ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতি, চলচিত্র রাজনীতি! চলচিত্রের মতোই ক্রাইসিস, ক্লাইমেক্স, অ্যাকশন, ভায়োলেন্স ভরপুর! চলচিত্রে যেমন ভিলেনের গুলিতে নিহত হয় আদর্শ বাবা কিম্বা ন্যায়পরায়ন স্বামী! আমাদের রাজনীতিতেও রয়েছে তেমন বাবা ও স্বামী হারানোর করুন বাস্তব ঘটনা। চলচিত্রে রয়েছে এতিম সন্তান আর বিধবা স্ত্রীর নায়িকা হবার কাহিনী। আর রাজনীতিতে রয়েছে তাদের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী হবার ইতিহাস। চলচিত্র দেখি সিনেমা হলে টিকিট কেটে, আর রাজনীতি চিত্র দেখি ভোটকেন্দ্রে আংগুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে ব্যালট কেটে।

তবে আংগুলে লাগানো অমোচনীয় কালি দিনশেষেই মুছে যায় কিন্তু ভোট দিয়ে কাউকে ক্ষমতায় বসিয়ে যে কলংকের কালি আমরা স্বতঃপূর্তভাবে হৃদয়ে মাখি তা পাঁচ বছরেও মোছে না! বিরক্ত জনগন পুরাতন কালির কলংক ঢাকতে নতুন কালি মাখে, যোগ হয় নতুন কলংক! এভাবেই চলে কালির পর কালি, কলংকের পর কলংক!
এখন প্রশ্ন হলো, চলচিত্রের মতো রাজনৈতিক চিত্রে ক্রাইসিস-ক্লাইমেক্স-অ্যাকশন-ভায়োলেন্স থাকলেও কি নেই???

উত্তর-গান।।।
আমি ভাবছিলাম, বাংলাদেশের রাজনীতি চিত্রকে আরো বিনোদনধর্মী এবং সফল করতে উপমহাদেশীয় চলচিত্র ধারা মেনে রাখা যেতে পারে গান। যে গান হতে পারে প্রেমের, বিরহের, আইটেম কিম্বা বিবেকের। চলচিত্রে যেমন প্রসংগ ক্রমে গান রাখা হয়, রাজনীতিচিত্রেও প্রসংগ ক্রমে রাখা যেতে পারে গান।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের হট প্রসংগ কোনটি?
উত্তর- রাষ্ট্রপতি কর্তৃক চিহ্নিত খুনি ক্ষমা করার ঘটনা।

গত বছর জুলাই মাসে আইনজীবি নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামী বিপ্লবকে দলীয় বিবেচনায় ক্ষমা করেন রাষ্ট্রপতি! এ বছর ৮ ফেব্রুয়ারী বিপ্লবকে আরো দুটি মামলার সাজা কমান বা ক্ষমা করেন রাষ্ট্রপতি! একই সাথে বিপ্লবের খুনের সহযোগীকেও ক্ষমা করা হয়!
এখন চিহ্নিত খুনি ও তার সহযোগীকে ক্ষমা করার ঘটনায় প্রাসংগিকতায় কি গান গাওয়া যেতে পারে?

এ গানটা হতে পারে-

হোয়াই দিস কলাবেরী ডি..
বা
কিভাবে তুমি আমার সাথে এমনটা করতে পারলে?

রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে কলাভেরী ডি গানটা গাওয়া যেতে পারে এবং সে গানের মাধ্যমেই তাকে প্রশ্ন করা যেতে পারে- তিনি জাতির সাথে এমনটি কিভাবে করতে পারলেন? বিপ্লব আইনজীবি নুরুল ইসলামকে খুন করেছিলো গোপনে কিন্তু তিনি তো নুরুল ইসলামকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার খুন করলেন পুরা জাতির সামনে! তিনি জাতির সাথে এমনটি কিভাবে করতে পারলেন?

তবে তামিল ভাষায় কলাবেরী ডি গানটি অনেকের কাছে দূর্বোধ্য মনে হতে পারে! তাই, রাজনীতিচিত্রের জন্য কোন বাংলা গান গাওয়া যেতে পারে। যে গানটি হতে পারে মীরাক্কেলের সেই বিখ্যাত গান, যেটি শুনতে শুনতে কান ঝাঁলা পালা, অসাম…অসাম সালা-

রাষ্ট্রপতি করলেন ক্ষমা খুনিকে
রাষ্ট্রপতি করলেন ক্ষমা খুনিকে
অন্যায়ের জন্য ভাঙ্গলেন, ন্যায়ের তালা,
অসাম সালা, অসাম সালা, অসাম সালা।।

রাষ্ট্রপতির শরির যে বড় দূর্বল
কোমর আর বুকেতে নেইতো বল
এরাই দেয় গনতন্ত্রে মালা,
অসাম সালা, অসাম সালা, অসাম সালা।।

অসৎ সংঙ্গে হয় যে সর্বনাশ
এ কথায় আরতো কারো নেই বিশ্বাস
খুনির বন্ধুও পাবে ফুলের মালা
ক্ষমায় এবার সহযোগীর পালা
অসাম সালা, অসাম সালা, অসাম সালা।।

রাষ্ট্রপতি বয়সে থুড়থুড়ে
যৌবনে মুড়িরটিন ঝুড়ঝুড়ে
দেশবাসীকে দেখালেন, নপুংসকের কলা
অসাম……অসাম সালা।।

তবে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের অনুকরণে এ গান শুনে অনেকেই জাত গেলো, জাত গেলো বলে তেড়ে আসতে পারে! ভারতীয় আগ্রাসনে জাত, সাংস্কৃতি, রাজনীতি সব গেলো বলে মাতন তুলতে পারেন!
তাই সব ধরনের বিতর্ক এড়াতে রাজনীতি চিত্রের গানটি হতে পারে- “লাগ ভেল্কি লাগ, চোখখে মুকখে লাগ” বলে গাওয়া দেশীয় সংস্কৃতির বায়োস্কোপের গান-

কি চমৎকার দেখখা গেলো
খুনির দন্ড কইমা গেলো
ন্যায়-নীতি ভাইসা গেলো;
ইবলিশ দেইখা ভেংচি কাটলো..

তার পরেতে দেখেন ভালো
খুনির সংগিও মওকুফ হইলো
অসৎ সংগে পুরুষকার মিললো

কেমন কইরা থাকবেন ভালো
দিন বদলের যে নমুনা হইলো

আমি মনে করি, দেশীয় সাংস্কৃতির এ বায়োস্কোপের গান আমাদের রাজনীতি চিত্রকে আরো আকর্ষনীয় করবে। এমনিতেই আমাদের দেশ, সমাজ, রাজনীতি সবকিছুই আজব বায়োস্কোপে পরিনত হয়েছে!
আমি ভাবছিলাম, প্রয়াত সন্জিব চৌধুরির সেই বিখ্যাত গান-

তোমার বাড়ির রংয়ের মেলায়
দেইখ্যাছিলাম বায়োস্কোপ,
বায়োস্কোপের নেশায় আমায় ছাড়েনা…
…সেই ভাবনায় বয়স আমার বাড়েনা

তবে রাজনৈতিক বায়োস্কোপের নেশায় আমার বয়স বাড়ুক আর না বাড়ুক। সরকারের মেয়াদ বাড়ছে…বাড়ছে ক্ষোভ…আসছে নির্বাচন।
তখন আর জনগন বলবে না- হোয়াই দিস কলাবেরী ডি…বরং বলবে-

ভোটের দিনে হবে ফয়সালা
অসাম…অসাম সালা।

২৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. জাহেদ-উর-রহমান

    জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

    আসাদুজজেমান ভাই, জাষ্ট দুইটা শব্দই বলার আছে আপনার এই লিখা সম্পর্কে – অসাম সালা। আপনার লিখা চলুক নিয়মিত, অবিরাম। অনেক শুভকামনা আপনার জন্য।

  2. প্রবাসী

    প্রবাসী বলেছেনঃ

    ভাই আসাদুজজেমান, ভীষণ ভীষণ ভাল লাগলো। কবিতার লাইন গুলি অসাধারণ।

    রাষ্ট্রপতি বয়সে থুড়থুড়ে
    যৌবনে মুড়িরটিন ঝুড়ঝুড়ে

    বা

    অসৎ সংঙ্গে হয় যে সর্বনাশ
    এ কথায় আরতো কারো নেই বিশ্বাস
    খুনির বন্ধুও পাবে ফুলের মালা
    ক্ষমায় এবার সহযোগীর পালা
    অসাম সালা, অসাম সালা, অসাম সালা।।

    অতুলনীয়।

    বিপ্লব আইনজীবি নুরুল ইসলামকে খুন করেছিলো গোপনে কিন্তু তিনি তো নুরুল ইসলামকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার খুন করলেন পুরা জাতির সামনে!

    আমাদের বয়সে থুরথুরে রাষ্ট্রপতির ভীমরতি ধরেছে …….।

  3. বাঙাল বলেছেনঃ

    পড়লাম, বুঝলাম অনেক কিছুই, কিন্তু

    অসাম সালা, অসাম সালা, অসাম সালা।

    মনেটা বুঝলাম না, এটার মানেটা একটু বুঝাইয়া বললে ভাল হয় !!! এটা কোন দেশী বাংলা একটু জানতে ইচ্ছে করলো।

  4. Majed বলেছেনঃ

    তোমরা মিরককেলের সাথে সুর মিলিয়ে গাও:
    গান-1
    বাংলাদেশে খুনীর বিচার হল
    বঙ্গবন্ধুর খুনীর বিচার হল
    তাই তোমাদের গায়ে এত জ্বালা
    অসম শালা, অসম শালা, অসম শালা।

    যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে
    যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে
    তোমাদের শেষ হবে খেলা
    অসম শালা, অসম শালা, অসম শালা।

    রাজাকার আলবদরদের গলে
    খুনী-ধর্ষক আর লুটেরদের গলে
    তোমরা দিয়েছিলে ফুলের মালা
    অসম শালা, অসম শালা, অসম শালা।

    ইয়াজউদ্দিন করেছিল ক্ষমা
    খালেদার গায়ে খুনীর জামা
    ভুলে কী গিয়েছ হাবা-কালা
    অসম শালা, অসম শালা, অসম শালা।

    সাহসতো তোমাদের অনেক
    ভেবে কী দেখেছো ক্ষণেক
    রাষ্ট্র নিয়ে খেলছো অনেক খেলা
    অসম শালা, অসম শালা, অসম শালা।

    তোমাদের বলব একটি কথা
    খুলে দেখো ইতিহাসের পাতা
    সাঙ্গ হয় একদিন সব শয়তানের খেলা
    অসম শালা, অসম শালা, অসম শালা।

    বয়েস্কোপের গান:
    কি চমৎকার দেখখা গেলো
    রাজাকাররা জেলে ড়ুকল
    হমবি তম্বি ভাইসা গেলো;
    ইবলিশ গুলো ধরা খাইল…..

    কদিন পরে দেখবেন ভালো
    খুনী-রাজাকার শেষ হইল
    খালেদাও সাথে রইল
    অসত সংগের পুরুষকার মিললো
    একই সাথে স্বর্গে গেল

    গান-3
    ভোটের বড়াই কর?
    সেই আশাটা ছার,
    তোমাদের কার্য-কলাপ
    মনে নাই কি করো?

    গদি দখল করতে গিয়ে
    দেশের ক্ষতি করো
    সচেতন আজ জাতি
    আখের চিন্তা করো?

    • আসাদুজজেমান বলেছেনঃ

      যদি লেখা আর মন্তব্যের সুত্র ধরে বলি,
      বলবো @মাজেদ, অসাম…অসাম সালা। লেখার নান্দনিক দিকের সাথে মন্তব্যের এমন সমন্নয় আমাকে মুগ্ধ করেছে।
      তবে আপনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক ভাবে নিয়েছেন বিষয়টি দুঃখজনক!
      আমি ক্ষমা করার সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে লিখেছি কিন্তু আপনি মন্তব্যে সে বিষয়ে টাচ না করে বরং অন্যায়কে ব্যালেন্স করার চেষ্টা করেছেন। রাষ্ট্রপতি চিন্হিত খুনিকে ক্ষমা করে আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্হ করেছেন। এটা অন্যায়….আর অন্যায়কে অন্যায়ই বলতে হবে। অন্যায়কে আরেকটি অন্যায়ের সাথে ব্যালেন্স করাটা ঠিক নয়। এটা ঠিক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদও দলীয় বিবেচনায় খুনিকে ক্ষমা করেছিলেন, তিনি অন্যায় করেছিলেন। যদি আজকের অন্যায়কে অতিতের অন্যায়ের সাথে ব্যালেন্স করা হয় তাহলে ভবিষৎএ অন্যরাও আজকের অন্যায় দিয়ে তাদের অন্যায় ঢাকবে….অন্যায় সব সময়ই অন্যায়, আর অন্যায়কে সংগঠিত হবার সময়ই প্রতিরোধ করা উচিত।
      আপনার মন্তব্যের যে অংশটি বেশ গুরুত্বপূর্ন-

      তোমাদের বলব একটি কথা
      খুলে দেখো ইতিহাসের পাতা
      সাঙ্গ হয় একদিন সব শয়তানের খেলা
      অসম শালা, অসম শালা, অসম শালা।

      সত্যি, সাঙ্গ হয় একদিন সব শয়তানের খেলা। আর আমাদের নির্মম বাস্তবতা হলো- এক শয়তানর খেলা সাঙ্গ হলে আরেক শয়তানের খেলা শুরু হয়! তবুও সান্তনা, শয়তানের খেলা আমরাই সাঙ্গ করি, নির্বাচনের মাধ্যমে….।

      ভোটের দিনে হয় ফয়সালা
      অসাম…অসাম সালা।

      ৬.১
  5. কালেরকণ্ঠ বলেছেনঃ

    @Majed
    ভাইজান ভালই তো দিলেন, কিন্তু ওরা কি নিলো ? না নিলেও সমস্যা নাই, আপনি চালিয়ে যান। সংখ্যায় কম যারা তারা একটু বেশি কথা বলবে এটাই স্বভাবিক, তা না হলে তো সংখ্যা গুরুর ভিড়ে ওদের কথা শুনা যাবে না। আসলে আওয়ামীলীগের কাছে জাতির চাওয়া সব সময়ই একটু বেশি থাকে তাই এর ব্যত্তয় হলে একটু মনতো খারাপ হবেই। বিএনপির কাছে জাতি কখনোই ভাল কিছু আসা করে না, সুতরাং সুশীল সমাজ বিএনপির সাথে আওয়ামীলীগের তুলনা করতে বা দেখতে প্রস্তুত না। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।

    @ আসাদুজজেমান সাহেব আপনার লেখা সুন্দর হয়েছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

  6. সা আ খান বলেছেনঃ

    এত সুন্দর একটা লিখার মধ্যে কিছু কিছু অতিশিক্ষিতরা সব সময় রাজনৈতিক কাঁচাল করবে, এটাই স্বাভাবিক। মাজেদ সাহেবের অতি আওয়ামীলীগের বক্তব্য কোন পাঠকই খাবে না । প্রসঙ্গটা ছিল নির্বাচনে আঙ্গুলের কালি । বি এন পি বলেন, আর আওয়ামীলীগই বলেন, সবার চরিত্রই অরাজনৈতিক প্রতিটি শিক্ষিত জনগনের ভালো জানা আছে । কাজেই, অযথা “সংখ্যায় কম আর সংখ্যা গুরুর” পার্থক্য করাটা ঠিক হবেনা @ কালের কণ্ঠ ।
    অসাধারণ ভালো লাগলো আপনার লিখাটি জনাব আসাদুজ্জামান সাহেব।

  7. আনোয়ার বাপ্পী বলেছেনঃ

    আমাদের clsdashদেশে শিক্ষিত ৫০% থাকলেও জ্ঞানীর অভাব অত্যন্ত প্রকট rzj। অন্যদিকে অনেকে জেনে-শুনেই কোন না কোনভাবে রাজনৈতিক মতাদর্শকে জাহির করে চলছে, সে ঠিকই হোক আর না হোক। দলের পক্ষে হতে হবে ১০০%। আমি এর বিপক্ষে।

    ১০
  8. আব্দুল মোনেম

    আব্দুল মোনেম বলেছেনঃ

    একটা বাতি জ্বালানো যাক। :arrow: :idea:
    ইহাতে চুরি করিতেও সুবিধা, চোর ধরিতেও সুবিধা।
    এইবার পালানোই উত্তম হইবে। পাছে রাজাকারদের বিচারে না আবার বিঘ্ন ঘটে!

    ১১
  9. Majed বলেছেনঃ

    রাষ্ট্রপতি বয়সে থুড়থুড়ে
    যৌবনে মুড়িরটিন ঝুড়ঝুড়ে
    দেশবাসীকে দেখালেন, নপুংসকের কলা
    অসাম……অসাম সালা।।

    উপরোক্ত অরুচিকর, ঘৃণ্য, ফালতু মন্তব্যকে সুন্দর বলে মিস্টার সা আ খান মুর্খের পরিচয় দিয়েছেন। সা আ খান, আপনি আওয়ামিলীগ ও বিএনপিকে ঘৃনাকারী জামাতি পন্ডিত।

    সা আ খানকে বলব, আমরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত, জামাতি শিক্ষায় নয়।

    ১২
    • আসাদুজজেমান বলেছেনঃ

      @Majed
      লালনের সেই বিখ্যাত গানটি কি শুনেছেন?

      জাত গেলো, জাত গেলো বলে
      এ কি আজব কারখানা…।
      ….গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায় তাতে ধর্মের কি ক্ষতি হয়?

      সত্যি আমাদের বিবেক আজ আজব কারখানায় জাত বিনষ্টের হিসাব কষছে!
      আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে আমরা গনতন্ত্রের শোভা বর্ধনকারি অলংকার বানিয়ে ফেলেছি! তাকে বানিয়েছি, মাতৃপ্রধান পরিবারের অসহায় পতি! অবশ্য তাকে অসহায়ই বা বলি কি করে, তিনি তো ক্ষমতা দেখালেন(যে ক্ষমতা ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদও দেখিয়েছিলেন)! যে ক্ষমতা ন্যায়ের জন্য নয় বরং অন্যায়ের জন্য! তিনি অবিচার করে বিচারকে বৃদ্ধাংগুলি দেখালেন!
      এটাকে অন্যায় বলেছি বলেই কি, আমার লেখা-অরুচিকর, ঘৃণ্য, ফালতু!
      যদি তাই হয় তাহলে আমি গর্বিত! আমি এমন অরুচিকর, ঘৃণ্য, ফালতু লেখা লিখেই যাবো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেই যাবো। এতে কারো কাছে হয়তো আমার জাত যায় যাবে….তবু কোন দলীয় বেশ্যাবৃত্তি আমি করবো না।

      ১২.১
  10. জহিরুল চৌধুরী বলেছেনঃ

    খানিকটা এরি হয়ে গেল না কি পড়তে? আসাম.. শালা, অসাম শালা।
    তো নির্বাচনে প্রতিপক্ষ কে গো? না কি সব একই গরুর হাটের গরু?
    পড়ে জোস পেলাম-

    ভোট দিয়ে কাউকে ক্ষমতায় বসিয়ে যে কলংকের কালি আমরা স্বতঃপূর্তভাবে হৃদয়ে মাখি তা পাঁচ বছরেও মোছে না

    ১৩
  11. Majed বলেছেনঃ

    কোনও দলকে সমর্থন না করা মানে সকল দলকে খারাপ মনে করা।
    খারাপ ভালোর মানদন্ড সমন্ধে আপনাদের কাছে জাতির অনেক কিছু জানার আছে।
    আমরা বেশির ভাগ লোক বোকা আর আপনারা কিছু লোক আছেন অততান্ত গেয়ানি, যারা যেকোনো (হউক আর না হউক) লেখার জন্য গর্ব বোধ করে, কলমকে শাণিত করে।
    ভাষার মান সম্পর্কে যেকোনো শিক্ষিত লোককে সজাগ থাকা উচিত। মার্জিত ভাষায় প্রতিবাদ করা যায়। স্থান কাল পাত্র বিশেষে লিখার ধরণ, দৃষ্টিভঙ্গী ঠিক করতে পারলে জাতি আপনাদের কাছ থেকে কিছু পাবে।

    ১৪
    • আসাদুজজেমান বলেছেনঃ

      @Majed
      কোন দলকে সমর্থন করা আর কোন দলের দালালি করা, দুইটা আলাদা বিষয়।
      আবার, সব দলকে খারাপ মনে করা আর সকল অন্যায়কে খারাপ মনে করা আলাদা বিষয়। এটা আপনাকে বুঝতে হবে……।
      লেখা নিয়ে গর্ব করা খারাপ কিছু নয়, লেখা একজন লেখকের কাছে সন্তানের মতো, এমন গর্ব সবাই করতে পারেনা!
      আপনার যে কথাটির যথেষ্ট যৌক্তিকতা পেলাম-মার্জিত ভাষায় প্রতিবাদ করা যায়।
      হ্যাঁ, মার্জিত ভাষায় প্রতিবাদ করা যায়, এবং মার্জিত ভাষায় প্রতিবাদ করা উচিত। তবে আপনার ভাষায় যা অমার্জিত(আমার লেখা) সেটা কি অযৌক্তিক। আমি খুশি, আপনি নিজেও লেখাটিকে এতগুলো মন্তব্যে অযৌক্তিক বলেন নি, বলতে পারেন নি!
      মাজেদ সাহেব, সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাষ্ট্রপতি এরশাদকে বেহায়া বলে সম্মোধন করা হতো। ৭১ এ ইয়াহিয়া খানকে নিয়ে জানোয়ার হত্যা করার পোস্টার নিশ্চই দেখেছেন? আপনার মতো চিন্তা করলে সেগুলোও নিশ্চই ছিলো চরম অমার্জিত, তাই নয় কি…লজ্জা..লজ্জা।

      ১৪.১
  12. Majed বলেছেনঃ

    ভাই, আপনার লেখায় দালালী, বেষ্সাবৃত্তি ইত্তাদির দৃষ্টিভঙ্গী বেশ প্রাধান্য পায়।
    সব অন্যায়কে ভাল মানুষরা খারাপ মনে করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সকল অন্যায়ের উর্ধে কোনও মানুষ পাওয়া খুবই কঠিন। আর মানুষ দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে রাজনৈতিক দল গুলো। পার্থক্য হচ্ছে কিছু দল দেশের অস্তিত্তেই বিশ্বাস করেনি এবং কখনো করেনা, আবার কিছু দল অনেকগুলো দলথেকে বেরিয়ে আসা বহিষ্কৃত, পদতেগী, নীতিতেগী, উচ্ছিষ্ট দ্বারা পরিচালিত যাদের ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া নির্দিষ্ট কোনও আদর্শ নেই।
    দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে একটি ঐতিজ্যবাহী দল ছোটখাট ভুল করতে পারে এবং জনগণ গঠনমূলক ভাবে সমালোচনা/প্রতিবাদ করতেই পারে। কিন্তু নগ্নভাবে নয়।

    ১৫
  13. জহিরুল চৌধুরী বলেছেনঃ

    মাজেদ সাহেবকে ধন্যবাদ দিই তার “ভদ্রপণা”র কারনে। কিন্তু এই ভদ্রপণা দেশের কোন কাজে লাগে না গো! প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীরা যখন চোর-বাটপার, মাফিয়াদের সঙ্গে দোস্তি করে, তখন সেখানে নগ্নতা নেই। নগ্নতা কেবল প্রকাশে! এ ধরণের এক ভদ্রনোক ছিলেন সৈয়দ আলী আহসান। আপন মনে কবিতা লিখে যেতেন। কাউকে গালি দিতেন না। এ কারনে এরশাদের রাজ কবি’র মর্যাদা পেয়েছিলেন!

    ১৬
  14. Majed বলেছেনঃ

    জহিরুল চৌধুরী ভাই, ভদ্রতা দেশের কোনও কাজে লাগেনা, আপনার এহেন ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। বরং অভদ্রতা করতে করতে এবং অভদ্র ভাবে চলতে চলতে আপনাদের কাছে অভদ্রতাই নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। আপনাদের আমল পর্যন্ত অভদ্রতা চলে আসছে, আপনাদের কাছে পরবর্তী প্রজন্ম ও অভদ্রতাই শিখবে। আপনারা ভদ্র হউন, জাতিকে বাঁচান।

    আপনার ধারনা:

    প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীরা যখন চোর-বাটপার, মাফিয়াদের সঙ্গে দোস্তি করে

    আপনিও চেষ্টা করে যান।

    ১৭
  15. কায়েস বলেছেনঃ

    @ মাজেদ – ভালই বলেছেন “দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে একটি ঐতিজ্যবাহী দল ছোটখাট ভুল করতে পারে এবং জনগণ গঠনমূলক ভাবে সমালোচনা/প্রতিবাদ করতেই পারে।”
    ভুলে গেছেন- রক্ষীবাহিনীর হাতে নিহত ১৮০০০-৪০০০০ মানুষ, ক্রসফায়ারে সিরাজ সিকদার হত্যা, শেখ কামালের ব্যাঙ্ক ডাকাতি, বাকশাল, দুর্ভিক্কের সময় কামাল -জামালের সোনার মুকুট নিয়ে বিয়ে, বার বার শেয়ার বাজার কেলেংকারী, মানিকের শততম ধ** উতসব, শেখ কামাল ও নাকি কম যেত না, হাজারী-তাহের-শামিম ওসমানদের মাস্তানি, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ চুরি, বিডিয়ার ম্যাসাকার, সাগর-রুনি খুন, পদ্মা সেতুর টাকা পুতুলের পকেটে- আর কত বলব?

    এদিন তো দিন নয় আরো আছে দিন-

    “ভোটের দিনে হয় ফয়সালা
    অসাম…অসাম সালা।”

    খালেদা নয়, হাসিনা নয়, জামাত নয়, এরশাদ নয়- কান পেতে আছি নতুন পদশব্দের।

    ১৮

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...