ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, ভ্রমণ

 
সুবিশাল অন্নপূর্ণার সামনে

হিমালয়! শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দিগন্তবিস্তৃত তুষারে ঢাকা সুউচ্চ সুবিশাল পর্বতমালা- আর এভারেস্ট- হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। টিভিতে, খবরের কাগজে এই হিমালয়কে ঘিরে যুগে যুগে কতই না দুঃসাহসী অভিযানের অদ্ভুত সব গল্প! সেসব গল্প কেবল পড়ি- আর নিজের অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস লুকোই- নিত্যদিনের তেল নুন জলের হিসাব- অফিসের সেই ছকেবাঁধা চাকুরি, গাড়ির প্যাঁপু, ঢাকার ধুলবালি- সবমিলিয়ে কি একঘেয়েই না জীবন।

২০১৪ সালে আর দশটা বাঙালি পরিবারের মতই প্যাকেজ ট্যুরে বাক্স পেটরা নিয়ে গিয়েছিলাম নেপালের পোখারা। সেখানে এক বিকেলে এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে ঢুকে পরেছিলাম “ইস্টার্ন লাইট ট্যুর ট্রেক” এর অফিসে। উদ্দেশ্য ছিল প্যারাগ্লাইডিং আর রিভার রাফটিং এর একটা প্যাকেজ নেয়া। কিন্তু সেই ছোটো এক রুমের অফিস আর অফিসে বসে থাকা সদাহাস্যোজ্জল মিস্টার দেব শ্রেষ্ঠ পরিচয় করিয়ে দিল অন্য এক জগতের সাথে। দেয়াল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছবি , ম্যাপ জানিয়ে দিল হিমালয় মানে শুধুইতো এভারেস্ট নয়- এই সুবিস্তৃত পর্বতমালার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে অনেক নাম না জানা পথ-যা আপনাকে সল্প খরচে, সল্প সময়ে হিমালয় আর হিমালয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা জনপদকে জানার এক দুর্লভ সুযোগ করে দিতে পারে।

সেবার মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারনে অন্নপূর্ণার (অন্নপূর্ণা- হিমালয়েরই একটি অংশ যার সবমিলিয়ে ১৪ টি চূড়া রয়েছে) দেখা মিলেনি। শুধু একদিন খুব সকালের নিরবতায় একাকী দাঁড়িয়ে থাকা শুভ্র সৌম্য “মচ্ছপুচ্ছের (মচ্ছপুচ্ছ বা Fishtail, অন্নপূর্ণার একটি দৃষ্টিনন্দন শৃঙ্গ ) যে রুপ একঝলক দেখেছিলাম তা আমি ভুলতে পারিনি। আর তাইতো প্রায় তিনবছর পর আবারও গিয়েছিলাম নেপাল। রডোরেন্ড্রনের গহীন মায়াবী বন পেরিয়ে, পিচ্ছিল পাথর আর পাহাড়ি ঝরনা – মেঘ পেরিয়ে যে পথ আমাদের তুষার শুভ্র হিমালয়ের কাছে নিয়ে গিয়েছিল সে পথের নাম ’মারদী হিমাল ট্রেক’- খুব বেশি মানুষ চেনে না এই পথটি। আজ এখানে আমি আমাদের সেই পথচলার গল্প বলব।

মারদি হিমাল ট্র্যাকটি Annapurna Conservation Area -তে অবস্থিত একটি ট্র্যাক যা অপেক্ষাকৃত নতুন ও অল্প পরিচিত। ২০১১ সালে এই পথটিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

মারদি হিমালের টানে আমরা তিন বন্ধু বিমানে চড়ে দেশ ছাড়লাম অক্টোবার ০৬, ২০১৬ -তে। নেপালে সে সময় দশেরা উৎসব কে ঘিরে তুমুল হুলুস্থুল –ঠিক আমাদের ঈদের মত। টুরিস্ট বাস তো দুরের কথা- লোকাল বাসেও ঠাঁই না মেলায় পরদিন (৭ অক্টোবর) লক্কড়ঝক্কড় ট্যাক্সি চড়ে আরেক নেপালি পরিবারের সাথে রওনা দিলাম পোখারার পথে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর তার পাশাপাশি আমাদের সাথেই ছুটে চলা চঞ্চলা ট্রিশুলি নদীকে সাথে নিয়ে প্রায় ৭ ঘন্টা যাত্রা শেষে পৌছালাম পাহাড় আর ফিউয়া লেক ঘেরা ছিমছাম শহরটি তে। হোটেলে পৌঁছে দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তিকে একটু ঝড়িয়ে নিয়ে আমরা চলে এলাম ইস্টার্ন লাইট ট্র্যাকের অফিসে। সেখানেই দেবের সাথে বসে পরদিন থেকে শুরু হতে যাওয়া পাঁচ দিনের ’trekking plan’ -এ আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিলাম।

অক্টোবর ৮, ২০১৬। ঝটপট নাস্তা সেড়ে ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে নিয়ে গাড়িতে রওনা দিলাম কাণ্ডের পথে। ৪৫ মিনিটের আঁকাবাঁকা সবুজে ঘেরা পথ পেরিয়ে –আর দূর আকাশের বুকে হেলান দিয়ে থাকা মচ্ছপুচ্ছ দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম কান্ডে। নিজেদের সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে নেমে পড়লাম গাড়ি থেকে। এখান থেকেই বুনো পাহাড়ি পথের শুরু- গাড়িতে যাওয়ার আর কোন উপায় নেই। ট্র্রেকিং এর শুরুতেই এক তিব্বতি দম্পতি ১০০ রুপির বিনিময়ে হাতে বেঁধে দিল নানা রঙে বর্ণিল অদ্ভুত সুন্দর উলে বোনা ফিতে। তাদের ভাষায়, ’good luck band for a good journey’!

মারদি হিমালের ট্রেকিং ম্যাপ

যাই হোক, ট্রেকিং এর শুরুই হলো পাথুড়ে আর তরতরিয়ে ওপরে উঠে যাওয়া পথ ধরে- সত্যি বলতে আমি বেশ ভড়কেই গিয়েছিলাম। ২০-২৫ মিনিট যেতে না যেতেই আমার বুক ধড়ফড় – পা টনটন!- আমাদের গাইড তীর্থ গুরুং কিন্ত আমার এই অবস্থা দেখে মোটেই চিন্তিত না। সারাক্ষণ সাহস জুগিয়ে গেল – বিস্তারি বিস্তারি (আস্তে আস্তে)! Don’t rush- trekking is like speaking in English, more you walk, more easy it is for you- জোড়াতালি ইংলিশ-হিন্দি আর মুখভরা হাসি নিয়ে পুরো পথ-ই আমাদের সাহস দিয়ে গেছে এই তীর্থ । আমরা সাথে কোন ট্র্যাকিং পোল নেই দেখে গাছের ডাল দিয়েই তীর্থ আমাদের তা বানিয়ে দিয়েছিল- সেগুলো ছিল আমাদের পুরো যাত্রার সার্বক্ষণিক সঙ্গী।

এভাবেই প্রায় দুই ঘন্টা পায়ে হেঁটে পৌঁছলাম Australian Camp (5,250 ft) – ধাম্পাস গ্রামটির সর্বোচ্চ স্থান এটি। খোলামেলা একটা মাঠ, আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা টিনের ঘর। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পাহাড়প্রেমীরা – কেউ বা দীর্ঘ যাত্রা শেষে এখানে বসে পিছে ফেলে আসা চমৎকার দিনগুলির গল্প বলছে- কেউ আবার আমাদের মতই এক কাপ চায়ে গলা ভিজিয়ে আবার যাত্রা শুরুর তোড়জোড় করছে। কারও গন্তব্য মারদি হিমাল বেইসক্যাম্প, কারো গন্তব্য আরও দূরে- অন্নপূর্ণা বেইসক্যাম্প…তবে আমার মনটা কিন্তু তখন মেঘলা! কেননা আমার চারপাশে শুধুই মেঘ আর মেঘ- – অথচ ইন্টারনেটে ছবি দেখেছিলাম এই জায়গা থেকে কত অপূর্বই না লাগে মচ্ছপুচ্ছকে দেখতে!

ধাম্পাস থেকে আরো সাড়ে তিন ঘন্টার চড়াই উতড়াই শেষে পৌছলাম ৬৮৮৮ ফিট (২১০০ মিটার) ওপরে পীতম দেউরালীতে। এখানেই এদিনের মত হাঁটাহাঁটিতে ইতি টানলাম। একে তো সারাদিন ধরেই মেঘের খেলা- অন্নপূর্ণার ছোটখাটো কোন চূড়ার টিকিঁটিও মিলেনি- তার ওপর বিকেল গড়াতেই আকাশ ভেঙ্গে নামল বৃষ্টি আর তার সাথে হিমালয়ের কনকনে ঠাণ্ডা ! কি আর করা- কোনমতে ডাল-ভাতে (ডাল ভাত, শাক, আর মুরগী দিয়ে সাজানো থালি কে নেপালিরা বলে “ডাল ভাত”) উদরপূর্তি করে কম্বল মুড়ি দিলাম- বাইরে তুমুল ঝড় বৃষ্টির তান্ডবে মনটা আরও খারাপ হল- এত কষ্ট করে টাকা পয়সা খড়চা করে এখন এই ছোট্টো টিনের ঘরে বন্দী হয়ে শীতে কাঁপছি- কোন মানে হয় এই পাগলামির! – বন্ধুদের সাথে এই আক্ষেপ করতে করতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানিনা।

পিতম দেউরালি থেকে অপরুপ অন্নপূর্ণা পর্বতমালা

সূর্য ওঠারও বেশ আগে আমার ঘুম হটাৎ ভেঙ্গে গেল।ঘড়িতে তখন পাঁচটা হবে হবে করছে। নিশ্চুপ নিস্তরঙ্গ চারদিক- গায়ে windbreaker টা জড়িয়ে পা টিপে টিপে বাইরে বেরিয়ে আসলাম। আকাশে তখনো একটা দুটো তারা ম্লান ভাবে উঁকি দিচ্ছে – পূর্বাকাশে সূর্য মামা আড়মোড়া ভাঙছে – আর আমার দৃষ্টি জুড়ে সাদা বরফের নিলচে আলো জ্বেলে আকাশ ছুঁয়ে নিশ্চল দাঁড়িয়ে– আমার সেই পরিচিত মচ্ছপুচ্ছ বা fishtail…. যার চুড়োয় কখনও কারও পদচিহ্ন পড়েনি- পড়বেও না- কেননা হিমালয়ের কোল ঘেষে গড়ে ওঠা এ জনপদের বিশ্বাস সেখানে দেবতা শিবের আলয়- তাই তো সে চিরকাল এভাবে একা দাঁড়িয়ে!

আরও কিছুক্ষন কেটে গেলে যখন পূর্বাকাশে সূর্য উঁকি দিল- তখন সূর্যের প্রথম আলোর আলোচ্ছটায় চোখের সামনে স্বমহিমায় একে একে উদ্ভাসিত হল ধউলাগিরি ( ৮১৬৭ মিটার- উচ্চতায় ৭ম স্থান), অন্নপূর্ণা সাউথ, হিমচুলি, মচ্ছপুচ্ছ সহ আরও অনেক নাম না জানা বরফঢাকা চূড়ো। সূর্যের আলো আর মেঘের ছায়ায় তাদের ক্ষণে ক্ষণে রঙ পালটানোর যে খেলা- তা বোধহয় আপনি অনন্ত কাল দেখে যেতে পারবেন- একটুও ক্লান্তি আসবে না।

ধউলাগিরি, বিশ্বের ৭ম উচ্চ পর্বত, উচ্চতা- ৮১৬৭ মিটার

নাস্তা শেষে আবার যাত্রা হল শুরু- আজকের গন্তব্য কোঁকার ফরেস্ট ক্যাম্প, উচ্চতা ১০,০০৮ ফিট বা ৩০৫০ মিঃ। রোদ ঝলমলে দিন- দূরে তুষারশুভ্র হিমালয় আর কাছে ছোটছোট সবুজে ঢাকা পাহাড়ের এক চমৎকার বর্ণিল মিশেলে ঠিক পোস্টকার্ডের ছবির মত প্রকৃতি – দিনের শুরুটা হল এক কথায় চমৎকার।
“Morning shows the day” কথাটা সবসময় যে সত্য হয়না – কিছুদুর যেতেই বুঝলাম ।কেননা যতই এগোচ্ছি – দুই দিকে গহীন বন যেন ধীরে ধীরে আমাদের আঁকড়ে ধরছে । আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছের বুনটে একসময় সূর্য রশ্মিও ম্লান হয়ে এল! ধীরে ধীরে পথটাও হয়ে উঠল সরু ও খাঁড়া । গতরাতের বৃষ্টিতে ভেজা পিচ্ছিল কাদামাটি আর পাথরের ঢালু পথ বেঁয়ে উঠতে প্রতিটা পদক্ষেপেই আমার মত আনাড়ির যেন এক শতাব্দী লেগে যায়। এভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা গহিন বনে দুই হাত দুই পা লাগিয়ে হাঁচড়ে পাঁচড়ে শেষে একটা ছোট মন্দিরের দেখা মিলল। মাঝে মাঝে কুয়াশার মত মেঘে ঢেকে যাওয়া এই মায়াবী বনের বনদেবীর মন্দির এটা। মন্দিরটি নানা রঙের ’prayer flag’ এ মোড়া।
রডেরেন্দ্রনের মায়াবী বনপথ

যাই হোক, এভাবে টানা চার ঘণ্টা হেঁটে শেষ মেষ দেখা মিলল ছুপড়ী এক ঘরের। জঙ্গলের মাঝেই একটু ফাঁকা জায়গায় ছোট্ট একটা টি স্টল। সত্যি বলছি- টানা চার ঘণ্টা এমন বৃষ্টি ভেজা আর জোঁকে ভরা বুনো পথ পাড়ি দিয়ে এসে শেষমেশ পা দুটোকে একটু ছুটি দিতে পেরে মনে হচ্ছিল জীবনে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারেনা!

পুদিনা পাতার চমৎকার এক কাপ চা এ গলা ভিজিয়ে আবার দে ছুট! সূর্য ডোবার আগেই গন্তব্যে পোঁছতে হবে- কেননা এই বনে মানুষের আনাগোনা খুব বেশি নয়। দিনের বেলাতেই কাদা মাখামাখি পিচ্ছিল সরু পথে সাবধানে চলতে হয়। কিছু কিছু জায়গায় সেভাবে কোন trail নেই। বেশ কয়েকবার আমরা পথ হারিয়ে আবার গাছের গায়ে আঁকা চিহ্ন দেখে দেখে আবার পথ খুঁজে বের করেছি। সুতরাং রাত নেমে এলে কি হবে তা চিন্তাও করা যায়না।

এভাবে আরও দুই ঘন্টা হেঁটে বিকেল ৩ টা নাগাদ পৌঁছলাম ফরেস্ট কাম্প। ফরেস্ট ক্যাম্প যেন এক পিকনিক স্পট – পাহাড়ের ওপরে বেশ বড় সড় খোলামেলা মাঠের চারদিকের বেশ অনেক্ টা জায়গা জুড়ে খেলনা বাড়ির মত ছোট ছোট টিন শেডের ঘর। এক দিকে এক বিদেশি দম্পতি চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে নেপালি বাচ্চাদের ফুটবল খেলা দেখছে। আরেকদিকে কিছু পর্যটক ব্যাডমিন্টন খেলায় মত্ত! – বেশির ভাগ ট্রেকার এসেছে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। তাদের শারীরিক শক্তি সুস্থতা ও মনোবল দেখে সত্যিই আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। এত দীর্ঘ যাত্রার পরেও আশি ছুঁই ছুঁই বৃদ্ধার মাঝে ক্লান্তির রেশও নেই। – অথচ এই আমি- বনের মাঝে হুট করে আসা তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে চুপচুপে হয়ে আর পাহাড়ি জোঁকের কামড় খেয়ে পুরোপুরি কাহিল। আর এক পা ফেলার শক্তি নেই। ভাবছি কখন বিছানায় কম্বল মুড়িয়ে জম্পেশ ঘুম দিব।
কিন্তু ভাগ্য সহায় হল না … জানা গেল এই অক্টোবরের জমজমাট মৌসুমে ফরেস্ট ক্যাম্পে কোনো থাকার জায়গা নেই। অনেকে তাবু এনেছে সাথে। আমাদের তো তাও নেই। অগত্যা শরীর ও মনের তীব্র প্রতিবাদ উপেক্ষা করে দুপুরের খাওয়া সেরে আবারো ঢুকে পরলাম রডোরেন্ড্রন বনে। এইখানে একটু বলে নেই, রডোরেন্ড্রন হল নেপালের জাতীয় ফুল। এপ্রিল মে মাসের দিকে এই বনটি নাকি গোলাপী ফুলে বর্ণিল হয়ে উঠে । ফুলের দেখা না পেলেও আকাশের দিকে আঁকাবাঁকা হয়ে উঠে যাওয়া গাছগুলিও কেমন রহসস্যময় রকমের সুন্দর। আরও এক ঘন্টা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে শেষমেশ পৌঁছলাম রেস্ট ক্যাম্পে। প্রচণ্ড ক্লান্তিতে নাকি ঠাণ্ডায় নাকি জোঁকের কামড় খেয়ে নাকি অক্সিজেনের কিছুটা সল্পতায়- সে মুহূর্তে মনে হচ্ছিল আর নয় – এবার বাড়ি ফিরে যাই- কোন মানে হয়না এভাবে কষ্ট করার!

ততক্ষনে পাহাড়ের আড়ালে সূর্য ডুব দিয়ে চারদিকে নেমে এসেছে অন্ধকার। ঠিক তখনি জানা গেল ১৫০ রুপির বিনিময়ে আছে গরম পানির সুব্যাবস্থা! ঘুটঘুটে অন্ধকারে টিনের গোসলখানায় গ্যাস চালিত গিযারের এই গোসলের পদ্ধতিটি বেশ জটিল ছিল- সাধারণ অবস্থায় একে সুব্যাবস্থা বলার কথা চিন্তাও করা যায়না!। তবে তা দীর্ঘ সাত ঘন্টা পাহাড় বেয়ে ওঠার কষ্ট দূর করতে যথেষ্ট।

মচ্ছপুচ্ছ্রে পর্বত
পরদিন সকালে উঠে আবারও চোখের সামনে তিনার দেখা মিলল – মচ্ছপুচ্ছরে- এবার তিনি আরও কাছে আর একা- এই জায়গা থেকে অন্নপূর্ণা সাউথ বা হিমচুলি কারও দেখা মেলে না। চাপাতি, ডিম ভাজা আর লেবু চায়ে গলা ভিজিয়ে আবার আমাদের যাত্রা শুরু ৩৩০০ মিটার ওপরে অবস্থিত বাদল দান্দায়। সত্যি বলছি- মায়াবি মেঘে ঢাকা বনপথে হাঁটতেও আর ভাল লাগছিল না- মনে হচ্ছিল কবে এই জঙ্গুলে পথের শেষ হবে! প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা পাথুরে পথ বেয়ে আস্তে আস্তে চারপাশের গাছগাছালি কমে এল আর দেখা মিলল হলদে বাদামিরঙা বড় বড় ঘাসের। বাতাসে হিমের আবেশ আর অক্সিজেন সল্পতায় সৃষ্টি হওয়া হাল্কা চিনচিনে মাথা ব্যাথা জানান দিল এবার আমরা হিমালয়ের কাছা কাছি এসে পড়েছি। লো ক্যাম্পে কিছুক্ষন যাত্রা বিরতি নিয়ে আবারও দুই ঘন্টা হেঁটে পৌঁছলাম বাদল দান্দায়। বাদল দান্দা জায়গাটি cloud hill নামেও পরিচিত।
রাত নেমে আসল – আর তার সাথে নেমে এল হিমালয়ের হাড় কাঁপিয়ে দেয়া ঠাণ্ডা । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১০০০ ফিট ওপরে গায়ে ডাউন জ্যাকেট, হাতে হাত মোজা পড়ে বসে আছি নিকশ কাল আঁধারে – মাথার ওপর আকাশ জুড়ে অগুনতি তারার ছায়াপথ- আর সেই তারার নিলচে আলয় বরফ মোড়া সুবিশাল মচ্ছপুচ্ছ একা দাঁড়িয়ে- এ এমন এক অতিপ্রাকৃত অনুভুতি যা পাতার পরে পাতা লিখেও বর্ণনা করা যায়না।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম রাত আটটা বাজে- দেশে এটা আমার রাস্তার জ্যাম ঠেলে অফিস থেকে ঘরে ফেরার সময় !

রাত আরও গভীর হলে ঠাণ্ডাটা একদম অসহনীয় হয়ে উঠল। আমরা তিন বন্ধু ছাড়াও বিভিন্ন গন্তব্যমুখী দূর-দূরান্ত থেকে আসা অভিযাত্রীরাও একে একে হাজির হল টিনশেডের ডাইনিং রুমে- তীব্র শীত থেকে বাঁচতে। এই ঘরটির এক পাশে রান্নার ব্যাবস্থা- তাই চুলোর আগুনে ঘরটি সত্যি আরামদায়ক। ধোঁয়া ওঠা মোমোয় কামড় দিতে দিতে ভাবছিলাম- রাজনৈতিক- সামাজিক দন্দ, যুদ্ধ- কোলাহল, রেশারেশি সব কিছুকে পিছে ফেলে জার্মানি, ইস্রায়েল, ফ্রান্স,ইন্ডিয়া, অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম, সভ্যতার মানুষ কী সহজেই না এক হয়েছি – ভাষার প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে কী চমৎকার গল্প জমে যাচ্ছে। এর মাঝেও যখন সহসা এক বিদেশি সম্প্রতি হলি আরটিজানে ঘটে যাওয়া জঘন্য জঙ্গি হামলা নিয়ে জিজ্ঞেস করে বসল – একই সাথে অবাক ও ব্যাথিত হলাম… এত এত অর্জন – সবকিছু ছাড়িয়ে মানুষ আমার দেশকে বুঝি এভাবেই মনে রাখল। একসময় পাহাড়ে রাত আরও গভীর হয়ে এল… দেরি না করে তাড়াতাড়ি sleeping bag এ ঢুকে পড়লাম।

মাঝরাতে যেন পৃথিবী তোলপাড় করে শুরু হল ঝড় বৃষ্টি । আঁধো আঁধো ঘুম চোখে স্লিপিং ব্যাগের ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে দেখি –প্রবল ঝড়ে আমাদের ছুপড়ি ঘরের নড়বড়ে দরজা খুলে গেছে আর আমার বন্ধুরা সেই দরজা লাগাতে হিমালয়ের পাগলা হাওয়ার সাথে রীতিমত যুদ্ধ করছে। ঘুমকাতুরে আমি সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে আবার ঘুমের দেশে হারিয়ে গেলাম!

বাদল দান্দায় আমাদের ট্রেকিং দল

পরদিন সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে জেগে রওনা হলাম বাদলদান্দা ভিউ পয়েন্টের উদ্দেশ্যে… প্রায় ৩০ মিনিট পাহাড় বেয়ে আমরা যখন পৌঁছলাম, পূর্বাকাশে সূর্যও তখনি উঁকি দিল। আর সূর্যের প্রথম আলোচ্ছটায় আমি যা দেখলাম- তা আমি হাজার কথার ফুলঝুরিতে- কিংবা হাজারখানেক ছবি তুলেও একটুও বোঝাতে পারবনা। শুধু বলতে পারি- হলদে সবুজ ঘাসে ঢাকা পাহাড়- পাহাড়ের গায়ে ঢলে পড়া মেঘ আর আলোর বর্ণীল খেলা- দূরে Yak এর বিচরণ- আর সবকিছু কে ছাড়িয়ে আকাশের কোলে দাঁড়িয়ে থাকা দিগন্তজোড়া অন্নপূর্ণা – সৃষ্টির এই বিশালতার কাছে নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মনে হয়।কতক্ষণ যে এভাবে অন্নপুরনার শোভা উপভোগ করলাম জানিনা- তবে এতদিনের পথচলা যে সার্থক তাতে কোন সন্দেহ নেই।

এখানে বলে রাখি- হাতে আর ১-২ দিন সময় থাকলে এই পথ ধরেই চাইলে আপনি মারদি হিমাল বেইস ক্যাম্প যেতে পারেন… আমাদের হাতে সময় ছিলনা- তাই এই মেঘ পাহাড়ের দেশ থেকেই অন্নপূর্ণা কে বিদায় জানাতে হয়েছিল। মনে একটা অপূর্ণতা তো ছিলই- তবে এও সত্য, পৃথিবীর এই অপার সৌন্দর্য যতই দেখিনা কেন- অপূর্ণতা থেকেই যাবে, আর এই অপূর্ণতা থাকবে বলেই জীবন এত রোমাঞ্চকর!

তাই শেষবারের মত নিরবে দাঁড়িয়ে থাকা হিমালয়কে বিদায় জানিয়ে ফিরতি পথ ধরলাম। যুগ যুগান্তরে আমাদের মতই আরও কত মানুষ না জানি এই হলদে সবুজ ঘাসে পা রেখে অপার বিস্ময়ে হিমালয়ের অজানা রুপ দেখেছে- আর সেই মুগ্ধতাকে সঙ্গী করে ফিরে গেছে- এক সময় কালের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে- কিন্তু অন্নপূর্ণা! সে সেই একই ভাবে তার টানে ছুটে আসা সহযাত্রীদের স্বাগত জানিয়ে যাচ্ছে ক্লান্তিহীন!

ফিরে চলা

ফেরার পথে প্রায় আট ঘণ্টা ক্রমাগত পাথুড়ে আর খাঁড়া বুনো পথ বেয়ে নেমে পৌঁছলাম সিডিং নামের ছবির মত সুন্দর গ্রামটিতে। এখানে বলে রাখি- পাহাড় বেয়ে ওঠা যে কঠিন তা আমরা সবাই জানি- কিন্তু নিচে নামাও যে এতটা কঠিন হতে পারে আমার জানাই ছিলনা। পথ কিন্ত ৪-৫- ঘন্টার বেশি ছিলনা। কিন্তু পিচ্ছিল ঢালু পথে নামতে গিয়ে হাঁটুতে খুব আঘাত পাওয়ায় খুরিয়ে খুরিয়ে নামতে আমার আট ঘণ্টা লেগে গিয়েছিল। একদিকে গভীর বনে সন্ধ্যা নেমে আসছে- তার ওপর পায়ে প্রচণ্ড ব্যাথা – সবমিলিয়ে এই ফিরতি যাত্রা বেশ বড় মানসিক শক্তির পরীক্ষা ছিল আমার জন্য।
সিডিং গ্রামটি সত্যিই খুব সুন্দর- চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা- মাঝে সবুজে ঢাকা গ্রাম- এই গ্রামে পাহাড় কেটে কেটে সেখানে মিলেটের (এক ধরণের শস্য) চাষ হয়। আবার মাঝে মাঝে কিছু জায়গায় বয়ে চলছে পাহাড়ি স্রোতস্বিনী নদী- অবশ্য আমাদের দেশের নদীর কাছে তেমন কিছুই না- তবে পাহাড়ি পাথুরে নদীর সৌন্দর্য অন্যরকম।
পাহাড়ী পাথুরে নদী

সিডিং থেকে শুধু সেই চিরপরিচিত মচ্ছপুচ্ছ্ররে কেই দেখা যায়। সবুজ পাহাড় আর মেঘের লুকচুরির মাঝে মাঝে মচ্ছপুচ্ছ উঁকি দিয়ে পিছে ফেলে আসা স্বপ্নের মত দিনগুলিকে মনে করিয়ে দেয়।

গৌতমা দিদ্সাররা কটেজে আমরা।

সিডিং এ গৌতমাদির কটেজে খাবার খেয়ে আর গরম পানিতে গোসল করে সেদিন রাতে বেশ ভাল ঘুম হল- তবে হাঁটুর ব্যথা টা বেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমাদের hiking boots গুলো নেই- ধরেই নিয়েছিলাম চুরি হয়ে গিয়েছে- কেননা তীর্থ আমাদের বলেছিল জুতো শামলে রাখতে । কিন্ত জুতা ভরা জোঁক থাকায় কেউ আর ঘরে জুতা রাখিনি। শেষমেশ রবারের স্যাণ্ডেল পরে দেশে ফিরতে হবে এমনটি যখন ভাবছি- ঠিক তখন গৌতমাদি আমাদের জুতাগুলি নিয়ে আসলেন। উনি নিজে সব জুতা মুছে পরিস্কার করে আলমারিতে তালা দিয়ে উঠিয়ে রেখেছিলেন ! সত্যিই পাহাড়ের এই গরিব মানুষগুলোর আন্তরিকতা আর সততায় একই সাথে মুগ্ধ ও লজ্জিত হয়েছিলাম। চোর বাটপাড়ে ভরা শহুরে জীবনে অভ্যস্ত আমরা কি সহজেই না মানুষকে অবিশ্বাস করা শিখে ফেলেছি!

নাস্তার সাথে গরম গরম খাঁটি মহিষের দুধে গলা ভিজিয়ে গৌতমাদি আর সিডিং গ্রামের সরল মানুষ গুলিকে বিদায় জানিয়ে ফিরে এলাম পোখারায়। যাই হোক আমার এই নিতান্তই সাদাসিধে জীবনের অবিস্মরণীয় দিনগুলির গল্প এখানেই শেষ। পোখারা থেকে কাঠমাণ্ড হয়ে ২ দিন পর আবারো ফিরে এসেছি আমার চিরচেনা ঢাকা শহরের হট্টগোলে। কিন্তু আমি জানি পিছে ফেলে আসা সেই অদ্ভুত অন্যরকম ক’টি দিন, হিমালয়ের পথে পথে দেখা সেই সহজ সরল মানুষগুলিকে, সেই দিগন্ত জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সবুজ পাহাড়, মায়াবী বন কিংবা পাহাড়ি ঝিড়ি…আর সবকিছুকে পিছে ফেলে ওই দূর আকাশের কোলে ঘুমিয়ে থাকা অন্নপূর্ণা পর্বতমালাকে আমাদের সবসময় মনে থাকবে। আমাদের ছকে বাঁধা জীবনের একটুকরো মুক্তির পথ হয়ে থাকবে ক্যামেরার ছবি আর মনের কোনে জমিয়ে রাখা স্মৃতিগুলো ।

পোখারা ফিরে আসার পথে

মারদি হিমাল ভ্রমনের কিছু টিপস

১) কিভাবে যাবেন- ঢাকা টু কাঠমান্ডূ প্লেন, তারপর কাঠমাণ্ড টু পোখারা ট্যুরিস্ট বাস বা প্লেনেও যেতে পারেন। গ্রিনলাইন ট্রাভেলস, বাবা ট্রাভেলস এর website থেকে অনলাইনেও বাসের টিকেট বুক করতে পারেন।আবার আমাদের মত যদি “ইস্টার্নলাইট ট্রেক” এর মাধ্যমে পুরো ট্র্যাকিং প্ল্যান করেন তবে ওদের সাথে মেইলে যোগাযোগ করলে ওরাই কাঠমাণ্ড – পোখারা বাসের টিকেট কেটে অনলাইনে পাঠিয়ে দিতে পারে। টুরিস্ট বাসের সার্ভিস বেশ ভাল ও আন্তর্জাতিক মানের। জনপ্রতি ২০-২৫ ডলার ( বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২০০০ টাকা) খরচ পরবে।
২) পোখারার পথে পথে অনেক ট্র্যাভেল এজেন্সি থেকে ট্র্যাকিং প্যাকেজ বা শুধু গাইড- পোর্টার ও নেয়া যায়। আমরা আমাদের সব দায়িত্ব ইস্টার্ন লাইটের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এই পাঁচ দিনের ট্রেকিং এ জনপ্রতি ১৭ হাজার খরচ পড়েছিল- থাকা খাওয়া, গাইড পোর্টার সহ। তবে গাইড পোর্টারের টিপস আলাদা দিতে হবে।এছাড়া অন্নপূর্ণার চারপাশে ট্রেকিং এর জন্য আলাদা permit লাগে। জনপ্রতি ২০ ডলারের মত পরে। ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমেই এর ব্যবস্থা করা যায়।
৩) ট্রেকিং এর প্রস্তুতি হিসেবে ৩-৪ মাস আগে থেকেই রোজ ১-২ ঘন্টা হাটাহাটি, ৩০ মিনিট সিঁড়ি বেয়ে ওঠার অভ্যাস করা খুবই প্রয়োজন।

8) ব্যাকপ্যাক অযথা ভারী না করাই ভাল। তবে একটা windbreaker jacket আর ভাল এক জোড়া জুতা ( hiking boots) নিতে হবে অবশ্যই । আর পোখারায় আছে ট্রেকিং এর জন্য দরকারি যাবতীয় জিনিষের বিশাল সমাহার। ১০০০-১২০০ রুপিতে ( বাংলাদেশি টাকায় ৯০০ র মত ) thermal pants কিনতে পারেন। ভারী জিন্সের প্যান্ট না নিয়ে হালকা প্যান্টের নিচে Thermal pant পরে নেয়া টা খুবই উপকারি।

৫) পোখারা থেকে trekking pole ভাড়া নেয়া যায়। যদিও আমরা নেইনি- গাছের ডাল দিয়ে কাজ সেরেছি- তবে আমরা ছাড়া আর সবাইকেই দেখেছি ট্রেকিং পোল নিতে।

৬) আবহাওয়া সেখানে সহসাই বদলে যায়। তাই সাথে রেইন কোট সবসময় রাখা উচিত। ছাতা হাতে ট্রেকিং সম্ভব নয়।

৭) জোঁকের কামড় থেকে বাঁচতে সাথে লবণ, মশার জন্য ওডমাস জাতীয় ক্রিম সাথে রাখবেন। দিনে গরম হলেও পাহাড়ে রাতের শীত বেশ ভয়াবহ। স্লিপিং ব্যাগ নিতে ভুলবেন না। ট্র্যাভেল এজেন্টের মাধ্যমে গেলে অবশ্যই দেখে নেবেন ওরা স্লিপিং ব্যাগের ব্যাবস্থা রেখেছে কিনা। না থাকলে পোখারা থেকে প্রতি রাত ১ ডলার রেটে ভাড়া নেয়া যায়।

৮ ) ট্রেকিং এর সময় নিজের কাঁধে ছোট একটি ব্যাকপাকে পানি, চকলেট, বিস্কুট ইত্যাদি রাখবেন। প্রচুর পানি না খেলে পানিশূন্যতায় মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পরতে পারেন।

৯) ট্রেকিং দলের সবার চলার গতি একরকম নাও হতে পারে। তাই বলে কারো তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। বেশি তাড়াতাড়ি পাহাড় বেয়ে উঠলে Altitude Sickness এর কবলে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। যদিও মারদি হিমাল ট্রেকে Altitude sickness এর সম্ভাবনা কম, তবুও যদি কেউ মাথায় খুব ব্যাথা অনুভব করেন, নিঃশ্বাসের কষ্ট অনুভব করেন – সব ভুলে দ্রুত নিচে নেমে আসুন। Altitude sickness কিন্তু মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

১০) সব শেষে আগে যাত্রা শুরুর আগে একবার ডাক্তার দেখিয়ে নেয়া ভাল। বিশেষ করে হার্টের সমস্যা, হাই প্রেশার, এজমা, হাইট ফোবিয়া থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া আবশ্যক।

আলকচিত্রঃ সাদিক মাহদি।