ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, শিল্প-সংস্কৃতি

 
21_Boishakh_Mongol+Sovajatra_140416_0025

বাঙালির চিরাচরিত বর্ষবরণ উৎসব পহেলা বৈশাখ আজকাল বিতর্কের মুখে ছটফট করছে।অবশ্য উৎসবটি বর্জন করার জন্য কুযুক্তির আগুনে ঘি ঢালা চিন্তাধারা চলমান সেই উর্দুওয়ালাদের যুগ থেকেই।দেশ স্বাধীন হবার পর আজ পর্যন্ত সেই ধারার উজ্জ্বলতা নষ্ট হয় নি। ‘৯৯ তে যশোরে উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর উপর মানবতাবিরোধীদের বোমা হামলা;তারপর ২০০১ এ ছায়ানটে ও ‘০৫ এ নেত্রকোনায় আবারো উদীচীর অনুষ্ঠানে সংঘঠিত বর্বরতার পুনরাবৃত্তি আমাদের সচেতন মনে একটি সুন্দর বার্তা উপহার দেয়।একটি জাতিকে ক্ষতবিক্ষত করার জন্য সর্বপ্রথম সেই জাতির সাংস্কৃতিক চেতনার গায়ে ছোবল মারতে হয়।কারণ সংস্কৃতি ও শিল্পমনা মানুষ কখনো বর্বরতাকে প্রশ্রয় দেবে না।

পহেলা বৈশাখ নিয়ে এদেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ তৈরীর চমৎকার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে একটি প্রভাবশালী সংগঠন দ্বারা।তরুণপ্রজন্মদের মস্তিষ্কবিকৃতির জন্যও এরাই দায়ী।
খুব পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়,পহেলা বৈশাখ বাঙালীর সেই সংস্কৃতি যেখানে সাম্প্রদায়িকতার পরাজয় ঘটিয়ে একাত্ব হয় সকল ধর্মের মানুষে।এখানে ঘটে সকল ধর্মের সংস্কৃতির ইতিবাচক আদানপ্রদান। অসাম্প্রদায়িক জাতি তৈরীর সুপদক্ষপের সূচনা হয় এই উৎসবে।জাতির শেকড় ও সংস্কৃতিচর্চা এভাবে চলতে থাকলে এদেশের মানুষ অন্ধকূপ থেকে বেরিয়ে এসে একসময় সকল বিভেদের অবসান ঘটাবে। এই ‘অবসান’ যদি সফল হয় তবে নোংরা রাজনীতিরও অবসান ঘটবে।সাম্প্রদায়িকতার নির্মম পরাজয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগী চক্রের দাপটও ব্যর্থতার সমুদ্রে ডুবে যাবে।একটি দেশে ধর্ম-বর্ণ-জাতিভেদ না থাকলে সে দেশের অনর্থক অনুভূতিগুলোর সক্রিয়তা খুব বেশি থাকে না।সেখানে দ্বার উন্মোচিত হয় এক নতুন মানবিক সমাজ গড়ার।

দিনশেষে আমাদের মধ্যে দি-খন্ডতার নির্মম পরিণাম আমরাই ভোগ করি।বৃক্ষের প্রাণের বিরাট অংশ যেমন তার শেকড়,তেমনি একটি জাতির প্রাণধর্ম জীবিত আছে তার সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে।সংস্কৃতির ব্যবচ্ছেদ ঘটিয়ে কোন জাতি টিকতে পারে না।তাই যতই বাধাবিপত্তি আসুক,আমাদের সংস্কৃতি তথা নিজস্ব সত্তা টিকিয়ে রাখার দায়ভার আমাদেরই।নিজের প্রাণের বীজকে এভাবে বিনষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে আমাদের এই নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।বিশ্বের কাছে একটি নৈতিক ও পরগাছামুক্ত জাতি হবার ঐক্যবদ্ধ প্রতিজ্ঞাই বাঙালিকে বাঁচাবে নৃশংসতার হাত থেকে।