ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

গণতন্ত্রের প্রধান আশ্রয়স্থল জাতীয় সংসদ। দেশের জাতীয় সংসদ বিদ্যমান আছে, আছে আইনপ্রণেতা মাননীয় সংসদ সদস্যও, কিন্তু দেশের মানুষের কাছে এই সংসদ কোন গুরুত্ব বহন করছে না। মানুষের যেমন আগ্রহ নেই তেমনি যারা এই গণতন্ত্রের মহান পদবী লালন করেন তারাও কোন ভূমিকা রাখতে পারছেন না কিংবা রাখছেন না।

আমরা এই নিয়ে দেখছি গত ১৯৯১ সাল থেকে সংসদীয় পদ্ধতির সুবাতাসের আশায় যে সংবিধান সংশোধন করা হলো সেই সংসদে খুব কায়দা করে একে অপরকে অকার্যকর করতে সংসদ বর্জন করেছেন। সেক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ দলীয়ভাবে পদত্যাগও করেছেন। সংসদ হয়ে পড়েছে অকার্যকর, শুধুমাত্র বিরোধীদলকে গালিগালাজ ছাড়া তেমন কোন কাজ থাকে না সংসদ অধিবেশন চলাকালে।

BD-JS

টিআইবি প্রতিবছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তাতে তারা হিসেব করে দেখায় কতক্ষণ কোরাম সংকট ছিল, একটি বিল পাশ হতে কত সময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কত খরচ পড়েছে ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

কিন্তু যে সকল বিষয় দেখা হয়না-

একজন সংসদ সদস্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কতটুকু ভূমিকা রেখেছেন? একজন সংসদ সদস্য তার স্থানীয় সমস্যা নিয়ে কতক্ষণ সময় নিয়েছেন? একজন সংসদ সদস্য জাতির উন্নয়নে কোন প্রস্তাব রেখেছেন? একজন সংসদ সদস্য সংসদীয় কমিটিগুলোতে কতটা ভূমিকা রেখেছেন? একজন সংসদ সদস্য আগামী দিনের জন্য স্থানীয় ও জাতীয় ক্ষেত্রে কোন দিকটা আলোকপাত করেছেন?

এই ক’টি বিষয় সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমাদের সংসদে মূল্যবান সময়গুলো বেশি ব্যয় হয় বিরোধী দলের সমালোচনা করে (গালিগালাজ করে), দ্বিতীয় স্থানে আছে প্রধানমন্ত্রীর গুণগান করে নিজের অবস্থান ঠিক রাখা (স্তুতিবাদ), তৃতীয় বিষয় হচ্ছে (ক্ষুদ্র সময়) স্থানীয় চাওয়া-পাওয়া। তিন ছাড়া মাননীয় সংসদ সদস্যগণ বিল পাশের জন্য হুইপের ইশারায় হাত তুলে ভোট প্রদান।

আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের এমনই হাল। আর মাননীয় সংসদ সদস্যদের যোগ্যতাও একটি বিরাট প্রশ্ন। বেশিরভাগ সংসদ সদস্যগণ সংবিধান বিষয়ে অভিজ্ঞ তা বলা যাবে না। বিশেষ করে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারেন এমন সদস্য হাতেগোনা।

এখন প্রশ্ন জাগে, সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখার মত যোগ্যতা না থাকা লোকদের দলীয় মনোয়ন দিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার টিকেট দেওয়া হয় কেন? কেন কোটি কোটি টাকা খরচ করে সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড় প্রতিযোগিতা দিয়ে থাকে?

বিষয়টি একটু ভাবা দরকার, সংসদীয় গণতন্ত্রের এত কথা বলি কিন্তু চর্চা করি না, এমনটা বেশি দিন চলতে পারবে না, যার ফল আমরা এরই মধ্যে পাচ্ছি, নানান ফাঁক-ফোকর ভরা আইন। যা গণতন্ত্রের জন্যই কেবল হুমকি না, দেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকি।