বাদই দিলাম, আমাদের দেশেও এটা এখন শত শত কোটি টাকার ইন্ডাস্ট্রি। আমাদের দেশে এই মুহুর্তে সব টিভি চ্যানেল এবং সংবাদপত্র কর্পোরেট পুঁজির (এর মধ্যে ভয়ঙ্কর কুখ্যাত পুঁজিপতিও আছে) দখলে। এতো টাকা (অনেক ক্ষেত্রেই কালো টাকা) লগ্নি করা হয় কি ‘জনসেবা’ করার জন্য? আর প্রতিটি ব্যবসার মত এর ‘প্রফিট ম্যাক্সিমাইজেশন’ এর নীতি থাকবে না কেন? আর সেটা করতে গিয়ে এই মধ্যে নীতি নৈতিকতা থাকবে সেটা আশা করাটা কি ঠিক? সাথে সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে বিখ্যাত হবার, পদোন্নতি পাবার, অসৎ উপার্জনের (অনেকের) ভীষন চেষ্টাতো আছেই। তাই যারা এখানে বেশী নৈতিকতার আশা করেন তারা বাজার এবং পুঁজির এই চরিত্রটি সম্বন্ধে একেবারেই অজ্ঞ।””

    তাতে তারা কি এই রকম বদান্যতা পাবার যোগ্যতা রাখে? নাকি পাছে আবার আপনার লেখা চাপানো বন্ধ হয়ে যাই সেই শঙ্কায় এই সৌজন্যতা? আমি মাঝে মাঝে পুলকিত হই যে ব্লগের মত একটা জিনিস আছে বলে আমাদের মত কিছু নাবালক লেখক কিছু লিখতে পারছি, সালাম ব্লগের প্রবক্তাকে, কেননা লেখার সব কলম আর লেখা সব অধিকার যেন ওই (পরম পূজনীয় আর শ্রদ্ধেয়!!) সাংবাদিকদের, আমরা শুধু তাদের অধিকার হরণ করছি/ সাংবাদিকদের তাদের সহকর্মীর (রুনি, সাগর ) চরিত্র হরণ করে এমন বানোআট, মিথ্যা সংবাদ না ছাপার অনুরোধ ই প্রমান করে যে তারা বানোআট, মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেন/ তাদের কাছে আমার প্রশ্ন তারা কি অন্য সময় এই নৈতিকতা টুকু কি রাখেন যখন আমার আপনার মত সাধারণের কথা লিখেন? তখন কিন্তু তাদের তথাকথিত পেশাগত?? দায়িত্বের কাছে অন্য কারো চরিত্র বা সুনাম কোনো মূল্যই বহন করে না/ আমাদের দেশের সাংবাদিকতার ধরন দেখে মনে হই যেন তারা এমন এক দায়িত্ব পালন করছে যাতে কোনো জবাবদিহিতার প্রয়োজন নেই, তারা সব কিছুর উর্ধে, যখন যা খুশি লিখবে আবার যখন যে কোনো তথ্য গোপন করবে কোনো পুজিবাদের স্বার্থে/ সাংবাদিকতাকে এমন উচ্চতায় দেখানো হয় যে এটা যেন কোনো মহা পবিত্র দায়িত্ব এবং যিনি সাংবাদিক তিনিও কোনো মহামানব (যিনি সব ভুল, মিথ্যা, জবাবদিহিতার উর্ধে )যার জন্য কোনো সাংবাদিক মারা গেলে বা কোথাও বাধা গ্রস্থ হলে খুব শোরগোল শুরু হয়ে যায়, কেউ কখনো জানতেই পারে যে তারা হয়ত কোনো সংবাদের কোনো ঘটনার আড়ালে ঘটনার অনুঘটকের সাথে দরকষাকষি তে বনবনা না হওয়ায় বাধাগ্রস্থ বা যত পাকিয়ে ঘটনা বেফাস হয়ে গেছে/ সাগর রুনির হত্যাকান্ড ও এর অন্তরালের ঘটনাও দেখা যাবে অপ্রকাশিতই থেকে যাবে কোনো মহলের সাথে মিডিয়ার কোনো কোনো অজানা সমযোতার কারণে/
    সাংবাদিকতা ও অন্য আর দশটা পেশার মতই একটা পেশা মাত্র এখানে আলাদ কোনো নীতি নৈতিকতার বালাই নেই, যদি থাকে তা বাক্তি বিশেষের যা কিনা অন্য সব পেশার জন্যই প্রযোজ্য/ একজন beboshayee যেমন তার লাভের জন্য সব কিছু করে, একজন চাকুরীজিবি তার চাকুরীর জন্য কাজ করে তেমনি একজন সাংবাদিক ও তাই ই করে, বরং একজন সাধারণ বেবশায়ী বা চাকুরিজীবির থেকে ও একজন সংবাদীকের তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে অনেক বেশি অনৈতিক কাজ করা সম্ভব/
    প্রথম আলোর “বদলে দাও , বদলে যাও” স্লোগান আর মাদক বিরোধী সেমিনারে মাদক ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রকের মাদকের প্রভাব এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই/ বর্তমানে দেশের/বিশ্বের যেসব সন্ত্রাস নিয়ে আমরা কথা বলি তার চেয়ে বড় সন্ত্রাস হলো মিডিয়া সন্ত্রাস/ এই মিডিয়া সন্ত্রাস দিয়ে একটি দেশের ক্ষমতার বদল সম্ভব, আবার দুই দেশের মাঝে যুদ্ধ বাধানো সম্ভব, তেমনি আমেরিকার পুজিবাদী সার্থসন্গ্স্লিষ্ট কর্মকান্ড কে বৈধতা দেয়া ও সম্ভব/
    সাংবাদিকদের আয় আর ব্যায় ও সম্পদের খতিয়ান দেখলেই অনেক কিছুই বেরিয়ে আসবে, সংবাদ পত্রে সমাজের নানান পেশার লোকের আয় ব্যায় অসঙ্গতি নিয়ে রিপোর্ট হয় কিন্তু কখনো কোনো সাংবাদিক বা পত্রিকার আয় ব্যায় এর হিসাব কি কাউকে চাইতে দেখেছেন ?
    সাগর রুনির হত্যাকান্ড ও এর পরবর্তী ঘটনা আসলে তাদের অপ্রকাশিত চরিত্রের ই বহিপ্রকাশ, যা বাস্তবতার ই নির্মম পরিহাস/

    ১১
    • জাহেদ-উর-রহমান

      জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

      বিবেক, আমার লিখার যে অংশটা নিয়ে আপনি আপত্তি করেছেন আগে একটা মন্তব্যে মগজ-ধোলাই সেই আপত্তি করেছেন। তখনো মনে হয়েছিল, আপনার মন্তব্যের পর আরো ভালভাবে মনে হচ্ছে যে আপনাদের চোখে আপত্তিকর অংশগুলো না থাকাই উচিৎ ছিল। আসলে খুব চাঁচাছোলা কথা বলা আমার নিজেরও অভ্যাস, কিন্তু মাঝে মাঝেই দেখেছি এভাবে বলাটা অনেক ক্ষেত্রে একটা ভাল আলোচনার পথ রুদ্ধ করে দেয়। অনেক সময়ই সেটা ঝগড়াঝাটিতে পরিনত হয়। তাই ভেবেছিলাম ……… তবে স্বীকার করছি ওটা ঠিক হয়নি।

      বিবেক, আমি জানি না আপনি আপনার মন্তব্যে আমার জবাবটা পড়ছেন কিনা। আমার আগের কিছু লিখাতেও আপনি মন্তব্য করেছেন, আমার মনে আছে। অন্যদের লিখায়ও আমি আপনার মন্তব্য পড়েছি। আমি ভেবেছিলাম পরে আবার কোনদিন আমার লিখায় মন্তব্য পেলে আপনাকে একটা অনুরোধ করবো। সেটা হল লিখতে শুরু করার। আপনার আগের মন্তব্যগুলোর মত আজকের মন্তব্যটাও একটা চমৎকার প্রমান আপনার বিশ্লেষণ করার এবং প্রকাশ করার ক্ষমতা কত চমৎকার! আপনার আজকের মন্তব্যের একটা অংশে মনে হল আপনি হয়তো অন্য কোন ব্লগে লিখেন। নাকি লিখা বলতে শুধু মন্তব্য লিখার কথা বলেছেন জানি না। অন্য ব্লগে লিখে থাকলেও অনুরোধ করি এই ব্লগেও লিখতে শুরু করুন। আর যদি কোন ব্লগেই না লিখে থাকেন, তবে খুব দ্রুত রেজিষ্ট্রেশন করে লিখা শুরু করুন। অনেক শুভকামনা আপনার জন্য।

      ১১.১
  12. বিবেক বলেছেনঃ

    জাহেদ-উর-রহমান ভাই
    আমি সবসময় ই চেষ্টা করে রিপ্লাই গুলো পরার, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আপনার পরামর্শের জন্য, উত্সাহ বোধ করছি/ আপনার প্রতি ও শুভকামনা রইলো/

    ১২
    • জাহেদ-উর-রহমান

      জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

      আদেল ভাই, ধরে নিলাম একজন সাংবাদিকের কাছে কোন একটা ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত আছে, কিন্তু সেটা যদি কোন বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠনের বিরুদ্ধে যায় যারা ওই সংবাদপত্রের নিয়মিত বিজ্ঞাপনদাতা? অথবা সংবাদটি মালিকের ব্যবসায়ীক বা রাজনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী? অথবা সংবাদটি তার ব্যবসায়ীক বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পক্ষে যাচ্ছে? তাহলেও কি সেই সংবাদটি আলোর মুখ দেখবেই?

      আমি আসলে এটাই বলতে চেয়েছিলাম যে, পুঁজি আর সব জিনিষের মতোই সব নৈতিকতাকে নষ্ট করে ব্যবসাকেই প্রধান করে তুলবে। তবে আবারো বলছি আপনার চেষ্টাকে আমি শ্রদ্ধা করি, সমর্থন করি। অনেক ভাল থাকুন।

      ১৫.১
  13. মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেছেনঃ

    @ জাহেদ ভাই,
    খেয়াল করেননি হয়তো আমি কিন্তু ব্যাড নিউজ বলিনি বলেছি বেড নিউজ কেননা এইসব নিউজ বেডে বসে লেখা হয়,
    বেডে বসেই পড়া হয়
    আবার বেড থেকেই হারিয়েও যায় ।

    বেশি কাটতি তো তাই :D

    ১৬
  14. akhiuzzamanmanon বলেছেনঃ

    জাহেদ ভাই, আপনার প্রায় প্রততেকটা লেখাই আমার পড়া, দারুন ভক্ত আমি আপনার। আপনার সব লেখা পড়ে আমার সল্প বুদ্ধিতে যেটা বুঝি, আপনি ঘুনে ধরা এই সমাজের পচন ধরা সব সমাজ বেবস্তার বিরুদ্ধে কলম-যুদ্ধ শুরু করেছেন। জাহেদ ভাই, ময়লা নাড়াচাড়া করলে দুর্গন্ধ ছাড়া ভাল কিছু পাওয়া যায় না বলেই আমি জানি, কিন্তু আমাদের সমাজে ঐ কাজটাই বেশি হচেচ , যে কারণে সমাজের ওই কীটগুলো(যারা সমাজটার অবস্থা এতটা খারাপ করেছে ) কিন্তু কোনও কিছুকেই ভয় পায়না, কারণ তারা জানে যারা তাদের বিরুদ্ধে বলছে অথবা লিখছে তারা শুধু মাত্র ঐ দুটি কাজের(বলা এবং লিখা ) ভিতরই সীমাবদ্ধ এবং তারা এও জানে যারা তাদের বিরুদ্ধে বলছে অথবা লিখছে তারা সুন্দর একটি সমাজ তৈরির কোনও দিকনির্দেশনা মানুষদের দেখাতে পারেনি। জাহেদ ভাই, আপনি আপনার সবগুলু লেখাতেই সমাজের অনেক অসংগতির চমত্কার প্রকাশ করেছেন কিন্তু আপনি নিজেও কোনও সমাধান দেখাননি। তবে আপনি বারবার সমাজ এর পচেন এ যারা কাজ করছে তাদের বর্জন এর কথা বলেছেন কিন্তু তাদের বর্জন এর পরে আমরা কিভাবে এই সমাজটাকে নতুন ভাবে সাজাব তার কিন্তু কোনও দিকনির্দেশনা দেননি । আমার মতে আমাদের দেশের মানুষ অনেক ভাল কথা শুনেছে এবার মনে হয় তাদের জন্য কিছু করে এই সমাজ বেবসটাকে নতুন ভাবে সাজানো প্রয়োজন । একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক কিছু লেখার চেষ্টা করলাম (এটাকে লেখা বলে কিনা তাও জানিনা ) ভুল হলে ক্ষমা করবেন ভাইয়া।

    ১৭
    • জাহেদ-উর-রহমান

      জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

      akhiuzzamanmanon ভাই, আপনার মন্তব্যটা আমার ভীষণ ভাল লেগেছে। এটা জন্য না যে আপনি আমার লিখার ভক্ত; এটা আসলে এজন্য যে আপনি চমৎকারভাবে আপনার দৃষ্টিতে আমার লিখার একোটা ‘অপূর্ণতা’ দেখিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এই ব্যাপারে আমার কিছু কথা বলার আছে।

      আপনি ঠিকই পর্যবেক্ষন করেছেন যে আমি শুধু আমাদের রাজনীতি, ব্যবসা, আর সমাজের খারাপ জিনিষগুলোই দেখিয়ে দেবার চেষ্টা করছি। আসুলে কোন অর্থনৈতিক/সামাজিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রধান শর্ত হোল মানুষের মধ্যে সেই তাড়না তৈরি হওয়া। তার জন্য মানুষকে এটা দেখাতে হবে যে, যেই ব্যবস্থায় এই সমাজ, রাষ্ট্র এবং অর্থনীতি চলছে সেটার মধ্যেই গলদ আছে; ওটা দিয়ে কোনভাবেই একটা ‘মানবিক সমাজ’ গড়ে তোলা যাবে না। আমি আপাতত সেই কাজটা করছি। এটাই প্রথম কাজ। এরপরের কাজ হোল কী করলে আমরা একটা কল্যানমুখী রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থা তৈরী করতে পারবো সেটা চিন্তা করা – সেটা নিয়েও লিখবো অবশ্যই।

      তবে আপনি যথার্থ একটা কথা বলেছেন শুধু বলে আর লিখে পরিবর্তন ঘটানো যাবে না। এই বলা আর লিখাকে ওই নোংরা লোকগুলো ভয়ও পায় না। তাই আমি আগে আমার কয়েকটা লিখার মন্তব্যের জবাবে বলেছি – রাস্তায় নেমে মানুষকে সাথে নিয়ে একটা রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলন তৈরি না করা গেলে আখেরে কোনকিছু পাল্টাবে না। লিখালিখিটা সেই পথটা তৈরি করতে কিছুটা সাহায্য করে মাত্র। আর হ্যাঁ আপনাকে এটা বলছি, আমি বেঁচে থাকলে আমার কাজ অবশ্যই লিখলিখিতে সীমাবদ্ধ রাখবো না। আমি শুধু ব্লগার হতে আসিনি, এই সমাজের জন্য কিছু করার সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য আমার আছে।

      আপনার বিশ্লেষনটা চমৎকার হয়েছে। দেখলাম আপনি আজ এই ব্লগে রেজিষ্ট্রেশন করেছেন। লিখতে শুরু করুন, নিয়মিত লিখুন। অনেক শুভকামনা আপনার জন্য।

      ১৭.১
  15. akhiuzzamanmanon বলেছেনঃ

    “রাস্তায় নেমে মানুষকে সাথে নিয়ে একটা রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলন তৈরি না করা গেলে আখেরে কোনকিছু পাল্টাবে না। লিখালিখিটা সেই পথটা তৈরি করতে কিছুটা সাহায্য করে মাত্র। আর হ্যাঁ আপনাকে এটা বলছি, আমি বেঁচে থাকলে আমার কাজ অবশ্যই লিখলিখিতে সীমাবদ্ধ রাখবো না। আমি শুধু ব্লগার হতে আসিনি, এই সমাজের জন্য কিছু করার সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য আমার আছে”
    জাহেদ ভাই,আপনার এই লেখাটুকু পড়ে খুব ভাল লাগছে। আমরা যদি সবাই একসাথে সমাজের ওই কীটগুলুকে সরিয়ে নতুন সুন্দর একটা সমাজ না গড়তে পারি তাহলে তো ওরা আমাদের আরও শোষণ করতেই থাকবে।
    ভাইয়া ,আপনার সেই “কিছু করার” অপেক্ষায় রইলাম।
    আমরা সবাই আছি আপনার সাথে।

    ১৮
    • জাহেদ-উর-রহমান

      জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

      akhiuzzamanmanon ভাই, আমি ব্লগে লিখছি প্রায় ৬ মাস। আগে অনেকে বলতো লিখতে, কিন্তু লিখতে চাইতাম না। মনে হত কী হবে লিখে? কী হয় লিখে? ভাবতাম এদেশের প্রায় সব মানুষ শুধু নিজের ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতি ছাড়া আর কিছু বোঝে না – সমাজের দিকে তাদের তাকানোর ইচ্ছে/সময় কোথায়?

      এখন ব্লগে লিখতে গিয়ে দেখি এদেশের অনেক মানুষ আছে যারা সত্যিকারভাবে দেশের, মানুষের মঙ্গলের কথা ভাবে। তারা একত্রিত হতে পারলেই …… একসময় প্রায় শতভাগ হতাশ ছিলাম পরিবর্তনের ব্যাপারে; কিন্তু এখন কিছুটা হলেও আশার আলো দেখি, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি। অনেক ভাল থাকুন।

      ১৮.১

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...