ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 
lion1X

সিংহ যখন শিকার করে তখন শিকারের ঘাড় মটকে ধরে । এটা কমবেশি সবাই আমরা জানি । তবে বাঘ-সিংহের মতো প্রাণী যে ক্যারোটিড আর্টারির মতো ব্যাপার স্যাপার জেনে এই কাজটা করে এইটা অন্তত আমি মেনে নিতে পারি না । ক্যারোটিড আর্টারি হলো দুইটা ধমনী যা আমাদের গলার কাছে থাকে ।এই ধমনি যদি কাটা পরে তাহলে সাথে সাথে মস্তিষ্কের বায়ু আর রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় । ঠিক যে করণে আমরা মুসলিমরা প্রাণী জবাই করার সময় গলার এই ধমনী দুইটা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে দেই । আপাত দৃষ্টিতে সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রাণী হালাল করার একটা প্রাচীন প্রথা ।

kurbani 1

ধারালো ছুরি দিয়ে প্রাণীর গলার ক্যারোটিড আর্টারি কেটে দেয়া যে শুধু আমরা মুসলিমরা করি তা কিন্তু না । এই কাজটি জিউস বা ইহুদিরাও করে থাকে । তাদের এই কাজটিকে ওরা নাম দিয়েছে “কোশের”। যারা দেশের বাইরে থাকেন তারা কম বেশি এই কোশের শব্দটার সাথে পরিচিত । লন্ডন বা আমেরিকার দোকান গুলোতে হালাল আর কোশের এই শব্দ দুইটা আলাদা ভাবে মুসলিম আর জিউস দের খাবারের পার্থক্যকে বুজিয়ে দেয়। সে যাই হোক কোশের বা হালাল সব কিছুর নিয়ম হলো যত কম কষ্টে প্রাণীর জীবন নাশ করা যায় আর প্রাণীর শরীরের রক্ত যাতে ধমনী দিয়ে বের হয়ে যায় । বিশ্বাস করুন মাংসের ভেতর রক্ত যখন জমাট বেঁধে যায় তখন ব্যাপারটা মোটেই ভোজন যোগ্য হয় না ।

upkosher (1)

কোরবানির পশুর হালাল করার ব্যাপারটা প্রায় সব দেশেই একই রকম । যেমন একটা সবচেয়ে সাধারণ নিয়ম হলো কোরবানির সময় যেন এক পশুর সামনে অন্য পশুর জবাই দেয়া না হয় । এটা ইসলামিক নিয়ম এর মধ্যে পরে । যেহেতু এটা ইসলামিক নিয়ম সুতরাং ধরে নিচ্ছি এটাও ক্যারোটিড আর্টেরির মতো বৈজ্ঞানিক ভাবে সার্টিফাইড । ঠিক কি কারণে এক পশুর সামনে অন্য পশুর জবাই দেয়া যায় না তার সঠিক ব্যাখ্যা না জানলেও এটুকু জানি বাঘ বা সিংহ যখন শিকার করে তখন ক্যারোটিড আর্টারি ধরে টানতে টানতে ঝোপ ঝড়ের আড়ালে নিয়ে যায় নিজের শিকারকে । অন্য পশুরা যাতে ব্যাপারটা না দেখে । সুতরাং কোরবানীর পশু হালাল করার সময় আমরা মানুষ হিসেবে এইটুকু সম্মান প্রাণীর প্রতি দেখতেই পারি । এটা তেমন কিছুই না । একটা কাপড় দিয়ে দৃশ্যটা আড়াল করে দিলেই হয় । মাত্র কয়েক মিনিটের বিষয় ।

আমাদের পাড়ায় এক বড় ভাই ছিলেন যিনি প্রায় প্রতিটা কোরবানির সময় প্রাণীর মায়ায় পরে যেতেন । উনাকে হয়তো ক্যারোটিড আর্টারির বিষয়টা কেও কোনো দিন ব্যাখ্যা করেন নি । এই রকম বড় ভাইয়ের দল প্রায় সব পাড়াতেই কম বেশি থাকে । উনাদের দৃষ্টি থেকেও পশুকে আড়াল রাখা অতীব জরুরি । আমাদের এতো পবিত্র একটা স্যাক্রিফাইস নিয়ে কেও মায়া মাখিয়ে কথা বলুক তা আমরা কখনোই চাইতে পারি না । এখনকার শহরতলিতে কোরবানি করা মানে শত শত লোকজন বাসা বাড়ির বারান্দা থেকে তাকিয়ে থাকা । আমরা চাইলেই পশু জবাইয়ের অংশটুকু একটা পর্দা বা কাপড় দিয়ে আড়াল করে রাখতে পারি । এটা কতটা যুক্তি সঙ্গত আমি জানি না । তবে যেহেতু ধর্মীয় নিয়ম এটি । পালন করলেই হয় ।

সূত্র:

http://shariahqurbani.com/method-of-slaughter/
http://www.grandin.com/ritual/kosher.slaugh.html