ডাক্তারদের বাজে লেখা ও আমাদের মানসিকতা

একজীবনে ডাক্তারদের হাতের লেখা দেখার সৌভাগ্য কমবেশী সব মানুষেরই আছে। এমনকি এক ডাক্তার অন্য ডাক্তারেরও হাতের লেখাও দেখেছেন বলেই বিশ্বাস করি। এটা ঘটে প্রেসক্রিপশন আকারে। কিন্তু সবাই একবাক্যে এটাও স্বীকার করি যে, ডাক্তারদের হাতের লেখা খারাপ! কেন? এর রহস্য কী? আমরা যারা কমবেশি লেখাপড়া জানি, তারা সবাই নিজ হাতেও লিখতে পারি। এবং এটাও জানি আজ… Read more »

এটা কিচ্ছু না! (পর্ব-২)

যখন সাঁওতালদের ঘর পোড়ে, গুলি করে মেরে ফেলা হয়; তখন আমরা বলি, হায়! হায়! এসব করছেন কী? এই ভুখা-নাঙ্গা মানুষগুলোর উপর নির্বিচারে গুলি করছেন? পুলিশ কেন তাদের সামান্য কুঁড়ে ঘরেও আগুন দিচ্ছে? তখন আপনারা বলেন, এটা চিনিকলের জায়গা, ওরা জোড় করে দখল করে রেখেছে! আমরা বলি, তাই যদি হয় তাহলে বিজিএমইএ বিল্ডিংটা ভাঙছেন না কেন?… Read more »

এটা কিচ্ছু না! (পর্ব-১)

যখন শেয়ার মার্কেট লুট করা হয়! তখন আমরা চিল্লাই আর আপনারা হাসেন! বলেন, এসব কিচ্ছু না! সব দুষ্টুদের রটনা! জুয়া খেলতে আসলে তো এমন হবেই? যখন সেই লুটেরাদেরই আপনারা ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। তখনো আমরাই চিল্লাই; আর আপনারা হেসে বলেন, মূর্খরা শুধুই চিল্লায়! ওরা জানে ইনি কে, কী তার মেধা! যখন সোনালী, জনতা, বেসিক, অগ্রণী,… Read more »

ঝোলাগুড়

থার্টিফার্স্টের উপলক্ষ্য দেখাইয়া বসকে কইলাম, তাড়াতাড়ি ছুটি দ্যান, রাতে কার্ফু। জানগা! কওয়া মাত্র ব্যাগ লইয়া হাঁটা দিলাম। বাসার গলির দিকে মুভ করতেই, কানে আসলো- “যশোরের খাঁটি ঝোলাগুড়, লইয়া যান মামা”। শুইনাই কান খাঁড়া হইলো! তাকাইয়া কইলাম, দাম কত? উনি কইলো, একশো সত্তুর! কইলাম, গুড়ের দাম একশো সত্তুর? খেজুর গাছের লগে ফাঁসি লমু! আর গুড় থুইয়া… Read more »

এবং ভিসিআর ইফেক্ট

আমাদের শৈশব ও কৈশোর কালটা কেটেছে পুড়োটাই পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে। আবার এক ধরনের স্বাধীনতাও আমরা উপভোগ করতাম। একে গ্রাম্য ভাষায় যদি বলি, তাহলে বলতে হয় “ছাড়া গরুর মত করে আমরা বড় হয়েছি”। অর্থাৎ গৃহপালিত ছিলাম ঠিকই কিন্তু গলায় দড়ি ছিল না! ফলে সুযোগ পেলেই ঘাস খাওয়ার সুযোগে অন্যের জমির দুই-চারটা ধান গাছও খেয়ে ফেলতাম। সেক্ষেত্রে গরু… Read more »

আমাদের বাড়ি

এসএসসিতে আমি খুব একটা ভাল রেজাল্ট করতে পারলাম না। সেটা যতটুকু না পড়ালেখার কারণে তারচেয়ে বেশী ছিল পরীক্ষার হলেও আমাদের দুষ্টুমিটা বজায় রাখার কারণে। আগের বছরগুলোতে পাবলিক পরীক্ষায় নকলের মহাৎসব চলার কারণে ৮৯ সাল থেকে এই পরীক্ষাগুলোতে ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু হয়। আমরা ছিলাম ১৯৯০ সালের ব্যাচ এবং পড়তাম শত বছরের পুড়নো শ্যামকিশোর হাইস্কুলে। এটা ছিল… Read more »

ভিসিআর আর শিরোনামহীন অনুভূতি

তখন ইন্টারে পড়ি। থাকি কলেজের ছাত্রাবাসে। শীতের এক অন্ধকার রাতে, হোস্টেলের সবকয়টা মিলে চাঁদা তুলে গোপনে একটা টিভি আর ভিসিআর ভাড়া করে আনলাম। একটা ইংরেজি ছবি দেখার পর রাত যখন গভীর হলো, রুমের সব লাইট নিভিয়ে দিয়ে বন্ধু মোমেন নীল ছবির ক্যাসেটগুলোর মধ্য থেকে একটা চালিয়ে দিলো। গভীর মনোযোগ সহকারে আমরা ছবি দেখছি। হঠাৎ মোমেন… Read more »

বেওয়ারিশ কুকুর ও আমাদের লালু আর বাঘা

আমাদের সমাজের প্রচলিত বিশ্বাস- “রাস্তার কুকুর মানেই সে খারাপ তাই তাদের মেরে ফেলো! অথবা বন্ধা করে দাও!” নিতাই দা তার সিটিজেন জার্নালিজম ভিত্তিক পোস্ট “বেওয়ারিস কুকুরের আক্রমণ থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীদের বাঁচাবে কে?” পোস্টে আমার উল্লেখিত ধারণাকেই উল্লেখ করেছেন। যেখানে শুধুমাত্র মানুষকেই বাঁচানোটাকে মূখ্য হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিজীবনে আমি যেমন পশুপ্রেমী নই। তেমনি নই, অপ্রয়োজনে এদের… Read more »

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ও পাখির সেলফি

১৬ ডিসেম্বর’১৬ গিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। সেখানে পাখির খাঁচায় ঢুকতেই দেখলাম- বড় সাদা পাখিটা বসে বসে শীতের রোদ পোহাচ্ছে। মনে হলো এটা পেনিক্যাল অথবা সারস? ভাবলাম সেলফিটা তোলার এটাই মোক্ষম সুযোগ। ওমা! কাছে যাওয়া মাত্র ওর বিশাল ঠোঁট এগিয়ে তেড়ে আসলো। মেয়েকে বললাম, দাঁড়াও ছবি তুলি। ও প্রথমে ভয়ে কাছে যেতে চাইলো না। আমিও নাছোড়বান্দা… Read more »