ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী দিল্লী গেছেন, আলোচিত হচ্ছে চুক্তি, দাবি বিষয়ে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে তিস্তা নদীর পানির হিস্যা নিয়ে। বাংলাদেশের দাবি তিস্তার পানি প্রবাহ যাতে ঠিক থাকে, শুস্ক মৌসুমে পানি যাতে আসে সেই নিয়ে দেন দরবার হচ্ছে দীর্ঘ দিন যাবত, নানান সমীক্ষা, নানান উপাত্ত নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে অনেক দরকষকষি শেষে ভারত শেষ পর্যন্ত চুক্তি হচ্ছে না বলেই ঘোষিত হয়েছে।

Nilphamari-Teesta--(4)

এই নিয়ে নানান মহলে বেশ আলোচিত হচ্ছে, প্রশ্ন উঠছে কেন বাংলাদেশকে পানি দেওয়া হবে না, ভারত শুধু নেবেই আমাদের কিছু দেবে না। এমন নানান গরম করা খবর। মূলত রাজনীতির কারণে তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না এমন ধারণাই বুঝাতে সক্ষম হয়েছে দিল্লী। মমতা ব্যানার্জির কারণে এমন হচ্ছে বলেই দিল্লী তাদের সততা প্রকাশের চেষ্টা করছেন। বাস্তবিক দিকটা কি এমনই ? আসুন দেখি তিস্তা কি এখন বাংলাদেশ পানি বয়ে আনতে সক্ষম ।

প্রকৃত পক্ষের নদীটির বাংলা নাম তিস্তা যা ‘ত্রি স্রোত’ বা তিন প্রবাহ থেকে এসেছে। হিন্দু পুরাণ আনুসারে এটি দেবী পার্বতীর স্তন থেকে উৎপন্ন হয়েছে। সিকিম হিমালয়ের ৭২০০ মিটার উচ্চতায় চিতামু হ্রদ থেকেই তিস্তার উৎপত্তি। দার্জিলিং এ শিভক গোলা থেকে গিরিসঙ্কট এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের নিলফামারি জেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

সিকিম থেকে উৎপন্ন এই নদী ৪১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নিয়ে তিস্তার বিস্তৃতি এর মধ্যে সিকিম ১৫১ পশ্চিমবঙ্গ ১৪২ ও ১২১ কিলো মিটার বাংলাদেশের উত্তরে জেলা গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত, ৩৫টি উপজেলা ৫৪২৭ টি গ্রাম আর সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষের বসাবাসের স্থলে কৃষির সরাসরি ভূমিকা রয়েছে রয়েছে এই তিস্তা নদীর।

১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বন্টনের ব্যপারে সিদ্ধান্ত হয় যে, বাংলাদেশ ৩৬ শতাংশ ভারত ৩৯ শতাংশ পানি পাবে বাকী পানি সংরক্ষিত হিসেবে রাখা হবে। কিন্তু সঠিক কোন দিক নির্দেশনা না থাকায় মন্ত্রী পর্যায় থেকে আর বেশি দুর গড়ায়নি। ২০০৭ সালে তিস্তার পানি নিয়ে এক যৌথবৈঠক হয়, তাতে দুদেশ সমান সমান ভিত্তিতে ৮০ শতাংশ পানি হিস্যা আর বাকি ২০ শতাংশ সংরক্ষিত রেখে চুক্তির কাছাকাছি গিয়ে শেষ পর্যন্ত আর চুক্তিটা হয়নি ভারতের বিরোধীতার কারণে।

ভারত তিস্তার ৩০০ কিলো প্রবাহের মধ্যেই ১০টি বাঁধ দিয়েছে, সর্বশেষ ভারতের জলপাঁইগুড়ির ‘গজলডোবা’ নামক স্থানে বাধঁ দিয়ে বাংলাদেশে পানি প্রবাহ একেবারেই বন্ধ করার উপক্রম হয়েছে। আমাদের ডালিয়া পয়েন্টে যে পানি আসে তাতে নদীর পথ হিসেবে আর বলা যায় না। এই তথ্য দুই পক্ষের কাছেই আছে অথচ রাজনৈতিক খেলা হিসেবে তিস্তা একটি বিশাল ব্যপার হয়ে গেছে।

ভারত যেহেতু ১০টি বাঁধ দিয়ে তিস্তার পানিকে আটকিয়ে দিয়েছে, সেহেতু এখন বাঁধ ভেঙ্গে ফেললেও তিস্তার আর যৌবন ফিরে আসবে না, প্রযুক্তি আর সভ্যতার কথা বলে তিস্তাকে মেরে ফেলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষই শুস্ক মৌসুমে পানি পায় না, সেখানে আমরা কি করে পানি পাবো? ১০টি বাঁধ নির্মাণে সিকিম এখন বৃহত বিদ্যুৎ উৎপাদক রাজ্য অথচ জীব, জীবনের প্রাচুর্য ভরা এই অঞ্চল পানি শূণ্যতার কারণে জীবন জীবিকা আজ হুমকির মুখে। অথচ রাজনৈতিক ফয়দা নেওয়ার জন্য এই মরা নদী নিয়ে নানান ভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এই থেকে মানুষকে বোঝা উচিৎ তিস্তার প্রকৃত চিত্র, পশ্চিমবঙ্গ ও ইচ্ছা করলে তার স্বাভাবিক বহমানের পানি পাবে না, সেটা সিকিমই আটকিয়ে রেখেছে তাই আমাদের পাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এই সত্যটাকে আমাদের সরকার আমাদের জানাচ্ছে না, ভারত তার রাজনৈতিক দরকষাকষিতে তিস্তাকে এখন বাঁচিয়ে রেখেছে নিজেদের স্বার্থে।