ক্যাটেগরিঃ অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড - ব্লগ সংকলন, আইন-শৃংখলা

 
40_Avijit+Roy_Murder_260215_0002

অভিজিৎ হত্যা কে কেন্দ্র করে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে গভীর শঙ্কা নিয়ে লিখছি। যুক্তি ও বাস্তবতা যে আগামীর ছবিটি উপস্থাপন করছে , তা আমার প্রিয় জন্মভূমির ইমেজ এবং আইনের শাসন কে প্রশ্ন বিদ্ধ করবে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক কিন্তু একজন মানুষ সব করবেন তা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি সরকারে ঘাপটি মেরে থাকা মতলববাজেরা সব সময় সত্য চিত্র উপস্থাপন করেন তাও নয় । আমি স্পষ্ট করে বলছি ইতিমধ্যে যথেষ্টর বেশি বিলম্ব হয়ে গেছে, আর এক মুহূর্ত দেরী কেবল সরকারকে নয় দেশ কে এমন এক সংকটে ঠেলে দেবে যেখান থেকে সরকারের জন্য উঠে আসা কঠিন হবে, হারানো ইমেজ উদ্ধারে কতটা সময় লাগবে জানিনা আর এই দুইয়ের মিলিত ফল হবে মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাসী মানুসেরা এক ভয়াবহ অন্ধকারের মুখোমুখি হবেন । আমি প্রতিটি মুক্তচিন্তার মানুষের কাছে, সরকার সমর্থক দের কাছে আবেদন করব, ভালবাসার মানুষ ভুল করলে যেমন সংশোধনের কথা বলি, তেমনি কিছু বিষয় কেবল সমর্থনের কারনে নীরব থাকলে এমন এক আগামীর সম্মুখীন হবেন, একদিন ঘুম ভেঙ্গে দেখবেন- না সরকার, না আপনি কারো পায়ের নীচে মাটি নেই । ভুল ধরিয়ে দেয়া মানে বিরোধী পক্ষে যোগদান নয়। বরং আমি মনে করি আমার বিবেক, শিক্ষা যা সত্য বলে জানে তা প্রকাশের সাহস যদি আমি না রাখি, তবে আমার সমর্থনের কোন মূল্য নেই, এবং আমার সমর্থনে কেউ উপকৃত হবে না । যাই হোক ভুমিকা অনেক হল, কেন উপরের কথাগুলো প্রয়োজন ছিল বলি , আমি মুলত গত কদিন অভিদার সাথে কাটানো সময়গুলি লিখতে চেষ্টা করছি, বুকের ভেতর নোনা জল জমে লিখি, থামি এই চলছে। এর মধ্যে চারটি ঘটনা একযোগে সামনে এলো, আর দুটি ঘটনা লুকায়িত কিন্তু আসবে, সেগুলো বলি –

ক)

১/ ডাঃ রাফিদার বিবৃতি [,২, ]।

২/ ডঃ অজয় রায়ের সাক্ষাৎকার [,] ।

৩/ ডঃ আনোয়ার হোসেনের লেখায় ঘটনার বর্ণনা []।

৪/ পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম ও উপস্থিত এসআই এর বক্তব্য ।

আর দুটি ঘটনা নীরবে এক আগামির ইঙ্গিত দেয়, যা খুব সতর্কতার সাথে মোকাবেলা না করলে পরিনতি খারাপ হতে বাধ্য ,

খ)

১/ ডাঃ রাফিদার চলে যাওয়া ।
২/ এফবিআই কখন মুখ খুলবে এবং কী বলতে পারে তার স্বাভাবিক অনুমান ।

’ক’ অংশটিতে ডাঃ রাফিদার বর্ণনায় জানতে পারি, পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখছিল, এগিয়ে আসেনি। আনোয়ার স্যার উপস্থিত ফটো সাংবাদিকের জবানীতে তার লিখায় বলেছেন, ঐ ফটো সাংবাদিক একটি দ্রুতগামী সি, এন, জি থামিয়েছেন জীবনের ঝুকি নিয়ে, অভিজিৎ কে হাস্পাতালে নিতে। আর ডঃ অজয় রায় সরাসরি অসন্তুষ্টি জানিয়েছেন এবং স্পষ্ট বলেন, ফারাবি নামের এক উম্মাদ কে গ্রেফতার করেছে আর নজর রাখছে ১০/১২ জনের উপর, যদিও এর মানে কি আমি বুঝি না। প্রতিটি তথ্য সুত্র বি ডি নিউজ ২৪ তাই আলাদা উল্লেখ করলাম না । এই তিনটি বিসয় থেকে উঠে আসা প্রশ্ন দেখুন, ঃ

অপরাধ হতেই পারে, পরিকল্পিত হত্যা রহস্য উদঘাটনে সময় লাগতে পারে তাও মানি। কিন্তু আমরা সবাই তো এই ছবিটি দেখেছি রক্তাক্ত বন্যা, পুলিশ দাঁড়ানো, তারপরও সাধারন মানুষ সিএনজি থামাতে হয়? ওখানে পুলিশের টহল গাড়ী ছিল না? দুর্বৃত্ত হামলায় বাদ দিলাম সাধারন দুর্ঘটনার বেলায় আহত কাউকে জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে নেয়া কি পুলিশের দায়িত্ব না যদি সামনে পরে। আমাকে কি একথা বিশ্বাস করতে হবে ঐ এলাকায় একটা টহল গাড়ী ছিল না? উপস্থিত পুলিশের যে ছবি দেখছি বেতার যন্ত্র ছিল না কারো কাছে? ১০০ গজ দূরে চেক পোস্ট সেখান থেকে এসে পুলিশ তৎপর হবার আগে সাধারন মানুষ তৎপর হয় ? ট্রেনিং কার আছে? আসি বন্যার প্রশ্নে , পুলিশ দাড়িয়ে দেখছিল !! এটি ঢালাও অভিযোগ বলে পার পাওয়ার পথ নেই , কেন পরে বলব। কথা হচ্ছে বন্যা অভিযোগ তোলার আগেই কেন এই দায়িত্ব অবহেলার বিষয় গুলো সমাধান হল না ? আজ ডঃ অজয় রায় অসন্তুষ্ট হতেই পারেন , কারন তাকে সামান্য সান্তনা দেয়ার মত কিছু দিয়েছি আমরা? এবার আসি তদন্ত অবহেলার প্রশ্নে ? এ বিষয়ে যুগ্ম কমিশনার মির রেজাউল করিম এর নেতৃত্বে একটি কমিটি হয়েছে। তাদের কাজ বিষয়ে আজ বাংলাদেশ প্রতিদিনে দেখলাম নীলক্ষেত ফাঁড়ির ইনচার্জ,ও ঐ সময় বইমেলার গেটে দায়িত্ব পালন কারী এস, আই ওয়াহিদুজ্জামান বলছেন তাকে এখন ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকেনি ! বুঝতেই পারছেন দায়িত্ব অবহেলার তদন্তে অবহেলা কাকে বলে?

ডঃ আনোয়ার স্যার এর একটি বর্ণনা পরে আমার আত্মা চমকে গেছে! ঐ অঞ্চলটি এমন ভাবে বাঁক নিয়েছে যা নাকি একটি ’ব্লাইন্ড স্পট’ ও অপরাধের সুবিধাজনক স্থান ! শত শত পুলিশ, কিন্তু ঐ ব্লাইন্ড স্পটে ৩ জন পুলিশ না দেয়া তো রীতিমত শাস্তিযোগ্য অযোগ্যতা ! এই একটা কারনেই তো নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা প্রতিটি কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্থ হতে পারেন ।

আমি খুব অভিজ্ঞ নই, কিন্তু ২/৪ দিন কাজ করার ভাগ্য হয়েছিল আইন বিষয়ক মাঠ কর্মে। নিজে মন্তব্য করব না, একটি ঘটনা বলি। ধরুন শোনা ( !) ঘটনা, চট্টগ্রামে দিনের বেলায় দুই মহিলার ছিনতাই হয়, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ঐ দিন সন্ধায় রিপোর্ট আসে, ঘটনার অল্প দূরে পুলিশ ছিল। মন্ত্রী মহোদয় ঊর্ধ্বতন কর্তা কে বিষয়টির ব্যাখ্যা তলব করেন। জবাবে বলা হয়, ছিনতাইকারীরা দুর্ধর্ষ ও বোমা ব্যবহার করে যে কারনে তাদের প্রতিরোধ করায় সমস্যা হয় । উনি কেবল বলেছিলেন ওদের সাসপেন্ড করে সকালে অফিসে জানান । বিষয়টির ব্যাখ্যায় উনি বলেছেন, আমি সৈনিক, যুদ্ধ ক্ষেত্রে আমার প্রার্থনা ছিল মৃত্যু, যে কোন বাহিনী যখন দায়িত্ব রত থাকে তার কাজ হচ্ছে জীবন উৎসর্গ করে দায়িত্ব পালন করা। বড় ধরনের দুর্ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত বিরল কিছু নয়, এর পর তদন্ত হয় নির্দোষ হলে দায়িত্ব ফিরে পাবেন। এটা শাস্তি নয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়া । এবং বাহিনী কে নিয়ন্ত্রনে রাখতে এর বিকল্প নেই বলেও ধরা হয় ।

এবার ‘খ’ প্রসঙ্গে আসি। বলা হচ্ছে ডাঃ রাফিদাকে চিকিসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। আমি আইন ডিগ্রী অর্জনের আগে মেডিক্যাল এ অধ্যয়ন করেছি। আমি জানি তার আঘাতের ধরন অনুযায়ী পর্যাপ্ত চিকিৎসা এদেশেই আছে, খুব তারতম্য হয় না দুই দেশে। তাহলে এই ঝুঁকি পূর্ণ অবস্থায় স্থানান্তর কেন ? কেবল চিকিৎসা ? যদি বলি নিরাপত্তাও অন্যতম কারন। এবং সেক্ষেত্রে আমেরিকান কর্তারা সবাইকে সন্দেহ করবেন এটাই স্বাভাবিক। এবার মুল বিষয়ে আসি, তদন্তের নিয়মে এফবিআই এখন মুখ না খুললেও অবশ্যই মুখ খুলবে । এবং বন্যা, ডঃ অজয় রায়, অন্যান্য রিপোর্ট, লেখা চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে। তারা ঘটনা স্থলের ছবি, খুনিদের পালাবার পথ সব বিবেচনায় নিয়ে যে কোন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মতই প্রশ্ন সাজাবে, যার ভিত্তিতে তারা কেবল খুনিকেই খুঁজবে তা নয়, পুলিশ বাহিনী ও সরকারের মনোভাব ও নির্ধারণ করতে চাইবে। এমন নয় এটি তারা এদেশে বসে করবে, তাদের মতামত তাদের কেন্দ্রীয় দফতর থেকে আসবে। আর সেখানে আমাদের অতি কথনে অভ্যস্ত কর্তাদের কথার ফুলঝুরি কোন প্রভাব ফেলবে না ।

এখন প্রশ্ন হল, যদি অচিরেই খুনি ধরা না পরে, এবং কেবল ধরা পরলেই নয়, বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে মার্কিনীরা প্রতিটি খুঁটিনাটি আতশ কাঁচের নীচে যাচাই করবে। সেক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নির্ধারণ হবে উপরের প্রশ্নগুলির আলোকে।এবং ডাঃ রাফিদার বর্ণনা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পুলিশের উপস্থিতি ও বাধা না দেয়াকে অস্বীকারের কোন পথ রাখবে না, যেটা আগে বলেছি। আশাকরি সবগুলো প্রশ্ন এক করলে ঘাতক দালালেরা যে ভিন্ন ইঙ্গিতটি সত্য প্রমানের চেষ্টা করবে তা না বোঝার কথা নয় । কারন যে কোন সরকারের জন্য বিব্রতকর এমন নির্মম ঘটনার পরও তারা সাথে সাথে প্রশ্ন তুলুছে, এরকম নিরাপদ এলাকায় কারা ঘটাতে পারে এমন ঘটনা? আমি তাদের এই টুকু বলব কোন সরকারের আত্মহত্তার ইচ্ছা ছাড়া এ ধরনের কিছু কি সে করবে? একটু ভাববেন। আবার এও ঠিক যথার্থ পদক্ষেপ গ্রহনের অপারগতা এমন একটি দায় সৃষ্টি করে যা, আন্তর্জাতিক ভাবেই দেশের ইমেজ কে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। সে দায় কি সরকার এড়াতে পারবেন?  র্মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, ডঃ অজয় রায়ের মত আমিও বিশ্বাস করি আপনি আন্তরিক, তদন্তে সময় লাগতেই পারে, কিন্তু যে কাজ গুলো করা যেত সেগুলো কেন করা হল না ? এই প্রশ্ন গুলো এফ, বি, আই কেন্দ্রে উচ্চারিত হলে কি উত্তর দেয়া যাবে? আর আমরা যারা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি ,৭১ এ বিশ্বাস করি তাদের তো কোন বিকল্প নেই, আপনি পরাজিত হলে আমরা কেবল পরাজিতই হব না এমন এক অন্ধকারে নিমজ্জিত হব, জানি না কবে আলোর দেখা পাব ।