ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত একটি দল নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এর আদলে তৈরী হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গুনে মানে এই ইউনিট টি পুলিশের অন্যান্য ইউনিট থেকে অনেক উপরে। বাংলাদেশ পুলিশের চৌকস সব অফিসার এবং উন্নত প্রযুক্তিগত সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পুলিশের এই বিশেষ ইউনিট টি ইতিমধ্যে তাদের সাফল্য দ্বারা জনগণের আস্থার অন্যতম প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

pbi

আমরা কম বেশি সবাই জানি যখন থানায় একটি আমলযোগ্য মামলা দায়ের হয় তখন সেই অপরাধের তদন্তের ভার পড়ে থানার পুলিশের কাঁধে। পুলিশের ঘুষ আর দুর্নীতি বাণিজ্যের কারণে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলতে থাকে মামলার তদন্তের কাজ। ফলে অপরাধের শিকার ব্যক্তি বা তার স্বজনেরা দিনের পর দিন ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত হয়। আবার ভালভাবে তদন্ত না করেই যাকে তাকে আসামী করে চার্জশীট দাখিল করাতে নির্দোষ অনেক ব্যক্তি ও পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। মামলার তদন্তকে হাতিয়ার বানিয়ে ফাসানো হয় সাধারণ মানুষকে। তাদেরকে জেল জুলুমের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা হয়। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নির্দোষ ব্যক্তিকে ফাসানো হয়। এভাবে দিনের পর দিন চলতে থাকে তদন্ত নামের প্রহসন।

তবে সম্প্রতি জনগণকে আশার আলো দেখাচ্ছে পিবিআই। যে মামলায় থানার পুলিশ বা সিআইডি বছরের পর বছর ধরে কোন কুল কিনারা করতে পারছিল না সেই সব মামলায় পিবিআই কয়েকদিন বা কয়েক মাসের মাথায় প্রকৃত অপরাধীদেরকে ধরে বিচারে সোপর্দ করতে সক্ষম হয়েছে। যে মৃত্যুকে নিছক একটি দুঘর্টনা বলে চালিয়ে দিচ্ছিল থানার পুলিশ বা সিআইডি, সেই মামলায় পিবিআই তদন্ত করে প্রমাণিত করতে সক্ষম হয়েছে যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

খুন, ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, চোরাচালান ও কালোবাজারি, মানব পাচার, সাইবার ক্রাইম, ধর্ষণ, অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্যসংক্রান্তসহ ১৫ ধরনের মামলা তদন্ত করতে পারে পিবিআই।

তবে জানা গেছে উপরি খাওয়ায় টান পড়বে এজন্য পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব না দিতে থানা পুলিশ উঠে পড়ে লেগেছে। পিবিআই মামলার তদন্ত কার্যে ঈর্ষণীয় সাফল্য পেলেও তদন্ত করার জন্য মামলা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আমরা আশা করব উন্নত প্রযুক্তি, মেধা এবং পেশাদারিত্ব মনোভাবের কারনে পিবিআই তদন্ত কাজে যে সফলতার মুখ দেখিয়ে জনগণের আস্থার প্রতীক হয়েছে সরকার যেন জনগণের সে আশাকে নিরাশায় পরিণত না করে।