ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

family-pet-divorce-fb

.

পশু পাখির চারিত্রিক আচরণ দেশ ভেদে নানান রকম। যেমন ধরুন আমি লন্ডন বা নিউ ইয়র্কের কবুতর গুলোকে খুব একটা উড়তে দেখি না। এরা বেশ আয়েশি ভাবে রাস্তায় হেটে হেটে খাওয়া দাওয়া করে। মানুষকে খুব একটা ভয় পায় না এরা। কিন্তু আমাদের দেশের কবুতর গুলো দশ হাত দূরে থাকতে উড়াল দেয়। জেনেটিক ভাবে এই কবুতর গুলো আমাদের আচরণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। কারণ আমরাদের অধিকাংশেরই কবুতর দেখলে কবতুরের কোর্মা বা ঝাল ফ্রাই এর কথা মনে পরে। পশু পাখির ইন্দ্রিয় ক্ষমতা বেশ উন্নত। যেমন ধরুন আপনি যদি কোনো মেয়ে মানুষের দিকে হা করে বা লুকিয়ে লুকিয়েও তাকিয়ে থাকেন দেখবেন ঠিকই ধরা খাবেন। মেয়েদের আশ্চর্য এক ক্ষমতা আছে এটা বোঝার। একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন। ব্যাপারটা সত্যি না মিথ্যে।

পশু-পক্ষীর জগতে বিয়ে বা ডিভোর্সের প্রচলন আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে এদের জীবনধারা বেশ আধুনিক। বিয়ে ছাড়াই সন্তান অথবা পিতৃ পরিচয়হীন প্রাণী অথবা সিঙ্গেল মাদার প্রাণী। চিন্তা করে দেখেন কতটা স্মার্ট ওরা। এতটা স্মার্ট হবার পরও কোন পশু পাখি মাকে নিজের বাচ্চাদের ছেড়ে যেতে দেখি না। নির্দিষ্ট একটা বয়স পর্যন্ত মা আগলে রাখে বাচ্চাদের। শুধু মানুষের বেলায় ব্যাতিক্রম। কোনো কখনো আমরা এর উল্টোটা করি।

পশু-পাখিদের মাঝে আমার ধারণা নারী নির্যাতনের মতো জিনিসটাও নেই। এটা অবশ্য খেয়াল করে দেখা হয়নি কখনো। তবে ডলফিন আর মারাল্ড ডাক বা হাঁসের আচরণে কিছুটা ধর্ষণের আলামত পায় মনুষ্য বিজ্ঞানীরা। তাও অতটা নিশ্চিত কিছু না। তবে আমাদের বেলায় এটা নিশ্চিত।

আমাদের ডিভোর্সের শানে নূযুলটা বেশ মারাত্মক। ডিভোর্সের পর সন্তান কার কাছে থাকবে বা না থাকবে এ নিয়ে বেশ কাড়াকাড়ি চলে দুপক্ষের মধ্যে। আশ্চর্য হলেও সত্যি বাইরের দেশে পেট বা পোষা প্রাণীর অধিকার নিয়েও মামলা হয় ডিভোর্সের পর। নিউ ইয়র্কের আইনে পোষা প্রাণী স্বামী বা স্ত্রী যার নাম এ এডোপশন করা সেই তার ভরণ পোষণ দেবে। অবাক লাগছে? চোখ বন্ধ করে একবার সানি লিওনিকে ভাবুন। সানি লিওনি গতকাল এক মেয়েকে দত্তক নিয়েছে। এই মেয়ে বড় হয়ে তার মা বাবার আদর্শে আদর্শিত হলে কি হবে? আবার ভাবুন একবার। ভালোই লাগবে। কারণ এই একটা জায়গায় আমরা পশু পাখিদের থেকে বেশ এগিয়ে। আমরা ভাবতে পারি। মস্তিষ্কের বিলিয়ন নিউরোন দিয়ে একটু আগে সানি লিওনির ব্যাপারটা কি সুন্দর ভাবে ভেবে নিলেন। বেশ ভালো।

লেখার বিষয়টা ছিল পশু পাখির ডিভোর্সের ব্যাপারটা নিয়ে। আমার ধারণা যেহেতু এদের সমাজে বিয়ে নেই তাহলে আনুষ্ঠানিক ডিভোর্স ও হয়তো থাকবে না। দেনমোহরের কথা তো বাদই দিলাম। আর যদি কোনো পশু-পক্ষী বিয়ে শাদী করেই থাকে অন্তত হিল্লে বিয়ের ব্যাপারটা আশা করি এরা এখনো জানে না।

সপ্তাহ খানেক ধরে এক মনুষ্য দম্পতির দাম্পত্য জীবন নিয়ে বেশ ভাবছেন আশেপাশের অনেক মানুষ। যেহেতু আমরা এক সেকেন্ডেই সানি লিওনিকে ভাবতে পারি তাহলে অবশ্যই আমরা এই দম্পতিকে নিয়ে ভাবতে আমাদের বাধা নেই। ভাবনার শুরু হয় ডিভোর্স দিয়ে। এরপর একে একে সন্তানের ভরণপোষণ বা আবার সম্পর্ক জোড়া লাগানোর মতো ক্রিয়েটিভ সব ভাবনা। তবে খুব সম্ভবত এক্ষত্রে আবার যদি এই দম্পতি এক হয় তবে হিল্লে বিয়ে হবে কিনা এটা হয়তো এখনও কেও ভাবেন নি। তবে ভাববার বিষয় অবশ্যই। যেহেতু আমরা পশুপক্ষী না, সেহেতু আমাদের তো অনেক রীতি রেয়াওজ মানতেই হবে। আশা করি হিল্লে বিয়ের ব্যাপারটা নিয়েও প্রগতিশীল সমাজ একটা ইভেন্ট প্ল্যান করে ফেলবেন।

কেমন যেন লাগছে না লেখাটি পড়তে? যাই হোক। যেহেতু মনুষ্য সম্প্রদায় সেহেতু ভাবনা আমার আপনার অধিকার। একবার ভাবুন আপনার ভাবনা কতটা ভয়াবহ হলে কবুতর আপনাকে দেখে উড়ে যায়। একজন নারী শাড়ির আঁচল টেনে ধরে। আর যে দম্পতিকে নিয়ে সবাই নিজেদের ভাবনা অকাতরে সামাজিক মাধ্যমে উড়িয়ে বেড়াচ্ছেন তাতে তারা ঠিক কি দিয়ে ঢাকবে নিজেদের আমার জানা নেই। সানি লিওনির দত্তক মেয়েটা একদিন বড় হলে জানতে পারবে তার মা-বাবার পেশা কি ছিল। আর আপনাদের ক্রিয়েটিভ ভাবনার ফলে এই দম্পতির মেয়েটা জানতে পারবে তার মা-বাবা কে নিয়ে কি হয়েছিল। ভালো। বেশ ভালো। আমি জানি না বিষয়টা পশু-পক্ষী সমাজে হলে ওরা কিভাবে রিএক্ট করতো?

সাধারণ ডিসেন্সি বা সেন্স যখন কাজ করে না তখন তাকে মনুষত্ব বলা যায় না। আরেক জনের পারিবারিক সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত বাঙালির নিজের পরিবারের দিকে তাকাবার সময় হয় না। তবে আমার বিশ্বাস একদিন আমাদের দেশেও কবুতর গুলো রাস্তায় হেটে হেটে খাবার খাবে। আর মেয়েদেরও রাস্তায় শাড়ি বা ওড়নার আঁচল চেপে ধরে হাটতে হবে না। দেরী হলেও যেন ওই দিনটা দেখে যেতে পারি।

https://www.quora.com/Is-there-rape-in-the-animal-kingdom

https://www.animallaw.info/intro/custody-pets-divorce