ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
94982419

প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গীনামা সাধারণভাবে বেশ ভারী । ২০১৫ তে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ অধিবেশন সফরে সঙ্গী ছিলেন ২২৭ জন । ১১৯ জন ছিলেন ব্যাবসায়ী যারা নিজেদের খরচেই ঢাকা টু নিউ ইয়র্ক করেছেন । বাকিরা সরকারি ভাবে । যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী সবাই সুতারং সবার সাতকাহন স্বাভাবিকভাবেই স্বচ্ছ । এটাই ধরে নেয়া যায় । ১১৯ জন ব্যাবসায়ী আসলে কি করেছেন নিউ ইয়র্কে তার সঠিক কোনো খবরা খবর না থাকলেও অন্যান্য এম পি বা মন্ত্রীদের প্রায়ই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেখা যায় নিউ ইয়র্কের আনাচে কানাচে । আর সাংবাদিক সহ অন্যরা ব্যস্ত থাকে সেলফি তুলতে. এটা মোটেও খারাপ কিছু না । নিউ ইউর্ক আসলে আই ফোন গিফট পাবেন ছবি তুলবেন এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার ।কিন্তু অস্বাভাবিক হলো ২২৭ জন সঙ্গীর মাঝে মাত্র ২৮ জন নিরাপত্তা রক্ষী ।

আরো অস্বাভাবিক হলো বাংলাদেশ বিমানের কোনো ফ্লাইট নিউ ইয়র্ক এর এয়ারপোর্টে নামতে পারে না । প্রধানমন্ত্রী হয় লন্ডন বা কানাডা তে এসে পরে ঐখান থেকে নিউ ইয়র্ক আসেন । এই দীর্ঘ যাত্রা পথে উনার ২২৭ জনের মতো সঙ্গীরাও উনার সাথে থাকেন । ঠিক কি কারণে প্রধানমন্ত্রী এতো ঘুরে ফিরে নিউ ইয়র্ক আসতে হয় তা আমার জানা নেই । হয়তো বিমানের ফ্লাইট নিউ ইয়র্ক আসতে পারে না বিধায় । কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রীর জন্য কি একটা চার্টার্ড বিমান ভাড়া করা যেত না । পথে পথে ঘুরে নিউ ইয়র্ক আসার মানে টা কিছুটা লজ্জাজনক এবং আপত্তিকর ।

একসময় লম্বা লিস্টের সফর সঙ্গীরা অনেকে দেশে ফিরে যেত না । তবে এখনকার বাংলাদেশ যে অবস্থায় তাতে প্রায় সবাই সহি সালামতে ফিরে যায় । রেখে যায় কিছু বাজে স্মৃতি নিউ ইয়র্কের মতো শহরে । নিউ ইয়র্কের আনাচে কানাচে রেস্টুরেন্ট এ মন্ত্রী বা এম পি দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান যে কতটা হৃদয় বিদারক হতে পারে তা না দেখলে বোঝা যায় না । আর এমনটি হবে এটাই স্বাভাবিক । আই ফোনের দেশ বলে কথা ।

প্রধানমন্ত্রী সঙ্গী থাকে ১০ থেকে ১২ জন সাংবাদিক । উনারা ঠিক কি করেন এই অধিবেশনে আমার জানা নেই । কারণ দেশের সংবাদ পরিবেশনের জন্য বি এস এস নামের সরকার সংস্থা আছে আর বি বি সি বা সি এন এন আমাদের এই সাংবাদিকদের থেকে যে খবর সংগ্রহ করবে না এটা আমি নিচ্চিত । সুতরাং সেলফি তোলা ছাড়া আর খুব একটা বেশি কিছু করার থাকে না এই সাংবাদিকদের । আর আশ্চর্য হলেও সত্য উনারা সবাই সরকারি খরচে সেলফি তোলায় ব্যস্ত থাকেন । যেখানে বাংলাদেশ বিমান নিউ ইয়র্ক এ ল্যান্ড করতে পারে না । প্রধানমন্ত্রীকে নানান দেশ হয়ে নিউ ইয়র্ক আসতে হয় । সেখানে শত শত ডেলিগেটের উদ্দেশ্য কি তা আমরা জানতে চাইতেই পারি । এই সাংবাদিকরা আবার প্রতি দিনকার জন্য ডলারে বেতন পায় আলাদা করে । আমেরিকায় আসলে ওয়েজ বোর্ডটাও তো ডলারে হতে হবে ।

টাকা পয়সার কথা না হয় বাদই দিলাম । আমরা এখন প্রায় ধনী রাষ্ট্র সুতরাং কয়েকশো মানুষের জন্য এই সব আয়োজন খুব একটা বেশি কিছু না । কিন্তু যদি নিউ ইয়র্কে অস্বাভাবিক কিছু একটা হয় তখন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফিরে আসার সরাসরি কোনো বিমান পাওয়া যাবে না । কারণ ফিরতি পথে প্রধানমন্ত্রী একই ভাবে নানান দেশ হয়ে ফিরে আসেন । এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেশি প্রয়োজনীয় নাকি শত শত ডেলিগেট নিয়ে নিউ ইয়র্ক ফ্যান্টাসি করা প্রয়োজন তা ভেবে দেখার বিষয় ।

বদলে যাওয়া দেশের ভাবমূর্তিও বদলাতে হবে । বাংলাদেশ ব্র্যান্ড টা নিয়ে আমরা যারা বাইরে থাকি তারা যাতে গর্ব করতে পারি । পুরো প্লেন বোঝাই করে ডেলিগেট আসুক সমস্যা নাই । কিন্তু ভাবমূর্তি বাড়াতে পারবে এমন সব লোককে পেছনে রেখে যারা সেলফি তলায় ব্যস্ত থাকে তাদের নিয়ে আসার পক্ষে হয়তো কেও না । কারণ সবার ট্যাক্স এর টাকায় বাড়তি এই হোটেল বিল বা টিকেটের খরচ মেটাতে হয় । প্রধানমন্ত্রীর খবর সরবরাহ করতে সাংবাদিক এর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না । আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেখানে ডিজিটাল ভিডিও কনফারেন্স করে সড়ক উদ্ভোদন করেন । সেখানে জাতিসংগ থেকে খবর দেশে পাঠাতে মনে হয় না ডজন পরিমান সাংবাদিকের প্রয়োজন আছে ।

সূত্র:

http://www.thedailystar.net/frontpage/pm-leads-biggest-entourage-un-147283
http://bdnews24.com/bangladesh/2016/09/15/prime-minister-sheikh-hasina-stops-over-at-london