ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

আব্বু নামের বিশালতা মাপার যন্ত্র এবং একক কোনোটিই এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। আব্বু মানেই সবকিছু সমাধানের একমাত্র সূত্র। ছোটবেলা থেকে তিলতিল করে বড় করা, হাত ধরে চলতে শেখানো, কোনোকিছু না ভেবেই আয়ের সবটাই ব্যয় করা সন্তানের জন্য, শত ঝঞ্ঝা থেকে রক্ষা করার নামই আব্বু মানেই সবকিছু সমাধানের একমাত্র সূত্র। ছোটবেলা থেকে তিলতিল করে বড় করা, হাত ধরে চলতে শেখানো, কোনোকিছু না ভেবেই আয়ের সবটাই ব্যয় করা সন্তানের জন্য, শত ঝঞ্ঝা থেকে রক্ষা করার নামই পৃথিবীতে একমাত্র বাবা মা সন্তানের জন্য সবকিছু করতে পারেন বিনা সার্থভাবে। সন্তান যতই ভুল করুক তাদেরকে, তারা যে কোনো ভাবে ভালো করবেই এবং সফল ও হবেন  । আমার আব্বু পাশে থাকলে আমি সব কিছু করতে পারবো এটাই আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি। আমার আব্বু আমার শক্তি। আমার আব্বুর প্ল্যান ছিল আমি বিদেশে যেয়ে পড়ালেখা করি এবং ভালোকিছু করতে পারি জীবন এ ।

আমি যখন ঢাকাতে ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসির দ্বিতীয় ইয়ারে পড়ি তখন আাব্বু বলত ভালভাবে মন দিয়ে পড় আর বিদেশে কি ভাবে যাওয়া যায় তার প্রস্তুুতিও নিও। আর তৃতীয় বছর নিয়ে আামার বেশ টেনশন ছিল কারণ বেশ কঠিনও মনে হত আমার । আমি তৃতীয় বছর পড়া অবস্থায় যখন বাসায় গেলাম তখন আব্বু আামার পাসপোর্ট করার কাজ শুরু করছিলাম এবং দিনাজপুরেও নিয়ে গিয়েছিলেন। অক্টোবর ২০১৪ তে আমার ডিপ্লোমা ইন ফার্মেসীর রেজাল্ট প্রকাশিত হয় এবং আব্বুৃ সহ সবাই খুব খুশি হয়। আর আমাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদেশ যাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেন। আমি তার চেষ্টা করতে থাকি। আর ঠিক তখনি আমি জন্ডিসে আক্রান্ত হই। অনেক কাজ ফেলে তখন আমাকে ঠাকুরগাঁয়ে যেতে হয়। আর তখন আব্বু ফার্মেসী কাউন্সিলে এসে সার্টিফিকেটগুলো তুলেন। তারপর  চীন ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে  ভর্তির জন্যে আবদেনও করেন। ডিসেম্বরের ১০ তারিখে আমাকে  চীন ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে একসেপ্টসটেস লেটার পাটায়, সেপ্টেম্বর-২০১৫ সেশনে পড়ার জন্য । এটাই বলব, তোমার স্নেহছায়া, আশীর্বাদ আমাকে আবিষ্ট করে রাখলে আমি কোনোকিছুই ভয় পাই না। তুমি আমার শক্তি, তুমি পাশে থাকলে আমি সব জয় করতে পারব আব্বু।

এখানেই ইতি টানতে হলো। আর লিখতে পারলাম না, শুধু বলি হে আল্লাহ তুমি আমার   আব্বুকে হায়াতে তায়্যিবা দান করুন, সব সময় তাকে সুস্থ্য রাখুন।

***

নানজিং, চীন    18-06-2017