ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড থেকে বুদ্ধিজীবী বেড়িবাঁধ পর্যন্ত নবনির্মিত মোহাম্মদপুর-বসিলা রোডের পাশে বসবাসরত নাগরিকগণ রাতদিন বিরতিহীন গাড়ির শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিকট শব্দে তাদের জীবন অতিষ্ট। তাদের ঘুম ভাঙে যানবাহনের অযাচিত হর্নে। ঠিক মতো ঘুমাতে পারেননা, লেখা পড়া ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও অত্র এলাকায় অবস্থিত, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ গাড়ির বিরতিহীন শব্দদূষণের ফলে মানুষ উচ্চরক্তচাপ, শিরপীড়া, মানসিক অসুস্থতা, স্নায়ুবিক বৈকল্য, আত্মহত্যার প্রবণতা, আক্রমণাত্মক মনোভাবের উদ্রেক, হৃদরোগসহ নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। অপরদিকে শিশু-কিশোরদের মেধার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে শব্দদূষণের তান্ডবে। বাসার সামনে যত্র-তত্র গাড়ি পার্কিং, মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দুষণের ফেলে বিভিন্ন রোগব্যাধিতে ভুগছেন এলাকাবাসী। শিশু ও অসুস্থ্য রোগীতো দূরের কথা সুস্থ্য মানুষ ও অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন। কাউকে বলারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ কে নেবে ব্যবস্থা? অথচ এর জন্য রয়েছে বহু নীতিমালা।

bosila
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালায় বলা আছে, আবাসিক এলাকার সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে নির্মাণকাজের ইট বা পাথর ভাঙার যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। যানবাহনে অপ্রয়োজনে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো যাবে না। পাশাপাশি রাত ১০টার পর কোনোভাবেই শব্দ দূষণকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। শব্দ দুষণের জন্য বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও সে দুষণ এখন আর নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা যবে না। অথচ আইনে ঘোষিত এই এলাকা এখন শব্দের শহরে পরিণত হয়েছে। জানা যায়, ৮০ ডেসিবেলের অতিরিক্ত মাত্রার শব্দ মানুষের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। তথাপিও আমাদের হজম করতে হচ্ছে তা। মানুষের শ্রবণযোগ্য শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেল। তারপরেও মানুষ অনায়াসে ৬০-৭০ ডেসিবেল শব্দের মাত্রা সহ্য করে যাচ্ছেন। এ মাত্রার বেশি শব্দদূষণ হলে মানুষ ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ৮০ ডেসিবেলের অতিরিক্ত মাত্রার শব্দ মানুষের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেল শব্দে মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে।

১৯৯৭ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে আবাসিক এলাকায় ৫০ ডেসিবেল এবং রাতের জন্য সর্বত্র ১০ ডেসিবেলের কম শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা থাকলেও সে আইন কিতাবে আছে বাস্তবে নেই। এ এলাকায়ও দিনের বেলায় শব্দের মাত্রা সহনীয় মাত্রার চেয়ে দুই গুণ বেশি। স্বস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এভাবে রাজধানীতে শব্দদূষণ বাড়তে থাকলে ২০১৭ সালের মধ্যে নগরীর অর্ধেক মানুষ শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলবেন। শব্দের স্থিতি ক্ষণস্থায়ী হলেও শব্দদূষণ মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পরিবেশের অন্যসব দূষণের মতো শব্দদূষণকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে বোঝানো যায় না। ক্ষতিকর দিকটি যায় না দেখানোও। শুধু শ্রবণের মাধ্যমে এটিকে অনুধাবন করা যায়। আমাদের দেশে শব্দদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় পরিবেশবাদীরা একে শব্দসন্ত্রাস হিসাবে অভিহিত করেছেন।

শুধু আইন কিংবা নীতিমালা প্রণয়ণ নয়। শব্দ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অতিদ্রুত এটি নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে। এর বিরুপ প্রভাব পড়বে অত্র এলাকার নাগরিকদের শরীরে।

নূর মোহাম্মদ বালী
গণমাধ্যমকর্মী