অলিন এর বাংলা ব্লগ » শেয়ার মার্কেট ও বাংলাদেশ ব্যাংক» blog.bdnews24.com – pioneer blog for citizen journalism in bangladesh | বাংলাদেশে সিটিজেন জার্নালিজম ভিত্তিক ব্লগের পথিকৃৎ  
ঢাকা, বুধবার, ১৬ মে ২০১২, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯

       
অলিন
আমার নাম ...

শেয়ার মার্কেট ও বাংলাদেশ ব্যাংক


ক্যাটাগরী: 

বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শেয়ার বাজারে ঢালওভাবে ব্যাবসা করার সুযোগ দিয়ে একটা bubble সৃষ্টি করে ২০১০ এর ডিসেম্বরে ক্রেডিট রেশিও ৮২ তে নামিয়ে আনে । যথা সময়ে ব্যাংকগুলো বিরাট অংকের মুনাফা করে শেয়ার মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসে। বিপদে পরে ব্যাপক সংখ্যক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী । শেয়ার মার্কেটের পতন রোধের জন্য SEC পুনঃগঠন সহ সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা না থাকায় কোন উন্নতি হয় নাই।

ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন জন DG র মেয়াদ শেষ হয়। এই তিন ডেপুটি গভর্নরের ১ জন ২০০২ সালের BNP আমলে, ১ জন ২০০৬ সালের BNP র দ্বিতীয় দফার শেষভাগে এবং ১ জন ২০০৭ সালে কেয়ার টেকার সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি ও কেয়ারটেকার আমলে নিয়োগ পাওয়াদের বাতিল করবে এমনটাই আশা করা হয়েছিলো। কিন্তু বাস্তবে তা হয় নাই। বলা বাহুল্য তারা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্তে থেকে এই সরকার তথা দেশের বিপক্ষে কাজ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটি বিশেষায়িত পদ। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা এই পদের জন্য খুবই দরকার। কিন্তু ডঃ আতিউর রহমানের কোন প্রশাসনিক পদে চাকরি করার কোন অভিজ্ঞতা নেই।শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনি এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তাই তাকে বাধ্য হয়ে বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক আমলে নিয়োগ পাওয়া ডেপুটি গভর্নর ও অর্ধ ডজন কনসালটেন্টের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংক পরিচালনা করতে হচ্ছে।

২০০৯ ও ২০১০ সনে কি কারনে ট্রেজারি বিলের রেট কমানো হয়েছিলো তা খতিয়ে দেখলেই মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। সেই সময় কল মানি রেট ১% এ নামিয়ে আনা হয়েছিলো। টার্ম ডিপোজিট ৫/৬% এ নামিয়ে আনল। এ সবের মাধ্যমে মার্কেটকে অতি মূল্যায়নের দিকে ধাবিত করা হয়। পিডি ব্যাংকগুলো প্রতি সপ্তাহে ট্রেজারি বিলে বিনিয়গের ক্ষেত্রে লোকসান দিত আর এ লোকসান কাটিয়ে উঠার জন্য তারা স্টকে অতিরিক্ত পজিশন নিতে বাধ্য হয়েছিলো। যে মুহূর্তে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হল তখনি সিআরআর বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ কমিয়ে ব্যাংকিং সেক্টরএ তারল্য সংকট তৈরি করে মার্কেটের লাগাম টানতে গিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পথে বিসিয়েছে। ডিসেম্বরএ এসএলআর ছিল ১৯% ও সিআরআর ছিল ৬%। তার পূর্বে সিআরআর ছিল ৫. ৫%। তারল্য সঙ্কটের এটা একটা বড় কারন। ০.৫% সিআরআর কমালে ব্যাংকগুলোর কাছে ২৫০০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য থাকবে। তাতে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। পিডি ব্যাংকগুলো গত ২ বছরে ট্রেজারি বন্ডে মার্ক টু মার্ক লোকসান দিয়েছিল। আর এই সিদ্দান্তগুল সদ্য অবসরে যাওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরদের।

এবার আসি নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ডেপুটি গভর্নরদের বিষয়ে। কয়েকদিন আগে সরকার সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরি , আবু হেনা রাজি হাসান ও নাযনিন সুলতানাকে তিন বছরের জন্য বাংলদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসাবে নিয়োগ দেয়।

সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরি

শেয়ার মার্কেটের কেলেঙ্কারির জন্য নির্বাহী পরিচালক থাকা অবস্থায় অনেকেই তাকে দায়ি করেন। উনি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে প্রতি মাসে আইটেমওয়ারি রিটার্ন দাখিল করার বিধান চালু করেন। আর এ কারনে
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো দীর্ঘ মেয়াদী কোন পরিকল্পনা করতে পারছে না ।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের দাবীর প্রেক্ষিতে এসইসি ও সরকারের চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক single brower exposure limit adjustment এর সময়সীমা ২০১৩ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত বারালেও এস কে সুর সাহেব এর মধ্যে “অতিরিক্ত পজিশন নেওয়া ব্যাংকগুলো নতুন করে পজিশন নিতে পারবে না ” এই শর্তটি জুড়ে দেন যা পুরো নির্দেশনাটাকেই বাতিল করে দেয়।

সুর সাহেবের নির্দেশনাতেই সিডিআর কমানো ও সিআরআর বাড়ানো হয় যা বাঙ্কগুলতে তারল্য সঙ্কট তৈরি করে।

নাজনিন সুলতানা

কম্পিউটার বিভাগের জন্য সৃষ্ট এক পদে নির্বাহী পরিচালক হিসাবে পদন্নোতি পেয়ে উনি এক বছর আগে অবসর গ্রহন করেছেন যদিও তার কম্পিউটারএর উপর কোন ডিগ্রি নাই।

তিনি প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এর শ্যালক আব্দুল কাইউম মুকুলের স্ত্রি।

আবু হেনা রাজি হাসান
উনার ৬০% কিডনি অকেজো হবার পরও সুধুমাত্র আতিউর রাহমানের জামালপুরের লোক হবার কারনে উনি পদন্নোতি পান।



সর্বমোট ১৬টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Image-Unavailable ইসলামুল শফিক বলেছেন: 1

    মিঃ অনিল, আপনার লিখার পূর্বাংশ নিয়ে কোন মন্তব্য নেই। তবে দ্বিতয় অংশের ডিজি নাজনিন সুলতানা সম্পর্কে যা লিখেছেন তা সম্পূর্ণ নয়। সম্পূর্ণ না হলে আপনার লিখাটি নেতিবাচক অর্থ প্রকান করবে। আপনি নাজনিন সুলতানা সম্পর্কে ভাল করে খোজ খবর নিন তার পর মন্তব্য করুন। আমার মনে হয় সব জানলে আপনি “হা” হয়ে যাবেন।

  2. Image-Unavailable লেখক বলেছেন: 2

    আপনাকে ধন্যবাদ জনাব শফিক। আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি “অন্তত” নাজনিন সুলতানা বিষয়ে নেগেটিভ লিখতে চাইনি এবং লিখিনিওনি।
    আমার মূল বক্তব্বের সাথে ধারাবাহিকভাবে উনার প্রসঙ্গ চলে আসার কারনে আমি যতটুকু জানি বা জেনেছি তাই উল্লেখ করেছি মাত্র।

  3. Image-Unavailable লেখক বলেছেন: 3

    তবে এতটুকু বলতে পারি উনি আওয়ামী ঘরনার নন।

  4. Image-Unavailable kawserahmed বলেছেন: 4

    আমার মনে হয় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক মূল কালফিট.লেখক কে ধন্যবাদ.

  5. Image-Unavailable মাহি জামান বলেছেন: 5

    শেয়ার বাজার নিয়ে সাম্প্রতিক যে কোন আলোচনায় উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ার বাজারের বর্তমান পরিণতির জন্য অনেকাংশে দায়ী। কিন্তু এর প্রকৃত কারন সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের অজ্ঞতা রয়ে গেছে। ২০০৯ ও ২০১০ সালে যখন শেয়ারবাজারের সূচক অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল তখন বিনিয়োগকারীদের সতর্ক না করে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক মারাত্মক অযোগ্যতা এবং অদূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু কোন কিছু না বুঝে বিনিয়োগকারীর যে ভাবে মরিচিকার পেছনে ছুটে নিঃস্ব হয়েছে তার দায় তাদেরই সবচে বেশী। তারা কখনোই বুঝতে চেষ্টা করেনি যে শেয়ারবাজার বিনিয়োগের জায়গা ব্যবসার জায়গা নয়। শেয়ারবাজারে ন্যুনতম ১৩ মাসের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করলেই কাউকে বিনিয়োগকারী বলা যায়। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হল বছর শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মুনাফার শেয়ার অনুযায়ী অংশ ডিভিডেন্ট বা বোনাস আকারে লাভ করা। অথচ আমাদের দেশে শতকরা ৯৯জন বিনিয়োগকারী কয়েকদিন পরই দাম বাড়বে এই প্রত্যাশা নিয়ে শেয়ার কিনেন। এটি চরম মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়। ১০ টাকা এক একটি শেয়ার ১ শত টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত কেনা হয়। এমন মুর্খতা আর পাগলামির শাস্তিই এখন তারা ভোগ করছে। ব্রোকারেজ হাউজ গুলোর কমিশন বাজীর প্ররোচনায় পড়েও অনেকে বিভ্রান্ত হয়। তাদেরও শাস্তি হওয়া দরকার।

  6. Image-Unavailable sazzad rayhan বলেছেন: 6

    আতিক সাহেব এর উচিৎ প্রশাসনিকভাবে অজ্ঞ
    হওয়ায় এই গভর্ণর পদ ছেড়ে দেয়া।

  7. Image-Unavailable নাগরিক বলেছেন: 7

    লেখক,
    এদ্দিন পর শেয়ার বাজার নিয়ে একটু লেখার চেষ্টা করেছেন সে জন্য ধন্যবাদ । এ বিষয়ে আপনার সমালোচনা বা আলোচনা আরো ব্যপক হওয়া উচিৎ ছিল বলে আমি মনে করি । হাজার হাজার কোটি টাকা যেখানে লোপাট, লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী যেখানে মৃর্তূ দুয়ারে সেখানে যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০২, ২০০৬ এবং ২০০৭ এ নিয়োগকৃত ডিপুটি ডাইরেক্টরদের মধ্যে বিএনপির গন্ধ না খুঁজে দেশের শেয়ার বাজারে ১৯৯৬ এবং ২০১০-১১ সালে ঘটে যাওয়া বিপর্যয় এবং এর পেছনে তখন হতে এখন পর্যন্ত প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কারা জড়িত তাদের সম্পর্কে দু’চারটি কথা লিখতেন তাহলে মনে হয় সকলের কাছে ভালো লাগত এবং ভালো লাগলেই গ্রহণযোগ্য হত বলে আমার বিশ্বাস । আসলে দেশে আপনাদের মত একটা গ্রুপ আছে যারা জলজ্যান্ত সত্যকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য নানাবিধ অপচেষ্টায় লিপ্ত থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন এটা খুবই দু:খজনক । বাংলাদেশ ব্যাংকের এ পরিচালক মহোদয় যখন আগের সরকারের আমলে নিয়োগকৃত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেইতো হয় । উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানের স্বভাব আমাদের দেশে এখন একটা রাজনৈতিক সংস্কৃতি যা হতে আপনি এবং আমি সবাই অনুপ্রাণীত হচ্ছি । সে যাক মুল কথা আমাদের শেয়ার বাজার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ।
    বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণসময় ডিএসই সাধারণ সুচক তিন হাজারের নীচেই ছিল । আওয়ামীলীগ ক্ষমতা গ্রহণ করার পর পরই বাজার অশ্বের দৌড়ের মত বাড়তে থাকে । বাংলাদেশ ব্যাংক হতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে আমানতের বিপরীতে প্রদেয় সুদের হার কমাতে কমাতে শতকরা ৮ ভাগ এ পৌঁছে । উদ্দশ্য বিনিয়োগ । তবে কোথায় । শেয়ার বাজার না-কি শিল্প খাতে । এ বিষয়গুলো বাংলাদেশ ব্যাংক কি তখন খতিয়ে দেখেছিল ? না, দেখেনি । এদিকে বাজারের উর্ধমুখী প্রবণতা যেন থেমে নেই । অন্য দিকে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগকারীদেরকে যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করার অনুমতি দেয়া ছিল তারা কি তা যথাযথভাবে পরিপালন করছে ? এ সব দেখার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের নয়কি ? সুচক উঠল ৪ হাজারে, ৫ হাজারে, ৬ হাজারে, ৭ হাজারে, ৮ হাজারে এবং ৯ হাজারে । এ ধাপগুলোর ৮ম স্থান পর্যন্ত কোথাও কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক তার সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট এডজাস্টমেন্ট-এর কথা কার্যকরিভাবে বলেনি, বলেনি এসইসি । অবশ্য এসইসি সকাল বিকাল ঋণসীমা নির্ধারণ নিয়ে অনেক চেষ্টা করেও কি এক অদৃশ্য কারণে ব্যর্থ হয়েছে । এ সুযোগে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো নিজে এবং অমনিবাস একাউন্টের মাধ্যমে সীমাতিরিক্ত ঋণ প্রদান করে বাজারকে স্মরণকালের বিপদজনক স্থানে নিয়ে যায় আর তখন বাজারে অনুপ্রবেশ করে এদেশের লক্ষ বেকার যুবকের দল যারা পড়াশুনা শেষ করেও একটা চাকরি যোগাড় করতে পারেনি, তারা । রাজধানী হতে বিভাগীয় শহর অত:পর জেলা এবং উপজেলা শহর পর্যন্ত গড়াল শেয়ার বাজরের বিস্তৃতি । তখন ডিএসই সাধারণ সুচক ৯ হাজার ছুঁই ছুঁই এবং ঠিক তখনই বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করল তার আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করার এখনই সময় । ঠিক তাই হল আর মানুষের শেষ সম্বল বলির পাঠা হতে শুরু করল । আওয়ামীলীগ সরকারের শেয়ার বাজার নিয়ে একটা ক্ষত এমনিতেই রয়েছে(১৯৯৬) । তাহলে বাজারটা যখন পাগলা ঘোড়ার মত চলতে শুরু করল তখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি মহোদয়গণ কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি ? বাজার নিয়ন্ত্রণকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান আইসিবি কি করেছিল ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ? কারা তখন ঐ সব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিল ? সরকারী শেয়ারই বা বাজারে আসল না কেন ? ব্যাংক সুদের হার কমিয়ে দিয়ে ব্যাংক হতে টাকা বের করে দেয়ার পথটি কেন করা হয়েছিল ? আর শেয়ার বাজারে আসা এত তারল্য কোথায় গেল ? টাকা কি হাওয়া হয়ে গেল ? এখনতো বৈদেশিক মুদ্রা ডলারও লাপাত্তা । কেন কেন কেন ?
    জনাব ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিতে সব বের না হলেও অনেক কিছু বেরিয়ে এসেছে কিন্তু তার কোন বাস্তবায়ন হয়েছে কি ? বাজার খারাপ হলেও আজ যদি জনাব খালেদের সুপারিশ বাস্তবায়ন হত তাহলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ পানে তাকিয়ে হয়তো কিছুটা হলেও আস্বস্থ হত । না কিছুই হয়নি । সরকারের অনুগত এফবিসিসিআই নেতারাই যখন টাকার জন্য, ডলারের জন্য হাহাকার সংবাদ দেয় তখন দেশের অবস্থা কেমন অনুভব করা যায় ? এখনতো মনে হয় শেয়ার বাজার স্ফীতকরণের মাধ্যমে টাকা উদাও হয়ে দেশ বর্তমান অবস্থায় উপণীত হয়েছে । তাহলে এসইসি,আইসিবি,বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থমন্ত্রণালয় সবাই কি এক হয়েই বাজারের অধ:পতন এনেছেন ? বিনিয়োগকারী দুইজন ইতিমধ্যে বিদায় নিয়েছে । আর কতজন লাইনে আছে হয়ত কেউ জানেনা । কিন্তু বহাল তবিয়তে আছেন কর্তা ব্যক্তিরা, সুখে আছেন তাদের সহযোগী অতিচেনা ব্যক্তিরা যারা আবার সুযোগ নেবে ক্ষমতার মহিমায় ।
    পরিতাপের বিষয় আমরা এ পর্যন্ত শেয়ার বাজারকে স্থিতিশীলতায় আনতে কোন সমন্বিত প্রচেষ্টা দেখিনি । তবে দেখেছি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আর্তনাদ । তারা রাস্তায় নেমেছে । তাদেরকে পুলিশ পিটিয়েছে, মামলা হয়েছে । এখন তারা আর রাস্তায় নামেনা, আন্দোলন করেনা । দুকরে দুকরে কাঁদে, আত্মহত্যা করে । এভাবে আর কতদিন ।

  8. Image-Unavailable জহিরুল Islam বলেছেন: 8

    অসাধারণ ekti আরটিকাল। বর্তমান এই এক শ্রীনির দালাল সরকারের পক্ষ hoye গায়ের jore যা মনে ছয় tai likhe। সাধারণ মানুষের পক্ষে সাহসী কথা বলার ব্লগার তেমন নেই। লেখক ক অনেক দন্যবাদ
    জহিরুল ইসলাম

  9. Image-Unavailable লেখক বলেছেন: 9

    ধন্যবাদ সবাইকে। আসলে যোগাযোগ মন্ত্রনালয় তথা আবুল হোসেন ইস্যু , বিডিআর বিদ্রোহ, খালেদা জিয়ার বাড়ির ইস্যু, তারেক জিয়া ও কোকোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা সহ কোন ইস্যুই গত তিন বছর পাব্লিক সেন্টিমেন্ট এভাবে সরকারএর বিরুদ্ধে যায়নাই। শুধুমাত্র আর্থিক খাতের কারনেই সরকারের জনপ্রিয়তা আজ এই দশা।
    তাই এই সেক্টরের বাবস্থাপনার উপর সরকারের অনেক বেশি খেয়াল করা উচিত। সরকার যদি পাবলিক সেন্টিমেন্টকে গুরুত্ব দিয়ে আবুল হোসেনকে সরিয়ে দিতে পারে তাহলে আজ যেই খাতের জন্য সরকারের জনপ্রিয়তা প্রায় শূনের কোঠায় সেই খাত নিয়ে কোন সিদ্দান্ত কেন নিতে পারছে না।

  10. সিনথিয়া বলেছেন: 10

    আমরা মানে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কারী রা কী নির্বোধ । শেয়ার বাজার যে বিনিয়োগের জায়গা ব্যবসার জায়গা নয় এটা বুঝি না । আমাদের কে যারা বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা দিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে আমন্ত্রণ জানালেন তাদের কী কোনও দায় নেই ? অবশ্য তাদের চতুরতা র কাছে আমাদের নির্বুদ্ধিতা স্বীকার করতে হয় । দুই বার শেয়ার বাজার ধসের বিচার যদি বর্তমান / আগামী সরকার না করে তবে রাজনীতিবাজ দের পরিনতী কী হয় তা দেখার জন্য ও কোন রাজনীতিবাজ খুঁজে পাওয়া নাও যেতে পারে ভবিষ্যতে । যারা নিস্ব হয়েছেন , যাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে তারা যখন গর্জে উঠবে সে ধাক্কা সামলাবার শক্তি কারো থাকবে কী ? গানের ভাষায় বলতে হয় ,” একদিন মাটির ভিতরে হবে ঘর রে মন আমার কেন বাধো দালান ঘর রে মন আমার ” । কিছুই নিতে পারব না জানি তারপর ও আরো চাই মানসিকতা বদলাতে হবে সবাইকে ।

  11. Image-Unavailable লেখক বলেছেন: 11

    সাবাস সিন্থিয়া। আপনার কথায় সাহস পেলাম। ২০১০ এর ডিসেম্বর মাসে পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্ট থেকে ব্যাংকগুলো ১২০০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে ৪২০০ কোটি টাকা মুনাফা করে।এই টাকা আর মার্কেটএ না আসায় মার্কেটে ধস শুরু হয়।

  12. সিনথিয়া বলেছেন: 12

    সবাই কে চুপি চুপি বলছি , বর্তমানে সরকারের নীতি অনুযায়ী সব পরিচালক রা শেয়ার কিনছে । অপেক্ষা করুন ওনাদের কেনা শেষ হলে শেয়ারের দাম বাড়তে বাধ্য । বিশ্বাস হচ্ছে না ? দেখবেন নির্বাচনের আগে দাম বাড়বে তখন কয়দংশ বিক্রী করে প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় মেটাবেন । 33 লক্ষ সাধারণ বিনিয়োগ কারী , দয়া করে এখন বিক্রী করবেন না একেবারে নিরুপায় না হলে । আমরা যে সরকারের কু নীতি / কু মতলব বুঝে গেছি তা যেন সরকারের কেউ না জানে । দাম তুঙ্গে থাকার সময় পরিচালক দের শেয়ার কিনতে হলে দেখতাম কয়টা ঘোষণা আসে । আমরা আর বলির পাঠা হতে চাই না । নিঃস্ব হবার ও পড়ে আর কোন স্তর আছে কী ? কী জানি হয় তো ঋণাত্তক একটা অবস্থাও আমাদের জন্য আগে থেকেই ঠিক করা আছে !!!! এই সুবিধাবাদী রাজনীতিবাজ দের অন্তত আমি বিশ্বাস করি না । যদি ও জানি কেউ চাক বা না চাক এই রাজনীতিবাজ রাই দেশ ও আমাদের শাসন করবেন এবং অবশ্যই তা কু ভাবে ।

  13. Image-Unavailable ইসলামুল শফিক বলেছেন: 13

    দেশ চালায় সরকার, সরকার যা চায় তাই হয়। সরকার চেয়েছে শেয়ার বাজার চাঙ্গা হউক, হয়েছে আবার চেয়েছে ভাঙ্গা হউক ভেঙ্গেছে। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি’র কিছু করার নেই। পেছনে কে কলকাটি নারায় তা দেখা উচিত। সবাই বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে মেতে আছেন। বাংলাদেশ দেশ ব্যাংক মানি মার্কেট নিয়ন্ত্রন করে। শেয়ার মার্কেট নয়। শেয়ার মার্কেট তাদের ফিল্ড নয়। শেয়ার মার্কেট নিয়ন্ত্রণকারী একমাত্র সংস্থা হলো এসইসি। যারা শেয়ার মার্কেট ধস নামার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক দায়ী করছেন, তাদের কেহ না বুঝে করছেন আর কেহ আছেন যারা এসইসিকে কবজা করে বিভিন্নভাবে মার্কেট নিয়ন্ত্রন করেছেন এবং টাকা পয়সা দুহাতে কামাইছেন।এখন বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করে এসইসিকে আড়াল করছে। কারণ এসইসিকে নিয়ে বেশী ঘাটাঘাটি করলে হয়তোবা অনেকেরই নাম চলে আসবে।শেয়ার বাজার যারা ধস নামানো জন্য দায়ী তাদেরকে তো প্রায় সবাই জানে। কিন্তু তাদের বিচার হচ্ছে না কে? তাদের বিচার কখনো হবে না। কারণ তারা নিজেরাই সর্বেসর্বা। শেয়ার বাজার ধসের জন্য কোন প্রতিষ্টানের আইন বা অবস্থান দায়ী নয়। দায়ী হলো খেলোয়াররা। এবং এ খোলোয়ারগণ কারা তা বুঝতে চেষ্টা করুন।বাংলাদেশ ব্যাংক বা এসইসিতে যারা আছেন তারা সবাই সরকারের হুকুমের চাকর। সরকার যা চায় তারা তাই করে। তারা ভুল করলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত। যাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি তাদের কোন দোষ সরকার পাননি।

  14. ত্রিনান্তর বলেছেন: 14

    আলোচনার মধ্যমনি এসইসি’র থাকার কথা সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক! :(
    সবাই কেন জানি এসইসি কে হাইড করতে চাচ্ছে, সেটাই পরিষ্কার হচ্ছে না, কোনভাবেই।

  15. Image-Unavailable লেখক বলেছেন: 15

    ১। আমি মোটেও বলতে চাচ্ছি না বাংলাদেশ ব্যাংকই শেয়ার কেলেঙ্কারির জন্য একমাত্র দায়ী। আমি শুধু এই কেলেঙ্কারির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে তা বলতে চাচ্ছি।

    ২। ইসলামুল শফিক বললেনঃ ” বাংলাদেশ দেশ ব্যাংক মানি মার্কেট নিয়ন্ত্রন করে। শেয়ার মার্কেট নয়।” কিন্তু ভাই বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন আত্মঘাতী সিদ্দান্তের জন্য যদি আমাদের কাছে “মনি”ই না থাকে তাহলে আমরা শেয়ার কিনব কি দিয়ে।

    ৩। এসইসি অবশ্যই দায়ী। কিন্তু আমাদের এটাও বুজতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এসইসি কে সাহায্য সহযোগিতা না করে তাহলে শেয়ার মার্কেটের কার্যকর উন্নতি হবে না।

    ৪। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি , সুদ হার নীতি অবশ্যই এসইসির সাথে পর্যালোচনা করে নিতে হবে।

  16. Image-Unavailable ইসলামুল শফিক বলেছেন: 16

    বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তার কাজের পরিধি সমগ্র বাংলাদেশ। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ একটি অভাবী দেশ। তার আয়ের সাথে ব্যয়ের কোন মিল নেই। যাকে বলে নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা। এমনি অবস্থার একটি দেশের অর্থনীতি ঠিক রাখা খুবই কঠিন কাজ। তার পরও তো বাংলাদেশ এগুচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন মুদ্রা নীতি ঘোষনা করে তখন 15 কোটি মানুষের কথা মাথায় রেখে প্রনয়ন করে। শুধুমাত্র ত্রিশ লক্ষ শেয়ার বাজার বিনিয়োগকারীর কথা চিন্তা করলেই হবে না।মুদ্রা নীতি ঘোষনাকালে চিন্তা করতে হয় দেশের বিনিয়োগ, মুদ্রা স্থিতি, দ্রব্যমূল্য ইত্যাদি। একটিতে হাত দিলে অন্যটি বেহাত হয়ে যায়। অভাবী সংসারে যা হয়।তার উপর যদি ফাউল গেইমারা যদি পূর্ণ< ক্ষমতায় সক্রিয় থাকে তা হলে কোন প্রতিষ্ঠান বা নীতিই কাজে আসবে না। সর্বোপরি, শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ, ইউনিপে টু বাংলাদেশ এ বিনিয়োগ এগুলিতো অতি লাভের আশায় কোন আগপিছ চিন্তা না করেই করা হয়েছে। যদিও শুনতে খারাফ লাগে। তা শেয়ার বাজারের বিষয় নিয়ে আর বেশী দোষাদোষি করে লাভ নেই। কারণ এদেশের কিছু লোকে চাহিদা হলো “ ওলট পালট করে দে মা, লুটেপুটে খাই” সবাইকে ধণ্যবাদ

http://blog.bdnews24.com
নিবন্ধিত ব্লগাররা মন্তব্য করতে লগইন করুন। এছাড়া ফেসবুক, টুইটার, গুগল অথবা ইয়াহু আইডি দিয়ে লগইন করে মন্তব্য করতে পারেন।
আপনার নাম *
ই-মেইল*
মন্তব্য*
captcha image কেপচা টেক্সট লিখুন

Icon
এক নজরে

অলিন

ব্লগে যোগদান করেছেন: রবিবার, ২ অক্টোবর ২০১১

Icon
সর্বশেষ ফটো
কোন ফটো আপলোড করা হয় নি
Icon
সর্বশেষ ভিডিও
কোন ভিডিও আপলোড করা হয় নি
Icon
সর্বশেষ অডিও
কোন অডিও আপলোড করা হয় নি
favorite
পছন্দের পোস্টসমূহ
কোন পোস্ট পছন্দের তালিকায় যুক্ত করা হয়নি

25