ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

16299348_1224477037639840_6108573987072620475_n

যখনই বড় কোন সংবাদ সরকারকে বিব্রত করে ফেলে এই সরকার অন্য সরকারগুলোর মতো সহজে ঘাবড়ে যায় না। সংবাদের বিপরীতে সংবাদ তৈরি করে। এটা বর্তমান সরকারের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। রামপাল নিয়ে হরতাল হল, মিডিয়া কর্মীদের উপর পুলিশি হামলা হল, সরকারকে মিডিয়া প্রায়ই কোনঠাসা করে ফেলেছে এমন অবস্থা। ঠিক সেইসময় চমকদার সংবাদ দিয়ে ঘুরিয়ে দেয়া হল দৃষ্টি। সরকার প্রধানের ভ্যান সফর! আর সেই খবর ফুলিয়ে ফাপিয়ে রসকষ দিয়ে সাথে আবার ঝোলাগুড় দিয়ে পরিবেশন করা হলো। আরো কত কাণ্ড সেই ভ্যান আর ভ্যানওয়ালাকে নিয়ে! সবাই রামপাল রেখে শুরু করল ধন্য ধন্য বলি তারে।

আসলে আমরা খুব সহজে এক সংবাদ থেকে আরেক সংবাদে প্রভাবিত ও প্রবাহিত হই। এটা আমাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বর্তমান সরকার তা ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। আর সেই আলোকে প্রতিটি সংবাদকে অন্য সংবাদ দিয়ে মোকাবিলা করছেন। যা অনেকটা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মত।

কেন মনে হচ্ছে সংবাদ তৈরি করা?

১. প্রধানমন্ত্রী ভ্যানে যাচ্ছেন পরিবার পরিজন নিয়ে সাধারণ বেশে। যেতেই পারেন। এ ধরনের নাটক রাজনৈতিক নেতাদের নতুন নয়। কিন্তু হঠাৎ এর কারণ কি? সোজা উত্তর- সংবাদ তৈরি করা।

২. ভ্যানওয়ালাকে কেন এতো গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে? সোজা উত্তর- সে এ নাটক করে সেলিব্রেটি। তার একটা সম্মানী আছেতো।

৩. ভ্যান কিন্তু আরো কয়েকটা ছিল। শুধু প্রধানমন্ত্রীর ভ্যানওয়ালাকে কেন এত সুবিধা দেয়া হল? সোজা উত্তর। আতরের পাশে থাকলে আতরের গন্ধ বের হয় যেমনি তেমনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে থেকে সে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ ভ্যানওয়ালা প্রমাণ করে সার্টিফিকেট দিয়ে অন্যরকম সংবাদ তৈরির জন্য। তাছাড়া বেকারত্বের এই দেশে অজস্র ভাল ভাল উচ্চশিক্ষিত বেকারদের রেখে এই ভ্যানওয়ালার জন্য আলাদ দরদ কেন? উত্তর সোজা- সংবাদ তৈরি করা।

আচ্ছা আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি মওলানা ভাসনীকেও ছাড়িয়ে গেল? মওলানা ভাসানীর গোসলের আর রান্না করার দুটি ছবি ফেসবুকে কমন। সাদামাটা জীবন বুঝাই যায়। কৃত্রিমতা নাই। অথচ ভ্যান ভ্রমণের ছবিটার দিকে তাকালেই এর কৃত্রিমতা চোখে পড়ার মত।

৪. ভ্যানওয়ালাকে বিমান বাহিনীতে চাকুরী দেয়া হলো। কথা হলো ভ্যানওয়ালা কি বলেছিল যে আমি বিমান বাহিনীতে ঢুকতে চাই? টিভিতে দেখলাম সে বলছে, আসল কথা মানে তার অভাব অনটনের কথাই সে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে পারেনি। হঠাৎ করে তাকে শুধু বিমান বাহিনীই কেন চাকুরি দিতে গেল? সোজা উত্তর- কেবলমাত্র পূর্বে কান্টাক্ট করা হলেই এটা সম্ভব। দেশের বীরশ্রেষ্ঠর সন্তান যখন দিন আনে দিন খায় অবস্থা, তখন প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ভ্যানওয়ালাকে এমন রাজকীয় সম্মাননা সত্যিই হতবাক করে। ভ্যানটি মিউজিয়ামে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কথা হল বীর শ্রেষ্ঠদের বাড়ি ঘরগুলোকে কেন ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করা হল না? বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারদের আলাদা করে সরকারী ফ্লাট বরাদ্দ করে, তাদের বাড়ি ঘরগুলো সংরক্ষণ করা যেতো। খালি নাটক! সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার মানসিকতা।

৫. মিডিয়াতে বিষয়টি ফোকাস হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু অস্বাভাবিক ফোকাস সন্দেহ উদ্রেগ করে।

উল্লেখিত বিষয়গুলো সত্যি নাও হতে পারে। আবার হতেও পারে। তবে এটা সত্যি যে, মিডিয়া কর্তৃক কোনঠাসা হয়ে যাওয়া থেকে নিজেদের ইমেজ রক্ষাকল্পে ঢাল সরূপ এ সংবাদকে অস্বাভাবিক হাইলাইট করা হয়েছে। এখনতো মা বেকার ছেলেদের বকা দিবে এই বলে যে, ‘চাকরি পাসনা ভালো কথা, ঘরে বইসা অন্ন ধংস না কইরা ভ্যান চালাইতে পারস না? তাইলেতো একটা গতি হইতো।’