ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

পাশে পেতে চাই প্রিয়জনকে সবাই।একান্তে হলে তো কথাই নেই!! আশেপাশে কেউ থাকলে বিরক্ত লাগতেই পারে এমনই কোনো সময়! কিন্তু বিপদে পড়লে? আশেপাশের কাউকে না কাউকে তো ডাকতেই হয়,উদ্ধার পেতে বিপদ হতে। পাশে এসে দাঁড়াও হে বন্ধু বিপদের সাথী হও!!

“সে যে পাশে এসে বসেছিল
তবু জাগি নি।
কী ঘুম তোরে পেয়েছিল
হতভাগিনী…”

আশেপাশে’র “পাশে” তো বুঝলাম। আশেপাশে’র “আশে” টা তবে কী?

প্রচলিত বাংলা অভিধানে আশেপাশে-র অর্থ – ইতস্ততঃ, চতুর্দিকে। আশ শব্দের অর্থ সংস্কৃত আশ; আশা থেকে আগত এটি আমাদের জানা, কিন্তু আশপাশে বা আশপাশ-এর চালু অর্থে আশ বা আশে-র অর্থ যুক্ত নেই। আশেপাশের অর্থ কেবল “নিকটবর্তী চারিদিক”কেই চিহ্নিত করে।  বর্তমান প্রচলিত অর্থে এই শব্দের প্রকৃত অর্থ প্রায় অধরা। শব্দটির অর্থ ছিল– একটি মানুষকে ঘিরে যা রয়েছে সেই বস্তু ও বিষয়গুলো।

কিন্তু মানুষ কেবল শরীরসম্বল নয়, তাকে ঘিরে থাকা মানে কেবল তার শরীর নয়, মনকেও ঘিরে থাকা।  তাই আশেপাশে শব্দটি তৈরি হয়েছিল এইভাবে–
যাকে শরীর দিয়ে স্পর্শ করা যায়, তা হল পার্শ্বে বা পাশে; আর যাকে আশা করা যায় অর্থাৎ মন দিয়ে স্পর্শ করা যায়, সেগুলি হল আশে। পার্শ্ব শব্দটি স্পর্শ ক্রিয়া থেকে জাত। কিন্তু প্রচলিত অর্থে শব্দটির নতুন পরিচিতি দেওয়ার সময়, “মন দিয়ে যাদের স্পর্শ করা যায়” সেই তালিকাটা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। কেবল তা-ই নয় “শরীর দিয়ে যাদের স্পর্শ করা যায়”, এমন তালিকাও কেটেছেঁটে ছোটো করে দেওয়া হয়েছে।

যেন মহারাজের রাজপোশাক খুলে তাকে পরিয়ে দেওয়া হয়েছে নেংটি।

[কৃতজ্ঞতা– কলিম খান]