ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

বলাই বাহুল্য ‘অতিরিক্ত’ শব্দটির মানে সবাই জানেন। অতিরিক্ত খাটুনিও (Overtime) অজানা নয় কারও। নিম্নের ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন গাড়িচালক গাড়িটাতেই ঘুমোচ্ছে।
একজন সরকারি গাড়িচালক। তার Boss অফিসের কাজে ব্যস্ত(!), জনস্বার্থে (!); তবে অফিস চলাকালীন নয়, রাতে। অফিস চলাকালীন Overtime হয় না।

ড্রাইভারের কিন্তু ক্ষতি নেই এতে, লাভটাই বেশি! ঘুমও হচ্ছে, যত ঘন্টা যাচ্ছে এভাবে তত তার ‘অতিরিক্ত খাটুনি’ হচ্ছে! যত অতিরিক্ত ঘুম তত অতিরিক্ত টাকা! অফিসে এভাবে ছাড়া আরও অনেক কাজে এমন অতিরিক্ত খাটুনি আছে যা প্রকাশযোগ্য নয়। সবাই বুঝে নিন ভাবে সপ্তমী 🙂

প্রসঙ্গক্রমে আরও কিছু না বললেই নয়! এই গাড়ি যাঁর প্রাধিকার, তিনি একজন মধ্যম সারির কর্মকর্তা। (Mid-Level Officer)। তাঁর জন্য বরাদ্দ ১টি সরকারি গাড়ি, ১ জন ড্রাইভার, ১জন একান্ত সহকারী, ২জন অধঃস্তন কর্মচারী একুনে ৪জন। এবার আসি ওই কর্মকর্তার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে খরচের (মাসিক) একটা অানুমানিক(বাস্তব) হিসাব :
নিজের বেতন-ভাতা (কম-বেশি)——-=১,০০,০০০/- টাকা
গাড়িচালকের বেতন-ভাতা (কম-বেশি) =৬০,০০০/- টাকা
গাড়ির ফুয়েল (কম-বেশি)=—————=২০,০০০/- টাকা
একান্ত সহকারীর বেতন-ভাতা (কম-বেশি)=৬০,০০০/- টাকা
অধঃস্তন কর্মচারীর বেতন (কম-বেশি)—–=৬০,০০০/- টাকা।
একুনে =৩,০০,০০০/- টাকা।

এর বাইরে রয়েছে অফিসের আনুষঙ্গিক খরচ। গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ। দেশের সর্বোচ্চ পদধারী কর্মকর্তাদের হিসাবটা আমার জানা নেই।
অন্যান্য দেশে কী পরিমাণ খরচ হয় তাও জানি না।

AK

এবার ‘অতিরিক্ত’-কে দেখি আরেকভাবে!

‘অতি’ মানে অধিক, বেশি … …।
‘রিক্ত’ মানে শূন্য, খালি, গরিব, দারিদ্র্যপীড়িত… …।
অতি যে রিক্ত = অতিরিক্ত।

অর্থাৎ যারা বেশি গরিব বা অত্যন্ত দরিদ্র তারাই ‘অতিরিক্ত’ ! 😛 অতি দরিদ্রদের মধ্যে যে হাহাকার, আকুতি ও আফসোস, ধনীদের মধ্যে এগুলো আরও অনেক বেশি দেখা যায়। যাদের অনেক ধন-সম্পদ আছে, তাদের আচরণ ওই ‘অতিরিক্ত’ মানুষের চেয়েও করুণ! ভিক্ষুকের মতো হাত পাতে এরা সর্বত্র। এজন্য ‘অতিরিক্ত’ শব্দটি ‘অতি রিক্ত’ কথার সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর রবি ঠাকুর এটাকে সমর্থন করেছেন তাঁর কবিতায়:

“এ জগতে হায়, সেই বেশি চায়, আছে যার ভুরি ভুরি
রাজার হস্ত, করে সমস্ত, কাঙালের ধন চুরি।”

সরকারি চাকরিতে কতগুলো পদবী রয়েছে, যেগুলোর আগে ‘অতিরিক্ত’ শব্দটি রয়েছে। যেমন:
‘অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক’
‘অতিরিক্ত মহাপরিচালক’
‘অতিরিক্ত সচিব’
… … ইত্যাদি ইত্যাদি!!

এঁদেরকেও যদি কেউ ‘অতি রিক্ত’ (!) ভাবতে শুরু করেন তো দোষ দেবেন কাকে!!?? অবশ্য এমন অনেক ‘অতিরিক্ত’ রয়েছেন যাঁরা সত্যি সত্যিই ‘অতি রিক্ত’!