ক্যাটেগরিঃ জানা-অজানা

 

১৯৩৯ সালের কথা। বিশ্বরাজনীতি এই ধরার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি টালমাটাল অবস্থায়। সে সময় পুঁচকে ফিনল্যান্ড এবং সোভিয়েতরা জড়িয়ে যায় এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে। রাশিয়ানরা আক্রমণ করে বসে ফিনল্যান্ড। এ যুদ্ধ উইন্টার ওয়ার নামে পরিচিত। প্রচন্ড শীত, তুষারপাতের মধ্যে যুদ্ধ হবার কারণে যুদ্ধের নামের সাথে এই বিশেষণ।

স্থানীয় ফিনিশরা সামরিক ভাবে দুর্বল হলেও তারা নিজেদের মাটিতে যুদ্ধ করছিলো। নিজেদের পরিচিত আবহাওয়া, পরিচিত ভূমিরুপে যুদ্ধ করছিলো তারা। বরফের মাঝে খুব দ্রুত স্কিয়িং করে “হিট এন্ড রান” পদ্ধতিতে তারা রাশিয়ানদের উপর অতর্কিত গেরিলা হামলা করে আবার পালিয়ে যেত। এভাবে তারা দীর্ঘদিন সোভিয়েতদের ঠেকিয়ে রেখেছিলো পুঁচকে একটা দেশ হয়েও।

তো, আজ সে যুদ্ধের একটা গল্প বলব।

ছবি : তীব্র শীতের মাঝে ফিনিশ সৈন্য অবস্থান

সোভিয়েতরা এই তীব্র শীতে যুদ্ধ করার মত প্রস্তুত ছিলো না। তাদের শীতের পোশাক বা গরম খাবারের তীব্র সংকট ছিলো। যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো “সাপ্লাই”। সাপ্লাই বলতে খাবার, যুদ্ধ সরঞ্জাম সরবারহ সব কিছু বোঝায়।

তো, একরাতে গোপনে বনের ভেতর মার্চ করে একটা রাশিয়ান ব্যাটালিয়ন ফিনিশ সাপ্লাই পজিশন দখল করে নিলো। তখন ঐ জায়গায় মূলত মেডিকেল স্টাফ এবং রাধুণীরা ছিলো। সেখানে রান্না হচ্ছিল গরম খাবার। এই গরম খাবার খেয়ে চাংগা হয়ে আবার যুদ্ধে রাশিয়ানদের ঘাম ঝরিয়ে দিতো ফিনিশ সৈন্যরা।

রাশিয়ানদের এই জায়গায় ছিলো মারাত্মক সংকট। তীব্র শীতে গরম খাবারের মত প্রাণ সুধা আর কিছুই হতে পারে না। রাশিয়ানদের আগমনে পালিয়ে গেলো ফিনিশরা।

এদিকে গরম খাবার পেয়ে রাশিয়ান সৈন্যরা নিয়ন্ত্রণ হারালো। সামরিক বাহিনীতে প্রধান শর্ত হলো শৃংখলা। অনেক দিন অভুক্ত, গরম খাবারের স্বাদ না পাওয়া রাশিয়ানরা খাবারের সন্ধান পেয়ে হুলুস্থুল করে, নিয়ম ভেঙ্গে খাওয়া শুরু করলো।

এদিকে কাছেই থাকা ফিনিশ কর্নেল পাজারি, ১০০ জনের মত সৈন্য যোগাড় করে ফেললেন খুব দ্রুত। এই সৈন্য দলে ছিলো ডাক্তা, নার্স, ঝাড়ুদার সহ বিচিত্র পেশার সব মানুষ। তবে তখন তাদের একটাই পরিচয়– তারা সৈন্য। তারা অতর্কিতে পাল্টা আক্রমণ চালালো। রাশিয়ানরা তখন ফিনিশ গরম খাবারের স্বাদ নিতে ব্যস্ত।

অপ্রস্তুত অবস্থায়, কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রাণ হারালো রাশিয়ানরা। প্রায় পুরো ব্যাটালিয়ন অল্প কিছু ক্ষণের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো। পরদিন ভোরের আলো ফোঁটার পর দেখা গেলো রাশিয়ান সৈন্যদের মুখে তখনো ফিনিশ সসেজ। সেতো সসেজ না– যেনো মৃত্যু সুধা।

এরকমই গরম সসেজের জন্য প্রাণ দিয়েছিলো রাশিয়ানরা ।

গরম খাবারের স্বাদ পুরোটা নিতে পারার আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো পুরো একটা রাশিয়ান ব্যাটালিয়ন। খুব অল্প কিছু সৈন্যই ফিরতে পেরেছিলো নিজেদের ক্যাম্পে। এই যুদ্ধ তাই- দ্যা সসেজ ওয়ার নামে পরিচিত। যুদ্ধে কত বিচিত্র কারণে মানুষ হেরে যায়, প্রাণ হারায়। সেবার গরম সসেজের মোহই কেঁড়ে নিলো শত প্রাণ।