ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

প্রত্যেক কালে, যুগে ক্ষমতাশীন সভায় ভাঁড়ের দেখা পাওয়া যায়!!! যারা তাদের চাটুকারিতা আর ভাঁড়ামি দিয়ে হাস্যরসের জন্ম দেন! নিজেরা হাসেন, অন্যদেরও হাসান। বিনিময়ে মেলে এনাম, আর রাজ্যসভা পায় হাসির উপলক্ষ্য।

আমরা পড়েছি, সম্রাট আকবরের নবরত্ন সভার রত্ন বীরবল, যিনি তাৎক্ষনিক রসিক জবাব দিতেন। রসিক বীরবল যদি একটু গম্ভির হতেন তাহলে হয়তো তার বুদ্ধিমত্তার জন্য ইতিহাস তাকে বুদ্ধিবিশারদ হিসাবে পরিচিত করতো! তবে হাস্যরসে মেধার ছাপ রাখা বীরবল ভাঁড় হিসাবেই পরিচিত।

আমরা পড়েছি, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভার গোপাল-ভাঁড়, যিনি জীবনে অসংগতি পাগলামো, পরিমিতিবোধের অভাব, রঙ্গরসিকতায় তুলে ধরতেন। হাস্যরসের মাধ্যমে যিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করতেন। কিন্তু বাহ্য হাস্যরস বুদ্ধিমান গোপালকে বুদ্ধিজীবি না করে ভাঁড় হিসাবে পরিচিত করেছে।

লক্ষ্যনীয়, এসব ভাঁড়দের কথায় হাস্যরস সৃষ্টি হতো, কিন্তু তাদের কথায় মেধার ছাপ ছিলো, পরিস্থিতির নির্মোহ মূল্যায়ন ছিলো।

আধুনিক যুগেও ক্ষমতাশীন সভায় আমরা ভাঁড়দের দেখতে পাই! কিন্তু এসব মেধাহীন ভাঁড়দের কথায় হাস্যরস যাও বা পাওয়া যায় কিন্তু সারবেত্তা খুঁজে পাওয়া যায় না!

গত চারদলীয় জোট সরকারের সময় আমরা দেখেছি, স্পাইক চুলের এক স্পাইসি বাংলিশ ভাঁড়! যার ইংলিশের ভাঁড়ামো শুনে গোপাল ভাঁড়ও হেসে খুন হতেন নিশ্চই!! সে সময়ই আমরা দেখেছিলাম, হাস্যরস বাদ দিয়ে আল্লার মালের করুন রসের ভাঁড়ামি!!!

এরপর দিনবদলের কথা বলে যখন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসলো, সবাই আশা করেছিলো, অন্তত ভাঁড়ামিতেও আমরা বদল দেখতে পাবো, হাস্যরসের পাশাপাশি খুঁজে পারো সারবেত্তা! কিন্তু হায়!!! শেয়ার বাজারে পুজিঁ হারানো, রাজপথে জীবন হারানো, দ্রব্যমূল্য সঞ্চয় হারানো, চিরদূঃখী এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে তামাশা করার জন্য ভাঁড় বদল হলেও ভাঁড়ামি বদল হয়নি!!! সম্ভবত হবেও না!!!
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, ভাঁড় বদলের পালায় এখন ভাঁড় কে? কিম্বা বর্তমান ক্ষমতাশীন সভার প্রধান ভাঁড় কে?

আপনার উত্তর যদি হয়- হাস্যজ্জল কার্টুন সৈয়দ আবুল, তাহলে বলবো দূঃখিত পাঠক, চেহারা দেখে সবকিছু মূল্যায়ন করা ঠিক নয়! বরং উত্তরটা হবে সৈয়দ আশরাফ!! অব্যাহত ভাঁড়ামিতে যিনি হাস্যরস ও করুনরস সৃষ্টি করে যাচ্ছেন!

৩ ডিসেম্বর যিনি ভাঁড়ামিতে গুপ্তরস এনে বলেছিলেন- ব্লগ এখন অনেকটা পর্নোগ্রাফিতে পরিণত হয়েছে!

২১ জানুয়ারী তিনি সীমান্তে হত্যা আর নির্যাতনে চিন্তাহীন তামাশায় বলেছিলেন- সীমান্তে যা কিছু ঘটছে তা নিয়ে রাষ্ট্র চিন্তিত নয়। সব কাজ ফেলে রেখে শুধু এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলেও সরকার মনে করে না। এসব অতীতে ঘটেছে, এখনো ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে। এগুলো নিয়ে রাষ্ট্র খুব বেশি চিন্তিত নয়।

আর ২ ফেব্রুয়ারিতে তিনি অবহেলা, অদক্ষতা আর বিনা পরীক্ষায় লাইসেন্স দেবার চাটুকারিতার বললেন- সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে প্রতিবাদ জানানোর কিছু নেই!
সৈয়দ আশরাফের এ ভাঁড়ামিতে তার কোন এনাম মিলছে কিনা জানিনা! শুধু অনুভব করি, যারা স্বজন হারিয়েছে বিএসএফের গুলিতে কিম্বা ঘাতকের বেপরোয়া গাড়িতে, এসব ভাঁড়ামো তাদের হাসির উপলক্ষ্য দেয় না, দেয় হৃদয়ে রক্তক্ষরনের উপলক্ষ্য। তাইতো, সরকারদলীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, যিনি দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন তার আদরের ভাতিজাকে, তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তার মনের বেদনার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, প্রতিবাদ করে বলেছেন-

আজকে সংসদে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলা হয়েছে সেটা খুবই দুঃখজনক। এই বক্তব্যের বিষয়ে আমার মনের বেদনার অনুভূতি প্রকাশ করতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়েছি। ‘সব সড়ক দুঘর্টনা নিছক দুর্ঘটনা নয়। অবহেলা, অদক্ষতা ও ইচ্ছকৃতভাবে যে ঘটনা ঘটে সেটা নিছক দুর্ঘটনা নয়। এটা মর্মন্তুদ বিষয়।’ ৩০৪ (ক) মতে যে দুর্ঘটনা এড়ানো যায় তাকে নিছক দুঘর্টনা বলা যায় না। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর দুঘর্টনা এড়ানো যায় না, ঘটে যায় তাকে দুঘর্টনা বলা যায়।

আমি জানি, তারানা হালিমের মতো স্বজন হারানোদের বেদনা কোন ভাঁড়কে স্পর্শ করবে না! তারা অপরিমিতিবোধের রঙ্গরসিকতায় বলেই যাবে- “অ্যাকসিডেন্ট ইজ অ্যাকসিডেন্ট! বাচ্চো লোগ তালিয়া বাজাও! আল্লার মাল আল্লাই নিয়ে যাবে!


৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...