ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বাংলাদেশে প্রায় লোক ধূমপান করে। সরকার একটি মোটা আংকের রাজস্ব আদায় করে ধূমপায়িদের কাছ থেকে। সেই রাজস্ব কিভাবে ফাঁকি দিচ্ছে সিগারেট কোম্পানিগুলো তা একটু তুলে ধরব।

সিগারেটের প্রত্যেকটি প্যাকেটের গায়ে একটি করে রাজস্ব আদায়ের স্টিকার থাকে। এই স্টিকারটি সরকারের কাছ থেকে কিনে নেয়া হয়। স্টিকারটি প্যাকেটের গায়ে থাকা মানে সরকার এই কোম্পানি থেকে ভ্যাট নিয়েছে। সাধারণত প্রত্যেক প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে। এখন কথা হচ্ছে রাজস্ব ফাঁকিটা হচ্ছে কোথায়?

রমজানে ভার্সিটি বন্ধ তাই গ্রামে চলে যাই। ইফতার করে আমাদের গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বসলাম বড়দের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দেব বলে। একজন কাস্টমার দোকানে ঢুকে এক প্যাকেট সিগারেট নিল। সিগারেট নেওয়ার পর আমাদের আড্ডা দেখে সেও বসল আমার একপাশে। আমি নড়ে বসে জায়গা দিলাম। তার হাতে ছিল সিগারেটের প্যাকেটটি। সেটি খুলে একটি সিগারেট ধরিয়ে টান দিল লোকটা! আমি লক্ষ্য করেছিলাম লোকটি যখন প্যাকেটি খুলছিল তখন ঐ স্টিকারটি প্যাকেটের গায়ে থেকে এমন ভাবে তুলছিল যেন ছিঁড়ে না যায়।

জিজ্ঞাস করলাম এর কারণ কী? লোকটি আমাকে বলল, এই রকম স্টিকার কয়েকটি জমা দিলে সিগারেট দেবে দোকানদার। আমি হেসে বললাম, লটারি নাকি? লোকটি বলল, এই স্টিকারগুলো দোকানদাররা কেজি দরে কোম্পানির লোকদের বিক্রি করে। কোম্পানি সেগুলো আবার সিগারটের গায়ে লাগিয়ে দেয়। এই স্টিকারগুলো সরকারের কাছে থেকে কিনে নিতে হয় ভ্যাট হিসাবে। কিন্তু কোম্পানি তা না করে অবৈধ ভাবে জনগণের কাছ থেকে কেজি মাপে কিনে আবার সিগারেট প্যাকেটের গায়ে লাগিয়ে দিচ্ছে, ফলে সরকার  ভ্যাটের বিরাট অংশ হারাচ্ছে।

আমি তো অবাক হয়ে গেছি কথা শুনে! বললাম, আমরা একটা কাজ করতে পারি, স্টিকারটি যদি ছিঁড়ে ফেলে দিই তাহলে তো নষ্ট হয়ে যাবে। দোকানে যারা ছিল তারা সিদ্ধান্ত নিল এরপর থেকে স্টিকার ছিঁড়ে নষ্ট করে দিবে।

সম্মানিত পাঠক, আপনারা কী করবেন?

***

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়