ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

চলছে শোকাবহ আগস্ট মাস। যে মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে ঘাতকেরা। যে হত্যাকাণ্ড জাতির ললাটে এক চিরস্থায়ী কলঙ্ক তিলক। স্বাধীনতার মহানায়কের হত্যার দায় এ জাতি কখনো মুছতে পারবেনা এটা যেমন সত্যি, আবার এটাও সত্যি যে কিছু বিপথগামী মানুষের দায়ে পুরো জাতিকে অপরাধী করা ঠিক নয়। এদেশের মানুষেরা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে, তার ডাকে সশস্ত্র সংগ্রামের পথে নেমেছে। এখনো আগস্টে তার শোকে শোকার্ত হয় তারা।

SheikhMujiburRehman

আমরা সবসময় একটি কথা বলি- শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে।প্রশ্ন আসতে পারে- বঙ্গবন্ধুকে হারানোর অপূরণীয় শোককে আমরা কিভাবে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারি? উত্তর- বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর জন্য মানুষের ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়ে দেশে পরিবর্তনের জন্য কাজ করে।

উদাহরণ হিসাবে বলা যায়- শোকাবহ আগস্টে ক্ষমতাশীন দল এবং দেশের সবচেয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মাসব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যে কর্মসূচি রাজধানী ঢাকা থেকে একেবারে ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত। মাসব্যাপী সংগঠিত এ তৎপরতা কিছু গতানুগতিক আয়োজনে শেষ হয়, যেমন- আলোচনাসভা, দোয়া মাহফিল, কাঙ্গালিভোজ, চিত্রাঙ্কন বা রচনা প্রতিযোগিতা। এসব আয়োজনে শুধু বঙ্গবন্ধুর জন্য শোক প্রকাশ পাচ্ছে কিন্তু শোককে শক্তিতে রুপান্তরের প্রয়াস পাচ্ছে খুবই সীমিত।

প্রশ্ন আসতে পারে- তাহলে কী করা যেতে পারে?

চলছে বর্ষাকাল। গাছ লাগানোর এখনই সেরা সময়। এ শোকাবহ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর নামে গাছ লাগানো কর্মসূচি নেয়া যেতে পারে। এদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলিম, ধর্মের প্রতি রয়েছে তাদের অগাধ বিশ্বাস। ইসলাম ধর্মে গাছ লাগানোকে সওয়াবের কাজ হিসেবে বলা হয়েছে। গাছ লাগানোকে বলা হয়েছে সাদকায়ে জারিয়া। অর্থাৎ গাছ লাগানোর সওয়াব মৃত্যুর পরেও পাওয়া যাবে।

তাই এ শোকাবহ আগস্টে বঙ্গবন্ধু ও উনার পরিবারের জন্য শোক পালন কর্মসূচিতে দোয়ার পাশাপাশি যদি বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি নেয়া যায় তবে সেটা সাদকায়ে জারিয়ার অংশ হবে। এটা শত-সহস্র মানুষের দোয়ার চেয়েও উত্তম দোয়া হবে।

একটি তথ্য দেই- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুই এদেশে প্রথম বৃক্ষরোপন কর্মসূচির সূচনা করেন। তার এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে স্মরণ করা এবং ধর্মমত অনুযায়ী উত্তম প্রতিদানের কর্ম করার পাশাপাশি দেশের বনায়ন বৃদ্ধিতেও এটা ভালো ভূমিকা রাখবে।

একবার ভেবে দেখুন- দেশে ইউনিয়নের সংখ্যা ৪৫৫০ টি, গড়ে প্রতি ইউনিয়নে ১০ টি ওয়ার্ড ধরলে মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৪৫৫০০। এছাড়াও রয়েছে ৩২৬ পৌরসভা, গড়ে ১০ টি ওয়ার্ড ধরলে ওয়ার্ড সংখ্যা ৩২৬০। সিটি করর্পোরেশনের ওয়ার্ড ধরলে সব মিলেয়ে বাংলাদেশে ওয়ার্ড রয়েছে প্রায় ৫০০০০।

একবার ভেবে দেখুন, শোকাবহ আগস্টের কর্মসূচিতে সাদকায়ে জারিয়া হিসাবে বঙ্গবন্ধুর নামে যদি প্রতি ওয়ার্ডে ১০০ টি গাছ লাগানো হয়। তবে এক বছরে শুধু আগস্ট মাসেই লাগানো সম্ভব হবে ৫০,০০০০০ গাছ! রাজনীতিকে জনমুখি করা এবং জনকল্যাণের পথে নেয়ার এর চেয়ে ভালো উদ্যোগ আর কি হতে পারে?

তাই, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি আহবান জানাই- শোকাবহ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি নিন।  এতে দেশের বনায়নে ভূমিকাও রাখা হবে। এতে বঙ্গবন্ধু হত্যার শোক শক্তি হয়ে কেবল মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যাবে না, বরঞ্চ ছড়িয়ে যাবে এ বাংলার বাতাসে প্রতি অণু-অক্সিজেনে।