ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

“বলো ফুলমণি সামান্য গান কতটুকুই বা পারে, চোরকাঁটাও তো হয় না এ গান তোমার পথের ধারে” – ভারতের গুজরাটে তথাকথিত এনকাউন্টারে খুন হয়ে যাওয়া ইসরাত জাহানকে নিয়ে কবীর সুমন গান বেঁধেছেন ‘ফুলমণি ইসরাত‘ নামে, কিন্তু সাথে সাথে অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে গানের শক্তি নিয়ে নিজেই সংশয়ও প্রকাশ করেছেন।

গানের ক্ষমতা নিয়ে আমিও তাঁর সাথে একমত, কিন্তু তবুও ভেতরের ক্ষোভ অনেক সময়ই আমাকে গান বাঁধতে ভেতর থেকে তাগিদ দিয়েছে। এই যেমন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সরকারের একগুঁয়েমি দেখাজনিত ক্ষুব্ধতা থেকে বেরিয়ে এলো “রামপাল থেকে দস্যু হটাও, সুন্দরবন বাঁচাও’ শিরোনামের গানটি –

কোন দাবীর সাথে সংহতি জানানোর নানা পথ আছে, আমরা কেউ গান বাঁধি, কেউ বিশ্লেষণমূলক লিখা লিখি, কেউবা লিখি কবিতা-নাটক, আর অনেকেই এসব কর্মকান্ডকে ফেইসবুকে লাইক-শেয়ার দিয়ে সে সবকে সমর্থন করি। তবে শুধু এসব কাজ আর তার সাথে সংহতি জানিয়ে আমাদের মতো দেশে লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট কিনা এটা তর্কযোগ্য বিষয়। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস আমাদের মতো অবিকশিত, অতি কর্তৃত্বপরায়ণ গণতন্ত্রের দেশে এই ধরণের প্রতিবাদ শাসকগোষ্ঠীর ওপর যথেষ্ট চাপ তৈরি করতে পারে না।

এতে কোন সন্দেহ নেই, গুরুত্বপূর্ন তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে জনমত তৈরিতে ফেইসবুকের দারুণ ভূমিকা আছে। সাম্প্রতিককালে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে ফেইসবুকে মানুষ যতোটা সংহতি প্রকাশ করছে, সেটা অভূতপূর্ব। এই যে মানুষ রামপাল বিষয়ে ফেইসবুকে তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছে, সেটা এই ইস্যুতে জনগণের মতামতের একটা স্পষ্ট প্রতিফলন। একটা সত্যিকার গণতান্ত্রিক দেশ হলে এটাই যথেষ্ট হতো সরকারকে সুন্দরবনবিনাশী এই প্রকল্প থেকে সরিয়ে আনতে।

কিন্তু না, সরকার অনড় তার সিদ্ধান্তে। এ কারণেই সুন্দরবন রক্ষা কমিটি নানা পর্যায়ে মিটিং-মিছিল-সাইকেল র‍্যালি-গান-নাটকসহ নানা রকম রাজপথের আন্দোলনের ডাকও দিয়েছে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, ফেইসবুকে আমরা যতোটা সক্রিয়, তার ছোট ভগ্নাংশও থাকে না রাজপথের আন্দোলনে। এই ক্ষোভ থেকেই কিছুদিন আগে একটা ব্লগ লিখেছিলাম – রামপাল আর আরামে দেশপ্রেম প্রদর্শনীর ইল্যুশন।

image-2830

সার্বিক বিবেচনায় আমি মনে করি, রাজপথের আন্দোলন করেই এই দাবি আদায় করতে হবে, তাই আমি নিজেও সক্রিয় থেকেছি রাজপথের আন্দোলনে। ২৬ নভেম্বর, শনিবার দুপুর ২:৩০ এ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ; সেখানে থাকবেন ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশ থেকে আসা মানুষজন। একটা সফল সমাবেশই পারে সরকারের ওপর চাপ অনেক বেশি বাড়াতে।

ফিরে যাই ‘ফুলমণি ইসরাত’ গানটিতে – ওই গানের শেষের একটা অংশ সুমন তাঁর গানটি নিয়েই বলছেন “সৌখিন হোক তবু এ গান এক ফালি প্রতিরোধ”। আমার গানটাও হয়ে থাকুক সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে ‘একফালি প্রতিরোধ’। এই ‘এক ফালি প্রতিরোধ’ এর ব্রিজ লাইনটা দিয়ে সবাইকে আহ্বান করছি আসুন ২৬ নভেম্বর, শনিবার ‘মাঠে’ থাকি –

“রামপাল থেকে দস্যু হটাও, সুন্দরবন বাঁচাও”

Facebook:  https://www.facebook.com/Ana.nasrin.7