ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

এই উপমহাদেশে “বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা” বলে একটা কথা প্রচলিত আছে। সাধারনত বৃদ্ধরা তরুণী প্রেমিকা কিম্বা তরুনী স্ত্রীর সঙ্গ পছন্দ করেন। এই পছন্দ করাটা নৈতিক মূল্যবোধে চাপা পড়তে পারে আবার অনৈতিক বাসনার ভীমরতিতে পরিনত হতে পারে। আর যে ভীমরতিকে বলা যেতে পারে শুদ্ধ চিন্তার প্রহসন!
হয়তো মাইকেল মধুসূদন দত্ত এ ভীমরতি কাছ থেকে দেখেছিলেন, ব্যথিত হয়েছিলেন এবং ভগ্ন হৃদয় নিয়ে ১৮৬০ সালে লিখেছিলেন, সার্থক প্রহসন “ভগ্ন শিবমন্দির”। যদিও প্রকাশকালে তিনি নাম পরিবর্তন করে রাখেন- ‘বুড়ো শালিখের ঘারে রোঁ’। সে বছরের প্রথমার্ধে তিনি লিখেছিলেন প্রহসন “একেই কি বলে সভ্যতা”?

প্রায় একই সময়ে লেখা তার এ দুটি প্রহসনে ছিলো বিপরীত চিত্র! ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ প্রহসনটি ছিলো নব্য শিক্ষিত নাগরিক যুবকদের নিয়ে আর ‘বুড়ো শালিখের ঘারে রোঁ’ প্রহসনটি ঐ সমাজের বিপরীত পৃষ্ঠার অশিক্ষিত অথচ প্রভাবশালীর বাস্তব গল্প। যেখানে ধর্মে আস্থাশীল বৃদ্ধ ভক্ত, ভক্তি মালা হাতে নিয়ে দান দক্ষিনা দেয় না কিন্তু নারী দেহে লোলুপ হয়ে খাজনা মাফ করে দেয়। জাত-ধর্মের কথা বলে উপদেশ দেয়, আবার সেই কপট, নিষিদ্ধ আকাঙ্ক্ষায় মুসলিম নারীর সান্নিধ্য কামনা করে।

এখন প্রশ্ন হলো, অশিক্ষিত বৃদ্ধ ভক্তের মতো অশিক্ষিতরাই কি বয়সের ভীমরতিতে আক্রান্ত হয় নাকি শিক্ষিত শালিখের ঘাড়েও রোঁ উঠতে পারে?
এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে আমি পড়ছিলাম, ১৮ এপ্রিলের সপ্তাহের পত্রিকা সময় অসময়ের একটি রিপোর্ট। “সর্ব মহলে সমালোচনার ঝড়, প্রভাষক বায়েজিদ বোস্তামি কর্তৃক ছাত্রীকে বিয়ে তালাক নাটক রচনা”, শিরোনামে রিপোর্টটিতে এসেছে- চাটমোহর মহিলা কলেজের ইংরেজির প্রভাষক বায়েজিদ বোস্তামি তার স্ত্রী, কলেজ পড়ুয়া মেয়ে ও স্কুল পড়ুয়া ছেলে ফেলে, মেয়ে বয়সী সাবেক এক ছাত্রীকে জানুয়ারি’১১ -তে গোপনে বিয়ে এবং এপ্রিলে পারিবারিক চাপে ডিভোর্স দিয়েছে!
আমি ভাবছিলাম, অনৈতিক বাসনার ভীমরতি শুধু অশিক্ষিত শালিখ নয় বরং প্রভাষক শালিখের ঘাড়ে রোঁ তুলতে পারে! এবং এই রোঁ’টা যদি তিন মাসের ধরা ছাড়ার নাটক হয় তাহলে একে কোনোভাবেই ‘বৃদ্ধস্য তরুনী ভার্যা’ বলা যাবে না, বরং একে বলতে হবে ‘বৃদ্ধস্য তরুণী বিনোদন’!

যদিও প্রভাষক বায়েজিদ বোস্তামির এই তরুণী বিনোদন সমাজের জন্য মুখরোচক সুখপাঠ্যেরো অযোগ্য……মূল্যবোধের কি চমৎকার পরাজয়! নীতি-নৈতিকতার আশ্চর্য প্রহসন! পিতৃসম শিক্ষক যেখানে প্রেমিক পুরুষ! মহান পেশায় নিয়োজিত স্বামী কিম্বা পিতা যেখানে প্রতারক! প্রতিকূলতা জয় করে বিয়ে অতঃপর তালাকদাতা সে তো কপট দুরাচারী!

কিন্তু এতো কিছুর পরও মি. বোস্তামির যে গুন ও দোষটা আমাকে বিশেষভাবে ভাবাচ্ছে- তিনি একজন বনসাই শিল্পী। কোন এক বৃক্ষমেলায় আমি তার বনসাই দেখেছিলাম এবং মুগ্ধ হয়েছিলাম। হয়তো তার এই বিশেষ গুনেই মুগ্ধ হয়েছিলো তার সেই ছাত্রীটিও! চাটমোহরের বাস্তবতায় এ শৌখিনতাটি এক অনন্য আভিজাত্য। সম্ভবত এ শৌখিনতাটি তাকে প্রভাবিত করেছে!!! এবং তিনি কোন নির্দিষ্ট গাছের পাশাপাশি বনসাইয়ের মতো ছোট করে ফেলেছেন, তার চিন্তা-চেতনা-মূল্যবোধ। বনসাই করে ফেলেছেন, তার দায়বদ্ধতা-কৃতজ্ঞতা-দায়িত্বশীলতা। সংকীর্ণ করে ফেলেছেন শিক্ষা ও শিক্ষকতা।

তবে আমি শংকিত, হয়তো এ বনসাই প্রক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে চাটমোহর মহিলা কলেজ! কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। আর কিছুদিন পর রেজাল্ট পরবর্তী উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির জন্য, এমন ঘটনার পর শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা স্বভাবতই মহিলা কলেজের বিষয়ে আগ্রহী হবে না তখন ভাবমূর্তি সংকটের পাশাপাশি কলেজ পড়বে ছাত্রী সংকটে!

তাই এই মুহূর্তে কোন বনসাই নয় বরং বিকাশিত করতে হবে চিন্তা ও মূল্যবোধ। কারন চাটমোহরের একমাত্র মহিলা বিদ্যাপিঠ(উচ্চ) কোন ভগ্ন কলেজে পরিনত হতে পারে না!

২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...