ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

রাজধানীর প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ড, সেকশনে হরদম হইহই রবে চলছে উন্নয়নের কাজ। কোথাও চলছে ড্রেনেজ সম্প্রসারণের কাজ আবার কোথাও চলছে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ। চারিদিকে ভাঙ্গাগড়া আর খুঁড়াখুঁড়িতে মেতে উঠেছে পুরো রাজধানী। গ্রীষ্মের তাপদাহের পর বৃষ্টি এসে কিছুটা শান্তি প্রদান করলেও সম্প্রতি প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে মরণ ব্যাধি চিকনগুনিয়া।

খুঁড়াখুঁড়ির গর্তে দীর্ঘদিন যাবত জমে থাকা পানিতে বাসা বাঁধছে মশা। আর এই মশার কামড়েই মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে চিকনগুনিয়া নামক মরণ ব্যাধিতে। গত কয়েক দিনে মহানগর উত্তর সিটি কর্পোরেশনে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। গত বৃহস্পতি বার রাতে সালাম শেখ নামের একজন ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী তার স্ত্রীর প্রসব যন্ত্রণার জন্য নিয়ে যান মিরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। যদিও তিনি কিছুদিন আগে থেকেই চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। প্রচণ্ড ব্যাথা (উপসর্গ: সাড়া শরীর অসহনীয় ব্যাথা এবং জ্বর) সহ্য করতে না পেরে পরাজিত হলেন চিকনগুনিয়ার কাছে। স্ত্রী এবং পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় থাকা সন্তান হারালেন সালাম শেখ। বুকফাটা চিৎকার আর আর্তনাদে হাসপাতাল যেন পরিণত হয়েছে শোকের ছায়ায়। বার বছর পর সন্তান সম্ভবা হয়েছিলেন সালাম শেখের স্ত্রী।

একজন নাগরিক হিসেবে – মাননীয় নগরপ্রধানের কাছে আকুল আবেদন, শীঘ্রই নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের জমে থাকা পানি যেখানে মশা জন্ম নেয়, সেই স্থানের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন এবং সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন মশার ঔষধ প্রদান করুন এবং এই মশা নিধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে চিকনগুনিয়া নামক মরণব্যাধি থেকে জনগণকে রক্ষা করুন। জনগণের আর্তনাদে সাড়া দিন।

একজন নগনপ্রধান হিসেবে নগরের প্রত্যেকটি নাগরিক আপনার সন্তান। একজন পিতা হিসেবে সন্তান হারানোর নির্মম বেদনা বলে বোঝানোর প্রয়োজন হবে কি? নাগরিক হিসেবে উন্নয়নে আমরা সব সময়ই আশাবাদী, কিন্তু উন্নয়ন যদি হয় মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার কারণ আমরা কি সেই উন্নয়ন চাই?