ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনৈতিক মাঠ সহজ আর হচ্ছে না। দলটি তার উদ্দেশ্য জনগণকে দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা নিশ্চিহ্ন হওয়ার অনিবার্য বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। জাতীয়তাবাদী নেতারা এখন দিশেহারা বলে মনে হচ্ছে। ইতিমধ্যে তারা সরকারের ইসি পুনর্গঠনের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেছে। এখন তাদের নির্বাচনে আসতেই হবে। যেহতেু নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের জন্য বিএনপি কিছুই করতে পারেনি, সেহতেু এই বাস্তবতা তাদের মেনে নিতে হবে। ইসি গঠনের পর মির্জা ফখরুলের নিরপেক্ষ সরকার নিয়ে কথা বলাটা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নেবে বলে মনে হয় না।

প্রথম আলো পত্রিকায় ফারুক ওয়াসিফ তার ‘শুভাংকরের ফাঁকিতে আবারও বিএনপি’ শীর্ষক কলামে বিএনপির অসহায়ত্ব কিছুটা বর্ণনা করেছেন। ক্ষমতাসীনদের কৌশলের কাছে বিএনপি কতটা অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছে তাও সেখানে সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন তিনি।

তিনি লিখেছেন, “বিএনপিকে কৌশলে অবান্তর বিষয়ে আটকে রাখার এই সরকারি কৌশলের নাম ‘বিগ পট ট্যাক্টিস’। দুই বিরোধী পক্ষের আলোচনা বা দর-কষাকষিতে এই কৌশল বেশ কাজে লাগে। এই কৌশলের তরিকা হলো, আপনি আলোচনায় এমন একটা ইস্যু টেনে আনবেন, যেটা আসলে আপনার জন্যও কিছু না প্রতিপক্ষের জন্যও কিছু না। কিন্তু আপনি এটাকে এমন গুরুত্ব দেবেন যেন প্রতিপক্ষও ভেবে বসে এটা আসলেই বড় ইস্যু। এটা নিয়ে কঠিন দর-কষাকষির পর আপনি কিছুটা ছাড় দেবেন। তাতে প্রতিপক্ষ কিছুটা বেকায়দায় পড়ে যাবে। তাদের কথা শোনা হয়নি সেই অভিযোগ করা তখন কঠিন হবে। তখন তাদেরও ছাড় দিতে লাগবে। তারপর আসল খেলাটা হবে মূল ইস্যুতে; যেখানে আপনি কোনো ছাড়ই দেবেন না। এখানে মূল ইস্যু হলো নির্বাচনকালীন সরকারের ধরন, আর বানিয়ে বড় করা ইস্যু হলো সিইসি পদধারীর নাম বাছাইয়ের মহড়া।”

এক্ষেত্রে বলা যায়, বিএনপিকে নিয়ে সরকার ভালই খেলছে। যদিও মাঠের সমর্থনের বিষয়ে মনে মনে খুব বেশি শংকিত দলটি। তবুও মোটামুটি কৌশলের দিক দিয়ে তারা খুবই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আর বিএনপি মাঠের বাইরের বল দিয়ে কোনো কাজ করতে পারছেনা। দলটির এই অসহায়ত্বের জন্য গত নির্বাচনে (৫ জানুয়ারি ২০১৪) অংশ না নেয়ার ভুলটাও খানিকটা দায়ী।

বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত “ফিল্ড” থেকে গুটিয়ে এখন ‌‍”ঘরের কোণে” অবস্থান নিয়েছে। সরকারি দলও রাস্তাঘাটে জমাতে পারছে না। বিএনপি তো নয়ই। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দিয়েছেন, মূলত রাজপথে সভা-সমাবেশ আওয়ামীলীগও করবে না। এর অর্থ হল, যেহেতু আওয়ামী লীগ সভা-সমাবেশ করবে না, সেহেতু বিএনপিকেও সে সুযোগ দেয়া হবে না। মাঝখানে ক্ষমতার মাঠটা থাকবে আওয়ামী লীগের দখলে। এটাই বর্তমান আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শক্তিশালী কৌশল।

রাজনীতিতে “পলিটিক্যাল ফ্লেক্সিবিলিটি” কথাটা এখন নির্বাসনে। এ অবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি। কারণ দুই বড় দলেরই আসল উদ্দেশ্য ক্ষমতা। নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদের বাইরে থেকেও যে দেশের জন্য কাজ করা যায়- এরকম সুচিন্তা অন্তত আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে নেই। এটা যদি থাকত তাহলে দেশের জাতীয় সংসদের অবস্থা “কানা” হত না। সংসদ হত প্রাণবন্ত। আলোচনা-দিক নির্দেশনা-সমালোচনায় মুখর না হলে সংসদীয় গণতন্ত্র একটা মরা পাখির মতো মনে হয়। আর মরা পাখিটি আর জিন্দা করতে চাচ্ছেন না ক্ষমতাসীনরা। এজন্যই বিএনপির জন্য ইসি পুনর্গঠনের টোপ ফেলা হয়েছিল।

জনগণের উপলব্ধি: আমাদের জনগণের উপলব্ধি কিন্তু রাজনৈতিকভাবে মার খেয়ে যাচ্ছে। জনগণ একটা সুষ্ঠু ভোট না পেয়ে নিজেদের উপলব্ধি ভোতা বানিয়ে ফেলেছে। একারণে বিএনপি কর্মসূচি দিলেও সাড়া পাচ্ছে না। তবে অাওয়ামী লীগের বাইরেও বাংলাদেশে একটা বড় শক্তি যে রয়েছে তা অস্বীকার করা আওয়ামী লীগের জন্য আত্মঘাতী হবে। কারণ স্বাধীনতার পর সরকারগুলো পালাবদল করে ক্ষমতায় এসেছে। তাতে বিএনপি-আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তার ফারাক খুব বেশি না। এজন্যই জাল-জালিয়াতির নির্বাচন ছাড়া একই দল দুইবার ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। সে রকম একটা নির্বাচন হয়তো জাতি আরেকটা উপহার পেতে পারে।