ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকম পাঁচ বছর ধরে চলছে। ব্লগার কৌশিক আহমেদ-এর “একজন ইমারতের মানবধর্মের ইমারত!” নামক পোস্টটি দিয়ে ব্লগ প্রকাশের যাত্রা শুরু সোমবার ২৭ ডিসেম্বর ২০১০ অপরাহ্ণ ১০:৩৭ থেকে। তারপর থেকে ২ নভেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত মোট ১৫ হাজার ৪৮০টি পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। মাঝখানে উন্নয়ন কাজের নিমিত্ত ১৫ মার্চ ২০১৩ থেকে ২২ জানুয়ারি ২০১৪ পর্যন্ত ৩১৪ দিনের জন্য সাইটটি বন্ধ ছিল। বন্ধের পূর্বে ৮০৯ দিনে মোট ১১,৫০৯টি, গড়ে দৈনিক ১৪.২৩টি পোস্ট প্রকাশিত হয়। বন্ধের পর নতুন রূপ নিয়ে সাইট আবির্ভূত হলে ৬৪৯ দিনে ৩৯৭১টি, গড়ে দৈনিক ৬.১২টি পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ফটো, অডিও ও ভিডিও পোস্টগুলো হিসেবে আনা হয়নি।

দেখা যাচ্ছে, মোটামুটিভাবে, বন্ধের আগে আটশত দিন সাইট সক্রিয় ছিল ও পুনরায় চালু হবার পর এতদিনে ছয়শত দিনেরও বেশী অতিবাহিত হয়েছে। প্রতি একশত দিনের পর্যায়কাল নিয়ে প্রতিটি কালে প্রকাশিত পোস্টের সংখ্যা ও দৈনিক গড়, এবং বন্ধ হবার ঠিক আগের পনের মাসের অনুরূপ উপাত্ত নিচের দুটি ছকে দেয়া হলো।

Statist
.
উপরের ছক দুটিকে গ্রাফ আকারে নিচে প্রকাশ করা হলো।

PostAvg1
.
PostAvg2
.
উপরের উপাত্ত থেকে দেখা যাচ্ছে, শতদিনের হিসেবে দৈনিক গড় পোস্টের সংখ্যা ৬ থেকে সর্বোচ্চ ২২ এ উপনীত হয়েছিল। তবে মার্চ মাসের ১৪ দিনে পোস্ট প্রকাশিত হয় ৬২টি—গড়ে দৈনিক ৪টি মাত্র। বিডিব্লগ কর্তৃপক্ষ এ সময়টিতে সাইট আধুনিকায়নের কাজ হাতে নেয়। তবে পুনরায় চালু হবার পর এই গড় প্রায় ২ থেকে ক্রমেই বেড়ে ৯-এ গিয়ে উপনীত হয়েছে। কিছুদিন আগে কর্তৃপক্ষ সাইটটিকে হালনাগাদ করেছে ও পাতাগুলোতে পরিমার্জন ইত্যাদি করেছে।

নিচে বর্তমান সাইট নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করা হলো। এদের মধ্যকার অধিকাংশই খুব জরুরী কিছু নয়, কিছু সম্বন্ধে হয়তো ব্লগটিমের ভিন্ন মত বা তাদের কাছে বিদ্যমান অবস্থার পক্ষে ভাল কারণ থাকতে পারে, আর কিছু হয়তো সাইটের ফ্যাসিলিটিগুলো সম্বন্ধে আমার সম্যক জ্ঞান না থাকার কারণে উদ্ভূত বলে অযথার্থ। তবে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী হালনাগাদকরণ কালে এসব কাজে আসতে পারে।

১। হোমপেজ কেন্দ্রিকতা: সাইট বেশী হোমপেজ কেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছে। লগইন করতে হলে, এবং এমনকি লগআউট করতে হলেও ব্লগারকে হোমপেজ-এ আসতে হয়—নিজ ব্লগের পাতা থেকেও একাজগুলো করার সুবিধা নেই। তাছাড়া, নতুন পোস্ট লেখা বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট এডিটিং কাজের জন্যও ড্যাশবোর্ডে যেতে হলে হোমপেজ হয়েই যেতে হয়। লগইন ও লগআউট অপশনকে ব্যানারের সার্চ টেক্সটবক্স ও তারিখের লাইনের নিচেও দেয়া যেতে পারে। এতে যেকোনো পেজ থেকেই লগইন করা সম্ভব হবে।

২। স্বাগত সম্ভাষণ: একইভাবে ব্যানারের ডান-নিচের কোনায় একটি ‘স্বাগতম ব্লগার অমুক’রূপী কোনো কথা লগইন করা ব্লগারের জন্য রাখা যেতে পারে। নামের মধ্যে একটি ড্রপডাউন লিস্ট নিহিত রাখা যেতে পারে, ক্লিক করলে বের হওয়া সে-লিস্টটিতে ‘প্রোফাইল’, ‘ড্যাশবোর্ড’, ‘লগআউট’ ইত্যাদির লিংক-আইটেম ঠেসে রাখা যেতে পারে।

৩। ড্যাশবোর্ড: ব্লগারের জন্য ড্যাশবোর্ড-ই হচ্ছে পোস্ট লেখা, সম্পাদনা করা, পোস্টসমূহের ইতিহাস জানার ইন্টারফেস। ‘নতুন পোস্ট লিখুন’, ‘ফটো আপলোড’, ‘অডিও আপলোড, ও ‘ভিডিও আপলোড’ নামক প্রতিটি লিংকই আসলে একই পাতার জন্য, যা হচ্ছে ড্যাশবোর্ড ইন্টারফেসটি। ভবিষ্যতে আলাদা ব্যবহারের জন্য হয়তো লিংকগুলো আপাতত রেখে দেয়া হয়েছে। তবে ব্লগের দুনিয়ায় ‘ড্যাশবোর্ড’ একটি বহুল ব্যবহৃত নাম।

৪। ব্লগ ও ব্লগার সার্চ: ব্লগার সার্চের জন্য টেক্সটবক্সের মধ্যে কি-ওয়ার্ড লিখে এন্টার চাপ দিলে নিচে একটি লিস্ট বের হয়। কিন্তু লিস্টটি একবার বের হবার পর তা বন্ধ করার কোনো ভাল উপায় নেই বলেই মনে হয়। পাতা রিফ্রেশ করলে তা দূর হয় বটে। তাছাড়া সার্চ অপশনটি ঠিক করিৎকর্মাভাবে কাজ করে বলেও মনে হয় না। যেমন, ‘মুনির’ লিখে এন্টার দিলে সব মুনিরকেই (নামের আগে পরে যেখানেই থাকুক না কেন) বের করে আনলেও, ‘অপু’ লিখে সার্চ করলে ‘মোনেম অপু’কে বের করে আনতে পারে না।

SearchBox
.
৫। লেখক যে সব মন্তব্য করেছেন: লেখক নিজের বা অন্যের যেসব পোস্টে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন এটি তার একটি তালিকা। এখানে মন্তব্যকৃত পোস্টের নামের সাথে মন্তব্যকারীর নাম যুক্ত হয়েছে, যেখানে মন্তব্যকারীটি হচ্ছেন স্বয়ং লেখক। এ কলামে মন্তব্য লেখক কে, তা জানা বিষয় এবং সেই একই নাম তালিকার প্রতিটি আইটেমে ব্যবহার করার বিশেষ কোনো অর্থ হয় না। একারণে এখানে, মন্তব্যকৃত পোস্টের নামের সাথে সেই পোস্টটির লেখকের নাম যুক্ত করাই অধিকতর তথ্য প্রদায়ী বা অর্থবহ হবে। অন্য পাঠকেরা এতে বেশী কিছু জানতে পারবেন।

৬। লেখক যে সব মন্তব্য পেয়েছেন: লেখকের পোস্টে অন্য ব্লগারগণ সম্প্রতি যেসব মন্তব্য করেছেন এটি তার তালিকা। এখানে একটি পোস্ট একবার মাত্রই উল্লেখিত হচ্ছে এবং এটাই আমার মতে যুক্তিযুক্ত। কিন্তু দৃশ্যত ও কয়েকটি মন্তব্যের সময় লক্ষ্য করে আমার ধারণা হয়েছে, এটি আদতে লেখকের সর্বশেষ ২০টি পোস্টের তালিকা, যার মধ্যে কেউ না কেউ মন্তব্য করেছেন, এবং সাজানোও হয়েছে মূল পোস্টের কালিক ক্রম অনুসারে—মন্তব্য দেয়ার তারিখ অনুসারে নয়। উল্লেখ্য, এরকম তালিকার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন হচ্ছে দূর অতীতের কোনো পোস্টে নতুন কোনো মন্তব্য পাওয়ার ঘটনা। আবার, বহু মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও, পোস্টের নামের পাশে সর্বশেষ মন্তব্যকারীর নামের বদলে প্রথম মন্তব্যকারীর নামই আসছে। এ রকমটি হয়ে থাকলে, পুরনো পোস্টে সাম্প্রতিক মন্তব্য সম্বন্ধে লেখক জানতে পারছেন না। পুরনো পোস্টে নতুন মন্তব্য সম্বন্ধে লেখক যেন জানতে পারেন, এবং তালিকাটিতে যেন সর্বশেষ মন্তব্যের তারিখের ভিত্তিতে পোস্টের নামগুলো সজ্জিত হয়, তা নিশ্চিত করা দরকার। আমি এটি খুব ভালভাবে পরীক্ষা করে দেখতে পারিনি। ব্লগটিম তা করে দেখতে পারেন।

৭। আপনার পছন্দের পোস্টসমূহ: এখানে ‘আপনার’ পদটির বদলে ‘লেখকের’ পদটি ব্যবহার করলে অন্য লিস্টদুটির নামের সাথে মিল হয়। তাছাড়া সকল পাঠকই যেহেতু একজনের পছন্দের পোস্টগুলোর তালিকা দেখতে পাচ্ছেন (যা দেখতে পাওয়াও সঙ্গত), সেহেতু তাদের চোখের সামনে ‘আপনার’ শব্দটির চেয়ে ‘লেখকের’ শব্দটি মানানসই হয়।

৮। তারিখ-সময়: সকল পোস্ট ও মন্তব্য জমা দেয়ার সময় ও তা প্রকাশের সময় এক হয় না। অনেক সময় পরের পোস্ট-মন্তব্য আগেও প্রকাশিত হয়, যা অস্বাভাবিক নয়, বা অনভিপ্রেতও নয়। কিন্তু জমা (বা সর্বশেষ সম্পাদনা) ও প্রকাশের সময়—দুটোই যদি উল্লেখ করা হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে ভাল ফল পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

৯। অকেজো লিংক: হোমপেজের ব্যানারে থাকা ‘সহায়িকা’, ‘যোগাযোগ’, ‘ব্লগ আর্কাইভ’ এবং ‘ব্লগ সম্বন্ধে’ লিংক চারটি হোমপেজকেই নির্দেশ করে। ভবিষ্যৎ ব্যবহারের জন্য এগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেই ধারণা করা যায়। এজন্য প্রয়োজনীয় পেজগুলো দ্রুত তৈরি করাও দরকার। তাছাড়া একটি ভাল নীতিমালা থাকাও আবশ্যক।

১০। নতুন ব্লগার: একটি পূর্ব-নির্দিষ্ট সংখ্যক নতুন ব্লগারের নামের তালিকাও দেয়া যেতে পারে হোমপেজের ৩য় কলামে সবার নিচে। একই সাথে মোট ব্লগারের সংখ্যা, মোট পোস্টের সংখ্যা, মোট মন্তব্যের সংখ্যা ইত্যাদিও সন্নিবিষ্ট করা যায়। তবে সার্ভারকে ব্যস্ত করে তোলা থেকে রেহায় দেয়ার জন্য এসব তথ্য ‘ব্লগ সম্বন্ধে’ নামক পাতার মধ্যে সন্নিবিষ্ট করা উত্তম হতে পারে।

১১। পোস্ট আর্কাইভ: ব্লগারের পেজের মাঝের কলামে যে পোস্ট আর্কাইভটি রয়েছে তা মাস-ভিত্তিক এবং ফ্ল্যাট। কোনো মাসের উপর ক্লিক করলে সে মাসের পোস্টগুলোকে প্রথম কলামে পাওয়া যায়। কিন্তু আর্কাইভটি ট্রি-আকারে হলে ভাল। সাল, মাস ও পোস্টের নাম দিয়ে তিন লেভেলের ট্রি এখনকার ব্যবস্থার চেয়ে ভাল হবে পাঠকদের জন্য। এতে নাম দেখে একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়াটাও দ্রুততর হবে। অথবা, এজন্য একটি ভিন্ন পাতাও ব্যবহার করা যেতে পারে, প্রদত্ত লিংকে ক্লিক করলে পাতাটি আসবে, যেখানে আর্কাইভ ট্রি-আকারে প্রকাশিত হবে। এতে সার্ভারের ব্যস্ততা কম হবে।

১২। নির্বাচিত পোস্ট: আমি যেভাবে লক্ষ করেছি, নির্বাচিত পোস্টগুলো ‘নির্বাচিত পোস্ট’ ক্যাটেগরি-যুক্ত হয়। কিন্তু পরে যখন নির্বাচিত পোস্টের তালিকায় সেটি আর বিদ্যমান থাকে না, তখন ক্যাটেগরি এন্ট্রিটিও থাকে না। সম্ভবত এই ক্যাট-এন্ট্রি দ্বারাই নির্বাচিত পোস্টগুলোকে সিস্টেম রিট্রিভ করে থাকে। কিন্তু যদি ‘ফিচার পোস্ট আর্কাইভ’ ক্যাটের মতো এসব পোস্টেও ‘নির্বাচিত পোস্ট আর্কাইভ’ নামের ক্যাট স্থায়ীভাবে জুড়ে দেয়া যায় তবে পাঠক পুরনো সব নির্বাচিত পোস্ট একত্রে পেতেন।

১৩। ব্লগার ভিত্তিক সকল মন্তব্য: ভবিষ্যতে ব্লগে আরও একটি সুবিধা সংযোজন করা যেতে পারে। কোনো ব্লগারের সকল মন্তব্য, প্রদানের তারিখ অনুসারে সজ্জিত করে উপস্থাপন করার ব্যবস্থা সন্নিবিষ্ট হলে আগ্রহী পাঠকেরা সেগুলোকে একত্রে দেখতে পারবেন।

সবশেষে একটি সুপারিশ করা হলো। বিডি ব্লগের জন্য একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যার মধ্যে কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিসহ এই ব্লগ-কমিউনিটির প্রতিনিধিরাও থাকবেন। মুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে ব্লগারগণ কমিউনিটির প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এজন্য একটি নীতিমালা প্রস্তুত করা যেতে পারে এবং তাতে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, গঠন, মেয়াদ, কর্মপরিধি, সভা ইত্যাদি বিষয়ে বিধিমালা সন্নিবিষ্ট হবে। উভয় পক্ষের সক্রিয়তায় এই ব্লগ আরও উন্নত অবস্থার দিকে যাবে বলে আশা করা যায়। তবে সেটি যতদিন না হচ্ছে, ততদিন বছরে অন্তত দুটি সভা আয়োজন করা যায়। একটি প্রতিষ্ঠা দিবসে, অন্যটি তার ছয়মাস পর।

[এখানে ব্যবহৃত তথ্য-উপাত্ত ব্লগসাইট থেকে বের করা। যেহেতু তা বের করা হয়েছে, সাইট ঘেঁটে ও হিসাব-নিকাশ করে, তাই সংগ্রহের নিয়মে, তথ্যে-উপাত্তে, সিদ্ধান্তে ভুল থাকতে বা ঘটতে পারে। তবে তা জানতে পারলে সেটি সংশোধন করে নেব।]

n

বিষয়ভিত্তিক বিভাজনসহ ব্লগসূচি