ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

আমি কোন জমিদারকে দেখতে পারিনা! সত্যি বলতে- সবার জমিদার বাড়ি নিয়ে আগ্রহ থাকলেও আমি কখনো কোন জমিদার বাড়ি দেখতে যাইনি! আমার কাছে মনে হয়- জমিদার বাড়ি সে যত আলিশানই হোক, এর প্রতিটি ইটের সাথে মিশে আছে প্রজাদের নির্যাতনের ইতিহাস। প্রজাদের রক্ত শুষে যে জমিদারি এবং জমিদার বাড়ি, তা আমার চিন্তাতে সব সময় সন্মানের জায়গায় উপেক্ষিত হয়েছে…।

ছোটবেলায় দাদার কাছে গল্প শুনেছি- জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে কেউ যেতে পারতো না চটি পরে, ছাতা মাথায় দিয়ে! যাদের খাজনায় টিকতো জমিদারি, তাদের ওপরই চাপানো হতো অহমিকার বাড়াবাড়ি। তারপর অনেক যুগ পার হয়ে গেছে, জমিদারি প্রথা বিলোপ হয়েছে, বৃটিশ রাজ থেকে পাকিস্তান হয়ে আমরা এখন স্বাধীন দেশের নাগরিক, যুগটাও আধুনিক। কিন্তু গতকাল প্রথম আলো পড়তে গিয়ে আমি সন্দিহান হয়ে পড়েছি! এ কোন সমাজে আমরা বসবাস করছি? এ কি আধুনিক সমাজ নাকি আধুনিকতার অপলাপ? জমিদারি প্রথা বিলোপ হয়েছে কিন্তু সমাজে সামন্তপ্রভুর মানসিকতা রয়ে গেছে!
দলিত সম্প্রদায়ের প্রতি গণশুনানিতে উঠে এসেছে খুলনার ফুলতলা বাজারের ফুলমতি বাঁশফোরের করুণ কথা- দোকানে খেতে গেলে নিজেদের খাবার পাত্র নিয়ে যেতে হয়। দোকানের পাত্রে তাঁদের খাওয়া নিষেধ। তাঁদের শিশুরা স্কুলে গেলে অপমান করা হয়। পেছনের বেঞ্চে বসতে বলা হয়। স্কুলের সামনে অন্য শিশুরা চটপটি কিনে খায়। কেবল তাদের শিশুদের খেতে দেওয়া হয় না। মানুষ অবহেলার চোখে দেখে। সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে ডাকে না। এলাকার পুকুরঘাট ব্যবহার করলে তাঁদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এতটুকু যখন বিবেক স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছিলো, তখনই বিবেকের দরজায় শক্ত কড়াটা নাড়েন ফুলমতি বাঁশফোর। অভিযোগের সুরে তিনি বলেন- আপনারা সাহেব হবেন আর আমরা হবো সুইপার?
হুম, এটাই আসল বাস্তবতা, ওদেরকে সুইপার বানিয়ে অন্যদের সাহেব হবার প্রতিযোগিতা! তুমি যত বড় বিদ্যান হও? যতবড় চাকুরে কিংবা ব্যবসায়ী হও? তুমি এ সমাজের অংশ, তুমি এ সাহেব হবার প্রতিযোগীতার এক চরিত্র! হায় সমাজ, এতদিন আমি জমিদার বাড়ি ঘৃনা করেছি। আজ থেকে আমি ঘৃনা করি তোমার জমিদারি। যে জমিদারিতে বিবেকবোধের দম বন্ধ হয়ে আসে…।